Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা পার্টঃ ৪


কাগজটা হাতে নিয়ে তো আমি রিতি মতো অবাক৷ সেখানে একটা খারাপ প্রস্তাব দেওয়া আর নিচে আমার নামও লেখা আছে৷ গেটের দিকে সেই সাগর ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমার দিকে তাকিয়ে সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে৷ বুঝলাম না ফাসানোর কি আছে আমাকে৷ দৌড় দিলাম সাদিয়া আপুকে ধরার জন্য সত্যিটা তাকে জানানো দরকার যে কাগজটা আমি দেইনি৷ দৌড়ে গেটের কাছে আসতেই দেখি সাদিয়া আপু একটা সিএনজি ধরে উঠে চলে গেলো। ইশ কেনো যে আগে বললাম না কাগজটা আমি লিখিনি৷ মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে গেছে খেয়াল করে দেখলাম সাগর এখনও হাসছে৷ দৌড়ে গিয়ে মুখের উপর মারলাম একটা ঘুষি সিনিয়র সেটা দেখার বিষয় না। মারার সাথেই নিচে পরে গেলে আরও কয়েকটা মেরে রক্ত বের করে দিলাম৷ সাথেই তার বন্ধুরা ছিলো আমাকে ধরে কয়েকজন মিলে মারতে শুরু করেছে পালা ক্রমে আমিও যতক্ষণ পারছি মারার চেষ্টা করছি৷
- কি হচ্ছে এসব ( ভার্সিটির প্রফেসর এসে বাধা দিয়ে)
আমার অবস্থা তেমন ভালো নেই৷ কিছু বলার মতো শক্তি নেই৷ গাল বেয়ে রক্ত বের হচ্ছে৷
পরে আর কি হয়েছে আমার খেয়াল নেই যখন জ্ঞান ফিরলো তাকিয়ে দেখি আমার রুমে শুয়ে আছি৷ পাশে আপু ও মা বসে আছে৷ শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা করছে৷
- তোকে মারামারি করতে কে বলেছিলো হ্যা ( মা)
- উফ মা বাধ দাও তো
- ভাই কি হয়েছিলো কলেজে আর ওই সাগরের সাথেই তুই লাগতে গেলি কেনো৷
- তেমন কিছু না (আপুকে ঈশারায় বোঝালাম মা কে এখান থেকে নিয়ে যেতে)
- আচ্ছা মা বাদ দাও চলো আমরা বাইরে যায় ওকে কিছুক্ষণ একা থাকতে দাও(আপু মা কে নিয়ে গেলো)
কিছুক্ষণ বাদে আপু আবার আমার রুমে আসলো৷
- কি হয়েছে সত্যি করে বলতো মাত্র একদিন তোর সাথে ভার্সিটিতে যায় নি বলে মারা মারি করে বাসায় ফিরেছিস৷ ( আপু)
- আচ্ছা বলছি ( আপুকে পুরো বিষয়টা খুলে বললাম)
- বলিস কি আরও কয়েকটা মারতে পারলি না( রেগে)
- মেরেছিই তো,,, আপু তোর কাছে সাদিয়া আপুর নাম্বার আছে।
- কেনো
- তাকে বলা দরকার যে ওই কাগজটা আমি দেয়নি সে ভুল বুঝেছে৷
- ঠিক আছে আমি ভার্সিটিতে গিয়ে বলে দিবো৷
- না আমিই বলবো কালকে তোর সাথে ভার্সিটিতে গিয়ে৷
- তোকে যেতে হবে না ডাক্তার কয়েকদিন বিশ্রাম করতে বলেছে। দাড়া আমি তোর জন্য খাবার আনছি খেয়ে ঔষধ খেতে হবে।(বলেই বের হয়ে গেলো)
আপু আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে৷ যেমনটা মা খাইয়ে দিতো তেমন ভাবেই৷
- মা কোথায় রে ( আমি)
- নিচে বাবার খাবার দিচ্ছে৷
- ওহ্ বাবা কি কিছু বলেছে৷
- হুমম
- কি বলেছে
- দিন দিন বিগড়ে যাচ্ছিস একটু ভালো হতে বলেছে৷
- আর কিছু বলে নি৷
- ওই চুপ চাপ খাতো এতো কথা কিভাবে বলিস হ্যা।
আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ খাবার খেয়ে ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম৷
পরেরদিন সকালে,,,
আপু রেডি হয়ে ভার্সিটিতে যাবার সময় আমাকে দেখতে আসলো
- মনে করে কিন্তু বলে দিস সাদিয়া আপুকে।
- আচ্ছা
সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকা যেনো কোনো কাজই নাই৷
বিকালের দিকে এক অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসছে৷ কে না কে ভাবতে ভাবতেই কেটে গেলো৷ আবারও ফোন দিয়েছে।
- আসসালামু আলাইকুম (আমি)
- ওয়ালাইকুম আসসালাম
কন্ঠটা কেমন যেনো পরিচিত মনে হচ্ছে তাও মেয়েলী৷
- কে বলছেন৷
- আমি সাদিয়া
- ওহ্ সাদিয়া আপু কেমন আছো
- ভালো কি খবর তোর
- এই শুয়ে আছি
- কেমন ছেলে মানুষ রে একদিন মার খেয়ে বিছানায় পড়ে গেলি সাগর তো দেখছি ভার্সিটিতে আসছে।
- হ্যা তুমি খেলে বুঝতে
- আচ্ছা তাই নাকি৷
- হুম,,,সরি আপু কাগজটা আমি লিখিনি৷
- হ্যা তোর আপু বলেছে৷
- মাফ করছো তো
- নাহলে তোকে ফোন দিয়েছি কেনো
- ধন্যবাদ আপু
- কালকে ভার্সিটিতে আসিস
- জ্বী আসবো৷
- রাখলাম(বলেই ফোনটা কেটে দিলো)
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে কোনো রকম আপুর সাথে ভার্সিটিতে চলে আসলাম৷ সাগর কে দেখলাম গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে ওর মুখেও ব্যান্জেজ করা৷
- কিরে কেমন আছিস ( সাদিয়া আপু)
- ভালো আছি তুমি
- ভালো তা সেদিন আগে থেকে বলতে কি হয়েছিলো কাগজটা তুই না সাগর লিখেছে৷
- কিভাবে বলবো তার আগেই তো তুমি কাগজটা কেড়ে নিয়ে পড়েই দৌড় দিলে ডাক দিলাম তাও কোনো উত্তর নিলে না৷
- সিয়াম কি অবস্থা তোর ( পেছন থেকে আশিক)
তাকিয়ে দেখি হাপাচ্ছে মনে হয় দৌড়ে আসছে
- হুমম ভালো আছি তুই
- এইতো ভালো
- আশিক সিয়াম কে নিয়ে ক্লাসে যা ( রিয়া আপু বলেই সাদিয়াকে নিয়ে চলে গেলো)
- তোকে কে বলেছিলো সাগরের সাথে লাগতে ( আশিক)
- তো কি করবো সাদিয়ার সামনে আমাকে খারাপ বানিয়ে দিয়েছিলো৷
- আচ্ছা বাদ দে চল ক্লাসে যায়৷
- হুম চল
ক্লাস শেষ করে বাইরে বের হয়ে দেখি সাদিয়া আপু বের হচ্ছে অথচ সাথে আমার আপু নেই৷
- কিরে ব্যাথা আছে নাকি (সাদিয়া আপু)
- না আপু কোথায়
- তোর আপু লাইব্রেরিতে গেছে আসতে দেড়ি হবে চল ক্যাম্পাসে গিয়ে বসি৷
দুজনে মিলে ক্যাম্পাসে বসে আছি৷ সাদিয়া আপু সিঙ্গাড়া নিলো চারটা দুইটা আমার দুইটা তার৷
- আচ্ছা সিয়াম একটা কথা বল কয়টা গার্লফ্রেন্ড তোর৷ ( সাদিয়া আপু হঠাৎ করে প্রশ্নটা করায় কিছুটা থতমত খেয়ে গেলাম৷ গলায় বেধে গেছে পানি খেয়ে জবাব দিলাম
- একটা পাই না আর বলছো কয়টা
- কেনো নেই
- থাকলে তো জানতেই পারতে আর আমার যে আপু করতে দেয় না করার চেষ্টা করলে শুরুর আগেই ব্রেকআপ করে দিবে৷
- হা হা হা মনে হয় সিঙ্গেলই মরবি ( বলেই সিঙ্গাড়ার সাথে সস মিশিয়ে খাবার সময় ঠোটের পাশে সস কিছুটা লেগে গেলো।)
- তোমার ঠোটের সাথে (আমি হাত দিয়ে দেখিয়ে)
যেপাশে দেখাচ্ছি তার উল্টো পাশে হাত দিয়ে জিজ্ঞাসা করছে
- কি ( গালের মধ্য চিবিয়েই যাচ্ছে সে জন্য কথা ভালো ভাবে বলতে পারছে না)
আমি ডান হাতের আঙুল দিয়ে সেটা মুছে দিলে সে আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে৷ তার দিকে তাকিয়ে আঙুলটা যে কখন নিজের মুখে নিয়ে চাটছি খেয়াল হচ্ছে না
- ওই তুই আমার ঠোট থেকে সস নিয়ে খেলি কেনো ( শুনে কিছুটা ভয় পেলাম)
- আসলে মানে আমি মনে করেছি আমার সস তাই খেয়ে ফেলেছি৷
- অনেক ফাজিল দেখছি তুই আবার বাহানা বানাচ্ছিস৷
- সত্যি বলছি আমি ইচ্ছা করে নেয়নি।
- এতই যখন শখ তখন বিয়ে করে নে।
চোখ দুটো বড় বড় করে তার দিকে তাকালাম কি বলছে এসব৷
- কার বিয়ে নিয়ে কথা হচ্ছে শুনি ( পিছন থেকে রিয়া আপু এসে)
- না কিছু না তোর হয়ে গেলো ( সাদিয়া আপু)
আমি এখনও অবাক হয়ে আছি সাদিয়া আপু বললোটা কি৷
- কিরে সিয়াম কি হয়েছে তো ( ঘাড়ে হাত দিয়ে)
- ওহ্ আপু তুই কখন আসলি৷
- মাত্র কি ভাবছিস
- না কিছু না চল
তিনজনে মিলে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে আসলাম। সাদিয়া আপু তার মতো সে বাসায় চলে গেলে আমি আর আপু দুজনে মিলে বাসায় চলে আসলাম৷
চলবে...

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad