Post Top Ad

Post Top Ad

সংসার

সংসার পর্ব:৯


লেখা:রাইসা
, মৌ এর গর্ভের সন্তানটাকে নষ্ট করতে হবে। তা না হলে পরে তোমার সম্পত্তিতে ভাগ বসাবে।
- তাই তো এটাতো ভাবিনি। আচ্ছা কিভাবে নষ্ট করা যায়?
- শোনো তুমি ওর একটু টেক কেয়ার করবে। কাল আমি ওষুধ এনে দিবো। সেটা দুধের সাথে মিশিয়ে খাইয়ে দিবে। তারপর আর কোন ঝামেলা থাকবে না।
- যদি না খায়? না খেলে, অন্য পন্থায় হাটতে হবে।
- কেমন?
- শোন মেয়েরা গর্ভবতী থাকলে, তার তলপেটে যদি লাথি দাও তাহলে মরে যাবে। এতে অনেকটা রিক্স। বাদ দাও কাল আমি মেডিসিন নিয়ে আসবো। তুমি যেভাবেই হোক বাচ্চাটা নষ্ট করো।
- মৌ এসব শুনে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। যদি গর্ভের সন্তানের কিছু হয়ে যায় তাহলে সে বাঁচবে কিভাবে।
-মৌ পাশের রুমে গিয়ে ভাবছে আজ তো টাকারো দরকার। এমন সময় রাজকে টাকার কথা কিভাবে বলি। হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠল। মৌ ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে কেউ একজন বললো' আপনি কখন আসবেন? আর এদিকে অবস্থা বেশি ভলো না। বিকেলে টাকা নিয়ে আসবেন।
- মৌ ফোনটা রেখে দিতেই রাজ সামনে এসে দাঁড়ায়।
- ব্রেকফাস্ট রেডি করেছ?
- হ্যাঁ তোমরা টেবিলে আসো খাবার দিচ্ছি। মৌ টেবিলে খাবার রাখছে, এমন সময় সুমাইয়া আর রাজ এসে টেবিলে বসলো। মৌ খাবার পরিবেশন করতেই দু'জনেই খেতে বসে পড়ল। রাজ একটিবার বললোও না, মৌ তুমিও আমাদের সাথে বসো।
- রাজ যখন খাবার মুখে দেবে এমন সময় সুমাইয়া বলল' জান তুমি খেয়ো না। ' আমি তোমাকে খাইয়ে দেয়?
- রাজ মুচকি হেসে বলল' হ্যাঁ সুইর্ট হার্ট দাও। '
- সুমাইয়া রাজকে খাইয়ে দিচ্ছে। রাজ সুমাইয়াকে খাইয়ে দিচ্ছে। মৌ অসহায় দৃষ্টিতে দু'জনের দিকে তাকিয়ে আছে।
- এই তুই আমাদের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
- নাকি জীবনে এসব ভালো খাবার দেখিস নি?
ওহ সরি, তুই তো এতিমখানায় বড় হয়েছিস? দেখ জান কিভাবে তাকিয়ে আছে।
- সুইর্ট হার্ট বাদ দাও। টাকার জন্য যেসব মেয়েরা নিজের দেহ বিক্রি করতে পারে তাকে এসব শুনিয়ে লাভ নেই।
- মৌ আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। রাজের কথায় মনে হচ্ছে কলিজাটা ফুঁর হয়ে এফোঁড় ওফোড় হয়ে গেছে। মনে মনে আল্লাহকে বলতে ইচ্ছে করছে, ও আল্লাহ কেন এতিম করে পাঠালে। এসব ভাবতে ভাবতে চোখের পানিতে বুক ভেসে যায়। চোখের পানি মনে হচ্ছে কোনদিন শেষ হবে না।
-রাজ আর সুমাইয়া খাওয়া শেষ করে যখন রুমে চলে গেল। মৌ না খেয়েই রাজকে ডেকে নিয়ে বললো' রাজ আমার চুক্তি থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাও।'
- আবারো টাকা দিয়ে কি করবে?
- আমারর টাকাটা খুব দরকার।
- আচ্ছা, আর মনে রেখো, আমি যখনি বলবো তখনি চলে যাবে।
- হুম তা তোমাকে বলতে হবে না রাজ।
- আচ্ছা, তুমি দাঁড়াও আমি টাকা এনে দিচ্ছি।
- রাজ লংকার থেকে টাকা এনে মৌ এর হাতে দিল। মৌ টাকাটা নিজের কাছে রেখে দিয়ে ফোনে কারসাথে যেন কথা বলছে এমন সময়, সুমাইয়া আর রাইসা দু'জনেই চলে গেল।
- পরের দিন, সকালে ঘুম ভাঙতেই টের পেলো মৌ কারো বুকে। ঘুম জড়ানো আখি জোড়া টিপটিপ করে খুলতেই চমকে গেল মৌ। রাজ খুব সুন্দর করে তাকে জড়িয়ে রেখেছে। রাজ তাকে বুকে নিবে সেটা কল্পনায় করতে পারে নাই।
- রাজ মৌকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। মৌ রাজের বুকে অন্যরকম শান্তির ছোঁয়া খুঁজে পাচ্ছে। মৌ এর চোখ জোড়া আবার লেগে আসছে। কখন যে, আবার গভীর ঘুমে হারিয়ে যায় সে খেয়াল নেই।
- হঠাৎ মৌ টের পেল তাকে কেও ডাকছে ' এই মৌ, আর কত ঘুমাবে? দেখ সূর্য উঠে পড়ছে। এবার তো উঠো।
- মৌ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আসতেই রাজ এক গ্লাস দুধ নিয়ে এসে বললো' এই নাও দুধটুকু খেয়ে নাও। আর তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য দুঃখিত। কি হলো কাঁদছো কেন?
- রাজ আমার তো মা নেই, কেউ কোনদিন এভাবে আদর করেনি। আমি তোমার ব্যবহারে কিছুই মনে করিনি। আমিই তোমার প্রতি অধিকার খাটাতে চেয়েছিলাম।
- মৌ এভাবে বলো না তো। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, যে কয়দিন তুমি আমার বাড়িতে আছো আমি আর কষ্ট দিবো না। এই পাগলী কাঁদছো কেন? কেঁদো না।
- মৌ এবার তো দুধটুকু খাও।
- আচ্ছা আমি খাইয়ে দিবো আমার বউকে?
- না তোমার কষ্ট করতে হবে না। কষ্ট কেন হবে মনে করো একটু প্রায়শ্চিত করে নেই।
- না দাও আমি খাচ্ছি। রাজ দুধের গ্লাসটা মৌ এর দিকে বাড়িয়ে দিল। মৌ খুশি মনে দুধের গ্লাসটা হাতে নিয়ে যখন মুখে দিবে এমন সময় কাল সকালের ঘটনাটা মনে পড়তেই মৌ চমকে ওঠলো। মনে মনে ভাবলো এ গ্লাসে তো আবার বাচ্চা নষ্ট করার ওষধ দেয়নি। না এ দুধ খাওয়া যাবে না। মৌ দুধ খেতে গিয়ে গ্লাসটা হাত থেকে ফেলে দিলো।
- গ্লাসটা হাত থেকে পরে যেতেই চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে গেল। এ কি করলে মৌ?
- রাজ মাথাটা কেমন যেন ঘুরছে। তাই হাত থেকে গ্লাসটা পরে গেল। রাজ মনে মনে বললো' এ প্ল্যানটাও ভেস্তে গেল।
- আমি তোমাকে খুব কষ্ট দিয়ে ফেললাম তাই না?
- কি যে বলো, ব্যাপার না।
- তুমি নিশ্চয় মন খারাপ করেছো। তোমার দেয়া দুধটা হাত থেকে পড়ে গেল।
- আরে না মন খারাপ করবো কেন কালনাগিনী যদি পারতাম তোর মতো রক্ষিতার পেটে লাথি দিয়ে বাচ্চাটাকে বের করে দিতাম। কিন্তু তা তো পারছি না।
- কি হলো তুমি চুপ করে আছো কিছু বলছো না?
- কি বলবো? অফিসের দেরী হয়ে যাচ্ছে। আমি যাচ্ছি।
- রাজ অফিসে গিয়েই সুমাইয়াকে ফোন করে বললো' মৌকে তো বাচ্চা নষ্ট করার ওষধ খাওয়াতে পারিনি। ' মনে হয় আমাদের প্ল্যান বুঝে ফেলছে। কি করা যায় বলো তো? এ সন্তান পৃথিবীতে এলেই সমস্যা। ডির্ভোস দিলেও তো সন্তানের অধিকারে ঠিকই আসতে পারে কোন না কোনদিন? যে মেয়ে টাকার জন্য রক্ষিতা হতে পারে তার কাছে এসব কিছু না ।
- তুমি চিন্তা করো না, এভাবে না হলে অন্য পন্থায় হাটতে হবে। আর আমি অফিস যাচ্ছি। সুমাইয়া অফিসে গিয়ে দেখে রাজ ডেস্কে চিন্তিত মনে
বসে আছে। সুমাইয়া রাজের পিছন দিক দিয়ে গিয়ো রাজকে জড়িয়ে ধরে বলল' আমার জানটার মন খারাপ?
- হ্যাঁ খুব মন খারাপ!
- তুমি এখনো মন খারাপ করে আছো? আরে মন খারাপ করে থেকো না। যদি এভাবে না হয় তাহলে, সোজা উল্টাপথে হাটতে হবে। যদি বাচ্চা নষ্ট না করে তাহলে সোজা উপরে পাঠিয়ে দিবো। এসব নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।
- মেরে ফেলবা?
- আরে না বাদ দাও। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। আগে বাচ্চা নষ্ট করার ওষধ খাওয়ার চেষ্টা করো। যে মেডিসিন দিছি এক ডোসই যথেষ্ট।
- আচ্ছা চিন্তা করো না। খাওয়াবো যেভাবেই হোক।
- এদিকে মৌ তার পেটে হাত দিয়ে বলছে' কিরে কেমন আছিস? ভুলে গেছিস আমায়? আচ্ছা তুই কি মন খারাপ করেছিস? তোর বাবাই তোকে মারতে চেয়েছিল বলে? শোন না, আল্লাহ তায়ালা সহায় হলে আমার দেহে প্রাণ থাকতে তোর কিছু হবে না। কি হলো তুই কাঁদছিস? কাঁদিস না, তোর বাবাই এর দোষ নেই। আমিই তোকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নিজের গর্ভে ধারণ করেছি। অভিশাপ দেস না মা কে কেমন? তুই একদম ভয় পাবি না। আমি আছি তোর সাথে তোর কিছুই হবে না। আমি তোর কিছুই হতে দিবো না। আবারো কাঁদছিস? কাঁদিস না, আমার কোন কষ্ট হচ্ছে না। দেখিস না সবাই আমাকে কত ভালোবাসে। তুই ঘুমা। মৌ তার পেটে হাত রেখে এসব বলছে, আর অঝোর নয়নে কাঁদছে।
হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে ওঠল।
- মৌ চোখের পানি মুছে দরজা খুলে দিতেই দেখল, রিত্ত আর রাজের মা দাঁড়িয়ে আছে। মৌ রাজের মা'কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল।
- কি হলো মা কাঁদছিস কেন?.
- মা আপনাকে অনেক মিস করছি। আমার তো মা নেই তাই।
- ধূর পাগলী কে বলছে তোর মা নেই? আমি কি মরে গেছি। আমার কাছে রিত্ত যেমন তুই ও সেরকম।
- তোর জন্য অনেক মন খারাপ হয়েছিল। কিন্তু কি করবো বল? ভাইটা যে অসুস্থ।
- সন্ধা বেলা, রাজ, রিত্ত আর মা বসে আছে। কারো মুখে কোন কথা নেই।
- রিত্ত বলে ওঠল, মা এদেরকে ক্ষমা করলে চরম অন্যায় হবে। ছি:ভাইয়া ছি, তুই এমন একটি কাজ করবি আমরা কল্পনাতেও ভাবিনি । আমাদের মানসম্মান আর কিছু রাখলি না। আমাদেরকে এতটাই পর করে দিলি?
- এতোবড় একটা সত্য গোপন করলি ক্যামনে?
- মা বিচারটা তুমি করো?
- রাজের আর বুঝতে বাকি রইলো না, তার আর মৌ এর ডির্ভোস পেপারটাই হয়তো তার মায়ের হাতে পড়েছে।
- কি হলো রাজ মুখটা ওভাবে করে রেখেছিস কেন?আর তুই এমন করবি কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি। তুই আমার ছেলে না। এতোবড় ধোকা কিভাবে দিলি? আজকেই বাড়ি থেকে চলে যাবি।
- আর এই যে মৌ তোমাকে তো মেয়ের অধিকার দিয়েছিলাম। সে সুযোগে এতবড়ো একটা সত্য গোপন করে গেলে? আমার সত্যিই আজ মরে যেতে ইচ্ছে করছে। কি অন্যায় করেছিলাম আমি। এতোবড় কথাটা গোপন রেখেছো? এই মুহূর্তে বাড়ি থেকে তুমি আর রাজ বের হয়ে যাবে।
- মা কি করেছে আমি?
- কি করেছো দেখবে?
- মৌ ভয়ে কাঁপছে, এমন সময় রাজের মা একটা কাগজ বের করেই বললো' এটা কি?
- মৌ কান্না করে দিয়ে রাজের মাকে জড়িয়ে ধরে বলল' মা আমাকে ক্ষমা করে দেন। '
চলবে'''''''''
127

Like
Comment
Share

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad