"Copy Post"
##গল্পটা পড়লে হাসতে বাধ্য হবেন##
পাশের বাসার জেরী।আমার চাইতে এক বছরের বড়
।অসম্ভব রকমের সুন্দরী ।আমার চোখে তো ঐশ্বরিয়া রাই।সারাদিন আমি মনে মনে তার পেছনে পেছনে ঘুরি ।
ভার্সিটিতে পড়ে আমার এক ক্লাস উপরে।মায়ের কাছ থেকে শুনছি সে নাকি ভার্সিটিতে টিউশনি করায়ে দামি ফোন কিনছে।
একদিন আম্মাকে বললাম:-
আম্মা টাকা দাও ফোনে ব্যালান্স নেই।
সাথে সাথে আম্মা বাঁজখায় গলায় বলে উঠল
"ঐ তোর দৈনিক দৈনিক টাকা লাগে কেন?ফোনের মধ্যে কি ছিনতাই কারী ঢুকছে?প্রতিদিন টাকা ছিনতাই করে?
আমি বললাম মা দেখ আমি বড় হয়ছি একটু তো টাকা লাগবেই ।
মা বলল ,দেখ পাশের বাড়ির জেরী মেয়েটাকে
কত লক্ষি মেয়ে ।নিজে টিউশনি করায়ে একটা ফোন কিনছে।
আর তুই কিনা একটা ছেলে হয়ে প্রতিদিন টাকা চাস।
আমি বললাম ঠিক আছে মা ।যাও তোমার টাকা নিব না।
বাবাকে ফোন দিব বলতেই
মা একশ টাকা দিয়ে বলল :-যা এক সপ্তাহ আগে আর চেঁচামেচি করবি না।
আমি একটা বিজয়ের হাসি দিয়ে বললাম ঠিক আছে মা।
মনে মনে বললাম কাল আবার চাইব।
জেরী প্রতিদিন ই আমাদের বাসায় আসে।
আর আম্মাকে একটা করে সফলতার গল্প শুনায়।
একদিন এসে আম্মাকে বলল আন্টি জানেন আজকে কোন ক্লাস ছিল না।সারাদিন কত কাজ করছি ।মাকে তো একটা কাজে ও হাত লাগাতে দেইনি।
কত আর কাজ করবে বলেন।সারাজীবন ই তো কাজ করল।
আম্মা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল হ্যাঁ জেরী তোমার মত সন্তান ই হয় না।একদম সোনার টুকরা।
তোমার মত মেয়ে পেয়ে তোমার মায়ের জীবনটা ধন্য ।
জেরী বলল আন্টি রাফি কোথায় গেছে?
আম্মা জানে আমি ঘরের মধ্যে ।আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল আমার ঐ লাফাঙ্গা বান্দোর হাদারামের কথা বলছ"সারাদিন আর কি করবে :
বিছানায় শুয়ে শুয়ে ডিম পাড়ে ।ডিমে তা দেয়।
জানো বাজারটা ও আমাকেই করতে হয়।জীবনটা তেজপাতা হয়ে গেছে মা।
কথাগুলি শুনে আমার ইজ্জতে ধাক্কা লাগল।হাজার হলেও ক্রাশের সামনে আমার মান সম্মান পুরাই ফতুর করে দিল আম্মা।
বিছানায় আর ঠিক থাকতে পারলাম না।সোজা উঠেই আম্মাকে বললাম তাড়াতাড়ি বাজারের ব্যাগটা দাও।বাজার করতে যাব।
দেখলাম আম্মা আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে।
আমি বললাম কি হল "ব্যাগটা দাও।
আম্মা বলল তুই পারবি? আমি চিত্কার করে বললাম "খুব ভাল পারব"
মা ব্যাগ টাকা আর বাজারের লিষ্ট দিয়ে দিলেন।
আমি বাজারে গিয়ে সমস্যায় পড়লেও সব কিছু কেনাকাটা করে নিয়ে আসলাম ।
বাসায় এসে পড়লাম ঝামেলায় আম্মা খুব বকাবকি করছে নষ্ট হওয়া মাছ নাকি নিয়ে এসেছি আমি?
আজব!!বেছে বেছে তো নরম মাছগুলো কিনেছি তাও নষ্ট! !যাক বাবা আজকাল কোন কিছুর উপর বিশ্বাস করা যায় না।
ছোটকালে একবার বাবার সাথে গেছিলাম বাজারে বাবা তো নরম নরম ঢেঁরস কিনছিলেন।
যাক একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম ক্রাশ জেরী আশপাশ নেই।
আম্মার সাথে আমারে নিয়ে কি পরিমাণ মজা নিত আল্লাহ্ জানে!!
আজকে সকালে আমার ক্রাশ জেরী এসেছে মিষ্টি নিয়ে ,আম্মাকে বলছে আন্টি রেজাল্ট দিয়েছে,আমি ডিপার্টমেন্ট এ ফাষ্ট হয়েছি তার মিষ্টি ।
আম্মা তো মহাখুশি মিষ্টি মুখে দিয়েই আমাকে বলছে ঐ অকর্মার ঢেঁকি তোর সিজিপিএ কাউকে বলতে পারি না লজ্জায়।
কোন রকমে পাশ করিস।
আর জেরী দ্যাখ কতত ভাল রেজাল্ট করছে।তুই এক কাজ কর প্রতিদিন সকাল করে জেরীর পা ধোয়া পানি খাবি।
এতে যদি তোর মাথা একটু খোলে।
আম্মার কথা শুনে বাপ্পারাজের চাইতে বড় ছ্যাঁকাখোর মনে হল আমার।ক্রাশের সামনে এমন করে কেউ অপমান করতে পারে?দেখলাম জেরী মুখ টিপে টিপে হাসছে।
একটু পর দেখলাম ক্রাশের মা ঝাড়ু হাতে নিয়ে আমাদের বাসায় চলে আসল।
আন্টিকে দেখে আমার ক্রাশ আমাদের বাথরুমে দৌড়ে গিয়ে দরজা লক করল।
আন্টি জোরে জোরে বলতে লাগল আম্মাকে আর বলেন না ভাবি"এমন মেয়ে জন্মাইছি আগে জানলে ওরে দশ বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে শশুর বাড়ি পাঠায়ে দিতাম।
কয়দিন আগে মোবাইল মোবাইল করে ভার্সিটিতে যায়নি ।আমি না পেরে জমানো টাকা দিয়ে মোবাইল কিনে দিলাম।
সারাদিন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে।পড়াশোনা কিছু করে না।কাল সেমিষ্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিছে সব বিষয়ে ফেল।
আমি আর পারছিনা ভাবি"একটা রিকশাওয়ালা খুজেন তো আমি বিয়ে দিব"
ভাইরে ভাই আমি তখন আম্মার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মুখটা বাংলা পাঁচ এর মত করে রাখছে।
আমি মনে মনে বললাম মা একটা রিকশা কিনে দেও।এতদিনের অপমান সব সুদে আসলে উঠিয়ে ফেলব।
আন্টি আবার বাথরুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে বলল বের হবি তুই???
ভাইরে ভাই আমার এত হাসি পাচ্ছিল আমি তাড়াতাড়ি রুমে এসে দরজা বন্ধ করে হাসতে হাসতে ফ্লোরে গড়াগড়ি দিতে লাগলাম।
(রম্য গল্প )
ইয়াছির আরাফাত


No comments:
Post a Comment