S A Shahinul Akash
গত পর্বের পর থেকে।
আমাদের একসাথে দেখে তখন আর কিছু না বলে চোখ লাল করে ভিতরে চলে গেলো,,
আমরাও ভিতরে গিয়ে ফ্রেশ হতে গেলাম,,,রুমে ঢুকতেই দেখি কারিমা আমার রুমে😲
আমিঃ গুড মর্নিং। ঘুম ভাঙলো তাহলে?
কারিমাঃ 😡😡😡
আমিঃ কি হলো চুপ করে আছো কেনো?
খুব শান্ত ভাবে বললো,,
কারিমাঃ কোথায় গিয়েছিলি সকাল সকাল?
আমিঃ এই একটু সকালের পরিবেশ উপভোগ করতে। তুমিতো জানোই না,,,এখানের সকালটা এতো সুন্দর দেখতে। চারিপাশটা কুয়াশায় আচ্ছন্ন,,, ভেজা ঘাস,,আর টাটকা ঠান্ডা খেজুরের রস। সত্যি সকালটা অনেক ভালো লাগলো,,☺☺
কারিমাঃ তাই না??
আমিঃ হুম☺
কারিমাঃ আর কি কি করছিস?
আমিঃ আর কি করবো? ও হ্যা তোমার জন্য রস দিয়ে যেতে বলেছি
কারিমাঃ তোর রস তুই খা😡
আমিঃ কেনো? তোমার জন্য রস আনালাম,,আমি কেনো খাবো? আমি আর সায়মাতো ওইখানেই খেয়েছি
কারিমাঃ তোকে আমি কাল রাতেও বারন করছিলাম সায়মার সাথে যেনো তোকে না দেখি। সকাল হতে না হতেই তুই ভুলে গেলি?
আমিঃ আজব তুমি,,,একটু গিয়েছি এতে দোষের কি আছে??
কারিমাঃ আমি এতো কিছু জানি না,,আমি তোকে মানা করছিলাম তুই শুনিস নি কেন?
আমিঃ এতে শোনার কি আছে? আর ওর সাথে গেলে সমস্যা কি?
কারিমাঃ 😠😠😠😠
আর কিছু না বলে রুমে চলে গেলো।।,
বুঝিনা মাঝে মাঝে এই মেয়ের কিযে হয়,,হুদাই রাগ করবো। যাক করুকগা😒😒
নানুর বাসায় দুইদিন থেকে আমাদের বাসায় চলে গেলাম,,,
বাসায় গিয়ে সব সময় বাইরে বাইরেই বেশি থাকা হয়ে যায়,,বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া ঘোরাঘুরি, সব মিলিয়ে সময়টা ভালোই কাটলো, আবার সময় এসে গেলো মামার বাসায় যাওয়ার। আম্মু মনে হচ্ছে খুব একটা খুশি না, না হওয়ারি কথা। একটাই ছেলে তাও থাকে অন্য যায়গায়।
যাওয়ার দিন সবার থেকে বিদায় নিলাম। আম্মু হাসি মুখেই বিদায় দিলো, আপুও মনে হয় মন খারাপ, যতই রাগ দেখাক মন থেকে অনেক ভালোবাসে আমাকে। এইবার বাইক নিয়ে যাবো, খুব শখের বাইক আমার। এতোদিন বাসায় রেখে গেছিলাম এইবার আম্মুকে বলতেই রাজি হয়ে গেলো।
বাইক নিয়ে বের হলাম। পেছনে সুন্দরীকে বসিয়ে। সুন্দরী খুব একটা ভালো মুডে নেই বোঝাই যাচ্ছে, মামার বাসা থেকে আসার পর থেকে আমার সাথে কেমন যেনো গম্ভীর ভাব নিয়ে থাকে। বাইক চালাচ্ছি হাইওয়ে তে খুব স্পিডে টানছি। এইভাবে চুপ থাকাটাও ভালো লাগছে না। নিরবতা আমিই ভাঙলাম
আমিঃ আপু
কোনো জবাব নেই,,,,
আমিঃ আপু চুপ করে থাকলে কিন্তু আমি তোমাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যাবো। এতো দূরের জার্নি চুপ করে থাকলে ভালো লাগে?
কারিমাঃ তো কি করতে বলছিস? নাচবো এখন আমি?
আমিঃ বাইকে বসে নাচতে পারলে নাচো, আমিও একটু উপভোগ করি😁
কারিমাঃ 😠😠
আমিঃ আপু একটা কথা বলি??
কারিমাঃ বলেইতো যাচ্ছিস, বল😒
আমিঃ তুমি রাগলে তোমাকে সত্যি সত্যি অনেক বাজে দেখায়।
কারিমাঃ কেনো?
আমিঃ তোমার সুন্দর ঠোটে এক চিলতে হাসি খুব মানায়, রাগলে তোমার হাসি থাকে না মুখে। দেখতে আমার ভালো লাগে না
কারিমাঃ তো কি করবো এখন আমি😒
আমিঃ কিছু করার দরকার নেই। শুধু এই গম্ভির মুখ করে থেকো না। আমি দেখছি তুমি কয়েকদিন ধরেই এমন করে আছো
কারিমাঃ খুশিতে এমন করছি
আমিঃ খুশিতে না সেটা ভালোই বুঝতে পারছি। এখন বলো কি হয়েছে
কারিমাঃ তুই সায়মার সাথে ঘুরে গিয়েছিলি কেনো?
আমিঃ আমি কোথায় গেলাম, ও আমাকে জোর করে নিয়ে গেলো। বললো "ভাইয়া চলো আমাদের ওইদিকে একটা জায়গা আছে অনেক কাশফুল হয়"। আমার কাশফুল অনেক ভালো লাগে। তাই আর না করিনি
কারিমাঃ কি কি করেছিস?
আমিঃ কি করবো,,অনেক ঘুরলাম। ছবি তুললাম, ফুচকা খাইলাম আরো কত কি।
কারিমাঃ 😡😡😡
আমিঃ তুমি এমন করছো কেনো
কারিমাঃ খুশিতে,, সয়তান, লুচ্চা
আমিঃ কি করলাম আবার
কারিমাঃ আর যদি কখনো দেখি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে😡 ওইদিন তোর শেষ দিন হবে
আমিঃ এমন করে কথা বলো না। কেমন কেমন যেনো লাগে☺☺
কারিমাঃ কেমন কেমন লাগে?😡
আমিঃ কেমন বউ বউ লাগে😁
কারিমাঃ 😠😠😠। তোর বউ হলে তোর জীবন আমি শেষ করে দিবো দেখিস
আমিঃ এই আমি তোমাকে কেনো বউ বানাবো। দেশেকি মেয়ের অভাব পড়ছে নাকি। কলেজে গেলেই দেখবে কত মেয়ে লাইন দিয়েছে😁
কারিমাঃ হা হা হা,,যেইনা চেহারা নাম তার পেয়ারা😒
আমিঃ এমন করে বলছো? ঠিক আছে কলেজে গেলেই দেখবে😒😒
কারিমাঃ হুম দেখা যাবে
আমিঃ ধুর তুমি চুপ করে ছিলা সেটাই ভালো ছিলো
কারিমাঃ 😠😠😠😠😠
অনেক জার্নির পরে বাসায় এসে পৌছালাম। মাঝে ব্রেক নিছিলাম, একটু খাওয়া দাওয়া করে আবার জার্নি
বাসায় যেতেই মামি জড়াই ধরলো। মনে হলো কত বছর দেখে না,
মামিঃ কেমন আছিস বাবা। বাসায় গিয়ে আমাকে ভুলেই গেছিস,,একটা ফোন দিসনি
আমিঃ ভুল হয়ে গেছে আম্মু,,আর হবে না
মামিঃ বাসায় গিয়ে কেমন কালো, সুকিয়ে গেছিস। রোদ্রে রোদ্রে ঘুরেছিস তাইনা?
আমিঃ কই নাতো
মামিঃ হ্যা তাতো দেখতেই পাচ্ছি
আমিঃ আম্মু পাশে আরো একজন আছেন
কারিমাঃ সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে না😒
বলে ওর রুমে চলে গেলো,,আর আমি আমার রুমে
কয়েকদিন পর থেকে আবার কলেজ শুরু হলো। কলেজের সেই বজ্জাদ আপু এখন আর কলেজে নেই। খুব ভালোই যায় কলেজ সময় গুলো। সে থাকলে সব সময় তার একি কথা,,ভালোবাসে ভালোবাসে।। যাক এখন অন্তত শান্তিতে কলেজে থাকা যাবে
একদিন আমি আর এনামুল ঘুরতে বের হলাম। পার্কে বসেছিলাম আর গল্প করছিলাম। হঠাৎ চোখ পড়লো এক নীল পরীর দিকে, তিন জনে মিলে হাটছে পার্কের মধ্যে। মাঝখানে পরীটা, চুল গুলো কমরের নিচ পর্যন্ত একদম স্টেট চুলগুলো। পেছনে একটা রাবার দিয়ে আটকে রেখেছে, ড্রেসের সাথে পরীকে যা লাগছিলো। মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছি,আশেপাশে কি হচ্ছে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। চোখ কান সব বন্ধ আমার। আমাদের সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ আমার বুকে হাতুড়ি পিটাচ্ছে,,মনে হলো এক পলক দেখলো এইদিকে। আবার সামনের দিকে তাকিয়ে সোজা হেটে চলে গেলো। আমি বোকার মতো হা করেই দেখছি তার চলে যাওয়া।
এনামুলঃ কি দেখছিস এতো
আমিঃ দোস্ত আমাকে মেরে দিয়ে গেলো একজন😔
এনামুলঃ কি বলিস? কে মারলো? নাম বল একবার দেখ কি করি ওর অবস্থা😡😡
আমিঃ ধুর। আমি বলি কি আর তুই ক বলছিস।
এনামুলঃ কেনো
আমিঃ দেখলি না এইখান দিয়ে একটা মেয়ে গেলো এইমাত্র
এনামুলঃ হুম দেখলামতো ৩ টা মেয়ে গেলো
আমিঃ তুই কখনো পরী দেখেছিস?
এনামুলঃ কি বলছিস তুই। পরী কখনো দেখা যায়?
আমিঃ আমি দেখলাম। নীল পরী। এই মাত্র আমার সামনে দিয়ে গেলো, আর আমাকে হাতুড়ি পেটা করে গেলো বুকের বাম পাশে😜😍
এনামুলঃ এই কি হইছে ঠিক করে বলতো
আমিঃ দোস্ত আমি ক্রাশ খাইছি😋
এনামুলঃ মানে কি।
আমিঃ দোস্ত মেয়েটা কে আমার ভালো লাগছে, তোর ভাবি বানাবো
এনামুলঃ গুড, কিন্তু কে এই মেয়ে। নাম কি? কই থাকে
আমিঃ ধুর আমি কি জানি নাকি। তুই খুজে দে
এনামুলঃ আমি কোথায় খুজবো। আমিতো ভালো করে দেখিওনি।
আমিঃ আমি জানি না। তুই সব ব্যাবস্থা করে দিবি
এনামুলঃ আচ্ছা চল এখনো মনে হয় বেশি দূরে যেতে পারে নি
কোথাও খুজে পেলাম না। এক মহূর্তেই কই চলে গেলো, মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি পরী। ডান মেলে উড়ে চলে গেছে, পুরো পার্কের সব জায়গায় খুজলাম, গেটেও খুজলাম। কোথাও পেলাম না
এনামুলঃ দোস্ত আসা ছেড়ে দে। এইখানে অনেক ফানুষ আসে। আর এই মেয়ে কোথা থেকে এসেছে কে যানে,,এখন খুজে পাবো কিভাবে
আমিঃ আমি জানি না। ও আমার মনটা নিয়ে চলে গেছে। 😢
এনামুলঃ দোস্ত আজকে মাফ কর। চল বাসায় যাই। কপালে থাকলে দেখবি আবার তোর সাথে ওর দেখা হয়ে যাবে,
আমিঃ 😢😢
এনামুলঃ চলতো বাসায় যাই
ধুর ভালোলাগে না। আর কিছু করারও নেই, তাই বাসায় চলে আসলাম।
দুইদিন কলেজে গেলাম না। মামি জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে। আমি কিছুই বলতে পারছি না,,কারিমা জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে ওকেও কিছুই বললাম না।
চতুর্থ দিন কলেজে গেলাম। বাইক নিয়ে কলেজ গেটের মধ্যে ঢুকছি এমন সময় মনে হলো আমাদের বিল্ডিংয়ে কাউকে দেখলাম। সামনেই এনামুল দাড়িড়ে আছে। তাড়াতাড়ি বাইক এনামুল এর কাছে রেখেই দিলাম দৌড়। সোজা আমাদের বিল্ডিংয়ের দিকে।
৩ তলায় চলে গেলাম। যেইখানে মনে হয়েছিলো কেউ আছে, গিয়ে দেখলাম তেমন কেউ নেই😢। সবগুলো ক্লাসরুম দেখলাম নাহ কোথাও নেই। হয়তো মনের ভুল।
আসলে ভেবেছিলাম সেই পার্কে দেখা পরী। কিন্তু ভুল দেখলাম। নিচে চলে গেলাম এনামুল এর কাছে,,
এনামুলঃ কিরে কি হয়েছিলো,ওইভাবে দৌড়াচ্ছিলি কেনো?
আমিঃ নাহ কিছু না। বাইক পার্ক করেছিস?
এনামুলঃ হ্যা
আমিঃ আচ্ছা চল ক্লাসে যাওয়া যাক
ক্লাস রুমে গিয়ে এতো বড় একটা শক খাবো ভাবতে পারিনি। মনে হচ্ছে,,,,,,কি মনে হচ্ছে নিজেও জানি না😁। তবে শক টা ছিলো মারাত্তক,,,,,,,,,,,,
(চলবে........)



No comments:
Post a Comment