Post Top Ad

Post Top Ad

Ex girlfriend যখন অফিসের বস

Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস পর্বঃ ২৩


লেখকঃ শ্রাবন রায় 


আমার রুমে ঢুকলাম। মানে বাসর করতে।
রুমে ঢুকে দেখি শিমলা খাটের উপরে বসে আছে। মাথায় ঘোমটা দিয়ে।
আমাকে দেখে উঠে সালাম করতে আসল।
যখন সালাম করতে যাবে আমি তখন সরে দারালাম।
শিমলা খুব অবাক হল।
আমি- আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই নি। আপনি জোর করে বিয়ে করেছেন। তাই স্ত্রীর অধিকার চাইতে আসবেন না।
শিমলা- তুমি আমায় আপনি আপনি বলছ কেন??আর আমার কথাটা তো শোন আগে...
আমি- একটা বালিশ আর কাথা এগিয়ে দিয়ে বললাম। আমি খাটে ঘুমাব আর আপনি নিচে।
শিমলা- তুমি প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও। (হাত ধরে)
আমি- ঠাসসসসসস (বেশী না একটা)  আপনার সাহস কি করে হয় আমার হাত ধরার??
শিমলা-........ 
আমি- আর একবারও যদি আমার কাছে এসেছেন তো খবর আছে বলে দিলাম।
শিমলা- চুপ(কেদে যাচ্ছে)
আমি- আর একটা কথা জান্নাত আপু যেন এই সম্পর্কে কিছু জানতে না পারে।
শিমলা- চুপ।
আমি- কি হল??কথা কানে যায় না আপনার??(ধমক দিয়ে)
শিমলা- ঠিক আছে।  তুমি যা বলবে তাই হবে।(ভয় পেয়ে)
আমি- হুম। এরপর আমি খাটে শুয়ে পরলাম।

শিমলা নিচে শুয়ে পরল। আমি ভাবতেছি এই তো কেবল শুরু। এতদিন আমায় যে অপমান করেছো তার সব প্রতিশোধ নিব।
এদিকে শিমলা শুধু কেদেই যাচ্ছে।আমার কষ্ট হচ্ছে না বরং হাসি পাচ্ছে। আমার অফিসের বসকে আমি বকা দিয়েছি + মাটিতে শুতে দেয়েছি।  হাহাহাহা।

অনেক রাতে ঘুম ভেংগে গেল। শিমলার কান্নার আওয়াজে।  নাহ এ তো থামার পাত্রি নয়। আমার এবার একটু কষ্ট হচ্ছে। শত হলেও তো নিজের ভালোবাসার মানুষ। একে থামানোর একটাই উপায়।
তাই আমি..
আমি- এই আপনি কি আমায় একটু শান্তিতে ঘুমাতেও দিবেন না।
শিমলা- কেদে যাচ্ছে এখনো। 
আমি- এই মেয়ে এদিকে আসেন??
শিমলা- চুপ।
আমি- কি হল কথা কানে যায় না?? এদিকে আসেন??(ধমক দিয়ে)
শিমলা- আমার সামনে এসে দারাল।
আমি- ঠাসসসসস। ঠাসসসসস বেয়াদব মেয়ে। একদম চুপ করে ঘুমাবেন। না হলে কিন্তু... 
শিমলা- ঠিক আছে। ভয় পেয়ে।

আহ এইবার কি শান্তি। কোন শব্দ নেই।
আমি আগেই জানতাম একে না মারলে শান্ত হবে না। ওকে বায় এখন ঘুমাই। পরে হবে কথা। 

সকালে ঘুম ভাংল কারো ডাকে। চেয়ে দেখি শিমলা চায়ের কাপ হাতে। 
আমি তো অবাক। বস আমায় সকালে চা দিচ্ছে। বাহ আমার কপাল তো মাশাল্লাহ। 
আমি- ঊঠে ফ্রেশ হয়ে আসলাম।
এইবার চায়ের কাপ হাতে নিলাম। এতখন শিমলা দারিয়ে ছিল।
আমি- চা মুখে দিলাম।(অসাধারণ চা)
আমি- চা টা কে বানিয়েছে???
শিমলা- আমি।(এক্সাইটেড হয়ে। বোধহয় ভেবেছে ভালো বলব)
আমি- চায়ের কাপ ফেলে দিলাম নিচে। এটাকে চা বল?? ঠাসসসসস।  
শিমলা- চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে জল।
আমি- কি হল দাঁড়িয়ে আছেন কেন??
জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেলুন।
শিমলা- কাজে মন দিল।

আমি রুমের বাইরে চলে এলাম।
এসে দেখি আপু চা খাইতেছে।
দিলাম পেছন থেকে চুল ধরে টান।
জান্নাত- ভাইয়ায়ায়া.....
আমি- জি আপু বলুন।
জান্নাত- বেয়াদবি করিস কেন ভাইয়া?? 
আমি- ইস আমার একটা মাত্র আপু। আমি তার সাথে যা ইচ্ছা তাই করব।তাতে তোর কি??
জান্নাত- হুহ। ঢং দেখে বাচি না।
আমি- হাহাহাহা।
জান্নাত- ভাইয়া আমার ভাবি কিন্তু খুব ভালো চা বানায়।
আমি- হুম। তার পুরষ্কার আমি দিয়ে এসেছি।
জান্নাত- কি দিলি??
আমি- তোকে বলব কেন??
জান্নাত- হুম এখন আমায় বলবি কে?? আমি ভাবির কাছ থেকে জেনে নিব।
আমি- ওকে বায়।  বলে আবার রুমে এলাম। এসে দেখি ম্যাম হাতে মলম লাগাচ্ছে। মনে হয় কেটে গেছে। আমার এইবার খুব কষ্ট হল। কিন্তু প্রকাশ করলাম না। আমি একপাশে গিয়ে রেডি হতে লাগলাম।  অফিসে যাব।
শিমলা- অফিস যাওয়ার দরকার নেই।  এক সপ্তাহ ছুটি অফিস।
আমি- ওহহ ওকে।
আমি জানি শিমলা এটা কেন বলল যে অফিস বিন্ধ। কারন যদি বলত যাওয়ার দরকার নেই তাহলে আমি যেতাম।
তাই বলছে যে অফিস বন্ধ।
আর শত হলেও বিয়ের পরের দিন কি আর অফিস যাওয়া যায়?? তাই কিছু কথা রাখলে মন্দ হয় না।
আমি তাও রেডি হলাম।
শিমলা- তুমি কি কোথাও যাচ্ছ??
আমি- তা আপনাকে কেন বলব?? আর যখন বলছেন তাই বলি বাইরে আড্ডা দিতে যাচ্ছি। 
শিমলা- ওহ,,,,সকালের খাবার খেয়ে যাও...
আমি- বাইরে খেয়ে নিব। বলে চলে এলাম।
জান্নাতকে বললাম বাইরে যাচ্ছি। ফিরতে রাত হবে। 

বাইরে চলে এলাম। বাইরে আসার প্রধান কারণ হচ্ছে একটা বাসা ভাড়া নিতে হবে।
আসলে বাসাটা এমনিতেই ছোট ছিল। আর এদিকে আবার ম্যাম এসে হাজির। তাই বাসা ভাড়া নিব বড় দেখে। ফোনেই সব ঠিক হয়ে গেছে। তাই দেখতে গেলাম।
অফিস থেকে বাসাটা কিছুটা দুরে।  আর ভিতরে চারটি রুম।  বেশ ভালোই।  পছন্দ হল। তাই সব ওকে করে এলাম। কাল সকালে সব কিছু নিয়ে আসব। 

ঘরিতে ১২ টা বেজে গেছে। তাই একটা হোটেলে ঢুকে কিছু খেয়ে নিলাম।
জান্নাত কে ফোন দিয়ে জেনে নিলাম খেয়েছে কি না?? 
এরপর বাইরে এসে বন্ধুদের নিয়ে একটা মুভি দেখতে গেলাম। 

এর মধ্যে রিয়া আর বাপ্পির কিছু খোজ খবর নিলাম। রিয়া বাড়িতে থাকে। ওর বর একটা অফিসে চাকরি করে। আর বাপ্পি একটা প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করে।
মোটামুটি সকলে ভালো আছে।

এরপর লং ড্রাইভ এ গেলাম। মোটকথা আজকের দিনটায় অনেক মজা করলাম।
কারন আমার ভালোবাসার মানুষকে আজ থেকে আপন করে পেয়েছি। 
আর হারামি বন্ধুগুলো তো আছেই। যে অফিসের বস তোর বউ।  তাই ট্রিট দে। আজ আমায় পুরো ভিকারি বানিয়ে দিল। সব গুলো হারামি।
বাসায় আসতে রাত ১২ টা বেজে গেল।
আসলে হারামিগুলোর কাছে গেলে সময় যে কখন কেটে যায় বুজতেই পারি না।
আপুকে ফোন করে ঘুমিয়ে পরতে বলেছি।
শিমলাকে একবারো ফোন দি নাই।
সে অনেকবার ফোন দিছিল। আমি ধরি নাই।
বাসার সামনে এসে ----
কলিং বেল চাপ দিলাম।
দেওয়ার সাথে সাথে শিমলা দরজা খুলে দিল।
বোধহয় আমার অপেক্ষায় ছিল। 
আমি- আপনি এখনো ঘুমান নি??
শিমলা- নাহ। তুমি খেতে এস.... 
আমি- না আমি খান না খেয়ে এসেছি। 
শিমলার মুখটা কালো হয়ে গেল। আমি রুমে এসে শুয়ে পরলাম। 
কিছু সময় পরে শিমলাও চলে এল। আমি জানি ও কিছু খায় নি। এইভাবে চললে ও অসুস্থ হয়ে যাবে।  তাই একটা কাজ করি।
আমি- আপনি খেয়েছেন..???
শিমলা-...... 
আমি- কি হল উত্তর দিন।
শিমলা- আমার খুদা নেই।
আমি- গিয়ে খেয়ে আসুন।
শিমলা- খিদে নাই খাব না বলে শুতে গেল।
আমি- উঠে গিয়ে হাত ধরে টান দিয়ে দিলাম এক চর।  মানে ঠাসসসস।
ব্যাস এইবার গেল খেতে।  আমি জানি তো এই মেয়ের ঔষধ এই একটাই।

খেয়ে চলে এল শিমলা।
আমি দেখলাম তার চোখ ফুলা। বোধহয় কেদেছে। আর মুখে চরের দাগ।
নিজের উপরে ঘিনা হচ্ছে।  কিন্তু এটা না করলে তাকে শাস্থি দেওয়া যাবে না।
আমি- কাল সব কিছু গুছিয়ে নিয়েন।
শিমলা- প্লিজ। তুমি আমায় যা বলবে আমি তাই করব।  চাকরের মতো থাকব এই বাসায় প্লিজ তাও তারিয়ে দিও না। 
আমি- হাহাহাহাহা।
শিমলা- কেদে যাচ্ছে।
আমি- সব কিছু গুছিয়ে রাইখেন। বলে শুয়ে পরলাম। 

আবার আজকে মাজ রাতে সেই এক ঘটনা। 
আমি- আপনি কি আমায় মারবেন??
শিমলা- এইবার চুপ হয়ে গেছে। বোধহয় কাল রাতের কথা মনে পরে গেছে।
যাক বাবা ম্যাম তাহলে ঘুমিয়েছে।
ম্যাম কাল আপনাকে আপনার বাসায় দিয়ে আসব না। আপনার জন্য একটা বাসা নিব।  হিহিহি কি বোকা মেয়ে।
বলে কিনা ওকে ওর বাসায় রেখে আসব। ইস বউ আমার আর রেখে আসব অন্যের বাসায়। হুহ।
আর কথা নয় ঘুমিয়ে নেই।  কাল অনেক কাজ আছে। বায়।

সকালে........

চলবে....

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad