লেখকঃ শ্রাবন রায়
জান্নাতকে শিমলার দেওয়া ব্যাগটা দিয়ে ফ্রেশ হতে গেলাম।
ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে দেখি জান্নাত ওই ব্যাগটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি- কিরে কি হয়েছে??
জান্নাত- ব্যাগটা ধরিয়ে দিল।
আমি- কি এতে??
জান্নাত- খুলে দেখ।
আমি- খুলে দেখি শিমলা যে দুইটা শার্ট কিনেছিল মার্কেটে গিয়ে সেই শার্ট দুটো।
জান্নাত- ভাইয়া আপু এগুলো তোকে দিয়েছে।
আমি- কিহ..????
জান্নাত- হুম।
আমি- আমি কেন এগুলো নিব।
জান্নাত- ভাইয়া নিয়ে নে না প্লিজ।
আমি- না। আমি নিব না।
জান্নাত- প্লিজ ভাইয়া। প্লিজ প্লিজ প্লিজ
আমি- কি আর করারা নিয়ে নিলাম। অনিচ্ছা শর্তেও।
জান্নাত- ধন্যবাদ ভাইয়া।(গালে একটা চুমু দিয়ে)
আমি- পাগলি একটা।
জান্নাত- হুহ। এই বলে চলে গেল।
আমি ভাবতে লাগলাম শিমলা আমায় কেন শার্ট দিলো? আমায় নিয়ে হোটেল গিয়ে খাবার খাওয়ালো কেন?? ধুর কিছুই মাথায় আসতেছে না। ঘুমিয়ে পরলাম।
ঘুম থেকে উঠে জান্নাত কে বলে একটু বাইরে বের হলাম। এরপর রিয়ার আর বাপ্পির সাথে ফোনে কথা বললাম। চলে গেলাম আড্ডা দেওয়ার স্থানে। কিছু সময় গল্প করতে লাগলাম।
অপরদিকে শিমলা----------
শ্রাবন কে এই অবস্থায় আমি দেখতে পাব ভাবতেই পারি নি। আমি তো ভেবেছিলাম অর বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু না। ও বিয়ে করে নি। কারন ও আমায় ভালোবাসে। কিন্তু ও এইখানে কেন? ওর পরিবারের সকলে কই?? আর ও এত বদলে গেল কিভাবে.???
একদিক দিয়ে ভালো হয়েছে। আমি ওকে যেভাবে দেখতে চেয়েছিলাম ও এখন ঠিক সেইভাবে তৈরি হয়েছে।
আগে তো ছিল বখাটে নাম্বার ওয়ান। কিন্তু এখন সে কি ভদ্র। রাগ করলেও কিছু বলে না। উফ আমার তো ভাবতেই অবাক লাগতেছে।
আমি ওর সাথে খারাপ আচরন করেছি কারন আমি তো ভেবেছিলাম ও বিয়ে করে ফেলেছে। এটা আমার খুব বড় অন্যায় হয়েছে। নাহ কালকেই শ্রাবন এর কাছ থেকে ক্ষমা চাইতে হবে।
আর সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে আমায় বাগেরহাট যেতে হবে। শ্রাবনে আর আমার পুরনো সেই শহরে। কারন ওখানেই লুকিয়ে আছে আমার প্রশ্নের উত্তর।
নাহ আর কিছু ভাবতে পারতেছি না। মাথা ব্যাথা করতেছে। তারচেয়ে বরং টিভি দেখি।
এদিকে-------
আমি কিছু সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছি। কারন জান্নাত ফোন করে যেতে বলছে।
বাসায় এসে আমি আর জান্নাত রাতের খাবার খেয়ে নিলাম।
এরপর জান্নাতকে নিয়ে পড়তে বসলাম।
পড়াশোনার ফাকে--
জান্নাত- ভাইয়া??
আমি- হুম বল।
জান্নাত- আমার না একটা জিনিস চাই?
আমি- কি জিনিস।
জান্নাত- আমার একটা ভাবি চাই..(😊😊)
আমি- কিহ..????
জান্নাত- হুম।
আমি- ওকে ভেবে দেখব।
জান্নাত- হুম। আমার ভালো ভাইয়া।
আমি- হুম। এখন পড়।
এভাবে জান্নাতকে পড়িয়ে আমি ঘুমাতে গেলাম।
আজ আর কিছু চিন্তা করলাম না। আর তেমন কোন কাজও নেই তাই ঘুমিয়ে পরলাম।
সকালে-------
জান্নাত ঘুম থেকে তুলে দিল।
আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নিলাম।
(আমাদের রান্না বুয়া করে দিয়ে যায়। আপু সব পারে না। তাই বুয়া আসে)
এরপর আমি জান্নাতকে ওর স্কুলে রেখে চলে গেলাম অফিসে।
আমি ডেস্কে বসে আছি। কোন কাজ নেই।
কি জানি ম্যামের কি হল। আমায় আগে সবসময় কাজের পেশারে রাখত আর এখন হাহাহা। পুরো পাগল একটা।
ম্যামের ডাক পরল।
তাই আমি ম্যামের কেবিন এর সামনে গিয়ে।
আমি- ম্যাম আসব?
ম্যাডাম- হুম আসুন।
আমি- জি বলেন কি বলবেন??
ম্যাডাম- আমার পিছু পিছু আসুন।
আমি- ওকে।
উফ আজকেও সেই কাহিনি।
গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন যায়গা ঘুরল।
শুধু আমি একটা বলদের মতো তার সাথে সাথে ঘুরে বেরাচ্ছি।
কেমন যেন আমি তার বফ।
এরপর লাষ্ট টাইমে এলাম একটা পার্কে --
আমি- মনে মনে ম্যাম যতই আমায় নিয়ে ঘুরুন না কেন? আমি আর আপনারা ফাদে পা দিচ্ছি না।
ম্যাডাম- শ্রাবন??
আমি- (কত বছর পরে এই ডাকটা শুনলাম। খুব ভালো লাগতেছে। কিন্তু আমায় নরম হলে চলবে না।)
ম্যাডাম- কি হল তুমি কথা বল না কেন?
আমি- পিছনে তাকালাম। কিন্তু কেউ তো নেই। তাহলে কাকে তুমি বলে??
ম্যাডাম- এই বুদ্ধু আমি তোমাকে বলছি?
আমি- সরি ম্যাম। আপনি আমায় তুমি করে কেন বলেন?
ম্যাডাম- তো কি করে বলব??
আমি- আপনি।
ম্যাডাম- কেন? নিজের বফ কে কেউ তুমি করে বলে?
আমি- কিহ?? কে আপনার বফ?
ম্যাডাম- তুমি আমার বফ। তাই তোমায় আমি তুমি বলব।
আমি- দেখুন আমি আপনারা অফিসের সাধারণ একজন কর্মচারী। তাই আপনি করে বলুন প্লিজ।
ম্যাডাম- শ্রাবন আমি সরি। প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দেও। আমি না বুজে তোমার সাথে ওই ব্যাবহার গুলো করেছি।
আমি-.....
ম্যাডাম- প্লিজ ক্ষমা করে দেও। (বসে পরে)
আমি- ওকে ক্ষমা করে দিলাম।
ম্যাডাম- তাহলে তুমি করে বলতে হবে।
আমি- কিন্তু...
ম্যাডাম- কোন কিন্তু নয়।
আমি- ওকে চেষ্টা করব।
এরপর কিছু সময় ঘুরে চলে এলাম অফিসে।
আপনারা কি ভাবতেছেন? আমি শিমলাকে ক্ষমা করে দিয়েছি? একদমই না। আমি যেত টুকু কষ্ট পেয়েছি সেইগুলা ওকে দিয়ে তারপর ক্ষমা করব।
অফিসে আসার পরে শিমলা আগে তার
কেবিনে চলে গেল। আর আমি পরে ঢুকলাম। ঠিক তখন---
রহিম- কি ভাই?? কেমন চলছে?
আমি- রহিম?? তুমি কিন্তু..
রহিম- ভাই সব বুজি..
আমি- কি বুজ??
রহিম- এই যে আপনার আর ম্যামের প্রেম কাহিনি....
আমি- তবেরে....
রহিম- এক দৌরে পালাল।
আমি আমার ডেস্কে চলে এলাম।
হাতে কোন কাজ নেই তাই ফেসবুকে ঢুকলাম। কিছু সময় পরে শিমলার ডাক--
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- না...
আমি-..... (আবার শুরু হল নাকি?)
ম্যাডাম- তোমার ল্যাপটপ নিয়ে তার পরে আস।
আমি- ওকে( উফ বাচলাম। আমি তো ভাবছিলাম সেই আগের স্থানে চলে গেছে)
আমি ল্যাপটপ নিয়ে ম্যামের রুমের সামনে গিয়ে....
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- হুম....
আমি- ম্যাম এই যে....(এগিয়ে দিলাম। ল্যাপটপ)
ম্যাডাম- আমার ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতেছে..
আমি- (একি ইনি আমার ফেসবুকে ঢুকে কেন??) ম্যাম এটা কি করতেছেন??
ম্যাডাম- একদম চুপ...
আমি-.....
এরপর দেখলাম ম্যামের আইডি আনব্লক করে দিলো। কি মেয়েরে বাবা। এরপর মেসেজ চেক করল। কিছু পেল না।
ম্যাডাম- হুম এবার তুমি সোজা বাসায় চলে যাও।
আমি- কেন অফিস তো এখনো বাকি?
ম্যাডাম- তোমায় যেতে বলছি যাও।
আমি- ওকে।
বাহ খুব ভালো লাগতেছে। তারাতাড়ি ছুটি পেয়ে। বাসায় চলে এলাম।
বেল বাজাতেই জান্নাত দরজা খুলে দিল।
অপরদিকে.........
চলবে...




No comments:
Post a Comment