লেখকঃ শ্রাবন রায়
সকালে আজ একটু তারাতাড়ি উঠলাম।
কারন আজ আমাদের ঢাকা ফিরতে হবে।
আমি সব কিছু ঠিকঠাক করে নিলাম।
এরপর খাবার অডার করব ঠিক
তখনই জান্নাত এর ফোন
জান্নাত- ভাইয়া গুড মরনিং
আমি- হুম গুড নাইট (মজা করে)
জান্নাত- ওই তুই মজা করিস কেন??
আমি- সরি
জান্নাত- হুম খাবার অডার করে খেয়ে নে।
আমি- হুম। তুইও
জান্নাত- হুম। আমরা খেয়ে রেডি হইতেছি।
আমি- ওকে বায়। টুট টুট টুট করে কেটে
দিলাম।
খাবার অডার করে খেয়ে নিলাম। এরপর আমি বাইরে এসে গাড়িতে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
আমি ড্রাইভার এর সাথে কথা বলতে লাগলাম---
আমি- আংকেল আপনার ম্যাম এর বর কি করে??
ড্রাইভার - হাহাহাহা
আমি- হাসেন কেনো??
ড্রাইভার- আপা মনি এখনো বিয়ে করে নাই।
আমি- কিহ???(অবাক হয়ে)
ড্রাইভার- হুম।
আমি- আংকেল আপনি ম্যাম এর বাসায় কয় বছর ধরে চাকরি করেন??
ড্রাইভার- প্রায় ৩ বছর।
আমি- অহ.....(তার মানে এই লোক কিছু জানে না।) মানে বাপ্পিতো বলছিল ৪ বছর আগের কথা যখন শিমলা এর বিয়ে ঠিক হয়।
আমি ভাবতে লাগলাম তার মানে শিমলার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এর কিছুক্ষণ পরে
জান্নাত আর ম্যাম এলো।
আমি চুপ করে গারিতে বসে পরলাম।
আগের জায়গায়। কানে হেডফোন দিয়ে
গান শুনতেছি। আর বাইরে তাকিয়ে আছি।
জান্নাত আর ম্যাম কথা বলতেছে। আমি কিছুই শুনতেছি না। কারন কানে হেডফোন। আর কোন ইচ্ছেও নেই।
আজ একটা জিনিস ভেবে খুব অবাক
হচ্ছি। কারন ম্যাম আজ একটাও বাজে
কথা বলে নাই। জান্নাত আছে সেই জন্য
মনে হয় খারাপ ব্যাবহার করে নাই।
আমি এইসব ভাবতেছিলাম আর গাড়ি
তার আপন গতিতে চলতেছে।
দীর্ঘ ৭ ঘন্টা জার্নি করার পরে ঢাকায়
এলাম।
আমি আর জান্নাত আগে নেমে গেলাম।
আর ম্যাম গাড়ি নিয়ে চলে গেল।
আমি আর জান্নাত রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে
খাবার খেয়ে নিলাম। (বাইরে থেকে নয়ে এসেছি)
এরপর আমি আমার রুমে গিয়ে দিলাম
এক ঘুম। সন্ধ্যায় জান্নাত এর ডাকে ঘুম
ভাংল।
এরপর ফ্রেশ হয়ে দুজনে গল্প করতে লাগলাম।
জান্নাত- ভাইয়া.....
আমি- হুম।
জান্নাত- ভাইয়া.....
আমি- হুম কি বলবি বল??
জান্নাত- ভাইয়া আমার একটা জিনিস চাই?
আমি- কি জিনিস বল??
জান্নাত- আগে বল দিবি?
আমি- হুম দিবো বল
জান্নাত- আগে প্রমিজ কর।
আমি- ওকে প্রমিজ।
জান্নাত- ঠিক আছে ভাইয়া পরে চেয়ে নিবো।
আমি- ধুর তুই যে কি বলিস আর কি করিস তুই ছারা আর কেউ বুজে না।
জান্নাত- হাহাহাহা।
এইরকম কিছু কথা বলে জান্নাতকে পড়াতে বসালাম। ওকে কিছুক্ষণ পড়িয়ে আমি ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে জান্নাত তুলে দিল ঘুম থেকে।
আমি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে বের হয়ে গেলাম।
জান্নাত এর স্কুল নেই আজ। তাই ও যাবে না আমার সঙ্গে।
অফিসে-------
রহিম- কি ভাই এই দুই দিন কেমন মজা করলেন??
আমি- হুম ভালো।
রহিম- হুম বুজি বুজি সব বুজি।
আমি- ভাই কি বুজো তুমি?
রহিম- এই যে আপনি আর ম্যাম দুজনে গেলেন সিলেটে।
আমি- রহিম😠....
রহিমকে আর কে পায়। সে সোজা তার ডেস্কে চলে গেছে এক দৌরে।
আমিও হাসতে হাসতে চলে এলাম আমার ডেস্কে। আসলে রহিম ছেলেটা খুব রসিক। তাই আমি ওকে কিছু বলি না।
কিছুক্ষণ পরে ম্যাম এর ডাক।
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- হুম আসুন।
আমি- জি ম্যাম বলুন.???
ম্যাডাম- আমার সাথে চলুন। এই বলে ম্যাম বাইরে চলে এল। আমিও পিছু পিছু চলতে লাগলাম।
ম্যাম তার গাড়িতে উঠল। আমি বাইরে দারিয়ে আছি।
ম্যাডাম- আপনিও আসুন।
আমি- জি ম্যাম।
গাড়িতে আমি ম্যাম আর ড্রাইভার।
আমি- ম্যাম আমরা কই যাচ্ছি??
ম্যাডাম- চুপ করে বসে থাকুন।
আমি- চুপ.....
কিছু সময় পরে আমরা একটা শপিং মলের সামনে এলাম। আমি তো অবাক ম্যাম আমায় এখানে নিয়ে এল কেন??
আমি চুপ করে আছি। কারণ কিছু বললেই বকবে😁
ম্যাডাম- আপনি কি এখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন না ভিতরেও আসবেন??
আমি- জি ম্যাম চলুন।
ভিতরে এসে ম্যাম অনেক খুজে কিছু জামা কিনল মেয়েদের।
এরপর দুইটা শার্ট কিনল। আমি ভাবলাম তার বয়ফ্রেন্ড এর জন্য হয়তো।
ভাই পুরা ৩ ঘন্টা ধরে শপিং করল।
সেখান থেকে গাড়ি করে একটা হোটেল এর সামনে এসে থামল।
আমি ভাবলাম ম্যাম এর খুদা লাগছে তাই
সে খাবে।
ম্যাডাম- আসুন আমার সাথে।
আমিও যেতে লাগলাম।
জানি কিছু বলতে গেলেই ঝারি দিবে তাই আমি চুল😯
আমি আর ম্যাম একটা বেঞ্চে বসলাম।
ম্যাম খাবার অডার দিলো।
কিন্তু এগুলো তো আমার প্রিয় খাবার। আমি তো অবাক। এগুলো আমি আর শিমলা লাষ্ট ৬ বছর আগে খেয়েছিলাম। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
ম্যাডাম- কি হলো খাচ্ছেন না কেন?
আমি- হুম....
( ইনি কি ম্যাম না অন্য কেউ?? সেই সিলেট থেকে এই পর্যন্ত কোন বাজে বিহিব করে নাই।)
খাবার আগে আমি আমার কলিজাকে ফোন দিলাম।
আমি- আপু....
জান্নাত- হুম ভাইয়া
আমি- তুই খেয়ে নে।
জান্নাত- হুম ভাইয়া।
আমি- ওকে মাই লিটিল সিস্টার।
এরপর আমি খেতে শুরু করলাম।
অপরদিকে শিমলা----
হুহ আমায় তো কোন দিন এইভাবে বলত না যে জানু খেয়ে নাও। আর জান্নাতকে ধুর। দেখ কি করে খাচ্ছে পুরা সেই আগের ৬ বছর আগের মত করে। 😊)
আমি মনে মনে এ কি ঝামেলায় পরলাম নিজেও খাচ্ছে না আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
এবার ম্যাম বুজতে পেরে নিচু হয়ে খেতে লাগল। আমরা খেয়ে সোজা অফিসে চলে এলাম।
বিকাল ৩ টা বেজে গেছে।
আমি ডেস্কে বসে আছি৷ আর খেয়াল করতেছি শিমলা আমায় বার বার দেখতেছে। আমি- 😑😑
রহিম- কি ভাই ভাবিকে নিয়ে কই গেছিলেন??
আমি- 😠😠😠😠
রহিম- এক দৌরে চলে গেল।
রহিম পারেও বটে।
এরপর ছুটির সময় সকলে চলে যাচ্ছে। আমিও বের হব। আজ কাজের চাপ নেই। ঠিক তখনই ম্যাম এর কেবিনে ডাক।
আমি ভাবলাম নিশ্চিত একগাদা ফাইল দিবে তাই ডাকতেছে। এই সব ভাবতে ভাবতে রুমের সামনে গিয়ে।
আমি- ম্যাম আসব।
ম্যাডাম- হুম আসুন।
আমি- ম্যাম কিছু বলবেন।
ম্যাডাম- হুম। এইগুলো নিন।
আমি- এইগুলো তে কি??(শপিং এর সেই ব্যাগ)
ম্যাডাম- এইগুলো জান্নাত কে দিবেন।
আমি- ম্যাম জান্নাত এর এগুলো লাগবে না।
ম্যাডাম- অই তোকে বলছি তুই দিবি।(রেগে আগুন)
আমি- ওকে (ভয়ে ভয়ে)
ম্যাডাম- 😁😁😁(লুকিয়ে হাসতেছে)
আমি আর কিছু না বলে বেরিয়ে এলাম।
অপরদিকে ফোনে ------
শিমলা- জান্নাত??
জান্নাত- হুম আপু বলো
শিমলা- তোমার ভাইয়ার কাছে আমি তোমার জন্য কিছু জামা দিয়েছি। পছন্দ হয় কিনা বলো??
জান্নাত- আপু তুমি দিবে আর পছন্দ হবে না??
শিমলা- হুম। আর একটা কথা ছিল?
জান্নাত- হুম বলো
শিমলা- আসলে?
জান্নাত- আপু বল আমি কাউকে বলব না?
শিমলা- আসলে আমি তোমার ভাইয়ার জন্য দুইটা শার্ট কিনেছি তুমি দিয়ে দিয়ো।
জান্নাত- ওহ এইবার বুজছি। আপুউউউ????
শিমলা- কিছু না বলে লজ্জায় ফোন কেটে দিলো।
আর জান্নাত ভাবে আপু তুমি যে ভাইয়াকে পছন্দ কর তা আমি জানি।
আর এদিকে শিমলা ধুর জান্নাতও না শুধু শুধু লজ্জা দেয়😊
আমি বাসায় এসে কলিং বেল বাজাতেই জান্নাত দরজা খুলে দিলো।
জান্নাত- ভাইয়া আপু তোকে কি দিয়েছে আমায় দে??
আমি- কিহ তুই কিভাবে জানলি??
জান্নাত- (এইরে বুজে ফেল্ল নাকি) না। আসলে..
আমি- কি আসলে আসলে করছিস??
জান্নাত- ভাইয়া আসলে আপু সিলেটে বসে বলছিল আজ কিছু দিবে তাই...
আমি- হুম এই নে ধর....
জান্নাত- হুম ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমি- হুহ।।।।
চলবে...



No comments:
Post a Comment