writer : আরোহীর কর্তা
বাসর রাতে বউ গলায় ছুরি ধরে বুকের উপর বসে আছে। মনে মনে আল্লাহ্ আল্লাহ্ করতেছি। জানি না এটা কোন জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্য!
আজ আমার বাসর রাত।ভাবী আজরাইলের ঘরে ঢুকিরে দিয়ে দরজা বাহির থেকে লাগিয়ে দিয়ে বললো, "বাসর রাতে যেন ঠিকঠাক বিড়াল মারা হয়।"
.
আমি ভয়ে ভয়ে বাসর ঘরে ঢুকেই বউকে জিন্স প্যান্ট পড়া দেখে অবাক হলাম! মনে মনে বলছি, এর চেয়ে লুঙি থুক্কু প্লাজো পরলেও তো মানান সই থাকতো। খাটের উপর বসে , বউকে শাড়ি পড়ার কথা বলতে গেলেই আমাকে খাটে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে গলায় চাকু ধরল।
.
এই এই কি করছো গলায় লেগে যাবে তো। আমি বাসর রাতেই মরতে পারবো না।
.
তোকে খুন করবো , আমার বয়ফেন্ড আজ তোর জন্য হসপিটালে। শুনেছি তুর কথামতো সবাই মারছে।
.
আরোহির হাত থেকে ছুরিটা নিয়ে বললাম" আরে আমি কি জানতাম তোর বয়ফেন্ড শাড়ি পড়ে আসবে। "
আর শোন আপনার মতো, ময়দা সুন্দরীকে আমার বিয়ে করার ঠেকা পড়ছে। নির্ঘাত বাবা বলেছে তাই, কেউ বিয়ে করে না! আবার দেমাক কত! একজনের সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, সে তো অন্যমেয়েকে নিয়ে বিয়ের দিনই পালিয়েছে। আর পুড়ামুখী কে আমার ঘাড়ে চাঁপিয়ে দিয়ে গেছে।
.
এই তুই চুপ করবি, তোর কোন পাকা ধানে মই দিয়েছি। এখনো তোকে বাঁচিয়ে রেখেছি চাচার আর কোন ছেলে নেই বলে। নিজেকে কেমন,প্রতিবার মেয়েরা ছ্যাকা দিয়ে চলে যেত। আর ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতো। তোর চেয়ে ভাদাইমাও ভালো আছে।
.তাও তোর মতো নয়,বাসর রাতে শাড়ি খুলে কি পোশাক পড়ছে।
.
আমার মন চেয়েছে পড়েছি।
.
"হইছে সর আমি ঘুমাবো।"
কি বললি? আমার সাথে ঘুমাবি তুই? নাহ্ কোনদিনই নয়। এই নে বালিশ বিছানায় থাকতে হলে তোকে মরতে হবে। কি আর করার বালিশ আর চাদর নিয়ে শুয়ে পড়লাম। কি যে মশা ধরতেছে। সবার বাসর হয় আর আমার সালা মশার কামড় খেতে হয়।কেন যে বাবা এই জঙ্গীটাকে আমার জন্য বউ করাইলো।
.
জঙ্গীটা আমার আপন চাচাতো বোন। তবে চাচাতো বোন হলে কি হবে, ছোটবেলা থেকেই কেমনে আমাকে বকা শুনানো যাবে সে সুযোগ খুজে এখনো মনে আছে, আম পেড়ে দেয়নি বলে, নিজে চিঠি লিখে, আমার নাম বসিয়ে সাথীকে দেয় আর সাথী প্রিন্সিপালকে বলে আমি সাথীকে লাভলেটার দিয়েছি। তারপর বাকিটা ইতিহাস প্রিন্সপাল নতুন বেত ভাঙছে আমার পিঠে।
.
আজ আরোহীর বিয়ে ছিল,এদিকে তাঁর বয়ফেন্ড আসছিল ওকে নিয়ে পালাতে। তাও আবার বোরকা পড়ে মেয়ে সেজে। বিষয়টা বুঝতে পেয়ে নারী পাচাকারী বলে পেটিয়ে পুলিশে দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিপদ হলো তখন , যখন কথার হবু শ্বশুর বললো- তার ছেলে অন্য মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে।
.
এদিকে কাকা এসে বাবাকে অনুরোধ করে। বাবা কথা ফেলতে পারে না
রাতেই বিয়ে হয়ে যায়। তারপর যতো সব কাহিনী। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় মনে নাই। ঘুম থেকে সজাগ পেতেই দেখি, পাশে মশার কয়েল। যাক বাবা, গুন্ডি হলেও মন ভালো আছে।
.
হঠাৎ মনে পরলো, এখন একটা মজা করা যায়। যে ভাবা সেই কাজ, কয়েকটা তেলাপোকা আরোহীর মুখের কাছে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ হয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর শুরু হল চিল্লাচিল্লি, কোন জানি পেত্নী এসে আমার উপর পারা দিলো। মনে হচ্ছে পা'টা গেল।
.
তবুও হাসতেছি, যাক বাবা কাজ হয়েছে। আমার হাসি দেখে, আরোহী বুঝতে পেয়েছে তেলাপোকার কাজটা আমি করেছি।
.
তারপর কিছু না বলে, ওর বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে। সকাল বেলা ব্রেকফাস্ট করার জন্য যখন ডাইনিং টেবিলে যায় সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে চিড়িয়াখানার বাদঁর টা আজ এদের বাড়িতে চলে এসেছে।
.
ছোট বোন রিত্ত, তো সেই হাসি হাসতেছে।
এই তোর হাসি কি হলো?
নাহ্ ভাইয়া, তুই যে এতো সুন্দর লিপিস্টিক দিতে পারিস আগে জানতাম না। ( রিত্ত)
.
মানে কি বলছিস? আমি কেন লিপিস্টিক দিবো?
.
হি হি হি, লিপিস্টিক তুই দিবি কেন রাতে আমার চুনো ভাইটাকে আমার লক্ষী ভাবী দিয়ে দিছে।
.
রিত্তের কথা শুনে তাড়াতাড়ি রুমে গিয়ে দেখি আমার গালে, ঠোঁটে, লিপিস্টিকের দাগ। রাগে শরীর কাঁপছে।
.
পাশ থেকে আরোহী বলে উঠলো-এখন কেমন লাগে, রাতে তেলাপোকা দিয়ে ভয় দেখানো।
.
দাঁড়া আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন!
.
তুই কি মনে করিস আমি তোকে ভয় পাবো? ছোটবেলার কথা মনে নাই! এখনো তো ক্লীন সেভ দিতে পারিস না! খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি মুখে রাখিস!
.
কথাটা শুনেই বুকটা কেঁপে ওঠলো। মনে মনে বললাম এভাবে আরোহীর সাথে পারা যাবে না, অন্য বুদ্ধি করতে হবে।
.
যাই করতে হবে কৌশলে! এদিকে বাসায় সবাই আমাদের ঝগড়া দেখে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না। এখনো বাসর হয়নি। ভাবীকে বলতেই ভাবী বলে- তুমিতো কাপুরূষ তোমার ভাইয়ের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারো না।
ভাবী কি করবো, রাতে ঘুমানোর আগে, চাকু নিয়ে ঘুমায়। বউ গেলে বউ পাবো, জীবন তো পাবো না।
.
মাঝরাতে কারো মিষ্টি মধুর ভালবাসার কথা শুনে ঘুম ভেঙে গেল।
.
হ্যালো,সোনা মনাটা.. আমার বাবুটা, ঘুমিয়েছে। মনে মনে বললাম আল্লাহ্ মনে হয় অধমের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছে। নিজের বউটা আজ সোনা মনা করে ঢেকেছে। হঠাৎ যখন বললো- জানো বাবু বুইড়াটা নিচে ঘুমাচ্ছে, নাক ডাকার
শব্দে ঘুম আসছে না! তুমি আমায় নিয়ে যাও তোমায় ছাড়া বাঁচবো না। আর এদিকে বুইড়া টা সারাদিন আমার সাথে ঝগড়া করে।
.
বুঝতে বাকি রইলো না, শাকচুন্নীটা ওর খাটাশ বয়ফেন্ডের সাথে আলাভিউ আলাভিউ করছে। এই জন্যই তো বলে, যাকে জীবনে আপনি বলে ডাকতে শুনলাম না। সে আবার সোনা, বাবু বলে ডাকবে। আজ খুব কষ্ট হচ্ছে, ভার্সিটির সব মেয়েরা আমাকে কিউট বেবী বলতো, আর আমাকে শাকচুন্নীটা বলে কি না বুইড়া বেড়া!
.
পকেট থেকে ফোনটা বের করে, বলতে লাগলাম। আমার পরাণ পাখি, তুমি কবে আসবে? কতদিন তোমায় দেখি না। ওগো আমার ময়নাপাখি, জানো সাথী, মানুষ যেমন অন্ধকারে চাঁদকে দেখে, তেমনি আমার ঘরে একটা পেত্নী আছে। সেই পেত্নীর মুখ যখনি দেখি তখনি মনে হয়, তোমার পরীর মতো চেহারাটা ভেসে উঠে। তুমি এ সপ্তাহে আসবে তোমায় বিয়ে করবো। উম্মমমাহহ্!
.
আরোহীর দিকে চেয়ে দেখি রাগে ফুলতেছে। মোবাইলটা হাত থেকে নিয়ে এক থেক্কানে কবরে পাঠিয়ে দিল।
.
কি মনে করছেন মোবাইল ভেঙে ফেললেই কি আমাদের আলাদা করতে পারবেন? না... কখনোই না। ছোটবেলার প্রেম। সাথী এ সপ্তাহে বাসায় আসছে।
.
আরোহী রাগে হনহনিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো।
এদিকে আজ কেন জানি লুঙি ড্যান্স দিতে মন চাচ্ছে। সালার কপাল বিয়ের দু'মাস হয়ে যাচ্ছে বউকে বুকে নিয়ে ঘুমাতে পারি না।
.
পরের দিন সকাল বেলা বসে পেপার পড়ছি। হঠাৎ আরোহী মাথা গুড়িয়ে পড়ে গেল। তাড়াহুড়া করে হসপিটালে নিয়ে গেল সবাই। বাহিরে বসে আছি... খুব টেনশন হচ্ছে।
.
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার সবাইকে রুমে নিয়ে বললো- খুশির সংবাদ আছে। আরোহী মা হতে চলছে। মা-বাবার আনন্দ দেখে কে। কিন্তু আমি কথাটা শুনে বাল্বের মতো ফিউজ হয়ে গেলাম। মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। আরোহী কে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।
রাতের বেলা রুমে চুপ-চাপ বসে আছে। আরোহীর কাছে যেতেই উঠে দাঁড়ালো। থাক আর সম্মান দেখাতে হবে না। আপনাকে কয়েকটা কথা প্রশ্ন করবো, উওর দিবেন ঠিকঠাক।
.
মাথা নাঁড়িয়ে সম্মতি দিলো।
.
আচ্ছা! আপনার সাথে কখনো আমার শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে?
.
কথাটা শুনে আরোহী অবাক হয়ে গেল!
.
অবাক হওয়ার কিছু নেই। বলেন হয়েছে কি না?
-না হয়নি?
.
আপনাকে কখনো জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা বিয়ের পর ঠিকমতো আপনার হাতটাও ধরার মতো সুভাগ্য আমার মতো অভাগার কপালে হয়নি। আর আমি আজ শুনলাম আপনি অন্তঃসত্ত্বা। আমি কোন নষ্টা মেয়েকে স্ত্রীর পরিচয় দিতে পারবো না। আমি আপনাকে ডির্ভোস দিবো।
.
আরোহী আমার কথাটা শুনেই কান্না করে দিল। বিছানা থেকে নেমে আমার পা দুটি ঝাপটে ধরে বলতে লাগল- আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমাকে তাড়িয়ে দিয়ো না। আমি সত্যি এমন কাজ..........
.
.
চলবে........


No comments:
Post a Comment