লেখক:আরিয়ান
বৃষ্টি: যান বাবা ও নিতে বলবে না,,,
একটু পর বাবার কাছ থেকে ফিরে এলাম,,, কিন্তু আজব ব্যাপার বাবা ও নিতে বারণ করলো,,,, আমার কেন জানি মনে হয়,,, এরা কেউই তানহাকে দেখতে পারেনা,,,
কিছুক্ষণ পর আমি আর বৃষ্টি বের হলাম গাড়ি নিয়ে,,,,
আমি: কেমন লাগছে তোমার,,
বৃষ্টি: কিসের কেমন লাগবে,,, বুঝলাম না
আমি: আজ প্রথম আমার সাথে কথা ঘুরতে যাচ্ছো,,, বিয়ের পর তো কোথাও যাওনি,,, আমার সাথে,,, তাই বললাম আর কি
বৃষ্টি: ওহহ,,,, এখন ভালো লাগতেছে না,,, তবে একটু পরে ভালো লাগবে আশা করি,,, কারন আমার কাজটা আজকেই সম্পন্ন হয়ে যাবে,,
আমি: কিসের কাজ,,, কি বলতে চাচ্ছ ভালো করে বলোতো,,
বৃষ্টি: আপনার এত কিছু শুনতে হবে না,,, তবে একটা কথা জানেন কি,,, আপনার ভাগ্য টা না খুব খারাপ,,,
বৃষ্টির কথা শুনে হালকা একটু হাসলাম,,,
আমি: ঠিকই বলেছ,,,, আমার ভাগ্য সত্যিই খারাপ,,, আগে স্বপ্ন দেখতাম,,, বিয়ের পর বউকে নিয়ে তানহা কে নিয়ে অনেক আনন্দ করবো মজা করব,,, কিন্তু সেটা তো হলোই না,,,,
বৃষ্টি: হুম,,, আপনাকে আমি মেনে নিতে পারছিনা,,,, এটার অনেক কারণ আছে,,, তবে আমার মনে হয়,,, কারণটা অজানাই থেকে যাবে,,,
আমি: অজানা থাকবে কেন,, তুমি যদি ইচ্ছা করো বলতে পারো,,, আমি কিছু মনে করব না,,,
বৃষ্টি: কিছু কথা নাহয় অজানাই থাক,,,, যদি কখনো সময় হয় তাহলে বলব। তবে আমার যেন বারবার মনে হচ্ছে আমাদের আর সেই সময় আসবে না,,,,
আমি: কি বলো এসব পাগলের মত,,,, আচ্ছা আমরা তো স্বামী স্ত্রী হতে পারিনি,,, ভালো বন্ধু হতে পারি,,, তাইনা
বৃষ্টি কথাটা শুনে জোরে হাসলো,,, এত জোরে কখনো হাসতে দেখে নি ওকে,,, মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দর,,, তবে ওর চেহারার মধ্যে একটা রহস্য আছে,,, সেই রহস্যটা আমি এখনো খুঁজে পাইনি,,,,
আমি: কি হলো হাসতেছো কেনো,,, ভুল কিছু কি বললাম,,,
বৃষ্টি: ভুল কিছু বলেন নি,,, তবে আমি আপনাকে যতই দেখতেছি,,, ততই অবাক হচ্ছি,,, একটা কথা বলি শোনেন,,,, আমার আর আপনার সম্পর্কটা পুরোই সাজানো,,,, আমার মনে হয় যেভাবে আছি সেভাবেই ভাল হয়,,,,
আমি: তোমার কাছে সম্পর্কটা সাজানো হতে পারে,, কিন্তু আমি সম্পর্কটাকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিলাম,,, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে,,, সেটা আর হয়ে উঠলো না,,,
বৃষ্টি কিছু বলল না,,, কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আবার বলল,,,,,
বৃষ্টি: একটা কথা বলি,,,
আমি: হুম বলো,,,,
বৃষ্টি: আগে আপনি কি করতেন ,,, মানে বলতে চাচ্ছি,,, তানহা জন্ম নেওয়ার আগে,,,,
আমি: কি করব,,, কিছুই করতাম না,, বাবার অনেক অর্থ থাকায়,,, কাজ করার কোন প্রয়োজন পড়েনি,,, বাড়িতেই থাকতাম সব সময়,,,,
বৃষ্টি: ওহহ,,, সত্যি বলছেন তো,,,
আমি: কেন তোমার কি মনে হচ্ছে,,,আমি মিথ্যে বলছি,,,,
বৃষ্টি: না,,, আপনার কথা সত্যি হবে হয়তো,,,, মিথ্যা বলতে যাবেন কেন,,, একটু তাড়াতাড়ি চলেন,,, আমার একটা কাজ আছে
আমি: ওকে,,, কাজটা কি জানতে পারি
বৃষ্টি: সবকিছু এত জানতে চান কেন,,, এই কৌতূহলের জন্যই কিন্তু,, আর বললো না
আমি: কি,,, বলো
বৃষ্টি: চলেন তো,,, দেরি হয়ে যাচ্ছে,,,
কিছু না বলে গাড়ি চালাতে লাগলাম,,, একটু পর মার্কেটে পৌছে গেলাম,,,,
বৃষ্টি: কি কি কিনবেন,,, সব কিছুর লিস্ট এনেছেন তো,,,
আমি: হুম,,,আনবো না কেন,,,, তোমার যেন কি কাজ ছিল,,, ওইটাই আগে করি চলো,,,,
বৃষ্টি: না থাক,,,, আগে এই কাজটাই করি,,,, ওটা আমি একাই করতে পারবো,,,,,
আমি: ঠিক আছে,,, তাহলে কেনাকাটা শুরু করি চলো,,,,
2 ঘন্টা কেনাকাটা করার পর,,, কেনাকাটা প্রায় শেষের দিকে,,, আর দুইটা জিনিস কিনলে হয়ে যাবে,,, এমন সময় বৃষ্টি বললো,,,
বৃষ্টি: আপনি একটু দাঁড়ান,,,, আমি বাথরুম থেকে আসি,,,,,
আমি: ওকে যাও,,, আমি এখানেই দাঁড়াচ্ছি,,,
বৃষ্টি চলে গেল,,,, আমি ওখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম,,,, কিন্তু হঠাৎ এ গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেলাম,,,, শপিং মলের মধ্যে গোলাগুলি,,, বিশ্বাস ই হচ্ছে না,,,, সব লোকজন পালাচ্ছে,,, আমিও পালাতে যাব,,, তার আগেই একটা গুলি এসে আমার শরীরে বিধলো,,,, তবে সেটা হাতে বলে এখনো জ্ঞান আছে,,,,
কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন পুলিশ চলে আসলো,,,, পুলিশকে দেখে পালিয়ে গেল ওরা,,,, একজন মহিলা পুলিশ বলে উঠলো,,,
পুলিশ: স্যার আপনে ঠিক আছেন তো,,,
আমি: গুলি লাগলে কি কেউ ঠিক থাকে,,,, খুব যন্ত্রণা হচ্ছে,,, তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে চলেন,,,
পুলিশ: হুম স্যার ,,, একটু সহ্য করেন,,, অ্যাম্বুলেন্স চলে এসেছে,,,
তারপর আমার আর জ্ঞান ছিল না,,,, জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতাল আবিস্কার করলাম,,,
দেখলাম সবাই এসেছে,,, কিন্তু বৃষ্টি ছাড়া,,,,,
জ্ঞান ফেরার পর ,,, বাবা এগিয়ে আসলো,,,,
বাবা: হঠাৎ কি হয়ে গেছিল,,,
আমি: জানিনা বাবা,,,, দাঁড়িয়েছিলাম,,, হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়ে গেল,,,,, পুলিশ রা না থাকলে তো
কি হয়ে যেতো,,, ভাবাই যাচ্ছে না,,
বাবা: তুমি যে বেঁচে আছো,, এতে অনেক খুশি আমরা,,, কিন্তু বৌমা কোথায়,,, ওকে তো একবারও দেখলাম না
আমি: আমিও জানিনা কোথায়,,, তখন বাথরুমে গিয়েছিলো,,, তারপরে গোলাগুলি শুরু হয়ে গেল,,, পরে আর ওকে দেখিনি,,,,,
বাবা: ওহহহ আচ্ছা আমি দেখতেছি,,, তুমি রেস্ট নাও,,,
বাবার সাথে কথা বলতে বলতে,,, তানহার কথা ভুলে গিয়েছিলাম,,, খেয়াল করে দেখলাম,,, চুপ করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,,,,,
আমি: তুমি ওখানে কেন,,, এদিকে আসো,,, আমার কাছে,,,
দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল,,, খুব ভালবাসে আমাকে,,, ওর জন্য আমার জীবনে পরিবর্তন এসেছে,,,,
তানহা: ভাইয়া তোমার কি হয়েছে,,, তোমার হাতে ওটা কি,,,, কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,,,
আমি: কিছু না আপু,,,, এমনি একটু কেটে গিয়েছিলো,,,, কিছুই হয়নি আমার,,,
তা না কিছু না বলে,,, বুকের মধ্যে চুপটি করে শুয়ে থাকলো,,,
অন্যদিকে,,,,
সামান্য একটা কাজ দিলাম,,, সেটাও ঠিক মত করতে পারতেছো না,,, সামান্য একজন ছেলেকে মারতে,,, এতদিন সময় নিচ্ছো,,,, তাও মারতে পারলে না আজকে,,,, তুমি কিন্তু ভালো করেই জানো,,,, আমি বারবার সুযোগ দেই না কাউকে,,,,
বৃষ্টি: সরি স্যার,,, আমি খুব চেষ্টা করেছিলাম ,,, কিন্তু ওই শালা পুলিশ না,, আসলে,,, আজকেই কাজটা সম্পন্ন হয়ে যেতো,,,আর কয়েকটা দিন সময় দেন প্লিজ,,,,
লোকটি: তোমাকে আর 15 দিন সময় দিলাম,,,, এই সময়টায় কিন্তু লাস্ট,,, মনে রেখো,,, এইবার না করতে পারলে কিন্তু,,, কি হবে তুমি বুঝতেই পারতেছো,,
বৃষ্টি: হুম স্যার,,,,
লোকটি: ওকে এখন তাহলে হাসপাতালে যাও,,, কেউ যাতে বুঝতে না পারে,,, সেইভাবে অভিনয়টা করো,,,
চলবে,,,,



No comments:
Post a Comment