লেখক: আরিয়ান
(আগের পার্ট টাইমলাইন এ দেওয়া আসে)
কেন মারতে পারেনি জানো,,, তোমার বাবার জন্য,,,,
আমি: 


আমার বাবার জন্য কেন,,, আমি কিন্তু এখনো কিছুই বুঝলাম না,,, বৃষ্টি ও তাই বলছে,,,,,
তাহের সাহেব: তোমার বাবাকে আমি আগে থেকেই চিনতাম,,,,, উনি অনেক ভালো মানুষ,,, আমি উনাকে শ্রদ্ধা করি,,,, যেদিন তোমার গুলি লেগেছিল,,, ঐদিন বৃষ্টির সাথে তোমার বাবা ও আমার কাছে এসেছিলো,,,,,, আমিতো জানতামই না,,, তুমি ওনার ছেলে,,,,,
বৃষ্টি: হুম,,, সেদিন রাস্তায়,,, বাবা আমাকে দেখে ফেলায়,,, আমি ধরা পড়ে গেছিলাম,,,, তাই বাধ্য হয়ে তাহের মামার কাছে এনেছিলাম,,,,
আমি: হুম সেটা না হয় বুঝলাম,,, কিন্তু আমাকে মারতে বারণ করলেন কেন,,,,
তাহের সাহেব: একদিন তোমার বাবা আমাকে অনেক বড় উপকার করেছিল,,,, যে উপকারের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়,,,,,
যখন তোমার বাবা বলেছিল,,, তোমাকে যেন না মারি,,,,, তারপর আমিও তোমার বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলাম,,,, বৃষ্টিকে খোঁজ নিতে বলেছিলাম,,,,
সবশেষে বুঝলাম,,, তুমিও খারাপ না,,, তুমি আমাদের মতো মানুষদের সেবা করো,,, তবে লোকচক্ষুর আড়ালে,,,,,
আমি: ওই কাজগুলো তো প্রত্যেকেরই করা উচিত,,,, আমি এটা আমার স্বার্থের জন্য করিনা,,, মানুষের পাশে তো মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে,,,, সেটা প্রকাশ্যে হোক আর গোপনে ই হোক,,,,, আমরা সবাই মিলে যদি সমাজটাকে না বাচাই,,, তাহলে কে বাঁচাবে,,,,,
তাহের সাহেব: সেটা তুমি আমি হয়তো বুঝি,,, কিন্তু সবাই তো বোঝে না,,,, সবাই শুধু,,, টাকার পেছনে ঘুরে,,, আজকাল দেশের অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে,,, কোথাও কোনো অঘটন ঘটলে,,, তাদের সাহায্য করতে না এগিয়ে এসে,,, ছবি তোলা নিয়ে উন্মাদ হয়ে যায়,,,,, কে আগে ছবি তুলতে পারে,,,,,
আমি: হুম স্যার,,,, ঠিক বলছেন,,,, সবাই হয়তো বোঝেনা,,, কিন্তু যদি বোঝানোর চেষ্টা করি,,, অবশ্যই বুঝবে,,,,
তাহের সাহেব: আমরা তো সেটাই করতে চাই,,,, দেশের যেকোনো পরিস্থিতিতে,,, সবাইকে এক থাকতে হবে,,, গরিবদের পাশে আমাদের অবশ্যই দাঁড়াতে হবে,,,, একবার মানুষকে সাহায্য করে দেখো,,, যতটা আনন্দ পাবে,,, ওতটা আনন্দ অন্য কোথাও পাবে না দেখো,,,,,
আমি: আমি সত্যি অনুপ্রাণিত স্যার,,,, আমি আপনাদের সাথে থাকতে চাই,,, আমিও এই সমাজটাকে পরিবর্তন করতে চাই,,, এমন একটা সমাজ চাই,,, যেখানে থাকবে না কোন নারী-পুরুষের ভেদাভেদ,,, যেখানে নারীকে চলাচল করতে কোন ভয় করতে হবে না,,,, যৌতুকের টাকার জন্য স্বামীর হাতে প্রতিদিন মার খেতে হবে না,,,, বেকার হয়ে মানুষের অবহেলার পাত্র হতে হবে না,,,,,,
বৃষ্টির মুখে যেন হাসি ফুটে উঠল,,, এতক্ষণ বৃষ্টি শুধু আমাদের কথাগুলো শুনছিল,,,, কিন্তু এখন বলে উঠলো,,,
বৃষ্টি: আপনি সত্যি আমাদের সাথে থাকবেন,,, আমাদের কাজে সাহায্য করবেন,,,,
আমি: হুম,,, সত্যি বলছি (একটু হাসিমুখে বললাম)
বৃষ্টি: মিথ্যা কথা বলছেন না তো,,, আমারতো ধোকা দিবেন না,,, গ্রেপ্তার করবেন না তো আমাদের,,,,
আমি: আরে না,,, সত্যি বলছি আমি,,, আর ধোকা দেবো না,,, প্রতারণা করবো না,,,, একবার আমার সাথে চলো,,, সারাজীবন আগলে রাখব,,,,
কথাটা শুনে বৃষ্টি মাথাটা নীচু করে ফেললো,, মনে হয় লজ্জা পেয়েছে,,,
তাহের সাহেব: তোমাকে লজ্জা পেতে হবে না বৃষ্টি,,, আমি তো সব জানি,,, তুমি আদনানকে অনেক ভালোবাসো,,, আর আমিও চাই,, তোমাদের ভালোবাসাটা পূরণ হোক,,, সারা জীবন তোমরা একসাথে থেকে,,, মানুষের সেবা করো,,,,
বৃষ্টি চুপ করে আছে,,,, মুখে কোন কথা নাই,,,,,,
আমি: স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,,, আমি ও বৃষ্টিকে খুব ভালোবাসি স্যার,,,,
তাহের সাহেব: ধন্যবাদ দিতে হবে না তোমাদের,,,, আর একটা কথা,,, অনেক অনেক দুঃখিত আমরা,,, স্কুলে সব বাচ্চাদের কষ্ট দেয়ার জন্য,,,,,
আসলে কোন উপায় ছিল না,,, আমরা এই কাজটার মাধ্যমে,,, একটু বুঝাতে চেয়েছিলাম,,, প্রশাসন এখনো কতটা দুর্বল,,, সামান্য একটা স্কুল বাস খুঁজে বের করতে পারলো না,,,,
আমি: ইটস ওকে স্যার,,, তবে এখান থেকে শিক্ষা পেলাম,,,, ভবিষ্যতে আমরা আরও সচেতন থাকবো,,, মানুষের বিপদে সময় মত পৌঁছে যাবো,,,,
তাহের সাহেব: ওকে দেখা যাক,,, কেমন সচেতন থাকো তোমরা,,,,
আমি: হুম স্যার,,, এখন কি যেতে পারি স্যার,,,,
তাহের সাহেব: হুম অবশ্যই,,, তোমাকে এখানে ডেকেছিলাম শুধু এই কথা বলার জন্য,,,,, আর ইচ্ছা করলে তুমি বৃষ্টিকে নিয়ে যেতে পারো,,, আমি বাধা দেবো না,,,,
আমি: হুম স্যার,,, আমি তো নিয়ে যেতে চাই,,,, কিন্তু বৃষ্টি যদি রাজি থাকে তাহলে,,,,
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বৃষ্টি বললো,,,,,
বৃষ্টি: হুম আমি যাব,,,(খুব ধীরে বলল)
আর কিছুক্ষণ কথা বলে বৃষ্টি কে সাথে করে বাইরে আসলাম,,, দেখলাম ফারিয়া বসে আছে,,,, আমাদের দুজনকে একসাথে দেখে ওর চোখটা যেন বেরিয়ে আসবে,,, তবে আমার একটু হাসি পাচ্ছিল,,,
তিনজন জঙ্গল পেরিয়ে গাড়িতে চলে আসলাম,,,,
গাড়িটা আমি চালাচ্ছিলাম,,,, কেউ কোন কথা বলছিলাম না,,, সবাই চুপ করে আছি,,,,
হঠাৎ ফারিয়া বলে উঠলো,,,
ফারিয়া: এটা কি হলো,,, আমরা কি জন্য এখানে এসেছিলাম,,, আপনার বউকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নাকি,,,
আমি: কি জানি,,, সেটা তো মনে হয় তুমি ভালো জানো,,,,
ফারিয়া: না আমি ভালো জানিনা,,,, আমরা এসেছিলাম আমার ছেলে তোমার বোনকে আরো অনেক ছেলে মেয়েকে খুঁজতে,,,, অনেক টেনশনে আছি কিন্তু আমি,,, এখনো আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি,,,,
একটু হাসলাম ওর কথা শুনে,,,, কিন্তু আমার হাসি শুনে ফারিয়া তো রেগে গেল,,,,,
আমি: টেনসনে থাকতে হবে না তোমার,,, বাড়িতে গিয়ে দেখো তোমার ছেলে পৌঁছে গেছে,,,,,
ফারিয়া: সত্যি বলছো,,,, নাকি মিথ্যা কথা,,,
আমি: সত্যি কি মিথ্যা,,, সেটা বাড়িতে গেলেই দেখতে পারবে,,,,,
ফারিয়া কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আবার বলল,,,
ফারিয়া: সরি,,,,
আমি: কেন,,, কি হলো হঠাৎ,,,
ফারিয়া: আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করার জন্য,,, আর বৃষ্টিকে ভুল বোঝানোর জন্য,,,,
আমি: বৃষ্টিকে ভুল বোঝানো মানে,,, কি বলছ,,
ফারিয়া: ঠিকই বলছি,,, আমি বৃষ্টিকে আপনার নামে ভুল বলেছিলাম,,, তাই বৃস্টি সেদিন চলে গেছিল,,, রাগ করে,,,,
আমি বৃষ্টির দিকে তাকালাম,,,, তাকিয়ে বুঝতে পারলাম,,, ফারিয়া ঠিকই বলছে,,,,
আমি: এখন বুঝতে পারলাম বিষয়টা,,, তবে এত বড় ভুল টা না করলেও পারতে,,, একটা সম্পর্ক ভাঙ্গা কিন্তু খুব পাপ,,,
ফারিয়া: সেটা আমি বুঝতে পেরেছি অনেক,,, সত্যি আমি অনেক খারাপ কাজ করেছিলাম,,, জানিনা সেটা মাফ পাওয়ার যোগ্য কিনা,,
আমি: আমি ক্ষমা করে দিলাম,,, ভুল করে যে বুঝতে পারে সে ভুল করেছিল,,, সে তার পাশ্চাত্য করতে চায়,,, তাকে ক্ষমা করে দেয়া উচিত,,, কি বল বৃষ্টি,,,
আমি: হুম,,, ঠিক বলছেন,,, আমিও ক্ষমা করে দিয়েছি,,,,, তবে মনে রাখবেন ফারিয়া আপু,,, সম্পর্কটা করতে অনেক সময় লাগে,,,, কিন্তু ভাঙতে একটু সময় লাগে, না,, তাই কোন সম্পর্ক ভাঙ্গার আগে,,, সবারই এই বিষয়টা একবার ভেবে দেখা উচিত ,,,,,
ফারিয়া: আমি খুব খুশি হলাম,,, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছো,,, আমি কথা দিলাম,,, সবসময় তোমাদের বিপদে পাশে থাকবো,,,,,
আমি: ওকে,,, তাই যেন হয়,,,,
বাড়িতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে গেল,,,, বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখলাম,,, বাবা আর তানহা বসে আছে,,, ড্রইং রুমে,,,,,
আমাকে আর বৃষ্টি কে দেখে বাবা আর তানহা এগিয়ে আসলো,,,
তানহা তো আমাকে দেখেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো,,,,,,
আমি: কি হয়েছে তানহা,,, ঠিক আছো তো তুমি,,,,
আমি: হুম ভাইয়া,,, এতক্ষণ কোথায় ছিলে তুমি,,, বাবা তোমাকে কতবার ফোন করেছে দেখছো,,,,
তানার কথা শুনে ফোনটা বের করলাম,,, ফোনটা তো সাইলেন্ট ছিল,,, 6 বার কল দিয়েছে,,,,
আমি: বাবা আসলে ফোনটা সাইলেন্ট করা ছিল,,, তাই দেখতে পাইনি,, সরি,,,
বাবা: হুম ঠিক আছে,,,, তুমি যে বউ মাকে সাথে করে নিয়ে এসেছো,, অনেক খুশি হয়েছি আমি,,,,
বৃষ্টি: কেমন আছেন বাবা,,,.
বাবা: আমি ভালো আছি,,, একদিন কেউ রাগ করে থাকে,,, আমাদের কথা একবারও মনে পড়েনি,,,,
বৃষ্টি: মনে পড়ছে বাবা অনেক,,, সবচেয়ে বেশি তানহার কথা মনে পড়ছে,,, খুব মিস করছি ওকে,,,,
তানহা আমার কাছ থেকে বৃষ্টির কাছে গেল,,,,
সত্যি বলতে খুব ভালো লাগছিল,,, এখন মনে হচ্ছে আমাদের পরিবারটা যেন সম্পূর্ণ,,, জানি মায়ের জায়গাটা পূরণ করতে পারবে না,,, তবে কিছুটা তো পূরণ করতে পারবে,,,,
রাতে খাওয়া-দাওয়া করে রুমে গেলাম,,,,
আমি আগে গেলাম,,, কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি আসলো,,,,
পাশে চুপ করে বসে রইল,,, কোন কথাই বলছে না,,,,
আমি : কি হল চুপ করে আছো যে,,, কোন কথা বলছোনা,,,
বৃষ্টি: এমনি,,,, খুব ভালো লাগছে আমার,,, আজকে মনে হচ্ছে আমি সত্যি অনেক ভাগ্যবান,,,,
আমি: কেন,,, ভাগ্যবান হতে যাবে কেন,,,, কি এমন জিনিস পেলে যে,,,
বৃষ্টি: আপনাকে পেয়েছি যে,,,, সারাজীবন আগলে রাখব,,,,, আপনাকে,,,, কখনো ছেড়ে যেতে দেব না,,,
আমি: তাই,,, আগে ওই কাগজটা দাও সই করে দেই,,, তখন না বললে,,,
বৃষ্টি: কোন কাগজ,,,,,
আমি: ওই যে ডিভোর্স পেপার না কি যেন,,, তখন যে বললে,,,,
বৃষ্টি: 


শয়তান,,, আমি তখন মন থেকে বলিনি,,,, আর আপনি যদি চান তাহলে দিয়ে দেই,,,
আমি: না গো,,, আমিতো তোমাকে চাই,,, কথাটা বলে একটানে বুকে এনে ফেললাম,,,
আর ফিসফিসিয়ে বললাম,,,,
আমি আমার মাফিয়া বউটাকে যে অনেক ভালবাসি,,,,, কিভাবে তাকে ছেড়ে দেই,,,,,
ভালোবাসবো তোমায়,,, অনেক,,,,
তারপরে আর কি,,,, সবই বোঝেন আপনারা 




সমাপ্ত
(গল্পে ভুল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর হ্যাঁ গল্পটির মাধ্যমে আমি সমাজের বর্তমান অবস্থাটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি,,, জানিনা কতটুকু ভালো হয়েছে,,,, আমি চাই আপনারা ও দেশের এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান,,, মানুষকে সাহায্য করুন,,, পশুপাখিকে ও সাহায্য করুন,,)
অনেক অনেক ধন্যবাদ সবাইকে পুরো গল্প পাশে থাকার জন্য,,,, সামনে আরো ভালো গল্প দেয়ার চেষ্টা করব,,,, সবাই পাশে থাকবেন



No comments:
Post a Comment