লেখক:আরিয়ান
(আগের পার্ট টাইমলাইন এ পাবেন)
গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ফারিয়ার সাথে,,,,, খুব চিন্তায় ছিলাম,,,,
ফারিয়ার দেখানো রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি,,,, রাস্তাটা অচেনা,,, জঙ্গলের দিকে,,,, এর আগে মনে হয় কোনদিন আসিনি,,,,
আমি: আচ্ছা ফারিয়া,,, তুমি এই রাস্তা চেনো কিভাবে,,,,,
কথাটা শুনে কেমন যেন চমকে উঠলো ফারিয়া,,,, সেটা আমি দিব্যি বুঝতে পারলাম,,,,,
ফারিয়া: এমনি চিনি,,, আগে এসেছিলাম এখানে,,,,,
আমি: আগে এসেছিলে মানে,,,, তারমানে তুমি বৃষ্টিকে আগে থেকেই চিনতে,,,,
হাসতে লাগলো ফারিয়া,,,, হাসি থামিয়ে আবার বললো,,,,
ফারিয়া: মাথা আছে আপনার,,,,, আমি চিনব কিভাবে,,,,, এর আগে আমি এখানে বেড়াতে এসেছিলাম,,, আর আজকে সকালে,,, হঠাৎ একটা অচেনা নাম্বার থেকে কল আসছিল,,,,,
আমি: তারপর কি হলো,,,, কি বলল
ফারিয়া: বলল আপনার ছেলেকে যদি বাচাতে চান,,,, তাহলে সিআইডি অফিসার আদনান কে নিয়ে,,, এই ঠিকানায় আসুন,,,,
আমি: ওহহহ,,, আচ্ছা কন্ঠটা ছেলে ছিল না মেয়ের ,,, ছিল,,,,
ফারিয়া: ছেলের,,,, তবে আমার কি মনে হয় জানেন,,, ঐই-কণ্ঠ না আমি এর আগে শুনেছি,,,, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে না,,, কোথায় শুনেছি,,,,,
আমি: বল কি,,, একটু মনে করার চেষ্টা করো প্লিজ,,,,, খুব টেনশনে আছি আমরা,,,,
ফারিয়া: মনে তো হচ্ছে না,,, আচ্ছা প্রবলেম নেই,,, আমরা তো যাচ্ছি,,, গেলেই দেখতে পারবো কে ফোন দিয়েছিলো,,,,,,
আমি: হুম,,, তাই হোক,,, দেখা যাক কি হয়,,,,,
ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে গেলাম,,,, জায়গাটা জঙ্গলের মাঝখানে,,,, তবে ওখানে গিয়ে অবাক না হয়ে পারলাম না,,, বিশাল বড় বাড়ি,,, অনেক লোকজন,,,,
মনে হচ্ছে একটা বসতি,,,,
কিন্তু এই জঙ্গলের মাঝখানে,,, এটা কিভাবে সম্ভব,,, তাছাড়া এত বড় বাড়ি,,,, আমরা তো কিছুই জানিনা,,,,,, না জানার অনেক কারণ আছে,,, এখানে সাধারণত কেউ আসে না,,,,,
ধীরে ধীরে বাড়ির ভেতরে গেলাম,,, সবাই কেমন যেন ভাবে তাকিয়ে ছিল আমাদের দিকে,,,, মনে হচ্ছে আমরা কোন অদ্ভুত কিছু,,,,,
আমিও ওদের কাহিনী গুলো দেখছিলাম,,,,, এদের মধ্যে দুএকজন কে চিনি আমি,,, এদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল,,, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত,,, ধরতে পেরেছিলাম না,,,,,
একটা লোক এসে,,, একটা রুমে নিয়ে গেল,,, পুরো ঘর অন্ধকার ছিল,,,, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না,,,,,
একটু পরে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠলো,,,, আলো টা জ্বালানোর সাথে সাথে,,, পুরো ঘরটা দেখতে পেলাম,,, ঘরটা বিশাল,,,, আর অনেক চেয়ার আছে,,,,
মনে হচ্ছে সবাই যেখানে বসে মিটিং করে,,,,,
তবে রুমটাতে কেউ ছিলনা,,, আমি আর ফারিয়া ছাড়া,,,,,,
ফারিয়া: আমার খুব ভয় করতেছে,,, কোথায় আসলাম আমরা,,,,,
আমি: ভয় পেয়ো না,,, যত কিছুই হোক ওরা আমাদের মারবে না,,,,
ফারিয়া: মারবে না কেন,,,,
আমি: সেটা পরে বলবোনি,,, এখন চুপ করে বসে থাকো এখানে,,,, আমি একটু বাহির থেকে আসি,,, একজনকে ফোন করতে হবে,,,,,
বাহিরে আসতে যাব,,, তখনই পিছন থেকে একজন বলে উঠল,,,,
লাভ নেই,,, এখানে কোন নেটওয়ার্ক পাবেন না,,,,, সুতরাং এখানে বসে থাকুন,,,,,
পেছনে ঘুরে তাকালাম,,,,, আবছা আলোয় মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না,,,,
একটু পরেই এগিয়ে আসলো,,,,,
এতোক্ষণে বুঝতে পারলাম,,, এটা বৃষ্টি,,,, তবে কন্ঠটা শুনে চিনেছিলাম,,,,,
ফারিয়া তো বৃষ্টি কে দেখেই অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা,,,,,
বৃষ্টি: স্বাগতম,,, আমাদের এই পাসাদে,,,,,, কেমন লাগছে আপনাদের,,,,
আমি: হুম খুব ভালো লাগছে,,,,, কেমন আছো,,,,
কেমন আছো কথাটা শুনে,, ওর রিয়েকশন টা ছিল অবাক করার মত,,,,,
বৃষ্টি: ওই হ্যালো,,,, এখানে আপনাকে প্রেম আলাপ করার জন্য ঢাকা হয়নি,,,, আর তুমি কি ভাষা,,, আপনি বলুন,,,
আমি: আচ্ছা সরি,,,, আপনি শিশু বাচ্চাদের ধরে আনছেন কেন,,,,,
বৃষ্টি: কোথায় শিশু বাচ্চাদের ধরলাম,,,, আপনি তো মনে হয় নিউজ দেখেন নি,,,, সবাইতো যে যার মতো বাড়ি চলে গেছে,,,,,
আমি: মানে,,,, তারমানে ছেড়ে দিয়েছো,,,,, এসব কেন করতেছো,,,,
বৃষ্টি: আবার তুমি,,, তোর সাহস কি করে হয়,,, তুই আমাকে চিনিস,,,,, আমি যদি ইচ্ছা করি,,, তোর লাশ পড়ে থাকবে এখানে,,,(শার্টের কলার ধরে বলল)
আমি চুপ করে থাকলাম,,,, বৃষ্টির কথাগুলো যেন বিশ্বাস হচ্ছে না,,, তাহলে কি ও আমাকে একটুও ভালোবাসেনি,,,,
বৃষ্টি: সরি তুই তোকারি করার জন্য,,, যে জন্য ডাকছিলাম,,,, আসুন আমার সাথে,,,
পিছন পিছন ওর সাথে গেলাম,,,, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম,,,, একদম ছাদে পৌঁছে গেলাম,,,,
পেছনে তাকিয়ে দেখলাম ফারিয়া নেই,,,,
বৃষ্টি: কাকে খুজছেন,,, ফারিয়াকে তো,,, ওকে আমার লোক পেছন থেকে আটকে রেখেছে,,,,
আমি: এরকম কেন করতেছ,,, কি করেছে সাধারন জনগন,,,,
বৃষ্টি: কই কি করলাম,,, আর সাধারণ মানুষ তো কিছুই করেনি,,,,, যা করার করেছো তো তোমরা,,,,,
আমি: কি করেছি আমরা,,, কেন চলে এসেছিলে সেদিন,,,,, কিছুই তো জানিনা,,,,,
বৃষ্টি: শোন ন্যাকামো করবি না,,, তোরা ভালো করেই জানতি,,, কি মনে করেছিলি,,, আমাকে প্রেমের লোভ দেখিয়ে,,, গ্রেপ্তার করবি তাইতো,,, আর আমি কিছু জানবো না,,,, বাহ খুব ভালো,,, আমি তো কচি খুকি তাইনা,,,,
আমি: শোনো বৃষ্টি,,,, তুমি ভুল ভাবতেছ ,,, আমি জানিনা কে তোমাকে কি বলেছে,,, আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসতাম,,,
বৃষ্টি: ভালোবাসা না,,, আচ্ছা একটা কথা বল,,, তুই সিআইডি অফিসার আদনান ,,, তাই না,,,,
আমি চুপ করে থাকলাম,,,, এখন আমার কাছে সব ক্লিয়ার মনে হচ্ছে,,, বৃষ্টি আবার বললো,,,
বৃষ্টি: কিরে চুপ কেন,,,, সত্যি কথা বলতে ভয় পাচ্ছিস,,, ভয় নেই বল,,,, আমি মারব না তোকে,,,,
আমি: হুম,,, আমি সিআইডি অফিসার,,,, তবে সত্যি,,, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম,,, এখনো অনেক ভালবাসি তোমাকে,,,,,
বৃষ্টি: একবার প্রতারণা করে ধরতে পারিস নি বলে,,, আবার প্রতারণা করতে চাইতেছিস,,, কি মনে হয়,,,, তুই যা বলবি তাই মেনে নেব,,,,
আমি: বৃষ্টি প্লিজ এরকম কোরো না আর,,,, তুমি সবকিছু স্বীকার করে নাও,,,, আমি তোমাকে ছাড়িয়ে আনবো(ওর দিকে আগাতে আগাতে বললাম)
বৃষ্টি: শোন দূরে যা,,,, তোর স্বপ্নে আর ডুবতে চাই না,,,, তোকে আমি বিশ্বাস করছিলাম,,,, ভালোবেসে ফেলেছিলাম,,,, সেজন্য তো তোকে সত্যিটা বলছিলাম,,,,,, কিন্তু তুই কি করলি,,, আমাকে কিছু বললি না,,,, গোপনে ফাদ পাততে লাগলি,,, কিভাবে আমাকে গ্রেপ্তার করা যায়,,,,,
আমি: আমি সত্যিই সেরকম কিছু করেছিলাম,,, আমি মানছি যে,,, আমি সিআইডি অফিসার,,,, তোমাকে আমি ধরতে চেয়েছিলাম,,,,, কিন্তু বিশ্বাস করো,,,, তোমাকে বিয়ে করার পর,,, আমি সত্যিই একবারে পেতে চেয়েছিলাম,,, খুব ভালবাসতাম যে তোমাকে,,,,,, আমি তোমাকে আগে থেকেই চিনতাম,,,, তখন থেকেই ভালোবাসতাম,,,,,
বৃষ্টি: শোন অনেক কথা বলছিস,,, এখন আসল কথায় আসি,,, এ কাগজটায় সই করে দে,,, তাহলে তোকে ছেড়ে দেবো যা,,, আমাদের মধ্যে কি ছিল না ছিল,,, সব ভুলে যাস,,,,
একটা কাগজ এগিয়ে দিলো বৃষ্টি,,,,,,
চলবে



No comments:
Post a Comment