লেখক:আরিয়ান
বৃষ্টি: কি করতেছেন,,, আপনার জ্বর বেড়েই চলছে,,, ডাক্তার ডেকে আনি,,,
কিছু বলতে পারলাম না,,, কারণ তারপর আমার আর কোন জ্ঞানই ছিলো না,,,,, জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম পুরো ঘরে মানুষ দিয়ে ভরে আছে,,,,, বৃষ্টি শক্ত করে আমার হাত ধরে আছে,,,,,
সবার সাথেই কথা বললাম,,,,, ধীরে ধীরে সবাই চলে গেল,,,,
বৃষ্টি: আপনি বিশ্রাম নিন,,,, আমি একটু বাহিরে থেকে আসছি,,,
আমি: হুম,,,, কি হয়েছি আমার,,,,,
বৃষ্টি: কি আর হবে,,, আগে বললাম ডাক্তার ডেকে আনি,,, শুনলেন না তো,,,, অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন,,, কত টেনশন এ ছিলাম জানেন,,,,
আমি: তুমি টেনশন থাকবে কেন,,, আমার কিছু হলে,,, তোমার তো কিছুই হবে না,,,
বৃষ্টি: 


কে বলছে,,, অনেক কিছুই হবে,,, আপনি এটা বুঝবেন না,,,, আপনি বিশ্রাম নেন,,,,
বৃষ্টি বাইরে চলে গেল,,, তবে ওর মুখে কেমন যেন একটা হাসি দেখতে পেলাম,,, হাসিটার কোনো মানে নেই,,,,,
দুপুরের দিকে ঘুম থেকে উঠলাম,,,,, এখন মোটামুটি সুস্থ,,,, একটু বাহিরে গেলাম,,, বাইরে গিয়ে দেখি,,, ফারিয়া দাঁড়িয়ে আছে ,,,, ওর কাছে গেলাম,,,
আমি: কি কর এখানে,,,,
ফারিয়া: কিছুই না,,, প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখছিলাম,,,, প্রকৃতি বড় অদ্ভুত,,,, কখন কি হয় কিছুই বোঝা যায় না,,, ঠিক আমাদের জীবনের মত,,,
আমি: ঠিক বলেছ,,,,, জীবনে বাঁচতে হলে,,, সমস্যা আসবেই,,, কিন্তু সেটা উপেক্ষা করে বাচার নামই তো জীবন,,,,,
ফারিয়া: হুম,,,,, তা আপনার শরীরের অবস্থা কেমন,,,,,
আমি: এখন মোটামুটি ভালো,,,,,
ফারিয়া:ওহহ ,,, তা কি হয়েছিল হঠাৎ,,,,,
আমি: জানি না,,, একটু জ্বর আসছিল,, তার থেকেই এরকম হয়ে গেছে,,,,
ফারিয়া: আপনার বউ মনে হয় আপনাকে খুব ভালোবাসে,,,তাই না,,,,,,,
আমি: কেন,,, হঠাৎ তোমার এরকম মনে হচ্ছে কেন,,,,,
ফারিয়া: নাহ,,, কালকে রাতে দেখলাম,,, আপনি অসুস্থ দেখে,,, পুরো পাগলের মত হয়ে গেছিলো,,,,, তাই মনে হল,,, খুব ভালোবাসে আপনাকে,,,,
আমি: হয়তো বাসে ,,, তবে আমি সেটা জানি না,,,,,
ফারিয়া: 


আপনার বউ,,, আর আপনি জানেন না,,, বিষয়টা কেমন লাগতেছে না,,,,
আমি: বাদ দাও এসব,,,,,,,ভেতরে যাবে না,,,,,
ফারিয়া: নাহ,,, এখানেই ভালো লাগতেছে,,, আপনি যাবেন নাকি,,,,
আমি: হুম ,,,যাই আমি,,, ভেতরে একটা কাজ আছে,,,,,
ফারিয়া: হুম যান,,, আমার সাথে থাকতে ভালো লাগতেছে না বুঝি,,,, বউয়ের কাছে যেতে মন চাইছে,,,,,
আমি: না সেরকম না,,, বললাম না একটা কাজ আছে,,,,,
চলে আসতে লাগলাম,,, হঠাৎ পেছন থেকে ফারিয়া ডাক দিল,,,, দাঁড়িয়ে গেলাম,,,,
ফারিয়া: ইচ্ছে করলে আজ রাতে আসতে পারেন,,, দরজা খোলাই থাকবে,,,,,
ফারিয়ার কথা শুনে,,, কিছুক্ষণ ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে আবার হাটা শুরু করলাম,,, পেছন থেকে কয়েক বার,,, ফারিয়া ডাকলো,,,, কিন্তু শুনেও কোন উত্তর দিলাম না,,,,,, সোজা রুমে চলে আসলাম,,,,,
বৃষ্টি মনে হয় বাথরুমে গেছে,,, গোসল করতে,,,,
শুয়ে থেকে গান শুনতে লাগলাম,,,, আর ফারিয়ার কথাটা ভাবতে লাগলাম,,,, ফারিয়া কি বলতে চাচ্ছে,,,,,
হঠাৎ বৃষ্টি ডাক দিল,,,,
বৃষ্টি; কি হলো গোসল করবেন না,,, যেভাবে গান শুনেছেন,,,,,
আমি: হুম,,, তোমার হয়ে গেছে,,,,
বৃষ্টি: হয়েছে,,, আপনি তাড়াতাড়ি গোসল করে নেন,,,,,
কি আর করা,,, গোসল করতে গেলাম,,, বউয়ের আদেশ,,, না মানলে কি হয়,,,,,
গোসল সেরে,,, বাইরে এসে দেখি,,,, বৃষ্টি শাড়ি পড়তেছে,,,,, আমাকে দেখে বলে উঠল
বৃষ্টি: একটু এদিকে আসেন তো,,, শাড়িটা পড়িয়ে দিন,,,, একা একা হচ্ছে না,,,,
আমি: কাকে বলছো,,,,
বৃষ্টি: আজব তো,,, এখানে আপনি ছাড়া আর কে আছে,,, ঢং করতে হবেনা,,, তাড়াতাড়ি আসেন,,,,
আমি: ঢং মানে,,, আমিও শাড়ি পরাতে পারি না,,,,, অন্য কাউকে দিয়ে পরিয়ে নাও,,,
বৃষ্টির মনটা খারাপ হয়ে গেল,,,, এরকম কিছু বলবো,,, এটা হয়তো ভাবেনি ও,,,,
বৃষ্টি: ওকে লাগবেনা,,, শাড়ি পড়বো ই না,,,,, আপনি যান,,,,,
বৃষ্টির কাছে গিয়ে বললাম,,,,
আমি: আমি তো মজা করলাম,,,,, আমি শাড়ি পরাতে জানি,,, এর আগে কত পড়িয়েছি,,,,,
বৃষ্টি: 


কত মানে,,, এর আগে কাকে পরিয়েছেন,,,,,
আমি: কলেজে থাকতে,,, সব বান্ধবীকে আমি শাড়ি পরিয়ে দিয়েছি,,,, আমার কাছ থেকে না হলে,, শাড়ি পড়তো না ওরা,,,,



বৃষ্টি: শালা লুইচ্চা,,

আমি তো ভালো মনে করছিলাম,,,, শয়তান,,, পড়বোনা তোর কাছে শাড়ি,,, তুই সর,,,,
আমি: কি বললে,,, আমি লুচ্চা না,,, আর তুই তোকারি করতেছ কেন,,,,,
বৃষ্টি: তো কি করবো,,, আদর করবো নাকি তোকে,,,,,
বৃষ্টি: সেটা করলেই তো পারো,,, কবে থেকে এর অপেক্ষায় আছি,,,,
বৃষ্টি: তুই সর,,,, তোকে যেন আমার চোখের সামনে না দেখি,,,,, ফাজিল কোথাকার,,,,,
আমি: কি করলাম,,,,,,, এত রেগে গেলে কেন,,, আমি তো এমনি বলছি,,, শাড়ি পরাতে পারি না আমি,,,
বৃষ্টি: আমি জানি,,, তুই কি পারিস আর পারিস না,,, ভালোই ভালোই বলছি,,, এখান থেকে যা,,, খুব রাগ হচ্ছে, কিন্তু,,,,,
বাইরে চলে গেলাম,,,, খুব রেগে গেছে,,,, কিছু আবার করতে পারে ,,, সেফটি ফাস্ট,,,,,
ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আর রুমে গেলাম না,,,, তানহার সাথে দেখা করলাম,,,, বোনটার খোঁজ নেয়াই হচ্ছে না,,, সব সময় খালার সাথেই থাকে,,,,,
খুব খিদে লেগেছে,,,,, তাই খালার কাছে গেলাম খাওয়ার জন্য,,,,,, খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেল,,,, আবার রুমে গেলাম,,,
দেখলাম,,, বৃষ্টি সেই আগের মত,,, ফোনে হেসে হেসে কথা বলছে,,,,,,, আগে দেখে ফোনটা লুকালো,,,,
বৃষ্টি: আপনি কখন আসলেন,,,
আমি: আসলাম কিছুক্ষণ আগে,,, তোমার কথাগুলো শুনছিলাম,,,,
কথাটা শুনে চমকে গেল বৃষ্টি,, কেমন জানি ভয় পেয়েছে ও,,
বৃষ্টি: কি,,, কি শুনেছেন,,,
আমি মুচকি হেসে বললাম,,,
আমি: কিছুই শুনি নি,, মজা করলাম,,, তা রাগ টা কি কমেছে এখন,,,
বৃষ্টি: হুম কমছে,,,আর কোনদিন অন্য মেয়ের কথা বলবেন না আমার কাছে,,, তাহলে কিন্তু আজকের থেকে বেশি হয়ে যাবে,,,
আমি: আচ্ছা বাবা বলবো না,,,, তোমার এত রাগ,, আগে জানতাম না কিন্তু,,,, সত্যি ভয় পেয়েছি,,,
জোরে জোরে হেসে উঠলো বৃষ্টি,,,,
বৃষ্টি: সত্যি ভয় পাইছেন,,,
আমি: হুম সত্যি,,,,,
সন্ধ্যার পরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রুমে আসলাম,,,, বৃষ্টি ও আসলো,,,
কিন্তু রুমে আমার মনটা ছিল না,,,, বারবার ফারিয়ার ঐ কথাগুলো মনে পড়তে ছিল,,,, আমি বাহিরে চলে আসলাম,,,, দেখলাম লাইট এখনো জ্বলে আছে,, ফারিয়ার রুমে
চলবে



No comments:
Post a Comment