আংকেল আন্টি,,রিদয় ভাইয়া,আশা সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রিমিকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম?
সুমি আপু তার বাড়িতে কেননা,,তার স্বামী আজ মারা গেছে।কিন্তু আমি এখনো জানতে পারলাম না।সুমি আপু কি এমন প্রমান দিয়েছিল আব্বুকে।,,মিথিলা হয়ত এখনো জানে না আমরা আসল সত্যিটা জেনে গেছি।আব্বু আমাকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে সাথে রিমিকেও।
তবে মিথিলার জন্য আমার খুব বেশি মন খারাপ করছে।কেন করছে তার প্রথম উত্তর হলো।আমি মিথিলাকে ভালোবাসতাম।।মিথিলার সাথে এমন কিছু ঘটছে যার জন্য মিথিলা আমাকে ভালোবাসার কথা মুখ খুলে বলতে পারে নি।।কারন দুলাভাই মিথিলাকে নানা ভাবে ভয় দেখিয়েছে।ব্লাকমেইল করেছে।
আমি না হয় সব পেলাম,,,রিমির মতো মেয়েকে জিবন সঙ্গীনি। আর আমার পরিবার। কিন্তু মিথিলার এই ত্যাগের জন্য কি পাবে।আর কি হারিয়েছে?
হুম যদি আপনি মনে করেন আমি এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ত্যাগ দিয়েছি।আমার মনে হয় মিথিলা আমার থেকে কয়েকগুন বেশি ত্যাগ দিয়েছে।জানতে চান কিভাবে?
একবার ভাবুন ত,,,একটা মেয়ে যে তার বোনের জিবন বাচাতে তার সর্বত্র বিলিয়ে দিতে বাধ্য হয় সে মেয়েটা কত খানি ত্যাগ দিয়েছে।যে তার ভালোবাসার মানুষ টি কে ধর্ষক এর মত অপবাদ দিতে বাধ্য হয়,,,,ভালোবাসার মানুষটিকে হারাতে হয়।শুধু পরিবার আর বোনের কথা ভেবে।কাউকে সত্যটা বলতে পারে না।আপনি কিন্তু তাকে স্বার্থপর বলতে পারেন না।কারন মিথিলা সেসব নিজের জন্য নয়।তার পরিবার।আর আপুর সংসার বাচানোর জন্য করেছে।
(গল্পটি মিথিলার দিক থেকে ছোট গল্প অথবা কয়েকটি পার্টে লিখা হবে)
তবে বাড়িতে যাচ্ছি মনে অনেক আনন্দও লাগছে বটে।কেননা দুই বছরেরও বেশি বাড়িতে যাই না। কত বন্ধুবান্ধব খেলার স্বাথী যোগাযোগ নেই।সবার সাথে আবার যোগাযোগ করতে পারবো। প্রিয় খেলা ক্রিকেট টাও খেলতে পারবো।তবে আমি আরো বেশি আনন্দিত আব্বু আম্মু রিমিকে মেনে নিয়েছে।আর রিমিকে দেখে তাদের হাসি মাখা মুখ দেখে আমার মন টা ভরে গিয়েছিল।,,আসলে সব কিছু এত সহজ ভাবে ঘটে যাবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না।এর জন্য ত সুমি আপুর ক্রেডিট দিতেই হয়।আর কিভাবে সুমি আপু আমাকে নির্দোষ প্রমান করেছে।তা না হয় ভাবি,আর আম্মুর কাছ থেকেই জেনে নিব।
-- আসিফ,,বিয়ে করে নিয়েছিলে আমাকেও ত একবার জানাতে পারতে?(ভাবি মন ভার করে)
তাহলে ভাবি কি রাগ করলো ভাবি ত রাগ করার মত মেয়েই না।
-- সরি আসলে আমি খুবই ভয়ে ছিলাম।তোমরা আমাকে ভুল বুজো কিনা।(আমি)
-- কি ভুল ভাববো?(ভাবি)
-- যদি ভাবতে এমনেই বাসাতে আসতে পারছি না আবার বিয়ে করে ফেলেছি।তা ও তোমাদের না জানিয়ে।(আমি)
-- তাই ত,,(ভাবি)
-- আসলে রিমির আর আমার বিয়েতে অনেক ঘটনা আছে।বাড়ি চলো সবাইকে সব কিছু বলছি।(আমি)
-- আচ্ছা আসিফ আমার ও একটা প্রশ্ন রিমির পরিবার ত অনেক ধনী তার পরও তোর যেখানে থাকার জায়গা না নেই।তোর সাথে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিলো কিভাবে?(আম্মু)
-- আম্মু রিমির আব্বু আম্মু অনেক ভালো,,আমাকে তাদের বাসায় থাকতে দেয়।পড়ালেখার ব্যবস্থা সাথে নিজের কম্পানিতেও চাকরি দেয়।আর রিমি আমাকে ছাড়া বাচবে না তাই রিমিকেও আমাকে দিয়ে দেয়। অদের মত মানুষ হয়না।।(আমি)
-- হুম ঠিকই বলেছিস।তবে রিমিকে কিন্তু আমার অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে।কি মিস্টি দেখতে মাশাআলাহ।(রিমিকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে)
রিমির মনেও অনেক আনন্দ প্রথমে হয়ত রিমি ভাবতো আমার পরিবার অনেক খারাপ কারন কোনো কিছু না জেনে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিল।এখন হয়ত ভাবছে এত মিশুক আর ভালো মানষ কেমনে হয়।।।
এটাই স্নেহের অধিকার।যার প্রতি ভালোবাসা বেশি মানুষ তার দেওয়া কষ্টে ব্যাথিত হয় বেশি।।আর যার জিবনে শাসন নেই তার জিবনে ভালোবাসাও নেই।তাই আমি আব্বুর প্রতি রাগ নয় অনেক খুশি।কারন আমার বাবা প্রমান করেছে দুষ নিজের ছেলে হওক তার শাস্তি পেতে হবে।।।কিন্তু বর্তমান সমাজে এরকম ন্যায় বিচার উঠেই গেছে।নেতার ছেলে সাত গুন মাফ।,,ধর্ষন করে ছেলে বাবা সেই ছেলেকে প্রটেকশন দেয়।,,,নেতার ছেলে খুন করে বাবা তার প্রটেকশন দেয়। নেতার ছেলে ইভটিজিং করে কোনো দুষ নাই।।।আর নেতার মেয়ের দিকে চাইলেই দুষ।
গাড়িতে অনেক কথাবার্তা হতে হতে বাড়ি চলে আসি।।।বাড়িতে পা রাখতেই মনে কেমন শান্তির হাওয়া বইয়ে যেতে লাগলো।।।বাড়ির ঘ্রান যে আমার নাকে এসে লেগেছে। কি পরিচিত ঘ্রান।আমি আমার রুমে গিয়ে বসলাম,,,রুমের চার পাশ ভালো করে দেখছিলাম।কোনো কিছু পরিবর্তন হয়নি।যেভাবে যা রেখেছিলাম।সেভাবেই আছে।সবচেয়ে বড় কথা হলো রুমে ময়লা ও পরে নেই।।তাহলে কি ভাবি আমার দিয়ে যাওয়া কথা রেখেছিল।।যেন আমার রুমটা স্টোত রুম না হয়।।।
ভালো লাগছিল রুমটা আগের মত পেয়ে।,,,ভাবি মুখে হাসি নিয়ে ভাবির দিকে তাকালাম?
-- কি আসিফ,, কিছু বলবা?(ভাবি)
-- ভাবি তোমাকে অনেক ধন্যবাদ,,আমার রুম টার কোনো পরিবর্তনন কর নি।(আমি)
-- কি বলো এত দিন এভাবেই ছিল? কোনো পরিবর্তন হয়নি।(রিমি)
-- না রিমি আসিফ চলে যাওয়ার সময় এই একটা কথা বলেছিল।রুমটাকে যেন দেখে রাখি।(ভাবি)
-- হুম রুম টা অনেক সুন্দর।(রিমি)
-- হুম সব ভাবির যাদু।।(আমি)
-- হুম হইছে,এত দিন আমি রুমটা দেখে রাখছি এবার না হয় তুমি দেখে রাখো?(ভাবি রিমিকে বলছে)
সবার জিবনে মনে হয়।।বউকে ভাবি বলে,, এত দিন তোমার টা আমি দেখে রাখছি।এবার তোমারটা তুমি দেখে রাখো।কিন্তু আমার বেলায় সব কিছুই অন্যরকম।
-- রুম আর রুমের মালিক দুটাই এখন আমার।তাই এগুলো ত আমাকেই দেখে রাখতে হবে।(রিমি)
-- অকে দেখে রাখো কাল সকালে কথা হবে.(ভাবি চলে গেলো।)
রাত তখন প্রায় ২ টা ঘুমানোর দরকার,,।কিন্তু আমার মনে জানার ইচ্ছা কিভাবে সুমি আপু প্রমান দিল।।,,
এত রাতে আপুকে ফোন দেওয়া ঠিক না।তবে আমাকে যে জানতে হবে। আপুকে ফোন দিলাম,,,
-- হ্যলো?(সুমি আপু)
-- আপু কি ঘুমিয়ে গেছো?(আমি)
-- না,,আসিফ বলো?(আপু)
-- আপু,,আব্বুকে কি প্রমান দিয়েছিলে আর কি বলেছিলে?(আমি)
-- তোমাকে তোমার দুলাভাইয়ের বলা সব কিছুই আমি রেকর্ড করে রেখেছিলাম।আর সেগুলো বড় আব্বুকে জানাই।সব কিছু সুনে বুজতে পারে এখানে কার দুষ ছিল।আর কে কে বিনা দুষে শাস্তি পেলো।বাকি কথা পরে বলব।এখন ঘুমাও,,(আপু)
-- কবে বলবা,,,(আমি)
--আগে আমি বাসায় আসি,,সামনা সামনি বলবো।(আপু)
-- আচ্ছা,,,
তাহলে কি আপু কিছু লুকাচ্ছে।সিজন ২ তে জানতে পারবেন।
সকালে রিমির ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো,,,ফ্রেশ হয়ে সবার সাথে নাস্তা করতে বসলাম।।বাড়িতে যেন নতুন করে আনন্দ ফিরে এলো।সবার মুখে হাসি ফুটে এসেছে।বিশেষ করে আব্বু,,আম্মুর মুখে।।আম্মু ত রিমিকে নিজের মেয়ের মতো করে ভালো বাসছে।,,
নাস্তা শেষ করে এলাকায় ঘুরতে বের হইছি।।এলাকার বন্ধুবান্ধব ছোট ভাই,,বড় ভাই যে দেখছে সেই আমাকে প্রশ্ন করছে। এত দিন কোথায় ছিলাম,,,খবর ছিল না কেন।আরো নানা কথা।।সবার সাথে অনেকক্ষন কথা বলে বাসায়,,,ফিরলাম।কেউ জানে না আমি বিয়ে করে ফেলছি।আব্বু বলেছিল আয়োজন করে আবার বিয়ে হবে।
বাসায় এসে সুনি মিথিলা এসেছে,,,,।চাচিও কি জানে আমি অপরাধী ছিলাম না।।হয়ত সব কিছু জেনে গেছে,,,।। বাসায় এসে অনেকক্ষন মিথিলাকে দেখব বলে মিথিলাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিলাম।।কিন্তু মিথিলাকে দেখছি না।তবে একটা ছেলেকে দেখছি এটা কি তাহলে মিথিলার জামাই?
চাচিকে দেখলাম আমাদের বাসায়।।আমাকে দেখে কেদে দিয়েছিল। চাচিও সব কিছু জেনেছে।রিমিকে দেখে চাচি ও খুব পছন্দ করেছে।
মিথিলা কি জানে আমি এসেছি,,হয়ত জানে,,তাহলে আমাদের বাড়িতে আসে না কেন?রাগ না অভিমান।
বিকেলের দিকে আমিই মিথিলার সাথে দেখা করতে গেলাম। মিথিলা কি যেন করছিল,,,পিছন থেকে ডাক দিলাম,।
-- মিথিলা,,,(আমি)
আমার কন্ঠ সুনে মিথিলা পিছন ফিরে তাকালো।মনে হচ্ছে চমকে উঠেছে।
-- কেমন আছিস মিথিলা?(মিথিলাকে দেখে আমার চোখ গুলো ভিজে আসছিল)
-- আসিফ তুই,,(মিথিলার চোখ গুলোও ছল ছল করছে)
-- হুম আমি,,,মিথিলা আমি সব জেনে গেছি।তোর সাথে কি হইছিল? (আমি)
-- হয়ত আরো আগেই জানতে পারতি,,তুই ত আমার কথা সুনতে চাস নি?যাক গে সুনেছি বিয়ে করেছিস?(মিথিলা)
-- হুম,,,দেখে আছিস?(আমি)
-- বিয়েটা হয়ত তোর সাথে আমার হতো তাই না?কিন্তু নিয়তির কি খেলা দেখলি ত ওনি যা চাইবেন তাই হবে।(মিথিলা)
-- এখন এইসব নিয়ে ভেবে কি হবে বল?(আমি)
-- তুই একবার জানতে চাইলি না আমার সাথে কি হয়েছিল।নিজের ত্যাগ টাই দেখলি?(মিথিলা প্রায় কেদে দিয়েছে)
নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।,,,ঠিকই ত যাকে এত ভালোবাসতাম,,,তার কথা গুলো কেন সুনতে চাই নি।কথা গুলো সুনলে হয় ত রিমির প্রেমে পরতাম না।কিন্তু এখন মিথিলা জন্য খারাপ লাগা ছাড়া কিছু করার নাই।
-- সরি মিথিলা,,,অনেক রাগ হইছিল তোর উপর তোকে ত আমি অনেক ভালোবাসতাম। তাই তোর দেওয়া অপবাদ নিতে পারছিলাম না।(আমি)
-- কিন্তু একটা কথা মানতে হবে,,,তুই আমাদের পরিবার,,আমার সম্মান আর আপুর সংসার নিয়ে অনেক বেশি ভেবেছিস।।থাক না কিছু সপ্ন অপুর্ন তার পরেও তোর প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গেলো.(মিথিলা)
তখনি,,,মিথিলার স্বামী কোথায় থেকে যেন আসলো।
মিথিলা আমাদের পরিচয় করিয়ে দিল।।।ছেলে দেখতে দারুন স্মার্ট।আর ব্যবহারে অনেক ভালো ও মনে হচ্ছে। আসলে খারাপের পর ভালোই অপেক্ষা করে।।
।
।
...সমাপ্ত.....



No comments:
Post a Comment