Post Top Ad

Post Top Ad

ধর্ষক

ধর্ষক//part_26//


# Writter Asif
পরিচিত শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।বাসের মধ্যে বসে আছি,,,আর ভাবছি আর বাহিরে বাহিরে থাকার সময় নেই এইবার বাসায় যাবার পালা।।।মিথিলার ভালো কোথাও বিয়ে হবে ভালো থাকবে তাই ত এত ত্যাগ। আমি চাইলে আগেই পারতাম সিম উঠিয়ে ইমু থেকে ভিডিও টা নিয়ে।বাসার সবাইকে দেখিয়ে বাসায় ফিরে আসতাম।কিন্তু মিথিলার কি ভালো কোথাও বিয়ে হতো??
বিকেলের দিকে রওনা দিয়ে আসতে আসতে মাগরিবের আজান দিয়ে ফেলছে প্রায়।মুরাদনগর বাজারেই অবস্থান করছি।ইচ্ছে ছিল এলাকাতেই চলে যাই।কিন্তু এলাকার লোকজন এত দিন পর দেখলে হয়ত অনেক প্রশ্নের মুখে পরে যাবো।জোর করে হয়তো বাসায় নিয়ে যাবে।আব্বু যেনে যাবে আমি ফিরে এসেছি। তার থেকে ভালো মুরাদনগর ই থাকি।
আম্মুকে ফোন দেওয়ার জন্য রিচার্জ করতে হবে।
রিচার্জ করার জন্য একটা দোকানে গেলাম।দোকানে গিয়ে দেখি হানিফ ভাই বসা।এলাকার বড় ভাই,,বাসায় যখন ছিলাম হানিফ ভাই বিদেশ ছিল।হয়ত বাড়ি এসে দোকান দিয়েছে।
-- আসসালামু আলাইকুম হানিফ ভাই কেমন আছেন?(আমি)
-- আরে আসিফ না।কি ব্যপার কই থাকো তোমাকে দেখি না কেন? (হানিফ ভাই)
-- ভাইয়া শহরে থাকি ত বাড়িতে আসা হয় না।দোকান দিছেন নাকি,,,?(আমি)
-- অহ আচ্ছা লেখাপড়ার জন্য,,দোকান ত ১ বছর হইছে দিছি।ভিতরে এসে বসো?(হানিফ ভাই)
-- হুম ভাইয়া,,কিছু টাকা রিচার্জ লাগবে।(ভিতরে গিয়ে বসলাম)
-- হুম নাম্বার টা বলো,,,
টাকা রিচার্জ করে,,,আম্মুকে ফোন দিলাম।দোকান থেকে বের হয়ে।আম্মু আর ভাবি আসবে।সেই সময়টা হানিফ ভাইয়ার সাথে গল্প করেই কাটাই।আবার বসলাম,।দোকানে।
-- থাকবা নি কিছু দিন?(হানিফ ভাই)
-- না ভাই,,আজই চলে যাবো একটা ইম্পর্টেন্ট কাজে আসছি?(আমি)
-- অহ আচ্ছা,, প্রতি শুক্রবারে ক্রিকেট খেলি,,তুমিও ত আগে খেলতা।অনেক মজার ছিল দিন গুলো।পুলাপাইন গুলা বলছিল কাউকে না জানিয়ে নাকি চলে গেছো।আর কারো সাথে কোনো যোগাযোগ নাই?(হানিফ ভাই)
-- দোয়া করবেন আবার সব কিছু হবে ইনশাআল্লাহ। (আমি)
-- হুম,,,সময় নিয়ে গ্রামে আসো আর কত শহরে থাকবা?(হানিফ ভাই।)
ভাবির নাম্বার থেকে ফোন আসছে।বুজতে পারলাম চলে এসেছে।হানিফ ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে । আম্মু,আর ভাবির সামনে,,
-- আম্মু কেমন আছো?(আম্মু আমাকে দেখেই জড়িয়ে ধরেছে)বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর আর আম্মুকে জড়িয়ে ধরা হয়নি।)আমিও জড়িয়ে ধরলাম)
-- ভালো নেই রে বাবা,,কি এক অপবাদ নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলি।তর আব্বু এখনো বুঝতে চায় না।তুই কি আর বাড়ি ফিরবি না বাপ।(আম্মু)
-- ফিরব ,শুধু দোয়া কর?(আমি)
-- তর জন্য আমার চোখের পানি জুরায় না।প্রতিটা মুহুর্তে তর জন্য চোখের পানি ঝরে।নামাজের মোনাজাতে তোকে আবার ফিরে পেতে চাই।(আম্মুর কান্নায় আমার চোখ দিয়ে ও পানি ঝরছে)
-- আম্মু,,বেশিক্ষন থেকো না।আব্বু আবার রাগ করবে? (আমি)
-- হুম,,তোর আব্বু ত আসতেই দিচ্ছিল না।অনেক বলে আসলাম।এই নে তোর সিম।(আম্মু)
-- হুম,,ভাবি তুমি কেমন আছো,,?(আমি)
-- ভালো,,,তুমি?(ভাবি)
-- আলহামদুলিল্লাহ, দোয়া কইর?(আমি)
-- হুম,,
-- আচ্ছা দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।ফোনে কথা হবে।আম্মু তাহলে বাসায় যাও।আমি পৌছে ফোন দিব।(আমি)
ভাবি,আর আম্মুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।।৮ টার বাসে বসে আছি।বাস চলতে শুরু করছে। মোবাইল টা খুলে সিম টা চেঞ্জ করলাম।মনে যেন বাসায় ফিরে যাওয়ার সপ্ন জেগে উঠলো।।আর মনে হয় দুরে থাকতে হবে না।।
আব্বুর শাসন,আম্মুর ভালোবাসায় জিবন আবার রঙিন হবে।সিমটা এক্টিব করে ইমু খুললাম।একেক করে সবার একাউন্ট আসতে লাগলো।দুলাভাইয়ের id আসার সাথে সাথে id চেক করতে লাগলাম।একি ভিডিও টা পাচ্ছি না কেন?
আগের অনেক মেসেজ আছে কিন্তু ভিডিওটা নেই।মনে হচ্ছে ভিডিওটা ডিলিট করে দিয়েছিল।মুহুর্তের মধ্যে বাসায় যাওয়ার সপ্ন ভেঙ্গে গেলো।।।
পরিচিত অনেকের নাম্বার থেকে মেসেজ,,আসতে লাগলো ইমুতেও অনেকের মেসেজ।।বন্ধুবান্ধব,,আত্মীয় স্বজন অনেকেই।সবার একই প্রশ্ন আমি কোথায়।।এত দিন নাম্বার বন্ধ ছিল কেন।এরকম আরো না না প্রশ্ন।।
সাথে সাথে সিম টা চেঞ্জ করে নেই।এই সিমের কোনো দরকার নাই আমার। ভেবেছিলা ভিডিওটা পেলে কালই বাসায় যাবো আর আব্বুকে সব কিছু দেখিয়ে ভুল ভাঙ্গব।এখন আমার নিজের কাছে প্রশ্ন আমি কি আর বাসায় ফিরব না???
চোখের কোনে জল চলে আসলো। শেষ যে আশাটা ছিল।আজ সেই আশাটাও থমকে গেলো।
মন খারাপ করে বাসায় গেলাম।।রিমি প্রশ্ন করলো।
-- আসিফ ভিডিওটা কি পাইছো?(রিমি)
-- না,,ডিলিট করে দিয়েছিল?(আমি)
-- অহ আচ্ছা মন খারাপ কর না,,,আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।(রিমি)
-- হুম,,,(আমি)
-- ফ্রেশ হয়ে আসো?(রিমি)
ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার খেয়ে,,।কারো সাথে কোনো কথা না বলে ঘুমিয়ে গেলাম।,,তার পর থেকে বাড়ির জন্য মন খারাপ থাকতে শুরু করে।আগে এমন লাগতো না,,,,আর আমি ভেবে রেখেছিলাম সুযোগ বুজে সব কিছু ঠিক ঠাক হলে সিম উঠিয়ে ভিডিও টা পেয়ে বাসায় যেতে পারবো।কিন্তু এখন সেই সুযোগটাও আর নেই।তাই এখন মনটা অনেক বেশি খারাপ থাকে।
দিন দিন,,মন ভালো হয়ে উঠে,,রিমির ভালোবাসায় আর সাহস জোগানো বার্তা গুলোতে।,,,,
সুনছি আশার বিয়ে দেখছে।বাসায় বলতে পারছে না রিদয় ভাইয়ার কথা। এখন আমাকে নাকি বাসায় বুজিয়ে বলতে হবে।।কারন আংকেলের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো।
আজ সন্ধ্যার দিকে আশাদের বাসায় গেলাম।বাসায় গিয়ে দেখি বাসা ভর্তি মানুষ।এরাও কি আশাকে দেখতে আসছে নাকি?আংকেল,আন্টির সাথে কথা বলে আশার রুমে গেলাম।।আশাকে মাইশা আপু সাজাচ্ছে।আমাকে মাইশা আপু দেখে,
-- বাহিরে বসার রুমে ছেলেটাকে কেমন দেখলা?(মাইশা আপু)
-- কোন ছেলে খেয়াল করি নাই ত?(আমি)
-- আশাকে দেখতে এসেছে,,,দেখছো না আশাকে সাজানো হচ্ছে?(মাইশা আপু)
-- এত সাজানোর কি আছে আশাকে এমনে দেখলেই চোখ কপালে উঠে যাবে?(আমি)
-- এই তুই চুপ করবি?তোকে যেই কাজে এনেছি সেই কাজ কর?(আশা)
-- কি কাজে এনেছো আসিফ কে?(মাইশা আপু)
-- ভাবি আমি একজনকে ভালোবাসি আব্বুকে বলতে হবে?(আশার মুখে এই কথা সুনে মাইশা আপু অবাক হয়ে তাকিয়ে)
-- তুমি কাকে ভালোবাসো?আসিফকে?(মাইশা আপু)
-- মাইশা আশাকে নিয়ে আসো?(আন্টি)
মাইশা আপুর আর সোনা হল না কাকে ভালোবাসে আশা।,,,আমিও ওদের পিছে পিছে বাহিরে আসলাম।খুব চিন্তিত না জানি বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।,,,মেয়ে দেখে ছেলে পাগল প্রায় যত তারাতারি সম্ভব বিয়ে করতে চায়।।ছেলেও ভালো চাকরি করে।আংকেল একদিন সময় নিয়ে জানাবে বলছে। ওরা সবাই চলে গেল,,,
আশা চেঞ্জ করে আসলো,,,সবাই একসাথে বসে আছে।আশাকে জিজ্ঞাস করা হলো,
-- আশা ছেলেটাকে তোমার পছন্দ হইছে?(আংকেল)
আশা ভয়ে কাপতে লাগলো,,আর আমার দিকে তাকাচ্ছে,আর ইশায় আমাকে বলতে বললো
-- কি হলো বলো?(আংকেল)
-- আব্বু,,,আশা প্রেম করে?(মাঈশা আপু)
-- কিহ আশা প্রেম করে কে সে?(খুব রাগান্বিত কন্ঠে)
-- আসিফ,,(মাইশা আপু কি পেচ লাগালো)
আমি মাইশা আপুর দিকে হা করে তাকিয়ে রইলাম।
এটা তুমি কি করলা আপু,,,
-- আসিফ তুমি?(আংকেল রেগে গিয়ে)
-- না মানে আংকেল আপনি ভুল বুজছেন।আশার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।(আমি কাপাকাপা গলায় বললাম)
-- আব্বু আসিফ মনে হয় ভয় পাচ্ছে।তবে আমি এটুকু বলতে পারি আসিফ অনেক ভালো ছেলে।আর আসিফের পরিবার ও।(মাইশা আপু)
-- না আপু ,, তুমি ভুল বজছো,,,আমি আর আশা শুধুই ফ্রেন্ড। (আমি)
-- তাহলে আব্বুকে কি বুজানোর জন্য তোমাকে ডেকেছে?(মাইশা আপু)
-- আশার সাথে রিমির মামাতো ভাই রিদয়ের রিলেশন।রিদয় জাপান থাকে অনেক বড় চাকরি করে?(আমার কথা সুনে আংকেল,,আর রেগে যাওয়া লোক গুলো মুহুর্তেই শিথিল হয়ে আসলো)
-- অহ আচ্ছা,,, তাহলে ছেলেটাকে বলো অভিভাবক নিয়ে আমাদের বাসায় আসতে।(আংকেল)
-- ছেলেটার আব্বু,আম্মু কেউ বেচে নেই।রিমি আব্বু আম্মু ছেলেটার অভিভাবক? (আমি)
-- অহ আচ্ছা,,ঠিক আছে,,ছেলেটাকে দেশে আসতে দেও।তার পর আমাদের বাসায় আসতে বলো।(আংকেল)
-- আশা বললাম না আংকেল রাজি হয়ে যাবে।শুধু ভয় পাচ্ছিলি?(আমি)
-- কখন বলছিলি?তুই ত ভয়ে আসতেই চাস নি?(আশা আস্তে আস্তে বলল।)
-- আসলাম ত,,,
বিদায় নিয়ে বাসায় এসে,,রিমিকে খবরটা দিলাম।রিমি অনেক খুশি,,রিদয় ভাইয়া কাল আসবে।মনে হয় বিয়ে হয়ে যাবে।,,,
পরেরদিন,,সকালে রিদয় ভাইয়া চলে আসলো।আংকেল আন্টি পুরাই সারপ্রাইজড। না বলেই চলে এসেছে।।
রিদিয় ভাইয়া কে প্রশ্ন করা হলো কেন। না জানিয়ে আসলো সে।।রিদয় ভাইয়া সরাসরি বললো বিয়ে করতে এসেছে।আংকেল আন্টি খুশি কিন্তু মেয়ে কে? যখন জানতে পারলো আশা,,তখন ত আরো বেশি খুশি হয়ে গেলো।।আমি কিছু না করেই আশা,আর রিদয় ভাইয়া থেকে অনেক ধন্যবাদ পাচ্ছি। দুই পক্ষের সিদ্ধান্তে আশা,আর রিদয় ভাইয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল।।একমাত্র মেয়ের বিয়ে ধুমধাম করেই করবে।কিন্তু আমরা কোন পক্ষের বুজে উঠতে পারছি না।।
একই কাছা কাছি বিয়ে বাড়ি।।দুই বাড়িতেই আছি।তবে আশার বাড়িতে একটু বেশিই থাকা লাগছে।। রিমি তার নিজের বাসায় ই।আত্মীয় স্বজন দুই বাড়িতে এসে ভির করছে।
সন্ধ্যায় আশাকে হলুদ দেওয়ার জন্য বর পক্ষ হতে কনে বাড়ি যাচ্ছি।। আশাদের বাড়ি এসে দেখি সুমি আপু সাথে দুলাভাই চেয়ারে বসে আছে।।। দুলাভাই আমার সামনা সামনি?????
চলবে,,

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad