Post Top Ad

Post Top Ad

স্পর্শ

স্পর্শ পর্বঃ- ০৬(শেষ)



রোহিঃ- বলো,কি ভাবলে?

আমিঃ- আমরা পালাবো...

রোহিঃ- মানে!!!

আমিঃ- যা শুনেছ,সেটাই।।আমাদের কাছে আর কোনো উপায় নাই।

(রোহি কিছুক্ষণ ভেবে)

রোহিঃ- আচ্ছা, আমি রাজি আছি,,বলো কখন কোথায় যেতে হবে??

আমিঃ- আপাতত কিছুই ঠিক করি নাই,তবে আমার এক মামা বাড়ি আছে,,ঐখানেই আগে যাবো...

রোহিঃ- আমাকে কখন বেড় হতে হবে??

আমিঃ- তুমি সন্ধ্যার পর চৌরাস্তার মোরে থাকবা।আমি গিয়ে নিয়ে আসবো..

রোহিঃ- ওকে..

(সন্ধ্যা হওয়ার পর প্লান অনুযায়ী আমরা কাজ করলাম,আমরা রাত ১১ টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছলাম,,মামাকে সব ক্লিয়ার করে বলি,,মামা থাকতে দিল এবং গোপনে কাজি এনে বিয়ে দিয়ে দিল,,কিন্তু কয়দিন যেতে না যেতেই রোহির বাবা কিভাবে যেন খোঁজ পেয়ে গেল,,আমরা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরে কাউকে না জানিয়েই পালিয়ে গেলাম,,এবার আর কোথাও থাকার জায়গা নাই।।
আমরা রাস্তায় রাস্তায় বেশ কয়েকটি দিন কাটালাম,,এদিকে আমাদের সব টাকাও শেষ হয়ে গেছে।।
এমতবস্থায় হঠাৎ একদিন এক মহিলার আমাদের  প্রতি দয়া হলো।।
উনি আমাদের ওনার বাড়িতে আশ্রয় দিলেন,,উনি একাই থাকতেন,,,ওনার আপন বলতে শুধু ১৪ বছরের একটা নাতি(নামঃ-সবুজ) ছারা আর কেউ নাই, ২ বছর আগে কলেরায় ওনার পরিবার শেষ হয়ে গেছে।
ওনার বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার পর আমরা ২ জনই কাজের সন্ধানে নামলাম,,আমি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চাকুরী নিলাম,আর রোহি একটা সিম কম্পানীতে জয়েন করলো,,পড়ালেখায় ভালো হওয়ার জব টা হতে ওর সমস্যায় পরতে হয়নি।।
যাইহোক এভাবে আমাদের দিনকাল ভালো যাচ্ছিলো,কিন্তু...

কিন্তু ঐ মহিলা, অর্থাৎ যিনি আমাদের আশ্রয় দিলেন, উনিও কয়েক মাসের মধ্যে মারা যান,,

আমরা উনার নাতির দায়িত্ব নিলাম,,,
বছরখানেক পর আমাদের ঘর আলো করে একজনের জন্ম হয়,আর আমি হয়ে গেলাম বাবা😘

আমাদের ৪ সদস্যের পরিবার বেশ সুখেই কাটছিলো.
.হঠাৎ একদিন লক্ষ্য করলাম,রোহি ওর মায়ের সাথে প্রায়ই কথা বলে,,
ওরে জিজ্ঞেসা করাতে ও স্বীকারওও করলো,,তাই কিছু বললামও না,আবার ওরওও তো মায়ের ছারা থাকতে কষ্ট হয়,,আমি যদিও প্রতিদিন বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করি😋

কিন্তু রোহি যে ওর মায়ের সাথে কথা বলে, সেটা ওর বাবা জেনে গেলো,,,
একদিন রোহি ওর মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে ওর মায়ের থেকে ওর বাবা ফোন টা কেরে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে রোহির সাথে কথা বললো,মনে হলো যেনো সব মেনে নিয়েছে,, তাই রোহি আমাদের ঠিকানা দিলো।

হঠাৎ একদিন রোহি আমাকে ইমার্জেন্সি ফোন দিয়ে বললো তারাতারি বাড়িতে আসো,তারপরই কেটে দিলো।

আমি টেনশনে যেমন ছিলাম ওভাবেই তারাহুরা করে বাসায় চলে আসলাম,,

এসে দেখি রোহির বাড়ি থেকে ওর বাবার ডান হাত,মানে প্রধান কর্মচারী ও আরো ৩ জন এসে চা পান করছে,,আর আমাদের জন্য,বাবুর জন্য অনেক গিফট এনেছে।।আমি সালাম দিয়ে রোহির কাছে গিয়ে দেখি ও রান্না করছে,,জিজ্ঞেস করলাম বাবু কোথায়,,বললো সবুজ এর সাথে বাইরে গেছে,এখনই চলে আাসবে..তুমি কি খালি হাতে এসেছ!!!বললাম হুম,তুমিতো আমাকে কিছুই বলো নাই,,তাইতো....

রোহিঃ- আচ্ছা এখনই নিচে গিয়ে পাশের দোকান থেকে মিষ্টি নিয়ে আসো তো।।

আমিঃ- আচ্ছা, আগে বাবু আসুক,ওনারা ওকে খুজছে।

আমি ওনাদের কাছে গিয়ে বসার সাথে সাথেই সবুজ বাবুকে নিয়ে চলে আসলো...
আমি বাবুকে ওনাদের কাছে রেখে সবুজকে নিয়ে মিষ্টি কিনতে আসলাম।।।

মিষ্টি কিনে বাড়ির সামনে যেই এলাম,অমনি ওপর থেকে আমাদের জানালার দরজাটা সামনে পরে গেলো,
এরপর কোনো বিরতি ছারাই এক এক করে রোহি,ছোট্ট বাবুটা............

আমি নিমেষেই ঙ্গান হরিয়ে ফেললাম..
ঙ্গান ফেরার পর সবুজ জানালো ও নাকি দ্রুত আমাকে নিয়ে পালিয়ে আমার জীবন রক্ষা করেছে।।।নইলে আমিও বাচতে পারতাম না...

কিন্তু ওর বাবা কেন এমন করলো!! নিজের মেয়েকে!!! হয়তো উনি ওনার মেয়ের পালিয়ে যাওয়াতে ওনার মান হানি হয়েছে তার জন্য ওনার মেয়েকেই রাখলো না,,সাথে আমাদের ছোট্ট বাবুকেও জীবন দিতে হলো......

........সমাপ্ত...........

sad ending খুব কম গল্পেই হয়..
তাই ভাবলাম এটাও করি।।।

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad