লেখকঃ সিয়াম হোসেন
সকালে রেডি হয়ে কলেজে যাবার জন্য বের হয়েছি৷ সাদিয়াদের রাস্তার মাথায় আসতেই দেখলাম সাগর দাড়িয়ে আছে৷
- কিরে মজনু খুব ভালোই তো দেখছি ভার্সিটির মেয়েদের সাথে লাইন মারছিস ব্যাপারটা কি।(পথ আটকিয়ে)
-দেখুন সাগর ভাই ভালো লাগছে না রাস্তা থেকে সরুন বলছি৷
- সেদিন তো মেরে বাড়িতে চলে গেলি প্রতিশোধ নিবো না ভাবছিস ( বলেই গালে থাপ্পড় মেরে দিলো)
শুধু সাগর ছাড়া কেউ ছিলো না বলে প্রতি উত্তরে আমিও কয়েকটা মেরেছি৷ তবে জায়গা দেখে মেরেছি বলে কাত হয়ে রাস্তায় পড়ে গেছে৷ আশে পাশের কেউ কিছু বলার আগেই একটা অটো তে করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি৷ নিজেকে কোনো ভাবে ঠিকঠাক করে ভার্সিটিতে চলে আসলাম৷
- আরে সিয়াম কেমন আছো ( নীলা গেট দিয়ে ঢুকতেই কালকেই পরিচয় হয়েছিলো মেয়েটার সাথে শ্যামলা বর্ণের তবে চেহারায় কিছুটা মায়াবী ভাব আছে)
- ভালো আছি তুমি কেমন আছো ( হ্যান্ডশেক করতে করতে)
- তোমার গালে কি হয়েছে আঙুলের ছাপ মনে হয় মারামারি করেছো নাকি ( বলেই গালে হাত দিলো)
- তেমন কিছু না আসার সময় সাগর থাপ্পড় মেরেছে৷
- তোমাকে মারলো আর তুমি কিছু বললে না৷
- ও এখন হাসপাতালে।
- হা হা হা লাল হয়ে গেছে গালটা দেখতে পুরাই লাল টমেটোর মতো মনে হচ্ছে হি হি হি ( গাল টেনে দিয়ে)
হাসিটা বেশ সুন্দর তবে সাদিয়ার মতো না তবুও আমার কাছে অনেক ভালো।
- আচ্ছা তোমাকে যে সাগর মারলো তার কারণটা কি৷
- তেমন কিছু না
- যতদূর জানি ৩য় বর্ষের সাদিয়া আপুকে নিয়ে মারামারি করেছিলে আচ্ছা তোমরা না একে ওপরকে ভালোবাসতে তার কি হলো৷
- উফ নীলা সকাল করে মুড অফ করো না তো ওসব সাদিয়া পাদিয়ার কথা বাদ দা....( বলার সাথেই দেখলাম সাদিয়া আমার পাশে এসে দাড়িয়ে আছে)
- কি বললি ( কিছুটা রেগে)
- কিছু না নীলা চলো তো ( নীলার কাধে হাত দিয়ে)
সাদিয়া মনে হলো আরও কিছুটা রাগ করলো সেটা দেখার বিষয় না নীলাকে নিয়ে ক্লাসে এসে সকলের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি৷
- সিয়াম সাদিয়াকে নিয়ে তোকে কিছু বলার আছে৷ (আশিক)
- প্লিজ দোস্ত ওর কথা আমার সামনে বলিস না৷
- কিন্তু কথাটা তোর জানা জরুরী৷
- যদি জরুরীই হতো তাহলে সাদিয়াকে আমার সামনে এসে বলতে বলিস তবুও তুই কিছু বলিস না তোকে কালকেও বলেছি জানিস তো ও আমার সাথে কি করেছে তাই তোর পায়ে ধরছি ওর কথা আমাকে আর বলিস না ( কিছুটা জোড় দিয়ে)
- আচ্ছা ( মাথা নিচু করে)
- দেখ মন খারাপ করিস না তুই আমার এই ভার্সিটির মধ্য অনেক ভালো বন্ধু ( জড়িয়ে ধরে)
আশিক আর তেমন কিছু বললো না।
ক্লাস শেষ করে ভার্সিটি থেকে বের হতেই সাদিয়া পথ আটকে দাড়ালো৷
- কি হলো পথ আটকালেন কেনো ছাড়ুন৷
- হঠাৎ আপনি করে বলছো যে তাছাড়া তোমাকে আমার কিছু জরুরী কথা বলার আছে আশিকের কাছ থেকে নাকি শুনতে চাও নে৷
তুমি শব্দটা শুনে কিছুটা অবাক হলাম।
- আমার বাড়িতে কাজ আছে কি বলবেন বলুন৷
- তুমি কি আমার উপর রেগে আছো?
- অপরিচিত কারও উপর আমি রাগ করি না৷
- দেখো সিয়াম তুমি আমাকে ভুল বুঝছো৷
- হ্যা বুঝেছিলাম তবে এখন ঠিক বুঝতে পারছি।
- এমন ভাবে কথা বলছো কেনো৷
- দেখুন আমার দেড়ি হচ্ছে যা বলবেন বলুন আপনার স্বামী দেখলে খারাপ ভাববে৷
- আমার বিয়ে হয়নি৷
কথাটা শুনে যেনো অবাক হলাম৷
- মানে..
- মানে ছেলেটা অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসতো মা বাবার চাপেই বিয়েতে রাজি হয়েছিলো আর বিয়ের দিন সে মেয়েটাকে নিয়ে পালিয়েছে৷ (মাথা নিচু করে)
- ওহ্
- আমি বুঝতে পারছি যে তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও৷
- দেখো সাদিয়া আপু তুমি আমার সিনিয়র তোমার সাথে হয় না৷
- প্লিজ এমন বলো না৷
- তুমি যখন আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে আমার মনে আছে তাছাড়া কি গ্যারান্টি আছে যে তোমার বাবা অন্য একটা ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করলে তুমি রাজি হবে না৷
- বাবাকে তোমার কথা বলেছি সে রাজি আছে কিন্তু তোমার সাথে যা করেছি তার জন্য যেনো তোমার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেই বলেছেন৷
- জানো বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে আর বিশ্বাস করা যায় না৷
- জানি শুধু আর একবার প্লিজ ( মায়াবী ভাবে তবুও নিজেকে কিছুটা কন্ট্রোল করে নিলাম তাকে আগে পরিক্ষা করে নেই)
- তাহলে এমন কিছু করো যেনো তোমাকে আবার আমার ভালো লাগে,,, আমার কাজ আছে গেলাম ( বলেই বাসায় চলে আসলাম)
- আপু শুনেছিস সাদিয়ার নাকি বিয়ে হয়নি৷
- হ্যা
- কোথা থেকে জানলি
- সাদিয়া ফোন দিয়েছিলে
- ওহ্ তা কি বললো
- কি আর মাফ চাইলো
- ওহ্ আজকে আসার সময় সাদিয়া পথ আটকিয়ে বললো সে নাকি আমাকে ভালোবাসে আবার নতুন করে কষ্ট দিতে চায়৷
- হতে পারে ওর ভুল বুঝতে পারছে তুই কি বললি৷
- তেমন কিছু না,,, আচ্ছা আপু চলনা তুই আর আমি আজকে বাইরে থেকে ডিনার করে আসি৷
- হঠাৎ করে বাইরে কেনো
- এমনি..
- বিল কিন্তু তুই দিবি৷
- আচ্ছা দিবো
রাতে আমি আর আপু দুজনে রেডি হয়ে খাই খাই রেস্টুরেন্টে চলে গেলাম ডিনার করার জন্য৷ খাবার অর্ডার দিয়ে বসে আছি৷ কিছুক্ষণ বাদে খাবার দিয়ে গেলে আমি আর আপু দুজনে খাবার খাচ্ছি৷ হঠাৎ গেটের দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম সাদিয়া আর একটা ছেলে দুজনে রেস্টুরেন্টে ঢুকছে৷ আমি তাড়াতাড়ি মাথাটা নিচু করে ফেললাম দেখতে চাইছি কি করে তারা দুজন৷
- কিরে সিয়াম কি হলো৷ (আপু)
- তোর পিছনে তাকিয়ে দেখ
আপু পিছনে তাকিয়ে আবার মাথা ঘুরিয়ে নিলো।
- ছি সাদিয়া এমন ভাবতেই পারছি না(আপু)
- চুপ করে খা দেখি কি করে।
সাদিয়া এখনও আমাদের দেখে নি৷
আমি খাচ্ছি আর মাঝে মাঝে সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখছি৷ খাবার দিয়ে গেলে সাদিয়া ও ছেলেটি একসাথে খাচ্ছে আর বেশ হাসি খুশি ভাবে কথা বলছে৷ ছেলেটা দেখলাম সাদিয়াকে খাইয়ে দিলো৷ মেজাজ কিছুটা খারাপ হয়ে গেলো এই তাহলে তার বিশ্বাস৷ তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে সাদিয়ার কাছে গেলাম৷
- বাহ্ এই তাহলে তোমার বিশ্বাস ( আমি)
সাদিয়া যেনো আমাকে দেখে ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো৷ ছেলেটাও আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে৷।
- আরে হা করে তাকিয়ে আছো কেনো খাও ( আমি ছেলেটার পিঠে হাত দিয়ে)
- সিয়াম তুমি যা ভাবছো তা না৷
- হ্যা আসলেই আমি যা ভাবি তাতো না ভাবছিলাম তুমি হয়তো বদলে গেছো কিন্তু তা না
- সাদিয়া এই সেই সিয়াম(ছেলেটা)
- হ্যা ভাইয়া আমিই সিয়াম তোমাদের বেশ মানিয়েছে ( বলেই আপুকে নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসলাম৷)
- সিয়াম আমার কথাটা তো শোনো তুমি যা ভাবছো তার কিছুই না আমাকে ভুল বুঝছো তুমি সিয়ামমম( পিছন থেকে সাদিয়া জোড়ে জোড়ে কথা গুলো বলছিলো)
আমি কোনো কথা কানে না নিয়েই বাসার দিকে চলে আসলাম৷
- সিয়াম সাদিয়ার কথাটা তোর শোনার দরকার ছিলো৷ (আপু)
- ওর কোনো কথাই আমি শুনতে চাইনা ও একটা মিথ্যা বাদী।
- কথাটা তো শুনে আসতি
- আপু প্লিজ চুপ কর ভালো লাগছে না৷
বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে বসে আছি৷ আমার ভুল ছিলো যে ওকে আবার বিশ্বাস করতে গেছিলাম ছি৷ নিজের প্রতিই ঘৃণা লাগছে৷ আমি আর কোনো দিনও সাদিয়া সাথে সম্পর্ক করবো না৷ বোঝা হয়ে গেছে সে কেমন মেয়ে৷
চলবে....
No comments:
Post a Comment