Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা পার্টঃ ১


- মা ও মা শুনছো ( আমি)
- কি হয়েছে ওমন পড়ে পড়ে ষাঁড়ের মতো করে গলা ফাটিয়ে ডাকছিস কেনো৷
- নিজের ছেলেকে ষাঁড় বলতে লজ্জা করে না৷
- কিসের লজ্জা হ্যা সাড়াদিন পড়ে পড়ে ঘুমানো খালি তাইনা কোনো কাজ নেই তোর মতো ছেলেকে ষাঁড় বলবো না কি বলবো অবশ্য ষাঁড় তোর থেকেও ভালো অন্তত কোনো কাজে তো আসে৷
- এমন ভাবে বলছো যেনো আমি কোনো কাজই করি না৷
- কে বললো করিস না করিস তো বলতে বলতে যখন আমার গলা ব্যাথা হয়ে যায় তখন গিয়ে করিস৷
- হু আর বলতে হবে না ( মুখ ফুলিয়ে)
- ওমন মুখ ফুলিয়ে রাখলে না মেরে তক্তা বানিয়ে দিবো ডেকেছিস কেনো৷
- কথা আগে জিজ্ঞাসা করলেই পারতে কেনো এতগুলা কথা শুনালে৷
- চুপ আর একটা কথাও না,, বল ডেকেছিস কেনো৷
- বলছিলাম কি শোনো না ( হাত দু'টো গুটিয়ে নিয়ে)
- কি ( বিরক্তিকর ভাব)
- সামনে তো পহেলা বৈশাখ আসছে তাই আর কি৷
- তাই আর কি টাকা চায় তাই তো (কোমড়ে হাত দিয়ে)
- হুমম ( মাথা ঝাকিয়ে)
- মেরে না দাঁত সব গুলা ফেলে দিবো যা।
- হুহ যখনই টাকা চায় তখনই এমন করো৷
- করবো না তো কি তুই আমার কোনো কাজে আসিস সারাদিন বাদরের মতো টো টো করে ঘুরে বেড়ানো আর খাওয়া৷ আমি টাকা দিতে পারবো না তোর বাবার কাছ থেকে গিয়ে নে যা৷
- বাবার কাছ থেকে তাও আবার আমি তা কি বলবো৷
- তোর কিসের জন্য লাগবে৷
- মার্কেট করবো
- তো গিয়ে বল
- আমাকে ফুটবল বানিয়ে কিক মারবে৷
- তাহলে মুড়ি খা আমি পারবো না৷
- মা ও মা আমার সোনা মা কত্ত ভালো ( বিছানা থেকে নেমে জড়িয়ে ধরে)
- ছাড় বলছি এখন আহ্লাদ করতে হবে না যা হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খেতে আয় ভার্সিটিতে যেতে হবে।
- হুমম যাবো আগে বলো দিবা
- আচ্ছা দিবো
- তুমি অনেক ভালো উম্মা
- ছি মুখ না ধুয়েই যা মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।
ফ্রেশ হতে চলে গেলাম৷ পরিচয়টা দেওয়া যাক আমি সিয়াম সবে ভার্সিটিতে পা দিয়েছি৷ বাবা মায়ের দুইমাত্র ছেলে মানে আমার বড় আপু আছে একই ভার্সিটিতে তবে সে ৩য় বর্ষে আর আমি সবে মাত্র ১ম বর্ষে ভর্তি হয়ে কয়েকদিন যাবৎ ক্লাস করছি৷ ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম দেখি বাবাও বসে আছেন৷
- সিয়াম শুনলাম তুমি নাকি তোমার মায়ের কাছে টাকা চেয়েছে ( হাত দিয়ে নিজের প্লেটে খাবার তুলে নিচ্ছেন এমন সময় কথাটা বলে উঠলেন)
কথাটা শুনে ভয়ে একটা ডোক গিল্লাম৷ আসলে বাবাকে ভয় পাবারও কারণ আছে বাবা কিছুটা কেমন যেনো সব সময় চুপচাপ থাকেন প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথায় বলেন না৷ ছোট একটা ফুড কোম্পানি আছে তার তা নিজেই দেখা শোনা করেন৷ কখনও আমার উপরে হাত তোলেন নি বা রাগারাগিও তেমন করেনি তবুও কেনো জানি না বাবাকে কিছুটা ভয় পায় হয়তো তার চুপচাপ থাকা আর গাম্ভীর্য ভাবে থাকা সে জন্য
এসব ভাবতে ভাবতে খাবার টেবিলে বসলাম৷
- কি হলো তোমার মা যা বললো সেটা কি সত্যি ( বাবা)
আমি মায়ের দিকে তাকালাম মা দেখলাম মিটমিট করে হাসছে৷ বুঝলাম না বাবার কাছে বিষয়টা বললো কেনো৷
- আসলে বাবা ওই আরকি....
- সোজা পয়েন্টে আসো সময় খুব কম টাকা কেনো লাগবে তোমাকে তো প্রতিদিন ভার্সিটিতে যাবার সময় খরচ দেওয়া হয় ( কথাটা বলেই মুখে খাবার নিলেন)
- বাবা সামনে পহেলা বৈশাখ আসছে তাই একটু মার্কেট করতে চেয়েছিলাম৷
- কেনো তোমার না ঘরে নতুন অনেক জামা পড়ে আছে আবার মার্কেট করবে কেনো( কথা গুলো বলছে অথচ একবারও আমার দিকে তাকায়নি)
- পাঞ্জাবী আর পায়জামা কিনবো ওগুলা তো নেই যা আছে সব অন্য কালারের৷
- কেনো কালারে কি দোষ করলো৷
- বাবা বৈশাখের দিন তো সকলেই সাদা পোশাক পড়ে তাই আর কি।
বাবা এবার আমার দিকে মুখ তুলে তাকালেন৷ আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে খাবার মুখে দিচ্ছি৷
- ঠিক আছে তোমার মায়ের কাছে বলো কবে মার্কেটে যাবে টাকা দিয়ে দিবো৷ (বলেই চেয়ার ছেড়ে উঠলেন)
- বাবা আজকেই যেতে চেয়েছিলাম ।
- কেনো বৈশাখ আসতে তো প্রায় সপ্তাহ খানিক দেড়ি৷
- এখন একটু ভিড় কম হবে সে জন্য।
- ঠিক আছে ভার্সিটিতে যাবার সময় তোমার মায়ের কাছে থেকে নিয়ে নিও।
- হুমম (মাথা ঝাকিয়ে)
রেডি হয়ে আপু আর আমি ভার্সিটিতে যাবার জন্য বের হচ্ছি৷ মনে পড়লো টাকা নিতে হবে মা'র কাছে চলে গেলাম।
- মা তুমি কি কাজটা ঠিক করলে বাবাকে কেনো বললো আমার টাকা দরকার।
- তো কি করবো আমি টাকা কোথায় পাবো তাছাড়া তোর বাবা কি বাঘ না ভাল্লুক যে ভয় পাবি দেখলি কি সুন্দর করে টাকা বের করে দিলো৷
- হুমম দেখলে না কত্ত গুলো প্রশ্ন আর বাবা যেভাবে কথা বলে ভয়ই তো করে আচ্ছা টাকা দাও৷
টাকা নিয়ে বের হয়ে পড়লাম৷
- আচ্ছা রোজ রোজ যে তোকে ভার্সিটিতে যাবার সময় টাকা দেয় সে টাকা তুই কি করিস ( রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি আপু প্রশ্নটা করে বসলো)
- সেটা তুই জেনে কি করবি৷
- জানতেই হবে আসা যাওয়ার সময় ভাড়া আমি দেয় তোর টাকা কি করিস প্রেম টেম করিস নাতো আবার৷
- কোনোদিন কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখছো আবার প্রেম।
- না শুধু টাংকি মারা দেখছি৷
- চুপ বেশি কথা বলবি না৷
আপু আর আমি দুজনেই ভার্সিটিতে চলে আসলাম৷ ভার্সিটির গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখি আপুর বান্ধুবী সাদিয়া দাড়িয়ে আছে৷ সাদিয়া আপুকে দেখলেই মনের মাঝে কেমন যেনো উথাল পাতাল শুরু হয়ে যায়৷ চোখ গুলো কেমন টানা টানা ঠোট দু'টো চিকন তবে যখন হাসে চিকন ঠোটের সেই হাসির রেখাটা বেশ লাগে৷ চুল প্রায় কোমড় পর্যন্ত লম্বা৷ ভার্সিটিতে উঠার পরে আপুর মাধ্যমে দু একবার কথা হয়েছে আপু কথা বলতে দেয় না জানি না কেনো৷ আমিও তেমন বলি না সিনিয়র তো সে জন্য৷
আমি আর আপু দুজনেই সাদিয়া আপুর সামনে গিয়ে দাড়ালাম৷
- আসসালামু আলাইকুম আপু( লম্বা টান দিয়ে)
- ওয়ালাইকুম আসসালাম সালামে এমন সুর কেনো সুন্দর করে বলতে পারিস না ( কিছুটা ঝাড়ি দিয়ে)
আমি কিছুটা থতমত খেয়ে জবাব দিলাম
- আসলে আপু ভালো করেই দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু সুরটা একটু বেশিই টান হয়ে গেছে।
- হুমম ঠিক আছে তবে সামনের বার থেকে ভালো করে দিবি৷
- জ্বী আপু...
- ওই তোর ক্লাসে যা ( আমার রিয়া আপু)
- তোর সমস্যা কি হ্যা আমি সাদিয়া আপুর সাথে কথা বলছি৷
- চুপ আচ্ছা তোকে যেতে হবে না চল।
বলেই আপু হাতটান দিয়ে নিয়ে গেলো৷ যাবার সময় সাদিয়া আপুকে বলতে শুনলাম
- কি হলো ওমন ভাবে টেনে আনলি কেনো
- আমার ভাইকে তুই চিনিস না বেশিক্ষণ থাকলে তোর মাথা ধরিয়ে দিবে৷
তারপর সাদিয়া আপুযে আর কি বললো বুঝতে পারলাম না৷ মনে মনে আপুকে কিছুটা ঝেড়ে নিলাম৷ সামনে থাকলে চুল গুলা তুলে কুচি কুচি করে কেটে ওকে শাকভাজি করে খাইয়ে দিতাম৷
- কিরে সিয়াম কি ভাবছিস ( পিছন থেকে কেউ ঘাড়ে হাত দিয়ে)
পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখি আমার বন্ধু আশিক৷
- ও আশিক তুই..
- হ্যা কি ভাবছিলি
- না কিছু না চল ক্লাসে যায়
- হুম চল৷
আশিকের পরিচয়টা হলো ভার্সিটির প্রথম দিনেই তার সাথে পরিচয় হয়েছিলো ছেলে হিসাবে বেশ ভালো ও মিশুক৷ বলতে গেলে পুরো ভার্সিটিতে ওই এক মাত্র আমার বন্ধু৷
দুজনে মিলে গল্প করতে করতে ক্লাসে চলে আসলাম৷
চলবে....
( ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad