ক্লাসের ভিতরে আমি আর আশিক পাশাপাশি বসে আছি৷ স্যার এখনও আসে নি।
- সিয়াম একটা বিষয় খেয়াল করে দেখেছি তোর
- কি..?
- সাদিয়াকে তুই যখনই দেখিস কেমন যেনো তাকিয়ে থাকিস তার দিকে ভালোবাসিস নাকি আবার৷
- ধুর কি বলছিস সিনিয়র হয় ( লজ্জা পেয়ে)
- সিনিয়র তো কি হয়েছে তাছাড়া ভালোবাসতে বয়স লাগে না রে পাগলা তোর যদি সাদিয়াকে পছন্দ হয় তো বলিস না কেনো তাকে?
- কিভাবে বলবো একে তো সিনিয়র তার উপর আপুর বান্ধবী তাছাড়া দেখিস না তার সাথে কথা বলার সময় আপু কেমন টেনে নিয়ে যায়৷
- আমার মনে হয় কি জানিস..
- কি?
- তোর আপু তোকে জ্বলতে দেখলে ভালোই লাগে দেখিস না সামনে থেকে খাবারটা কেমন কেড়ে নিয়ে যায়৷
- খাবার মানে?
- আরে সাদিয়ার কথা বলছি আচ্ছা বাদ দে ওই যে মিম আসছে৷ ( মিম আশিকের বান্ধবী আমার সাথে তেমন পরিচয় নেই তবে দু তিনবার কথা হয়েছে এই আরকি)
- কিরে আশিক কেমন আছিস ( মিম)
- ভালো তা আজকে কি মনে করে ভার্সিটিতে আসলি তোকে তো দেখায় যায় না৷ (আশিক)
- আর ভার্সিটি বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য প্রচুর চাপ দিচ্ছে।
- বাহ্ খুশির খবর তা দাওয়াতটা কবে পাচ্ছি।
- দাওয়াত তোর পিছন দিয়ে ভরে দিবো ( রেগে)
- ছি ছি কি বলছিস এসব
- কি বললাম ঠিকই তো আমার বিয়েতে কোনো ইন্টারেস্ট নেই আজাইরা ঝামেলা৷
- আরে বিয়েটা কর অনেক দিন ভালো মন্দ খাওয়া হয় না।
- আবার...
- আচ্ছা আশিক তোর কথা বল আমি ওখানে গিয়ে বসছি৷ ( আমি)
- আরে সিয়াম কেমন আছো ওখানে যাবে কেনো এখানেই বসো গল্প করি৷ (মিম)
- জ্বী ভালো আমি থাকলে বোধ হয় আপনার কথা বলতে অসুবিধা হবে৷
- হবে না বসো তাছাড়া আমাকে আপনি করে বলার কি আছে আমরা তো একই সাথে পড়ি তাইনা আশিক কিছু বল৷ (মিম)
- হ্যা সিয়াম মিম যখন আমার বান্ধবী তার মানে আজ থেকে তোরও বান্ধবী ঠিক আছে৷
- হুম (আমি মাথা ঝাকিয়ে)
- আচ্ছা ওই দিকে একটু চেপে বসো আমিও বসবো (বলেই মিম বসে পড়লো)
- তা কি কথা হচ্ছিলো শুনি৷
- কোথায় তেমন কিছু না ( আমি)
- কোনো মেয়েকে নিয়ে কথা হচ্ছিলো বুঝি।
আমি আশিককে চোখের ঈশারায় মিমকে কথাটা না বলার চেষ্টা করলাম৷ বুঝলো কিনা জানি না হয়তো বুঝেও না বুঝার ভান করে মিমকে বলতে শুরু করলো..
- ৩য় বর্ষের সাদিয়া আছে না সিয়াম ওকে পছন্দ করে সেটা নিয়েই কথা হচ্ছিলো আর কি৷
- বাহ সিয়াম সিনিয়র আপুদের কে পছন্দ করো তা কথা বলেছো নাকি তার সাথে৷
- বাদ দাও না ( আমি)
- ঠিক আছে যদি কোনো দরকার হয় বলো সাহায্য করার চেষ্টা করবো৷ ( মিম)
- দেখছিস মিম কতো ভালো আর তুই ওকে না বলার ঈশারা করছিলি৷
- ভুল হয়েছে এখন একটু চুপ থাক স্যার চলে আসছে৷
তারপর ক্লাস শেষ করে গেটের কাছে এসে দাড়িয়ে আছি৷ আপুর আরও একটা ক্লাস আছে। আরও ২০ মিনিট মতো লাগবে গেটের বাইরে দাড়িয়ে হাটাহাটি করছি৷ মিম আর আশিক চলে গেছে৷ বিরক্ত লাগছে প্রচুর আপুকে মেসেজ দিলাম আর কতক্ষণ প্রায় ২ মিনিট পরে রিপ্লে দিলো আর পাঁচ মিনিট৷ গেটের বাইরে দাড়িয়ে আছি কিছুক্ষণ বাদে দেখি আপু আসছে পাশেই সাদিয়া আপু।
- কি হয়েছে তোর হ্যা মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করিস কেনো ক্লাস করছিলাম না ( আপু ঝাড়ি দিয়ে)
- তো এতক্ষণ লাগে নাকি তাছাড়া কি করবো৷
- কি করবি মানে বাড়ি চলে যেতি৷
- বাড়ি যাবো মানে জানিস না মার্কেট করতে হবে তুইও যাবি আমার সাথে৷
- আমি যেতে পারবো না৷
- কেনো
- তোর জিনিস তুই নিজে গিয়ে মার্কেট কর৷
- কিসের মার্কেট রিয়া ( সাদিয়া আপু)
- আর বলিস না সামনে বৈশাখ আসছে সকালে অনেক কাঁদাকাটি করে বাবার কাছ থেকে টাকা নিছে মার্কেট করার জন্য আর এখন আমাকেও যেতে বলছে ( আপু)
সাদিয়া আপুর সামনে কেমন মিথ্যা বলে আমার ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে দিলো আমি নাকি কাঁদাকাটি করে টাকা নিয়েছে ঠিক আছে আজকে বাড়ি গেলে না তোকে দেখে নিবো৷
- বলছে যখন চল আমিও যাবো তোর সাথে আমারও কিছু কেনা কাটা করতে হবে ( সাদিয়া)
কথাটা শুনেই তো মনের মাঝে মনটা উড়ু উড়ু করছে সাদিয়া আপুও যাবে৷
- ঠিক আছে চল৷
- ধন্যবাদ সাদিয়া আপু৷
মার্কেটে আসার পরে কয়েকটা দোকান ঘুরে পাঞ্জাবী আর পায়জামা কিনে নিলাম৷ সাদিয়া আপুকেও দেখলাম একটা সাদা শাড়ী কিনলেন৷ মার্কেট শেষ করে সাদিয়া আপুকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আমি আর আপু দুজনে রিক্সায় করে বাসায় ফিরছি৷
- আচ্ছা সাদিয়া আপুর সাথে যখনই কথা বলতে যায় তুই ওমন করিস কেনো৷
- কেমন করি হ্যা
- কথা বলতেই দিস না আর ডেকে নিয়ে যাস তোর সমস্যা কি আর আমি কাঁদাকাটি করে টাকা নিয়েছি হ্যা ( চুলের মুঠি ধরে টান দিয়ে)
- আহ সিয়াম লাগছে দেখ আমি তোর বড় আর তুই রিক্সায় বসে আমরাই চুল ধরে টানাটানি করছিস বাসায় চল বাবাকে বলে দিবো৷
- তাতে আমার কচু হবে ( বুড়ো আঙুল দেখিয়ে)
- তোকে তো আমি( প্রচন্ড রেগে)
রাগ দেখে তাড়াতাড়ি চুল ছেড়ে দিলাম৷ বিশ্বাস নাই যদি আবার থাপ্পড় মেরে দেয় তখন৷
বাসায় চলে আসলাম৷
- কিরে কি মার্কেট করলি দেখি ( মা)
- তেমন কিছুনা পাঞ্জাবি আর পায়জামা৷
- কই দেখি,,,,,বাহ্ পাঞ্জাবিটা তো বেশ সুন্দর তা পছন্দটা কে করছে অবশ্য তোর পছন্দ এতটাও ভালো না ( মা)
- কেনো আমি মনে হয় পছন্দ করে কিনতে পারি না৷
- হুম তবে এটা যে তুই করিস নি বোঝাই যায় যত্তসব বস্তা পচা জিনিস তোর পছন্দ।
- মা তুমি ওর কথা বাদ দাও তো সাদিয়া পছন্দ করে দিয়েছে আমার বান্ধবী
- বাহ্ ভালো
ধুর কি আর করার নিজের রুমে চলে আসলাম৷
বেশ কয়েকটা দিন ক্লাস করলাম সাদিয়া আপুর সাথে কথা বলতে চাইলেও আমার আপুর জন্য হয় না৷ কেমন আছেন এই পর্যন্তই বেধে যায়৷
আগামী কাল পহেলা বৈশাখ। আপু আর আমি ঘুরতে যাবো ঠিক করেছি৷ আচ্ছা আমাদের সাথে সাদিয়া আপুকে নিলে কেমন হয় সে কি যেতে চায়বে৷ রাতে আপুর রুমে গেলাম।
- কিরে কি হয়েছে ( আপু আমার দিকে তাকিয়ে! খেয়াল করে দেখলাম হাতে মেহেদী নিচ্ছে)
কিছু না বলে দাড়িয়ে আছি৷
- কি হলো ওমন ষাঁড়ের মতো করে দাড়িয়ে আছিস কেনো কিছু বলবি৷
- দেখ আপু ষাঁড় বলবি না ঠিক আছে৷
- আমার যা ইচ্ছা বলবো কি চায় তোর।
- তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করার ছিলো৷
- কি
- আচ্ছা সাদিয়া আপু কি আমাদের সাথে ঘুরতে যাবে৷
- কেনো বলতো
- না মানে এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম৷
- হ্যা যাবে কেনো তোর কোনো সমস্যা
কথাটা শুনেই যেনো মনের মাঝে লাড্ডু ফাটলো।
- না না সমস্যা হতে যাবে কেনো এমনিই জিজ্ঞাসা করছিলাম ( বলেই রুমে চলে আসলাম)
মনের মাঝে এক অজানা সুখ বিরাজ করছে৷ সাদিয়া আপু ঘুরতে যাবে৷ আচ্ছা সাদিয়াকে শাড়িতে দেখতে কেমন লাগবে। ইশশ ভাবতেই অবাক লাগছে৷ কল্পনা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লাম৷
চলবে....
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)



No comments:
Post a Comment