Post Top Ad

Post Top Ad

সংসার

সংসার পর্ব:৭


লেখা:রাইসা
বাঙালি মেয়ে সব পারলেও নিজের স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে পারে না । হঠাৎ ঘড়ির কাটা জানান দিল, দু'টা বাজে। মৌ তাড়াহুড়া করে অযু করে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো। নামায শেষ করে রুম থেকে বের হতেই দেখে, রাজ আর সুমাইয়া দাঁড়িয়ে আছে।
- কিছু বলবেন আপনি?
- রান্না করছো?
- নামায শেষ করলাম। আপনারা একটু বসেন আমি রান্না করে নিয়ে আসছি।
- কি! তার মানে এখনো রান্না হয়নি?
- রাজ এই মেয়েকে তুমি বাড়ির রাণী করে নিয়ে আসছো?এই শোন আধা ঘন্টার মাঝে যেন রান্না করে নিয়ে আসা হয়। না হলে তোর কাপড় গা থেকে খুলি পেটাবো। ক্ষুধারে আমার পেট জ্বলে যাচ্ছে। মৌ কিছু না বলে চলে গেল। শরীরটাও খারাপ লাগছে মাথাটা কেমন যেন জীম জীম করছে। তবুও তাড়াহুড়া করে রান্না করে যাচ্ছে আর মনে মনে আল্লাহকে ডাকছে। যেন রান্নাটা শেষ করতে পারে। কিন্তু কেমন যেন সময় যাচ্ছে শরীরটা আরো অস্তির হয়ে আসছে। আজ শরীর থেকে অনেক ব্লাড গিয়েছে। শরীরটা যেন ক্রমশ অবস হয়ে আসছে। চোখ দু'টি বন্ধ হয়ে আসছে। তবুও রান্নার কাজ করে যাচ্ছে মৌ। কিন্তু আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। মৌ রান্না ঘরের মেঝেতে বসে পড়ল। বসে পরে শরীরটা নিয়ে আর দাঁড়ানোর ক্ষমতা পেল না। চোখ দু'টি কখন যে বন্ধ হয়ে গেছে খেয়াল নেই।
- এদিকে সুমাইয়া রাজের বুকে শুয়ে শুয়ে বলছে ' জান তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?
- এতো সুন্দর বউ এর দিকে ফিরেও তাকাও না।
- কি বলো? সুইট হার্ট আমার চোখে তুমিই পৃথিবীর সেরা সুন্দরী। তুমি আমার নিশ্বাস।
- হুম আমার জান। লাভিউ। জান আমার না ক্ষুধা লাগছে। প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গেল রক্ষিতাটার এখনো খবর নেই।
- সুইর্ট হার্ট রাগ করো না। দেখছি বিষয়টা কি ।
- তোমার যেতে হবে না। আমি দেখছি।
- সুমাইয়া রাজের কপালে চুমু দিয়ে চলে গেল রান্না ঘরে। রান্না ঘরে তাকিয়ে দেখে কোথাও মৌ নেই।
- সুমাইয়া জোরে জোরে রাজকে ডাকতে লাগল। এই রাজ তুমি কোথায় দেখে যাও তোমার ভাড়া করা মেয়েটা পালিয়েছে। রাজ দৌড়ে রান্না ঘরে আসে। সত্যিই তো রান্না বসিয়ে রেখে কোথায় গেল। হঠাৎ সুমাইয়ার চোখ রান্না ঘরের মেঝের দিকে তাকাতেই দেখে মৌ অজ্ঞান হয়ে শুয়ে আছে।
- রাজ দেখছো সামান্য কাজ দেখেই অসুস্থতার বান ধরেছে।
- সুমাইয়া চুপ করো। দেখি কি হয়েছে। রাজ মৌ এর কাছে বসতেই বুঝতে পারলো মৌ অজ্ঞান হয়ে গেছে।
- রাজ মৌকে কুলে নিয়ে বিছানায় এনে শুইয়ে দেয়। সুমাইয়া এসব দেখে রাগে ফুলসে ওঠছে।
- হঠাত সুমাইয়ার ফোনটা বাজতে লাগে। সুমাইয়া ফোন ধরেই বললো বাবা?
- মারে তুই কোথায় আছিস?
- বাবা রাজের সাথে তাদের বাসায়।
- মা' একটু তাড়াতাড়ি বাসায় আয়।
- সুমাইয়া ফোন কেটে দিয়েই বললো ' জান এখন আসি। কাল সারাদিন তোমার সাথে থাকবো। মনে হয় বাবার শরীরটা আবার খারাপ করেছে। আমি আসি কেমন?
- এই বলেই সুমাইয়া রাজকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিয়ে বলল' আসি জান?
- আচ্ছা।
- সুমাইয়া যখন চলে যাবে এমন সময় রাজ সুমাইয়ার হাতটা ধরে টান দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কপালে চুমু দিয়ে বলল এবার যাও।
- সুমাইয়া মুচকি হেসে চলে গেল।
- সুমাইয়া চলে গেলে রাজ এর দৃষ্টি পড়ল মৌ এর উপর। মৌ এর ফর্সা গালটা লাল হয়ে আছে। গালের ভেতর বুঝা যাচ্ছে পাঁচ আঙুলের ছাপ। রাজ কি করবে বুঝতে পারছে না। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে সত্যি মায়া লাগছে। মুখটা মায়াবী লাগছে। নাকে এখনো রক্ত জমাট বেঁধে আছে। না এভাবে থাকলে যদি মেয়েটা মারা যায়। জানি না মেয়েটা কেন যেন সন্তান কন্সিভ করলো। বাচ্চাটা কি নিয়ে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে । না আপাতত দেখি জ্ঞান ফিরাতে পারি কি না।
- রাজ পানি নিয়ে এসে মৌ এর মুখে ছিটিয়ে দিতেই মৌ মিটিমিটি করে তাকালো। মৌ চোখ খুলেই প্রথমে রাজের মুখটা দেখতে পারলো। মৌ বুঝতে পারলো তার মাথাটা রাজের উরুতে।
-খুব লজ্জা লাগছে মৌ এর! সারাদিনের নির্যাতন। রাজের থাপ্পর যেনো রাজের মুখের দিকে তাকাতেই সব ভুলে যায় মৌ। মৌ এর হাতটা রাজ ধরতেই চমকে যায়। হাত-একদম হিম শীতল হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল ছোটবেলায় শুনেছে মানুষ মরে যাওয়ার আগে নাকি শরীর একদম বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। এদিকে মৌ এর হাত-পা তো বরফের মতো হয়ে যাচ্ছে। মৌ যদি সত্যিই মরে যায় তাহলে কেমন হবে? না এ হতে দেওয়া যাবে না। এদিকে মৌ এর শরীরে কাঁপনি দিয়ে জ্বর আসছে। রাজ রান্না ঘর থেকে সরিষার তেল এনে, মৌ এর হাতে পায়ে লাগাচ্ছে। তার পরও মৌ এর শরীর গরম হচ্ছে না। কাঁপুনি যেন বেড়েই চলছে। মৌ জ্বরে আর তাকাতে পারছে না। মনে হচ্ছে দিনে চর আর রক্ত যাওয়ার জন্য জ্বর এসে পড়ছে। রাজ মৌ এর উপর কম্বল জড়িয়ে দিয়ে হাত পায়ে তেল মালিশ করতে লাগল। কিন্তু শরীর গরম হওয়ার কোন নাম নেই। এদিকে হসপিটালে নিতে গেলেও তিন ঘন্টার মতো লাগবে। রাতো অনেক হয়ে গেছে। হঠাৎ মনে পড়ল পুরুষের স্পর্শে মেয়েদের শরীর গরম হয়। রাজ কোন কিছু চিন্তা না করেই কম্বলের ভেতর ঢুকে গেল। মৌ এর শরীরটা কাপঁছে। রাজ মৌকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপরও মৌ এর কাপনি কমছে না। রাজ এবার মৌ এর উর্বর ঠোঁটে তার ঠোঁট খানা মিলিয়ে হারিয়ে গেল অন্য ভূবনে। মৌ কিছু বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে তার সাথে। এদিকে এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর মৌ এর শরীরটা অনেকটা গরম হয়ে যায়। রাজ এবার মৌকে ছাড়তে চেয়েও ছাড়তে পারছে না। কোন এক অজানা মায়ার যেন আকঁটে যাচ্ছে। মৌ ঘুমের ঘরেই রাজকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল। রাজও রেসপন্স করল। রাজের কাছে কেমন যেন লাগছে। নিজেকে মাতাল মাতাল লাগছে। চোখে রাজ্যের ঘুম নেমে এসেছে।
-সকাল বেলা মৌ এর ঘুম ভাঙতেই দেখে কোন এক প্রাচীরে সে আবদ্ধ। যে প্রাচীরে সে সারাজীবন থাকতে চাই। প্রাচীরটা আর কোন কিছুই না রাজের বুক। মৌ তার সকল কষ্ট ভুলে গেছে। দিনে রাজ আর সুমাইয়া কি বললা তার মনে নেই। মনে হচ্ছে রাজের বুকটা তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মৌ এর চোখে জল এসে যায় কাঁদতে কাঁদতে রাজের শার্টটা ভিজে যায়। রাজ সজাগ পেয়েই দেখে মৌ তার বুকে। রাজ মৌকে বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে বলে ' সরি আমি ইচ্ছা করে করিনি এসব। কাল রাতে আপনার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় তাই এসব করি। মৌ কিছু বলে না। লজ্জায় তার মুখটা লাল টুকটুকে হয়ে যায়। রাজেরর হঠাত করেই মনে পড়ে সুমাইয়ার কথা। সে আজ রাতে কি করলো?এটাতো তার আমানত। সুমাইয়ার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
-সকাল বেলা রাজ শাওয়ার নিতে চলে যায়।
- রাজ শাওয়ার নিয়ে বের হতেই মৌ শাওয়ার নিতে চলে যায়।
-মৌ শাওয়ার নিয়ে বের হতেই দেখে, রাজ নীল রঙের একটা পাঞ্জাবি পরেছে। রাজকে দেখে মৌ প্রেমে পড়ে যায়। হঠাত মৌ এর মনে পড়ে, সে মিথ্যা স্বপ্ন দেখছে। আকাশের চাদ যে আর ধরা যায় না। তাকে দূর থেকেই দেখা লাগে।
- হঠাৎ রাজ মৌ এর দিকে তাকিয়েই চিৎকার দেয়।
-মৌ তার দিকে চেয়েই দেখে গোসল নিয়ে যে টাওয়াল পরেছে তা ফ্লরে। মৌ এবার এক চিৎকারে চেঞ্জিং রুমে চলে গেল। কোন রকম গায়ে কাপড় জড়িয়ে বের হতেই, রাজ মৌ এর গালে চড় বসিয়ে দিয়ে বললো'রাত্রে যা করেছি তা সবকিছু তোকে বাঁচাতে। এ ভাবে সম্পূর্ণ বস্ত্রহীন হয়ে আমাকে তোর বিশেষ বিশেষ অঙ্গ প্রদর্শন করালে কি আমি তোর প্রেমে পড়ে যাবো?রাজ কখনো রাস্তার রক্ষিতার দিকে ফিরেও তাকায় না। আর হ্যাঁ কোনদিন যদি আজকের মতো করতে দেখি, তাহলে তোর কি হবে আল্লাহ জানে। রক্ষিতা কথাকার।
- রাজের মুখে রক্ষিতা কথাটা শুনে মৌ এর গাল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। মৌ কান্না থামাতে পারছে না। কান্না জড়িত কন্ঠে বলল' আপনি তো জানেন আমি শাড়ি পরতে পারি না । আর টাওয়াল তো আরো পরতে পারি না। এমন সময় পিছন থেকে কে যেন বললো'কি হয়েছে জান? রক্ষিতাটা তোমায় কিছু বলেছে।
চলবে ''''''''

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad