লেখা:রাইসা
- রাজ কাগজটা হাতে নিয়েই দেখে মৌ এর পেগন্যান্সি রির্পোট। রাজের মাথায় রক্ত উঠে যায়।
- রাজ রির্পোট নিয়ে দৌড়ে বের হয়। রাজের মন চাচ্ছে কালনাগিনীটাকে এখনি মেরে ফেলি। রাজ রুম থেকে বের হয়েই দেখে, মৌ নামাযের মোনাজাতে। মোনাজাত শেষ করে যখন জায়নামায থেকে উঠে দাঁড়ায়। রাজ তখনি মৌ এর গালে সজোরে থাপ্পর বসিয়ে দেয়। মৌ মাথা ঘুরে জায়নামাযে পড়ে যায়। নাক ফেটে রক্ত জায়নামাযে পড়তে লাগে । মৌ এক হাতে নাক চেপে ধরে রাজের দিকে অসহায়ের দৃষ্টিতে তাকায়। রক্তে হাত ভেসে যাচ্ছে।
- এই তুই কার সাথে পেট বাজিয়েছিস? আর কার সন্তান আমাকে গছিয়ে দিতে চাইছিস?
- মৌ কিছু বলতে পারছে না। ফ্যালফ্যাল করে রাজের দিকে তাকিয়ে আছে।
- এই এভাবে তাকাবি না। তোর নষ্ট মুখ আমার দেখতে মন চাচ্ছে না। আমারটা খাস আমারটা পড়িস,। আমার বাড়িতে থাকিস তার পর অন্য ছেলের কাছে নিজের দেহ বিলিয়ে দেস।
- আপনি প্লিজ চুপ করেন। আমার গর্ভে যে সন্তান এটা আপনার কয়েক মিনিটের ভালোবাসার ফসল।
-এই চুপ কর, নষ্টা মেয়ে। আমি তোকে নিজ হাতে পিল খাইয়েছি। আর তুই কি না বলিস তুই প্রেগনেন্ট! একটা পাগলেও বলবে তোর গর্ভে একটা জারজ সন্তান।
- প্লিজ চুপ করবেন আপনি? আল্লার শপথ করে বলছি আমার গর্ভে যে সন্তানটা সেটা আপনারই। আপনি সেদিন যখন আপনি আমাকে পিল খাওয়ানোর জন্য পিল মুখে তুলে দেন। আমি তখন পিলটাকে খায়নি মুখেই রেখেছিলাম। পারিনি সেদিন পিল নামক ছোট্ট বিষটা আমার ভেতর জন্ম নেওয়া একটা জীবনকে হত্যা করতে। আমি পারিনি, আপনার দেওয়া পিল খেতে। আর আমার গর্ভে যে সন্তান বড় হচ্ছে সেটা আপনারই সন্তান। ভয় পাবেন না চুক্তি শেষ হলে চলে যাবো। আপনাকে আমার গর্ভের সন্তানের পরিচয় দিতে হবে না। তবুও জারজ বলবেন না। জন্মের আগে ওর নামে মিথ্যা অপবাদ আল্লাহ সহ্য করবে না। আর বিশ্বাস করেন আপনি ছাড়া কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আপনি আমাকে রক্ষীতা বা পতিতা যা কিছুই ভাবেন না কেন। আমি আপনাকে স্বামী হিসেবেই ভাবি। যতদিন চুক্তি আছে। ততদিন আপনি আমার স্বামী। মহান আল্লাহ তায়ালাকে সাক্ষী রেখে আপনাকে বিয়ে করেছি।
- মৌ এর মুখে এমন কথা শুনে, সুমাইয়া অগ্নি মূর্তি ধারন করে। মৌ এর বামগালে সজোরে থাপ্পর বসিয়ে দেয়।
- মৌ সুমাইয়াকে কিছু না বলে রাজের দিকে অসহায়ের দৃষ্টিতে তাকায়। নিজের স্বামীর সামনে অন্য একটা মেয়ে তার গায়ে হাত তুলল। তাতে রাজের দৃষ্টিপাত হলো না। মৌ এর চোখের পানি আর বাধা মানলো না। চোখের পানি মুক্তোর দানার মতো টপটপ করে পড়ছে।
- বাহ! বাহ! দেখছো জান কেমন কান্নার অভিনয় করছে? আরে চুক্তি করছো ভালো কথা তাই বলে পেটে বাচ্চা নিতে হয়?আর শোনেন মিস মৌ রাজ জন্মগত ভাবেই আমার সম্পত্তি। আমার জান। আমরা পরিবার মেইনটেন করে খুব শ্রীঘই বিয়ে করছি। নেক্সটাইমে স্বামীর অধিকার নিয়ে রাজের দিকে হাত বাড়াবে না। রক্ষিতা, রক্ষিতার মতো থাকবে। চলো যান সময় নষ্ট হচ্ছে। জানি না কবে আমার জানকে সম্পূর্ণ আপন করে পাবে। আমার অনেক ভয় হয়। যদি তোমাকে হারিয়ে ফেলি। তাহলে আমি বাঁচবোই না।
- রাজ সুমাইয়ার কপালে চুমু দিয়ে বলল' কি রকম অলক্ষণে কথা বলছো। তোমার কিছু হলে আমি কি করে বাঁচবো।
- আচ্ছা চলো রুমে যাবো। আবার বাসায় যেতে হবে।
- সুমাইয়া আর রাজ তাদের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। দরজা বন্ধ করে দিয়েই সুমাইয়া রাজকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল বিছানায়। রাজের বুকের উপর শুয়ে রাজের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
- আচ্ছা সুমাইয়া তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?
- কই না তো ভালোবাসি না। তবে কি জানো রাজ? আমি যতবার নিঃশ্বাস নেয় তার চেয়ে বেশীবার আমার জানপাখিটাকে মিস করি। তুমি যদি আমাকে বিয়ে না করো তাহলে আমি সত্যি মরে যাবো। বিদেশের মাটিতে যখন ছিলাম তখন তোমার একটি ছবি বুকে নিয়ে ঘুমাতাম। আমার মনে হতো তুমি আমার সাথেই আছো। প্রতিনিয়ত তোমাকে মিস করতাম। জানো, জান তুমি কখনো ছেড়ে যেতে চাইলে আমায় গলা টিপে মেরে ফেল। তার পর ছেড়ে যেয়ো। আমি বেঁচে থাকতে তোমাকে হারাতে পারবো না। সুমাইয়া কথাটা বলেই কেঁদে দিল। রাজের বুকের ভেতরটা কেমন যেন চিনচিনে ব্যথা করতে লাগল। সুমাইয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল ' পাগলী আমার। আমি মরে গেলেও আমার আত্মাটা তোমায় ভালোবাসবে। '
- মরতে হবে না, এই বলে সুমাইয়া তার ওষ্ঠ যোগল, রাজের ওষ্ঠযোগলকে সাদরে আলিঙ্গন করে নিল। দু'জনেই পান করল ভালোবাসার অমীয় সুধা।
- আচ্ছা রাজ তুমি কি যাদু দেখবা?
- যাদু সেটা আবার তুমি ক্যামনে?
- বলো দেখবে কি না?
- আচ্ছা তুমি কি আমেরিকা থেকে যাদু শিখে আসছো?
- রাগাবা না কিন্তু।
- রাগালে কি করবে?
- রাগালে কামড় দিবো।
- আচ্ছা কামড় দিতে হবে না। দেখাও যাদু।
- সুমাইয়া আস্তে আস্তে বুকের কাপড় সরাচ্ছে।
- এই এই কি করছো কাপড় খুলছো কেন?
- আহা যাদু দেখতে সময় কথা বলতে হয় না। চুপ করে দেখো।
- সুমাইয়া বুকের কাপড়টা অনেক সরাতেই রাজ দেখলো পেলো, সুসাইয়ার বুকের উপর ট্যাটু করা। রাজ মাই হার্ট!
- রাজ দেখেই কেঁদে ফেলল। কান্নাজনিত কন্ঠে বলল'সুমাইয়া এতো ভালোবাসো আমায়?
-কই ভালোবাসি না তো। আমি আমাকে ভালোবাসি। তুমি যে আমার জান। তোমাকে ছাড়া বাঁচব ক্যামনে?
-হুম আমাকে নিয়েই বাঁচবে। আর শোনে তিন থেকে চারমাসের মাঝেই প্ল্যান সাকসেস হবে। মা বলছে তার শেয়ার আমার নামেই লিখে দিবে। তখন মা আর আমার সিদ্ধান্তের উপর কথি বলতে পারবে না। মৌকে ডির্ভোস দিয়ে দিবো। সত্যি বলতে মৌ এখন দাবার গুটি। ওকে দেখে শুনে চালতে হবে।
-হুম মাই জান। এখন আদর করো। পাপ্পি দাও।
- এদিকে মৌ নাকে মুখে পানি দিয়ে অন্য রুমে বসে আছে। মৌ পেটে হাত দিয়ে বলছে এই তুই শুনতে পাচ্ছিস? শুনতে পাচ্ছিস তুই? মা'র কথা শুনতে পাচ্ছিস? শোন না, তোর বাবাইয়ের কথায় রাগ করিস না কেমন? তোর বাবাইটা অনেক রাগি তাই না? আর হে শোন তুর বাবাই তোকে কোন কিছু বললে কান ধরে থাকবি। শুধু আমার কথা শুনবি মনে থাকবে? আর কাঁদবি না কেমন। তুই যদি কাঁদিস তাহলে আমিও কেঁদে দিবো। এই বলে মৌ ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। চোখের পানি আল্লাহ যে কত দিয়েছে, শুনেছি মা জন্ম দেওয়ার পরই দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছে। মায়ের দুধটাও আল্লাহ আমার ভাগ্য রাখে নাই। জন্ম নেওয়ার পর পরই নাকি গগণ বিদায়ী কান্না করেছিলাম। আচ্ছা হে আসমান জমিনের প্রভু আমাকে কাঁদাতে কি তোমার ভালোলাগে? যদি ভালো লাগে সহ্য করবার ক্ষমতা দিয়ে আমি তোমার খুশির জন্য আমৃত্যু কেঁদে যাবো। আর মাঝে মাঝে খুব রাগ হয় দাদির প্রতি ছোটবেলা বাবা যখন গলা চেপে ধরেছিল। তখন কেন বাঁচিয়েছে। অপয়া মেয়েদের বাঁচতে হয় না। অপয়া কারনেই মা'কে জন্মের পরপরই বাবার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছি। যে বাবা আমাকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখেছিল সে বাবাকেই কষ্ট দিয়েছি। বাবা আজও আমাকে মায়ের হত্যাকারী ভাবে। যদি আমি পৃথিবীতে না আসতাম তাহলে নাকি মা মরতো না।
- এদিকে মৌ এর পাশে রাখা তার ফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বাজছে। ফোনটা একবার রিং হতেই দ্বিতীয়বার মৌ চোখের পানি মুছে ' ফোনটা রিসিভ করেই বলল' মা আসসালামু আলাইকুম, আপনি কেমন আছেন?'
- হ্যাঁ মা তোর দো'আতে ভালই আছি। আমার মা টা কেমন আছে?
- আলহামদুলিল্লাহ্! মা আপনার শরীর কেমন?
- ভালো। আচ্ছা রাজ কোথায়? বাসায় না অফিসে?
- মা রাজ বাসায় আমারর একা একা থাকতে কষ্ট হবে বলে রাজ অফিসে যায়নি।
- তাই বুঝি, সত্যিই মা আমি যা বাইশ বছরে পারিনি। তুই তা কয়েকদিনেই করে দেখিয়েছিলি। তোর প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। আচ্ছা হাদারামটা খেয়েছে? আর তুই খাইছিস মা?
- হ্যাঁ মা, জানো আজকে রাজ বিরিয়ানি এনেছিল। ওই নিজে হাতে আমাকে খাইয়ে দিয়েছে। বলেই মৌ আর কান্না আকঁটাতে পারলো না ফোন ধরেই চাঁপা কান্না করে দিল।
- কি হলো? মা তুই কাঁদছিস?
- না মা আপনার আর রিত্তের জন্য মন খারাপ লাগছে। তাই একটু।
- ধূর পাগলী কাঁদে না! আমরা তিন -চারদিন পর এসে পড়বো।
- আচ্ছা মা। নামায পড়বো। এখন রাখি।
.
ফোনটা কেটে দিতেই চোখ যায় তাদের রুমের দিকে। দরজাটা এখনো আঁকটানো। মনে হচ্ছে কেউ মৃত্যুর যন্ত্রনা দিচ্ছে। বাঙালি মেয়ে সব পারলেও নিজের স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে পারে না । হঠাৎ ঘড়ির কাটা জানান দিল, দু'টা বাজে। মৌ তাড়াহুড়া করে অযু করে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো। নামায শেষ করে রুম থেকে বের হতেই দেখে, রাজ আর সুমাইয়া দাঁড়িয়ে আছে।
- কিছু বলবেন আপনি?
- রান্না করছো?
- নামায শেষ করলাম। আপনারা একটু বসেন আমি রান্না করে নিয়ে আসছি।
- কি! তার মানে এখনো রান্না হয়নি?
- রাজ এই মেয়েকে তুমি বাড়ির রাণী করে নিয়ে আসছো?এই শোন আধা ঘন্টার মাঝে যেন রান্না করে নিয়ে আসা হয়। না হলে তোর কাপড় গা থেকে খুলি পেটাবো। ক্ষুধারে আমার পেট জ্বলে যাচ্ছে।
চলবে'''''''''



No comments:
Post a Comment