লেখকঃ সিয়াম হোসেন
আপু আর আমি রিক্সায় বসে আছি৷
- আচ্ছা তুই আর সাদিয়া কার বিয়ে নিয়ে কথা বলছিলি।
- মানে কখন
- দেখ চালাকি করবি না আমি শুনলাম সাদিয়া তোকে কি যেনে বললো বিয়ে করে নে এমন কিছু।
- আরে না মজা করছিলো
- ওহ্ তা সিঙ্গাড়ার বিল কে দিলো৷
- সাদিয়া আপু
- তোর লজ্জা করলো না একটা মেয়ের কাছ থেকে খেতে।
- খাওয়াতে আবার কিসের লজ্জা তাছাড়া আমি কি বলছিলাম যে আমি খাবো।
- তোর ভিতরে না কমনসেন্সের অভাব৷
- তুই চুপ থাকবি।
- দেখ আমি তোর বড় সাবধানে কথা বলিস৷
- আচ্ছা বাবা সরি।
বাসায় চলে আসলাম৷
রাতে বিছানায় শুয়ে আছি আর ভাবছি সাদিয়া আপুকি কথাটা মজা করে বলেছে৷ আর বললেও এমন মজা কি করবে৷ তার ঠোট থেকে নিয়ে সস খেলাম অথচ কিছু বললো না অংকটা যেনো মিলছে না৷
সকালে রেডি হয়ে ভার্সিটিতে যাচ্ছি আপু যাবে না তার নাকি বাড়িতে কি কাজ আছে৷ গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখলাম সাদিয়া আপু নেই৷ তাহলে কি আজকে সেও আসেনি ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো৷ গেটের কাছে কিছুক্ষণ মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছি ক্লাস করবো কি করবো না সেটা ভাবছি৷ আশিকও আসেনি আজকে তাই আর ক্লাস না করে ক্যাম্পাসে চলে গেলাম৷ খেয়াল করে দেখলাম সাদিয়া আপু ক্যাম্পাসে বসে আছে৷
- আসসালামু আলাইকুম (আমি)
- ওয়ালাইকুম আসসালাম কেমন আছিস?
- ভালো তুমি কেমন আছো?
- ভালো,,,ব্যাথা কি কমেছে না আছে?
- আছে হালকা কিছু তবে সেটা কোনো বিষয় না৷
- ও তোর আপু বলে আজকে আসবে না টেক্সট করেছে৷
- তার নাকি বাসায় কি কাজ আছে সে জন্য আসলো না ( বলেই চুপ হয়ে গেলো)
সাদিয়াকে খেয়াল করে দেখলাম সে আশে পাশে তাকিয়ে দেখছে মনে হচ্ছে যেনো কারও জন্য অপেক্ষা করছো৷
- আপু কারও জন্য অপেক্ষা করছো৷
- না না ( মনে হলো কিছুটা আন ইজি ফিল করলো)
- তোমাকে দেখে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে কোনো সমস্যা৷
- না তেমন কিছু না আচ্ছা থাক আমি গেলাম ( বলেই উঠে পড়লো)
- কোথায় যাচ্ছো
কোনো উত্তর না দিয়ে বের হয়ে গেলো বুঝলাম না হঠাৎ করে কি হলো৷ আমিও আর ক্লাস না করে বাসায় চলে আসছি৷
সাদিয়া আপু সেদিন ফোন দিয়েছিলো বলে নাম্বারটা সেভ করে রেখেছিলাম রাতে মেসেজ দিলাম
- কি হয়েছিলো তখন চলে গেলে।
বেশ কিছুক্ষণ পরে রিপ্লে দিলো
- তেমন কিছু না,,,,কি করিস?
- শুয়ে আছি তুমি কি করো।
- বসে আছি মেসেজ দিলি কি মনে করে৷
- না কিছুনা জানার ছিলো তখন চলে গেলে কেনো তাই আরকি৷
- ওহ্ আচ্ছা
- আচ্ছা আপু একটা প্রশ্ন করি?
- কি
- তুমি কি বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে??
মেসেজ দিলাম তবে কোনো উত্তর দিলো না৷ ১০ মিনিট পার হয়ে গেলো রিপ্লাই নাই রাগ করলো না তো আবার৷
- সরি আপু এমনি জিজ্ঞাসা করলাম রাগ করো না৷
মেসেজটা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম৷
সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি সাদিয়া আপুর ২ টা মেসেজ এসে আছে
- রাগ করবো কেনো
আরও ১০ মিনিট পরে অন্য মেসেজটা
- ঘুমিয়ে পড়লি নাকি? কালকে ভার্সিটিতে আসিস।
আর কোনো মেসেজ নেই অথচ আমি যেই প্রশ্নটা করলাম তার কোনো উত্তরই নেই তাহলে হয়তো সাদিয়া আপুর বয়ফ্রেন্ড নাই৷
পরেরদিন ভার্সিটিতে আসতেই সাদিয়া আপু আমাকে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলো৷ তার নাকি ক্লাস নেই সময় কাটানোর জন্য কারণ আমার আপুটা আজকেও আসে নি৷ বুঝতে পারছি না আপুর হলো টা কি দু'দিন ধরে আসছে না বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে৷
- তারপর বল কালকে ওই কথা জিজ্ঞাসা করলি কেনো ( সাদিয়া)
- কোন কথা
- ওইযে মেসেজে জিজ্ঞাসা করলি আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা তুই জানিস না সিনিয়রদের কে এই সব প্রশ্ন করতে নেই৷
- সরি ( মাথা নিচু করে হয়তো রাগ করেছে)
- আচ্ছা ঠিক আছে তোর কি মনে হয় আমার বয়ফ্রেন্ড আছে নাকি নেই ( বলেই গালে হাত দিয়ে টেবিলে কনুই রাখলো)
- মেয়ে মানুষের মন বোঝা আর হাওয়ায় গুলি মারা সমান কথা কখন যে কি চলে বোঝায় যায় না পুরাই জিলাপির মতো সোজা৷
- ওই চুপ বেশি কথা বলবি না৷ আমার বয়ফ্রেন্ড নাই ঠিক আছে৷ ( বলেই সোজা হয়ে বসলো)
যাক নিশ্চিত হওয়া গেলো৷
- আচ্ছা আপু দু'দিন আগে যে কথাটা বললে তা কি সত্যি৷
- কি বলেছিলাম৷
- আরে ওইযে বললে না আমি সস খেয়েনিলাম আর তুমি বললে...(লজ্জার ভাব নিয়ে)
- উলে বাবা লে পিচ্চি ছেলের শখ কতো।
- শখ থাকতেই পারে
- আমি সিনিয়র হয় তোর
- তাতে কি মেশিন বড় থাকলেই হলো??(জিহ্বায় কামড় দিলাম)
- মেশিন বড় মানে?(অবাক হয়ে)
- মে মেশিন ব বড় মানে মন বড় আরকি৷
- ওহ্ আচ্ছা,,,, বুঝতি পারছি তুই আমাকে পছন্দ করিস তবে আমারও তোকে পছন্দ করার আগে আমি যা যা করতে বলবো তাই করবি যাতে যেনো তোকে আমার পছন্দ হয়৷ ( শুনেই যেনো মনের মাঝে লাড্ডু ফুটছে)
- ঠিক আছে
- কালকে শুক্রবার ভার্সিটি বন্ধ সারাদিন বাসায় বোর হবার থেকে সকালে আমাকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যাবি পারবি তো।
- হুমম ( খুশিতে গদগদ হয়ে)
- আচ্ছা যা ক্লাসে যা আর তোর আপু যেনো জানতে না পারে।
- আচ্ছা জানবে না
- আর একটা কথা আপু বলে ডাকবি না ঠিক আছে নাম ধরে ডাকবি তবে তোর আপুর সামনে না৷
- হুমম তুমিও আমাকে তুই না বলে তুমি করে ডাকবে
- আচ্ছা ক্লাসে যা
- আবার...
- ওকে ক্লাসে যাও খুশি তো৷
- হুম
লাফাতে লাফাতে ক্লাসে চলে গেলাম৷ ক্লাস শেষ করে বাসায় এসে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হয়ে যথা সময়ে সাদিয়া কে নিয়ে সিনেমা দেখতে চলে গেলাম৷ দুজনে পাশাপাশি বসে মুভি দেখছি আর পপকর্ণ খাচ্ছি। একটা কোকাকোলা নিয়ে একই বোতলে দুইটা পাইপ দিয়ে দুজনে মাঝে মাঝে খাচ্ছি৷ আহ্ সেই ফিলিংস সত্যিই সিনিয়রদের সাথে প্রেম করার মজাটাই আলাদা আদর করতে পারে ভালো হি হি হি।
এক সপ্তাহ মতো কেটে গিয়েছে সাদিয়ার আর আমার প্রেম কাহিনীর৷ জমে পুরো ক্ষীর লায়লা মজনু ওদের পরে যেনো আমাদের প্রেম কাহিনীটাই পুরো পৃথিবীতে রটিয়ে যাবে৷ মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে কত সহজেই সাদিয়া রাজি হয়ে গেছে৷ আপুও হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পারছে৷
আজকে সাদিয়া ভার্সিটিতে আসেনি৷ কি কাজের জন্য যেনো তাই মন কিছুটা খারাপ৷ আপু আর আমি ভার্সিটি থেকে বাসায় আসছি
- আচ্ছা তোর আর সাদিয়ার মধ্য কি কিছু চলছে৷
- কিছু চলছে মানে কি
- মানে কি বুঝিস না দেখ এসব কিন্তু ভালো না পরে অনেক কষ্ট পাবি৷
- পরেরটা দেখা যাবে ( কথাটা শেষ হতেই রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সাদিয়া আর একটা ছেলের সাথে রিক্সায় বসে কোথায় যেনো যাচ্ছে অথচ তার বাড়িতে থাকার কথা৷ তাহলে সে ছেলেটার সাথে কি করছে৷ আমি রিক্সার দিকে তাকিয়ে আছি। আপু বলে উঠলো
- বললাম না কষ্ট পাবি ছেলেটা আজকে সাদিয়াকে দেখতে আসছে মনে হয় ওদের বিয়েটাও ঠিক হয়ে গেছে তাই ঘুরতে বের হয়েছে হয়তো ( আপু ঘাড়ে হাত রেখে)
কথাটা শুনেই যেনো পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে লাগলো৷ সাদিয়া আমাকে রেখে অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করতে চলেছে সেটা কি ভাবে হয়৷ আমি কিছু স্পষ্ট দেখতে পারছি না সব কিছু কেমন যেনো ঝাপসা হয়ে আসছে চোখের কোনা বেয়ে পানি বের হচ্ছে৷ হ্যা আমি কান্না করছি চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছা হচ্ছে৷
- মন খারাপ করিস না ভাই বাড়িতে চল ( আপু আমাকে টেনে তুলে)
নিজেকে কোনো রকম সামলে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম৷ কালকে সাদিয়াকে জিজ্ঞাসা করতে হবে সে কেনো এমনটা করলো। আমার কি কোনো দোষ ছিলো।
চলবে...



No comments:
Post a Comment