লেখকঃ সিয়াম হোসেন
বাসায় এসে নিজের বিছানার উপরে বসে আছি৷ আপু বসে আছে আমার পাশে৷ কোনো কথা বলছে না চুপচাপ বসে আছি আর ভাবছি সাদিয়া কি আসলেই বিয়েটা করে নিবে৷ তাহলে আমার সাথে যে তার রিলেশন সেটার কি হবে৷ মন খারাপ করে মাথা নিচু করে বসে আছি৷
- দেখলি তো তোকে কেনো সাদিয়ার থেকে দূরে দূরে রাখতাম এখন বোঝ কেমন লাগে৷ (আপু)
- তুই কি যানতি নাকি যে হ্যা সাদিয়া আমার সাথে এমনটা করবে৷
- বিষয়টা তেমন না তবে এমনটা হতে পারে সেটা আন্দাজ করেছিলাম৷
- কিভাবে
- সোজা হিসাব সাদিয়া তোর থেকে বড় তাছাড়া ওর তো বিয়েও দিতে হবে কোনো মা বাবা কি চাইবে তার মেয়ের বিয়ে তার থেকে কোনো জুনিয়র ছেলের সাথে হোক৷
- তাহলে সাদিয়া আমার সাথে রিলেশনে জড়ালো কেনো৷
- সেটা তোর দোষ কোনো মেয়েকে ভাউ দিলে সে হয়তো রাজি হতেই পারে তাই সাদিয়াও হয়ে গেছে। মন খারাপ করিস না কালকে ভার্সিটিতে গিয়ে সাদিয়াকে জিজ্ঞাসা করবো সে কেনো এমনটা করলো ( পিঠে হাত দিয়ে)
- না তুই কিছুই বলবি না যা বলার আমিই বলবো৷
- ঠিক আছে তাহলে ওমন মুখ ফুলিয়ে বসে না থেকে কিছু খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়৷
- আমার ক্ষুধা নেই৷
- মেরে দাঁত ফেলে দিবো তোর জন্য খাবার দিয়ে যাচ্ছি খেয়ে রাখবি ( বলেই বের হয়ে গেলো)
কিছুক্ষণ বাদে আপু খাবার দিয়ে চলে গেলো৷ খাবারটা টেবিলের উপরেই রয়েছে ক্ষুধার তেমন অনুভব করছি না হয়তো সাদিয়ার দেয়া ধাক্কাটাতেই উধাও হয়ে গেছে তবুও কালকে ভার্সিটিতে গিয়ে জানতে হবে৷
রাতে কোনো রকমে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম নয়তো আবার আপু রাগ করবে৷ আর রাগ করে যদি বাবাকে বলে দেয় সে জন্য৷
পরেরদিন সকালে....
কোনো রকম তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ভার্সিটিতে চলে আসলাম৷ আপুকে বলিও নি৷ হয়তো সে আসবে কিছুক্ষণ বাদে৷ এসেই সাদিয়াকে খুজতে লাগলাম৷ পুরো ভার্সিটি খেজে কোথাও পেলাম না৷ ফোন দিয়েছি নাম্বারটাও বন্ধ৷ তাহলে কি সে আর ভার্সিটিতে আসবে না৷ মন খারাপ করে গেটের সামনে গিয়ে দাড়ালাম।
- কিরে মজনু তোর লায়লা কোথায় ( সাগর)
তার দিকে কিছুটা রাগি ভাব নিয়ে তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে নিলাম৷ এই মুহুর্তে রাগারাগি করার কোনো ইচ্ছায় নাই আমার।
- আরে ছেলেটা দেখি চোখ দেখাচ্ছে। বলছি তোর লাভারটা কি আছে না অন্য কারও সাথে ফস্টি নস্টি করছে কালকে রিক্সায় করে কোথায় যেনো যেতে দেখলাম ছ্যাকাটা কেমন লাগলো রে ( বলেই হেসে উঠলো)
- দেখুন সাগর ভাই ভালো হবে না বলে দিচ্ছি।
- কেনো কি করবি হ্যা ভুলে যাস না তুই আমার জুনিয়র।
- সেজন্য এখনও কিছু করিনি৷
- কি করবি হ্যা ( বলেই কাছে আসলো)
- ওই সিয়াম ( দূর থেকে আপু ডাক দিলো)
তাকিয়ে দেখি আপুর সাথে সাদিয়াও আছে। সাগরকে রেখে দৌড়ে সাদিয়ার কাছে গেলাম৷
- কিরে সিয়াম কেমন আছিস...
- রাখো তোমার রাখা রাখি আগে বলো আমার সাথে কেনো করলে এমনটা?
- কি করলাম ( মনে হয় অবাক হয়ে)
- আমাকে রেখে অন্য কোনো ছেলেকে কিভাবে বিয়ে করতে পারো তুমি৷
- কি বলছিস আগে মাথা ঠান্ডা কর তারপর বল কি হয়েছে৷
- কালকে তুমি একটা ছেলের সাথে রিক্সায় করে কোথায় গিয়েছিলে আর ছেলেটা কে ছিলো৷
- ওহ্ আচ্ছা বাবা হুট করেই বললো আমাকে নাকি ছেলে দেখতে যেতে হবে মুখের উপর সরাসরি না করে দিতে পারি না তাই দুজনে খাই খাই রেস্টুরেন্টে দেখা করেছি৷
- তুমি বলো নি তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো৷
- আমার সে সাহস নেই তাছাড়া বললেও মানবে না তুই তো আমার ছোট৷
- আচ্ছা এখন ছোট হবার বাহানা দিচ্ছো কেনো কথাটা রিলেশন শুরুর দিকে বলতে পারতে না ( মাথা গরম হয়ে গেছে রাগ করে বললাম)
- দেখ রাখ করিস না
- তারপর বলো ছেলেটার সাথে কি হলো
- ছেলের নাকি আমাকে দেখে পছন্দ তাই ওর বাড়িতে ফোন করে হ্যা বলে দিয়েছে৷
- মানে কি তুমি বিষয়টা স্বাভাবিক নিচ্ছো ( অবাক হয়ে)
- হ্যা অস্বাভাবিকের কি আছে তাছাড়া বিয়ে তো করতেই হতো তাইনা।
সাদিয়ার কথা শুনে শুধু অবাক হচ্ছি বলে কি মেয়েটা৷
- তাহলে আমাদের মাঝে যেটা ছিলো সেটা কি ( মন খারাপ করে সাথে রাগ নিয়ে)
- ১ সপ্তাহ সাথে ঘুরলেই কি প্রেম হয়ে যায় তাছাড়া তুই আমার ছোট সেই জন্য আমার দিক থেকে তেমন কোনো টান ছিলো না আমি আগেই বলেছি আমার তোকে পছন্দ হতে হবে কিন্তু তুই আমার পছন্দ না৷ ( বেশ স্বাভাবিক ভাবে)
- সাদিয়া তুমি এমনটা করতে পারো না মজা করছো না তো আমার সাথে৷
- তোর কি মনে হয় আমি তোর সাথে মজা করছি৷
চোখে কেমন যেনো ঝাপসা দেখছি চোখের কোনো বিন্দু বিন্দু জল জমতে শুরু করেছে
- দেখ সিয়াম যা হবার হয়ে গেছে সেটাকে একটা স্বপ্ন মনে করে সব কিছু ভুলে যা৷ তুই অনেক ভালো ছেলে সে জন্যই তোর সাথে কিছুটা সময় কাটিয়েছি বিশ্বাস কর আমার এমন মন ছিলো না কিন্তু কিভাবে কি হয়ে গেলো তুই আমার থেকে অনেক ভালো মেয়ে পাবি দেখিস ( কাধে হাত দিয়ে)
হাতটাও যেনো এখন নিজের কাধে পাথরের মতো ভারী মনে হচ্ছে৷
- সাদিয়া তুই এমনটা করতে পারিস না আমার ভাইয়ের সাথে ( আপু)
- দেখ রিয়া বোঝার চেষ্টা কর তোর ভাই আমার থেকে ছোট পরিবার মেনে নিবে না৷
- সেটা তোর আগে ভাবা উচিত ছিলো৷
- আমি তর্ক করতে চাই না৷ তুই আমার বেশ ভালো বান্ধুবী আমি চাইনা তোর আর আমার সম্পর্কটা নষ্ট হোক বরং তার থেকে তোর ভাইকে বোঝা বেশ ভালো লাগবে।
আমার আর দাড়াতে ইচ্ছা করছে না সেখানে আর না দাড়িয়ে থেকে বাসার দিকে হাটা দিলাম৷
- আহারে মজনু দেখি কান্না করছে ( পিছন থেকে কথাটা ভেসে আসলো)
রাগে দৌড়ে গিয়ে সাগরের মুখে একটা ঘুষি মেরে চলে আসলাম বাসায়৷
নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে বসে আছি৷ ভার্সিটি থেকে আসার পরে কিছু খায়নি৷ এখনও কান্না পাচ্ছে নিজে একজন ছেলে হয়ে আমি কাঁদছি। সারাদিন কোনো খাবার খাইনি৷ রাতে আপু দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে...
- সিয়াম দরজা খোল খেতে আয় ( আপু)
- আমার ক্ষুধা নেই তোরা খা৷
- দেখ পাগলামো করিস না খেতে আয় বলছি।
- রিয়া কি হয়েছে রে সিয়ানের ভার্সিটি থেকে আসার পর থেকেই দেখছি ঘরে ( মায়ের গলা)
- সেটা পরে বলবো,,, সিয়াম দরজা খোল ( আপু)
কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ চাপ বসে আছি৷
- সিয়াম দরজা খোলো বলছি ( বাবার গলা)
- বললাম না ক্ষুধা নেই ( বেশ জোড় গলায় এই প্রথম বোধ হয় বাবাকে জোড় গলায় কিছু বললাম)
বেশ কিছুক্ষণ ধরে শান্ত মনে হচ্ছে মনে হয় তাড়া খেতে চলে গেছে৷ আমি বিছানায় শুয়ে আছি৷ ঘুম আসছে না৷ একটা মানুষ কিভাবে বদলে যেতে পারে সেটা হয়তো সাদিয়াকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না৷ কেমন স্বাভাবিক ভাবেই সব কিছু বলে দিলো৷ সত্যিই এই মেয়ে জাতিকে বোঝা বড় দায়৷ সাদিয়ার প্রতি প্রচন্ড রাগ হচ্ছে ইচ্ছা করছে ঠাসস ঠাসস করে দু গালে দুইটা থাপ্পড় মেরে বুঝিয়ে দেয় যে কারও মন ভাঙলে কেমন লাগে৷
চলবে....



No comments:
Post a Comment