লেখাঃরাইসা
- এদিকে সুমাইয়া অনেকটাই সুস্থ। রাজকে ফোন দিয়ে নিয়ে গিয়ে হাতে একটা স্প্রে দিয়ে বললো ' রাজ এটা মৌ ঘুমানোর পর মুখে স্প্রে করলেই অজ্ঞান হয়ে যাবে। এমন সময় তলপেটে লাথি দিবে। বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে। আর শোন খালি পায়ে দিবে।
-রাজ স্প্রে নিয়ে বাসায় এসে পড়ল। রাতে যখন মৌ ঘুমিয়ে গেছে। এমন সময় রাজ মৌ এর মুখে স্প্রে করে! স্প্রে করার পর মৌকে ঝাঁকি দিয়ে দেখে সেন্স আছে কি না। কিন্তু সত্যিই সেন্স নেই। রাজ মৌ এর পেটের কাপড়টা সরিয়ে পা টা তুলে জোরে করে লাথি
মারবে যখন এমন সময় রাজের মা রাজের রুমের পাশ দিয়ে বার্থরুমে যাচ্ছিল! রাজকে দাঁড়ানো দেখে বললো' বাবা রাজ কি হয়েছে তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেন ওমন করে? বউ মার কিছু হয়েছে।
- রাজ পা টা সরিয়ে নিয়ে আসল। মনে মনে বলছে মা উঠার আর সময় পেলো না।
- এদিকে রাজের মা দরজা ধাক্কাচ্ছে! এই রাজ কি হয়েছে? সকাল থেকেই বুকটা কেন জানি ছ্যাঁত ছ্যাঁত করে ওঠছে। দরজা খুল।
- রাজ দরজা খুলে দেতেই, রাজের মা মৌ এর পাশে এসে বসে। মৌ এর কপালে হাত রেখে বলে, মা তোর শরীর খারাপ লাগছে?
-মৌ কোন কথা বলছে না। রাজের খুব টেনশন হচ্ছে! মা যদি পরিকল্পনার কথা জেনে যায় তাহলে আমাকে তো বাড়ি থেকে বের করে দিবে।
- এই রাজ কি ভাবছিস? বউমাকে হসপিটাল নিতে হবে কোন কথা বলছে না। কি হলো তুই এম্বুলেন্স ফোন কর।
- রাজ ফোনদিতেই গাড়ি এসে গেল। রাতেই মৌকে হসপিটালে এডমিট করা হলো। ডাক্তার মৌকে দেখে বললো' অজ্ঞান হয়ে গেছে। আপনারা একটু আলাদা ভাবে কেয়ার নিবেন। কিছু হবে না।
- পরেরদিন মৌকে হসপিটাল থেকে বাসায় এনে, রাজের মা রাজকে বললো' যে পর্যন্ত আমার বউমা মা হবে না ততদিন আমার সাথেই থাকবে। তুই কোন যত্ন নিতে পারিস না।
- কিন্তু মা ।
- কোন কিন্তু না। সেদিন যদি আমি ঘুম থেকে না উঠতাম। দেখা যেত খারাপ কিছু হয়ে যেত। তাই মৌ আমার সাথে থাকবে।
- আচ্ছা মা।
- এদিকে রাজের মা মৌকে এক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল হতে দেয় না। সবসময় খেয়াল রাখে। রিত্তও মৌকে অনেক ভালোবাসে। সবসময় হাসিখুশি রাখে।
- কিন্তু এতো যত্নের মাঝেও মৌ দুশ্চিন্তায় ভোগে। একটা করে দিন যাচ্ছে, মনে হচ্ছে বিপদ অগ্রসর হচ্ছে। পরিবারের মানুষগুলোর সাথে থাকতে থাকতে মৌ সবাইকে আপন কররে নিয়েছে।
-একদিন দুপুরে মৌ আর রিত্ত বসে আছে। রিত্ত মৌ এর মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। রিত্ত তেল দিতে দিতে বললো'বাবা দেখ তোমার বেবীটা ঠিক আমার মতো হবে। দেখতে হবে না ফুপিটা কত ভালো। ভাইয়ার মতো হবে না।
- হুম হতেই হবে।
- এদিকে রাজ অফিসে গিয়ে সুমাইয়াকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বললো।
.
মৌ রিত্তের সাথে এটা ওঠা নিয়ে কথা বলছে এমন সময় রিত্তের পাশে থাকা ফোনটা বেজে ওঠল! ফোনটা রিসিভ করতেই, ওপাশ থেকে অবনী বললো' রিত্ত আপু কাকা সকালে মারা গেছে। ফুফিকে নিয়ে তোমরা এখনি গ্রামে আসো।
- রিত্ত ফোনটা কেটে দিয়েই একটা চিৎকার মারল। রাজের মা এসে বললো' কিরে রিত্ত কি হলো এভাবে কাঁদছিস কেন?'
- মা ছোট মামা মারা গেছে। রাজের মা যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না। রিত্তকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিয়ে বলল' চল মা তারাতারি রেডি হয়ে নে। আর মৌ মা তুমি বাসায় থেকো তোমার শরীরটাও ভালো না। আমরা চলে গেলাম। আর রাজকে তোমার কাছে রেখে গেলাম। আমাদের যেতেই ১০ ঘন্টা লাগবে নয়তো নিয়ে যেতাম।
- মৌ কিছু না বলে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিল।
- রাজের মা যাওয়ার আগে রাজকে ফোন দিয়ে সবকিছু বললো। সাথে মৌ এর যত্ন নিতেও বললো!
- রাজ, সুমাইয়াকে ঘটনাটা বলতেই সুমাইয়া বললো' আজ আমি তোমার বাসায় থাকবো। '
-আচ্ছা! কিন্তু মামা যে মারা গেল খারাপ লাগছে!
- রাজ আমারো খারাপ লাগতেছে অনেক। কি করবো, দোআ ছাড়া তো কিছু করার নেই।
- আচ্ছা চলো একটু নদির পাড়ে যায় সেখান থেকে বের হয়ে সোজা তোমার বাসায়। তারপর সারারাত থেকে সকালে এসে পড়বো।
- কিন্তু আঙ্কেল?
- কি যে বলো বাবা তোমাকে জামাই হিসেবে মেনে নিয়েছে।
- আচ্ছা তাহলে চলো।
- সুমাইয়া গাড়ি করে যাচ্ছে আর ভাবছে, আজ যে ভাবেই হোক মৌ এর বাচ্চা নষ্ট করতে হবে আজ রাতে। দরকার হলে আমি লাথি দিবো। যখন ঘুমিয়ে যাবে।
- মৌ এশার নামায পড়ে রাজের জন্য অপেক্ষা করছে। বারবার ঘড়ির কাটা দেখছে। হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে ওঠে। মৌ দরজা খুলেই দেখে রাজ আর সুমাইয়া। সুমাইয়াকে দেখেই মৌ এর বুকে কেমন করে ওঠে।
- মৌ কিছু না বলে রাজের রুম ছেড়ে দেয়।
- রাজ সুমাইয়াকে নিয়ে তার রুমে ঢুকার আগে মৌকে বলে খাবার নিয়ে আসতে তাদের জন্য।
মৌ খাবার টেবিলে রেডি করে রেখে যখন রাজকে ডাক দিবে এমন সময় মৌ বুঝতে পারলো সুমাইয়া আর রাজ ফিসফিসিয়ে কি যেন বলছে।
- মৌ জানালার পর্দাটা সরাতেই দেখতে পেল, সুমাইয়া রাজের বুকে অর্ধ নগ্ন হয়ে শুয়ে আছে। রাজের বুকে শুয়ে শুয়ে বলছে 'জান আজ সুবর্ণ সুযোগ। আমাদের ভআলোবাসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে মৌ এর গর্ভের সন্তানটা। তাই আজ উপযুক্ত একটা সময়। মৌ যখন ঘুমিয়ে যাবে তখন তার নামা পেটে লাথি দিবে। তাহলে তার মা হওয়ার স্বাদ সারাজীবনের জন্য মিটে যাবে ।
- সুমাইয়া কিন্তু মা যদি জানতে পারে?
- আরে মা আর রিত্ত তো নেই এখনি উপযুক্ত সময়। আর স্প্রে করার পর দিবে, বুঝার কোন সুযোগ নেই।
- এসব শুনার পর মৌ এর পা কাঁপছে কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। রাজকে কাঁপা কাঁপা গলায় ডেকে ভেতরে খাবার দিয়ে যখন বের হবে এমন সময় সুমাইয়া বললো' আপু তুমি ঘুমাবে না?'
- মৌ মুচকি হেসে বললো হে বোন ঘুমাবো। মনটা ভালো লাগছে না। একটু লেট হবে।
- আচ্ছা তাহলে যাও।
- মৌ বের হতেই সুমাইয়া দরজা লাগিয়ে দিলো।
- মৌ রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে এসে কুরআন পড়তে লাগল। মৌ বুঝে ফেলেছে খু্ব গভীর ষড়যত্ন চলছে তার গর্ভের সন্তান নিয়ে। এ সময় আল্লাহ ছাড়া কেউ হেফাযত করতে পারবে না তাকে। তাই কুরআন তেলাওয়াত করছে। সুমাইয়া কয়েকবার রুম থেকে বের হয়ে উঁকি দিয়ে দেখলো মৌ কুরআন পড়ছে। কি করবে কিছু বুঝতেছে না।ঘুমায় না কেন। এসব ভাবতে ভাবতে সুমাইয়ার ফোন আসে, সুমাইয়া ফোনে কথা বলেই রাজকে বলে' জান আমার যেতে হবে। বাবার অবস্থা ভালো না।
- আমি ও যাই?
- না জান তোমার যেতে হবে না। তুমি পারলে পথের কাঁটাটা দূর করো।
- সুমাইয়া চলে যাওয়ার পরপরই রাজের বুকে কেমন যেন ব্যাথা করতে লাগল। ক্রমশ ব্যাথা তীব্র থেকে তীব্র হতে লাগল। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। বাধ্য হয়ে মৌকে ডাক দিয়ে বললো"মৌ আমাকে বাঁচাও।' মৌ দৌড়ে এসে দেখে রাজের অবস্থা ভালো না। তাড়াতাড়ি এম্বুলেন্স ফোন দিয়ে হসপিটালে নিয়ে এডমিট করে।
- ডাক্তাররা যখন রাজের চিকিৎসা করছে মৌ এদিকে সারারাত নফল নামায পড়ছে। সকালের দিকে নার্স এসে বললো' আপু আপনার দোআ কবুল হয়েছে। আপনার স্বামী মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে আসল।
- মৌ দৌড়ে রাজের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। মন চাচ্ছে রাজকে গিয়ে জড়িয়ে ধরুক। কিন্তু না। নার্স রাজকে বললো' স্যার আপনি অনেক লাকি এমন একটা বউ পেয়েছেন। যে সারারাত নামায পড়ে আপনার সুস্থতার জন্য কেঁদেছে। আর সঠিক টাইমে যদি হসপিটালে না নিয়ে আসতো তাহলে আপনাকে বাঁচানো যেতো না।
- রাজ কিছু বললো না। মৌ এর দিকে তাকালো। রাজ স্পষ্ট বুঝতে পারলো। মৌ এর চোখে পানি।
- কাঁদছো কেন মৌ?
- আপনার কিছু হলে আমি বাঁচবো না তাই।
- রাজের বুকটা কেমন করে ওঠলো!
- মায়াভরা দৃষ্টিতে রাজ মৌ এর দিকে তাকিয়ে আছে। এমন সময় রাজের ফোনটা চেনা সুরে ভেজে ওঠল! ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বললো' আমার জানটার ঘুম ভাঙছে?
- সুমাইয়া আমি হসপিটালে!
- কি বলো? আমার জানের কি হয়েছে? কোন হসপিটালে বলো। সুমাইয়া রাজের কাছে হসপিটালে ঠিকানা নিয়ে বিশ মিনিটেই হসপিটালে এসে উপস্থিত হয়। হসপিটালে রাজকে দেখেই জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। জান তুমি অসুস্থ আমাকে জানাতে পারলে না?
- আর এই যে রক্ষিতা! আমাকে ফোন করে জানাতে পারলে না?
- আপনাকে কেন জানাবো?
- ঠাস! করে চড় বসিয়ে দিয়ে বললো রক্ষিতা তুই কি বললি? আমাকে কেন জানাবি? জানস রাজ আমার জান আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না। রাজ যে আমার কলিজা '''''
চলবে''''''



No comments:
Post a Comment