লেখাঃরাইসা
কোন হসপিটালে বলো। সুমাইয়া রাজের কাছে হসপিটালে ঠিকানা নিয়ে বিশ মিনিটেই হসপিটালে এসে উপস্থিত হয়। হসপিটালে রাজকে দেখেই জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। জান তুমি অসুস্থ আমাকে জানাতে পারলে না? - আর এই যে রক্ষিতা! আমাকে ফোন করে জানাতে পারলে না? - আপনাকে কেন জানাবো? - ঠাস! করে চড় বসিয়ে দিয়ে বললো রক্ষিতা তুই কি বললি? আমাকে কেন জানাবি? জানস রাজ আমার জান আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না। রাজ যে আমার কলিজা। - সুমাইয়া কি করছো এসব? ছাড়ো না এটা হাসপাতাল। - তুমি চুপ করবে জান। তোমার যদি কিছু হয়ে যেত আমি কি নিয়ে বাঁচতাম? তুমি জানো না আমি তোমায় কতটা ভালোবাসি। - হুম জানি তো পাগলী। - তো, রক্ষিতাটা আমায় একটু ফোন দিয়ে বললোও না। তুমি অসুস্থ। - আচ্ছা বাদ দাও। আমার তো কিছু হয়নি। - কিছু হয়নি যদি হতো? এই কথাটা বলে সুমাইয়া রাজের বুকে গিয়ে লুকালো। - মৌ কিছু বলতে পারছে না। মাথাটা নিচু করে কাঁদছে। রিত্ত আর মা'কে ফোন দিচ্ছে। এখন ফোন রিং হচ্ছে। - রিত্ত ফোন ধরতেই মৌ বলল' আপু তোমরা কখন আসবে? - রিত্ত বললো আমরা রওয়ানা দিচ্ছি। আসতে আসতে সন্ধ্যা লাগবে। - মৌ রাজের অসুস্থতার কথা বলতে চেয়েও পারলো না। - বিকেলে রাজকে হসপিটাল থেকে বাসায় নিয়ে এসে পড়ে। রাজের সাথে সুমাইয়াও বাসায় আসে। সুমাইয়া রাস্তায় একটা মুহূর্তের জন্যও রাজের হাতটা ছাড়েনি। রাজ বাসায় আসার পথে স্পর্ষ্ট বুঝতে পারলো সুমাইয়া কাঁদছে। - আমার হার্ট কাঁদছে কেন? -সুমাইয়া কোন কথা বলছে না। রাজ আবারো বলবো কি হলো? কথা বলছো না কেন? প্লিজ কেঁদো না। - সুমাইয়া এবার রাজকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গাড়িতেই ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল। - কি হলো কান্না করছো কেন? কি হয়েছে বলো? - সুমাইয়া কান্না করতে করতে বললো' রাজ আমাকে কখনো ছেড়ে যেয়ো না! আমি তোমাকে বড্ডবেশি ভালোবাসি। তোমার জন্য জীবনটা পর্যন্ত দিতে পারি। আমাদের ভালোবাসা পবিত্র। - রাজ সুমাইয়ার কপালে আলতো করে ভালোবাসার স্পর্শ এঁকে দিয়ে বললো' এ দেহে প্রাণ থাকতে তোমাকে ছেড়ে যাবো না। তুমি যে আমার কলিজা। তোমাকে ছাড়া কেমনে বাঁচি বলো? আর ছেড়ে যাওয়ার তো কোন প্রশ্নই উঠে না। - এদিকে গাড়ি বাসায় এসে গেছে। মৌ রাজকে হাত ধরে গাড়ি থেকে নামাতে যাবে যখন ঠিক তখনি, সুমাইয়া বললো' এই রক্ষিতা তুমি রাজকে স্পর্শ করবে না। রাজের অমঙ্গল হবে। - সুমাইয়ার কথাটা যেন মৌ এর কলিজায় এসে লাগল। মৌ রাজের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়বে পড়বে ভাব। মৌ ভাবছে রাজ হয়তো কিছু বলবে। কিন্তু না, রাজ তো আর তার না। তিনবার কবুল বলেছে হয়তো। কিন্তু মনে তো আর জায়গা করে নিতে পারেনি। - বাসায় ঢুকেই সুমাইয়া বললো' এই যে দু'কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আসো। - মৌ যখন কিচেনে যা বানাচ্ছে, তখন দেখে কিচেনে চিনি নেই। মৌ যখন চিনি খুজতে রাজের মায়ের রুমে আসে এ সুযোগে সুমাইয়া চায়ের কাপে লবণ দিয়ে আবারো রাজের কাছে বসে গল্প বলতে লাগে। - ক্ষানিক পর মৌ চা নিয়ে এসে রাজকে আর সুমাইয়া দিল। রাজ চা মুখে দিয়েই অ্যাক থু! জঘন্য তিতো। এই চায়ে চিনি দিছিস না লবণ দিছিস? - কেন চিনি দিয়েছি। - এবার সুমাইয়া গরম চা মৌ এর পেটে ছুড়ে মেরে বলল। তোর চা তুই খা! - মৌ অ্যা করে গগণ বিদায়ী চিৎকার দিয়ে ওঠল। মৌ এর মুহহূর্তের মাঝেই পেটের চামড়া ঝলসে গেল। খুব জালা করছে। রাজ আর সুমাইয়া একটার পর একটা খারাপ কথা বলেই যাচ্ছে। - এক পর্যায়ে সুমাইয়া বলেই ফেলল' রাজ তোমাকে মারার জন্য মনে হয় চাতে বিষ মিশিয়েছে! - মৌ এবার নিজেকে সামলাতে পারলো না। চিৎকার করে বলতে লাগল ' আমি কেন রাজকে মারতে যাবো?' রাজ আমার স্বামী। যার খেদমত করে আমি আল্লাহর প্রিয় হবো। যার সন্তান আমার গর্ভে তাকে কেন মারতে যাবো? - এবার সুমাইয়া আর সহ্য করতে পারলো না। মৌ এর গালে কষে থাপ্পর দিয়ে বললো' এই রক্ষিতা তোর সাহস কি করে হয়? আমার জানকে স্বামী বলার? আরে পতিতালয়ে তো কতজনেই যায়, সেখানে যদি কেউ কারো সন্তান গর্ভে ধারণ করে সেটা জারজই হয়। তেমনি রক্ষিতার। - জান আমি সত্যি মরে যাবো তুমি যদি এটাকে ডির্ভোস না দিয়ে আমাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে না করো। কথাটা বলেই ফল কাটা ছুরি দিয়ে হাতে পোঁচ দিল! - ফেলকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। রাজ তাড়াতাড়ি পকেট থেকে রুমাল বের করে, সুমাইয়া হাতটা বেধে ফেলল। টান দিয়ে সুমাইয়াকে বুকে জড়িয়ে বলতে লাগল ' তুমি তোমার হাতে ছুরি চালাওনি। চালিয়েছ কলিজায়। তুমি জানো না তোমায় কতটা ভালোবাসি। তোমাকে পাবার জন্যিই রক্ষিতাকে বিয়ে করেছিলাম। জানতে পারিনী, কালনাগিনীটা এমন করবে। নিজে সন্তান জন্ম দিয়ে সম্পদের মালিক হতে চাইবে। - মৌ রাজের মুখে এমন কথা শুনে দরজা বন্ধ করে কাঁদতে লাগল। মন চাচ্ছে তার জীবনটা এ মুহূর্তে বের করে দেয়। মৌ এর পেটে খুব জলছে। তাই পেটের উপর থেকে কাপড়টা সরাতেই দেখতে পেল, পেটের উপর গরম চা পড়ে ফোসকা পড়ে গেছে। অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। আল্লাহ কেন যে এতো কষ্ট দেয়। মৌ পেটের নিচে হাত রেখে দু'চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে' কিরে কান্না করছিস? কান্না করিস না? আল্লাহ তোকে হেফাযত করবে। আমার দেহে প্রাণ থাকতে তোর কিছু হবে না। তুই যে আমার জীবন হয়ে গেছিস। সত্যিই তুই অভাগা, জন্মের আগেই তুই তোর জন্মদাতার মুখে জারজ হওয়ার তকমাটা পেয়ে গেলি। ভাবিস না আমি তোকে ছেড়ে যাবো? কখনোই না। -মৌ পাগলীর মতো এসব বলছে আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। - এদিকে সুমাইয়া রাজকে জড়িয়ে ধরে বললো ' জান তোমাকে বলেছিলাম না সব কিছু পরিকল্পনা করে মাঠে নেমেছে। ' তুমি কিন্তু আমায় ছেড়ে যেয়ো না। - রাজ এবার সুমাইয়ার কপালে চুমু দিয়ে বলল! কি করা যায়? - পথ থেকে সরিয়ে ফেলি? গাড়ি একসিডেন্ট করিয়ে! - হুম তবে, চুক্তির মেয়াদ দু'মাস আছে চেষ্টা করে দেখি যদি বাচ্চাটা নষ্ট করতে পারি তবে ডির্ভোস কোন ব্যাপার না। তা তো অর্ধেক হয়েই আছে। -আচ্ছা এবার তাহলে আসি? - হুম যাও! - সুমাইয়া যাওয়ার আগে রাজের কপালে চুমু দিয়ে গেল। - রাজ সোফাতে বসে আছে। এমন সময় কলিংবেলটা বেজে ওঠল। রাজ দরজা খুলতেই দেখতে পেল রিত্ত আর তার মা বাহিরে দাঁড়িয়ে। - রাজের মা রাজকে কিছু না বলেই ' মৌকে ডাকতে লাগল। কিরে মা কোথায় তুই? - মৌ এর কাছে মনে হচ্ছে সে জীবন ফিরে পেয়েছে। তাড়াহুড়া করে চোখের জল মুছে শাড়িটা পাল্টিয়ে নিয়ে, রুম থেকে বের হয়েই বলে। মা আমি কাজ করছিলাম। - কি তুমি এ শরীর নিয়ে কাজে? বাড়ির চাকর বাকররা কই? - মা ছুটিতে গেছে। - এখন ছুটিতে? বুঝতে পারি না কিছু। - রাজের মা মৌ এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল ' মা তোর মন খারাপ?' - না মা। - কয়েকদিন পর মৌ এর ফোনটা বেজে ওঠল! - মৌ ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বললো' ম্যাডাম আপনার বাবাকে বাঁচাতে হলে সামনে শুক্রবারে ছয়লাখ টাকা লাগবে। ' অপারেশন করতে হবে। নয়তো বাঁচানো যাবে না । -আচ্ছা, আপনি অপারেশন করার সব ব্যবস্থা করেন শুক্রবারের মাঝে সব টাকা প্যাড করবো । আর শুনেন বাবাকে কখনোই বলবেন না টাকাটা আমি দিচ্ছি। বাবা যদি এটা শুনে তাহলে মরে যাবে তবু আমার টাকায় অপারেশন করবে না। আমি যে তার ভালোবাসার মানুষটাকে জন্ম নেওয়ার সময় কেড়ে নিয়েছি। - আচ্ছা ম্যাডাম। - ফোনটা কেটে যেতেই মৌ মহাচিন্তায় পড়ে গেল। এতো টাকা কিভাবে ম্যানেজ করবে। রাজের কাছে চুক্তির তিনলাখ টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু বাকি তিনলাখ। যে বাবাকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনের সবকিছু বির্সজন দিলো, কারো কারো কাছে রক্ষিতা হলো। কিন্তু তারপরেও কি বাবাকে বাঁচানো যাবো না? হঠাৎ মৌ এর মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো। - মৌ রাজের কাছে গিয়ে বললো' আপনার কাছে চুক্তির যে তিনলাখটাকা পায় সেগুলো দেন। ' - সরি আর একটা টাকাও দিতে পারবো না। তবে দিতে পারি এক শর্তে তুমি যদি তোমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলো। আরো বেশি যদি চাও তাও দিবো তবে সন্তানটা নষ্ট করতে হবে। যদি রাজি থাকো কালই ক্লিনিকে গিয়ে এবারশন করিয়ে নিয়ে আসবো। - মৌ এর পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে এমন কথা শুনে। মৌ ভাবতে লাগল কাকে বাঁচাবে? বাবাকে বাঁচালে গর্ভের সন্তানটাকে মেরে ফেলতে হবে ''
চলবে'''''''''''



No comments:
Post a Comment