রাজশাহী যাচ্ছি এক্সাম দিতে।
বাসে আমার পাসের সিটে বসে থাকা
মেয়ে টা হঠাৎ বলে উঠল,,
ভাইয়া
আমার ফোন এ ব্যলেন্স নাই।
একটু ফোনটা যদি দিতেন.... ১ মিনিট
কথা বলতাম।
:আমার কাছে তো ফোন নাই।
: তাহলে ওটা কি?
: এটা তো মোবাইল।
: তো মোবাইল টায় দিন.. জাস্ট
টুয়েন্টি সেকেন্ড।
: হুম এই যে..
:হ্যালো মা! আমি বাসে এখন।
আমার রুমে তোমার ওষুধ গুলো রেখে
এসেছি ।
হুম...... রাজশাহী পৌছালে কল দিব
এখন।
:থ্যাংকস। এই নিন আপনার ফোন।
:কি নাম আপনার?
: রোহি। আপনার?
:রাজ।
রোহি:আপনি কি রাজশাহী যাচ্ছেন।
রাজ: হুম।
রোহি:এক্সাম দিতে??
রাজ: হুম।
রোহি: আপনাকে আমি কোথায় যেন
দেখেছি বাট মনে করতে পারতেছি
না।
রাজ: টিক টক এ??
রোহি :ওহ হ্যা আপনি তো টিক টক
করেন।
রাজ : আপনি কি করেন?
রোহি: সরি...
রাজ:পদ্মা করেন!!
রোহি: হুম।
বাস এ ১২ ঘন্টা জার্নি।
.... নিজের একাকিত্ব কিছুটা দূর হবে
পাশে বসে থাকা এই মেয়েটার সাথে
গল্প করে।
হাউ সুইট ভয়েস!!
পদ্মাশীল!
চোখ দু'টো শুধু বাইরে।
কি মায়াবী সেই চোখ!!
চুপচাপ বসে আছে মেয়েটা। কথা মনে হয়
শেষ হয়ে গেছে।
কি দিয়ে শুরু করব বুঝতেছিনা।
...
১ ঘন্টা এভাবেই গেল।
কোনো কথা হলো।
তারপর
রাজ: tiktok এ আমার সব ভিডিও
দেখেছেন?
রোহি:না। সেন্ট করেন তো আমার
ফোনে।
রাজ: ওকে। শেয়ারিট ওপেন করেন।
রোহি: হুম।
সেন্ট হচ্ছে....
ওয়াও
শেয়ারিট থেকে তো ম্যাসেস করা
যায়!!
sms এ লিখলাম...
মায়াবী তোমার চোখের পলক...
না জানি কত রুপের ঝলক!
রোহি : দেখবেন?
রাজ: ইচ্ছে তো করে...
রোহি:আহারে।
রাজ: একটা পিক দেন না '''
রোহি: হুম.. দিচ্ছি।
রাজ: ওয়াও!!
অনেক সুন্দর আপনি।
রোহি: অনেক না। কিছুটা।
রাজ: না।। অনেক বেশি সুন্দর আপ্নি।
রোহি: থাক আর পাম মারতে হবে না।
ভিডিও তো সবগুলোই চলে আসছে কেটে
দিব।
রাজ: থাক না... আর একটু কথা বলি।
রোহি: হুম বলেন।
রাজ: কেউ আছে আপনার?
রোহি:কেউ আছে মানে?
রাজ: ভালোবাসেন কাউকে?
রোহি: সে সুযোগ হয়নি কখনও।
রাজ : একবার তো ট্রাই করে দেখতে
পারেন।
রোহি: পসিবল না।
রাজ: আচ্ছা আমরা কি ফ্রেন্ডশিপ করতে
পারি?
রোহি: হুম। তবে কিছু সর্ত আছে।
রাজ: হুম বলেন।
রোহি: আমার ফোন নাম্বার চাইতে
পারবেন না অথবা এফবি আইডি।
আমাদের মাঝে কখনো কন্ট্রাক হবেনা।
কোনো প্রকার কন্ট্রাক ছাড়াই যদি
আমাদের আবার কখনও দেখা হয়ে যায় ..
তারপর ফ্রেন্ডশিপ।
রাজ: ফ্রেন্ডশিপ করতেই যে পেইন।।
প্রেম আর ভালোবাসাবাসা হবে
কেমনে??
রোহি: হাহাহা
রাজ: নাম্বার টা দিন না।
দেখা হওয়ার পর না হয় কল দিব।
রোহি: বিলিভ নাই। দেখা হওয়ার
আগেই যদি কল দেন!
রাজ: দেখা হওয়ার আগেই যদি আপ্নার
বিয়ে হয়ে যায়।
রোহি: কপাল।
শেয়ারিট এ কথা বলতে বলতে রাত দু'টা
বেজে গেছে।
শেয়ারিটে কোনো অপরিচিত মেয়ের
সাথে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলে বিশ্ব
রেকর্ড করলাম।
অপরিচিত এ মেয়েটা এখন অনেকটা
পরিচিত
হয়ে উঠেছে।
কখন ঘুমিয়ে গেছি মনে নাই।
জেগে দেখি পাশে থাকা রোহি
নাই।
সুপার ভাইজার: নাম্বেন না ভাই?
বাস থেকে দ্রুত নামলাম
বাট রোহি কে দেখতে পাইলাম না।
ফ্রেন্ড এর ম্যাস এ উঠলাম। মাথার চুল
গুলো উশকো খুসকো হয়ে গেছে।
ফ্রেশ হওয়ার জন্য ড্রেস চেন্জ করতেছি।
হাতের ঘড়িটা খুলতে গিয়ে দেখতে
পাইলাম কাগজের আস্ত্রন।
খুলে দেখি তাতে লেখা আছে...
tiktok এ যত দাও খুশি....
তার চেয়েও বেশি...
ভালো রাখো এ মন..
আমি তোমার
রোমান্টিক গল্পের ফ্যান।
wait for u...
তার মানে রোহি
ফেসবুকে আমার গল্পও
পড়ে। যাই হক আসা করা যায় খুব দ্রুত তার
সাথে আবার কথা হবে।
ইউভি টেস্ট এর প্রতিটি ইউনিটের
এক্সামে তাকে খুজেঁছিলাম। বাট
রোহির বলা সেই কপাল ছিল না।
এফবিতেও রোহির নাম
দিয়ে সার্চ দিয়ে প্রতিটা রোহিকে
ম্যাসেস সেন্ট করেছিলাম.... তেমন
কোনো রেস্পন্স আসে নাই।
আমার এফবি আইডি টাও ২ মাসের মধ্যে
ডিসএবল হয়ে গেছে।
পেইন ফর পেইন।
ওহহ
এক মুহুত্বের জন্য
আমার কেন মনে হয় নাই। রোহি তো
আমার ফোন দিয়ে তার মা কে কল
দিয়েছিল।
ফোনে কল লিস্ট চেক করলাম।
পাইলাম না।
এত হতাশা নিরাশা
তবুও ছাড়িনি আসা।
সে হয়ে উঠেছিল ভালোবাসা।
১ ইয়ার চলে গেল।
ইউনিভার্সিটি বন্ধ আছে কয়েক দিনের
জন্য।
ম্যাসে আমার রুম মেট বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে
উঠেছে।
সে জোরপূর্বোক অনুরোধ
করতেছে
তাদের গ্রাম থেকে ঘুরে আসতে।
রাজি হয়ে গেলাম।
রংপুর থেকে গাইবান্দা
তারপর ফুলছড়ি.. বালাশির চড়।
সেখান থেকে
নৌকায় করে গ্রামে পৌছালাম।
বন্ধুর বাসায় পৌছে দেখি এরা যে
কোন ভাষায় কথা বলে কিছু কিছু ভাষা
বুঝতেই পাই না।
যাই হক এরা হচ্ছে ভাটি অঞ্চলের মানুষ।
পরের দিন বন্ধু সহ গ্রাম টা ঘুরতে বের
হলাম।
হাউ সুইট সিনারি!
.... ধাপে ধাপে কত বালির আস্ত্ররন...
নদীটা নিজেই নিজেরে করতে পারে
না
নিয়ন্ত্রন।
ফেরার পথে
স্কুলের মাঠে
দেখতে পেলাম ছেলেরা ক্রিকেট
খেলতেছে।
বসে বসে খেলা দেখতেছি।
একটা ছেলে আমার পাশ ঘেষে বসলো ।
ছেলেটা: ভাইয়া আপনার নাম কি রাজ।
আমি : হুম। কেন।
ছেলে: আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ
আছে।
আমাদের বাড়িতে একটু যাবেন!
wait for nxt
No comments:
Post a Comment