Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা পার্টঃ ৭


লেখকঃ সিয়াম হোসেন
সারারাত আর ঘুমায়নি শুধু ভেবেছি সাদিয়া এমনটা কেনো করলো।
সকালে বাবা বেশ কয়েকবার ডাক দিলো তাই আর কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম৷ এমনিতেই কালকে রাতে তাকে একটু জোরেই বলেছিলাম অথচ তা নিয়ে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই৷
তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে বসলাম৷
- সিয়াম কি হয়েছে তোমার ( বাবা)
- কিছু না ( মাথা নিচু করে)
- কিছু না মানে কোনো বিষয় নিয়ে তোমাকে আপসেট মনে হচ্ছে খুলে বলো কি হয়েছে৷
- কিছু না এমনি..
- তাহলে কালকে রাতে খেলে না কেনো।
- ক্ষুধা ছিলো না৷
- দেখো মিথ্যা বলা আমি পছন্দ করি না রিমা কি হয়েছে ওর তুমি বলো ( কিছুটা জোড় গলায়)
আপুর দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে কিছুটা ভয় পেয়ে বাবাকে সব কিছু বলে দিলো৷ আমি মাথা নিচু করে বসে আছি৷
- তোমার কমনসেন্স বলতে কিছু নেই বড় মেয়েদের সাথে প্রেম করো আবার সে চলে যাওয়া মন খারাপ করে আছো৷ শোনো আমি ওতো কিছু বুঝি না আমি চাইনা সামান্য একটা মেয়ের জন্য তোমার লাইফ তুমি নষ্ট করো৷ কিছুদিন বাসায় থাকো দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে তার আগে ভার্সিটিতে যাবে না ঠিক আছে ( রাগি ভাব নিয়ে)
আমি কিছু না বলে চুপচাপ মাথা নিচু করে খাচ্ছি অবশ্য বাবা না বললেও আমি কয়েকদিন ভার্সিটিতে যেতাম না৷
খাবার খেয়ে নিজের রুমে চলে আসলাম৷ আপু তার মতো করে রেডি হয়ে ভার্সিটিতে চলে গেছে৷
বিছানায় শুয়ে আছি৷ কিছুই ভালো লাগছে না অনেক খারাপ লাগছে ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে সাদিয়াকে বলি সে যেনো ছেলেটাকে বিয়ে না করে৷ মোবাইলে মেসেজের আওয়াজ ভেসে আসলো৷ হাতে নিয়ে দেখি সাদিয়া মেসেজ করেছে৷
- কিরে ভার্সিটিতে আসলি না কেনো?
প্রশ্নটা দেখে অবাক হচ্ছি সে কেমন হুট করেই বদলে গেলো৷ তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আর এখনও আমাকে মেসেজ দিচ্ছে ভার্সিটিতে গেলাম না কেনো৷ দেখেই মোবাইলটা রেখে দিতে গিয়ে আবার মেসেজ আসলো
- তোর আপু বললো কালকে রাতে নাকি কিছুই খাসনি৷ দেখ আবারও বলছি আমাকে মাফ করে দে আর ভুলে যা শুধু শুধু আমার জন্য নিজেকে কষ্ট দিস না চাইলে আমরা সবসময় বন্ধু হিসাবে থাকতে পারি।
মেসেজটা পড়ে হাসতে শুরু করলাম বলেকি বন্ধু হয়ে থাকবে কাটা গায়ে নুনের ছিটা ভালোই দিতে পারে দেখছি।
- সিয়াম খবর শুনেছিস ( আপু ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে)
- কি
- এই বুধবারেই নাকি সাদিয়ার বিয়ে হচ্ছে ওর মামার বাড়ির থেকে হবে বিয়েটা ফরিদপুর।
- ওহ্ ( মন খারাপ করে)
- মন খারাপ করিস না দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে ( পাশে বসে হাত দুইটা ধরে যেনো আমাকে শান্তনা দিচ্ছে)
- হুমম ( বলেই আপুকে জড়িয়ে ধরলাম৷ নিরবে কান্না করছি)
- কান্না করিস না ভাই জানিস না তুই কান্না করলে আমারও খারাপ লাগে ( বলছে বোঝা যাচ্ছে আপুও কান্না করছে)
- যে আমার ভাইকে কষ্ট দিতে পারে তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না আজকে ওর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে চলে আসছি মন খারাপ করিস না ভাই আমি সব সময় তোর পাশে থাকবো ( জড়িয়ে ধরেই কান্না করছে বোঝা যাচ্ছে)
আমিও নিরবে কান্না করছি।
সাদিয়ার বিয়ের দিন...
নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছি৷ সাদিয়ার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই আমি ভার্সিটিতে যাইনা বলে আপুও যেতো না৷ তো আজকে সাদিয়ার বিয়ে নিজের কাছে কিছুটা খারাপ লাগছে৷ ভালোবাসার মানুষটি আজকে অন্য কারও হয়ে যাবে অন্য কারও সাথে রাত কাটাবে ভাবতেই অবাক লাগছে৷ তবুও ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি সাদিয়া যখন আমাকে মনে রাখে নি অন্য ছেলের সাথে বিয়ে করতে পারে তাহলে আমারও তাকে মনে রাখার কোনো মানেই হয় না৷
রাত যত গভীর হতে থাকে মনের মাঝে অস্থিরতাটা যেনো ততই বাড়তে থাকে না জানি সাদিয়া এখন অন্য কারও বুকে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে চোখের কোনা দিয়ে অশ্রু বেয়ে পড়ে।
শনিবার..
সাদিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে চারদিন হলো অথচ তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই৷ ওকে অনেকটা ভুলে গিয়েছি প্রায় অনেক দিন হলে ভার্সিটিতে যাওয়া হয় না আজকে যাবো৷ সকালে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলাম৷ তবে আজকের ভাবটা কিছুটা আলাদা সাদিয়ার জন্যই এতোদিন কোনো মেয়ের সাথে ভার্সিটিতে তেমন পরিচয় হয়নি৷ আজকে কিছু ভাব নিয়ে ভার্সিটিতে আসছি ক্লাসে সব মেয়ের সাথে পরিচয় হবো আজকে। ভার্সিটির গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখলাম দূরে সাদিয়া দাড়িয়ে আছে৷ মনের মাঝে কিছু একটা অনুভব করলাম৷ তবুও নিজেকে সামনে নিলাম অন্য কারও বউয়ের দিকে তাকানোর কোনো ইচ্ছা নেই আমার৷ তবে কেমন মায়াবী ভাব নিয়ে যেনো আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো৷ হয়তো কথা বলার জন্য আমারও ইচ্ছা করছিলো তবে মায়া না বাড়িয়ে ক্লাসে চলে আসলাম৷ স্যার আসে নি এখনো অনেক দেড়ি৷
- হেই আশিক কেমন আছিস।
- ভালো তুই
- ভালো মিম কেমন আছো
- ভালো,,, তোমাকে আজ বেশ সুন্দর লাগছে?
- ধন্যবাদ প্রেম করবা আমার সাথে?
- ধুর সিয়াম মজা করো না তো জানো না আমার বফ আছে
- উফ কপালে বোধ হয় আমার গফ নাই৷
- কেনো সাদিয়া
- বাদ দাও তো ওকে...
- সিয়াম শুনেছিস সাদিয়ার বিয়েটা ভে......(আশিককে থামিয়ে দিয়ে)
- দেখ ওর কথা আমাকে আর বলবি না আমি শুনতে চায় না৷
- তবে কথাটা তোর জানা জরুরী
- ওর বিষয় বাদে অন্য কোনো কথা থাকলে বল নয়তো বলিস না দয়া করে প্লিজ.?
- ঠিক আছে....
স্যারের টেবিলের কাছে গিয়ে দাড়ালাম...
- হেই লেডিস্ আমি সিয়াম এই ক্লাসের ছাত্র হয়তো অনেকে চিনো হয়তো না তবে আমি যে তোমাদের বেশির ভাগকেই চিনিনা সেটা সত্য৷ আসলে তেমন ভাবে পরিচয় হওয়া হয়নি৷ তাই আজকে আমি তোমাদের সকলের সাথে পরিচিত হতে চায় বন্ধু হতে চায় আমার তরফ থেকে বন্ধুত্তের হাত বাড়িয়ে দিলাম আশা করছি তোমরাও দিবে।
কথাটা বলে সবার দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ কেউ হয়তো অবাক হলো৷ মাত্র কয়েকজন বাদে সকলের সাথেই বন্ধুত্ত হয়ে গেলো৷ নতুন বন্ধুত্ত হলো তাই ক্লাস শেষে সবাইকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আমার তরফ থেকে পার্টি দিলাম৷ খেয়াল করে দেখেছিলাম সাদিয়া আমাদের থেকে দূরের টেবিলে বসে আছে৷ তবে সেদিকে না তাকিয়ে আমি ওদের সাথে হেসে খেলে বেশ মজাই করছি৷
বেশ ভালোই লাগলো নতুন বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে কি এতোদিন সাদিয়া'কে নিয়ে পড়ে ছিলাম৷ আজকে আপু গিয়েছিলো না ভার্সিটিতে।
- কিরে তুই নাকি ভার্সিটিতে গিয়ে মেয়েদেরকে পার্টি দিয়েছিস ব্যাপার কি৷ ( আপু)
- তুই জানলি কিভাবে
- সাদিয়া মেসেজ করেছে
- কই দেখি
হাতে নিয়ে দেখি তাতে লেখা
- তোর ভাইকে দেখে রাখতে পারিস না মেয়েদের কে পার্টি দিয়ে তাদের সাথে মজা করছে৷
- হা হা হা তুই কি এখনও সাদিয়ার সাথে কথা বলিস৷
- তা না হঠাৎ করেই আজকে এই মেসেজটা দিলো আমি রিপ্লে দেয়নি৷ তা কথাটা কি সত্যি৷
- হ্যা আজকে কিছু নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচয় হয়েছি তাই তাদের কে পার্টি দিয়েছি।
- সাবধান কিন্তু
- তুই চিন্তা করিস না ( বলেই রুমে চলে আসলাম)
বুঝলাম না সাদিয়া হঠাৎ করে আপুকে ওই মেসেজটা দিলো কেনো৷ আর আমি মেয়েদের সাথে মজা করলেই কি ওর তো স্বামী আছে ধুর ওকে নিয়ে বেশি ভেবে লাভ নেই৷
ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম৷
চলবে...

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad