Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা পার্টঃ৩


আজকে বেশ সকালেই ঘুমটা ভেঙে যায়৷ তাড়াতাড়ি করে বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম৷ ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে দেখি মা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে৷
- বলছি আজকে তো সূর্য উঠার আগে তুই নিজেই উঠে পড়লি বেপারটা কি ( মা)
- বা রে দেড়িতে উঠলে দোষ আজকে তাড়াতাড়ি উঠেছি বলে তাও দোষ৷
- দোষ না আজকে যে সকাল সকাল করে উঠলি তার কারণ টা কি।
- কোনো কারণ নেই আজকে পহেলা বৈশাখ তাই তাড়াতাড়ি উঠেছি ঘুরতে যেতে হবে না৷
- ওহ্ তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে তোর আপু প্রায় তৈরি হয়ে গেছে৷
- হুমম
তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিজের রুমে এসে রেডি হতে থাকলাম৷
- কিরে সিয়াম তোর হলো (আপু)
- হয়েছে আর ২ মিনিট,,,
- তাড়াতাড়ি আয়
রেডি হয়ে নিচে নেমে দেখি আপু দাড়িয়ে আছে৷
- তোর থেকে না একটা মেয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হতে পারে জানিস৷
- হু নতুন বছরের প্রথম দিনটা অন্তত অপমান দিয়ে শুরু করিস না আর৷
- তোর আবার মান সম্মান আছে নাকি যে অপমানের চিন্তা করছিস৷
- হয়েছে থাক একটু দেড়িই তো হয়েছে চল।
- হুম চলেন৷
আমি আর আপু দুজনে রিক্সায় বসে আছি রিক্সা তার আপন মনে চলছে৷ একটা প্রশ্ন জাগছে সাদিয়া যাবে বলে তাহলে কোথায় সে আপু আবার আমাকে ঢপ মারলো নাতো৷ নাকি মেলায় গিয়ে একসাথে মিলিত হবো বুঝতে পারছি না৷
- মামা বামে জানতো ( আপু)
- বামে মানে বামে যাবো কেনো আমাদের তো সোজা যেতে হবে৷
- চুপ বেশি কথা বলবি না চুপচাপ বসে থাকবি৷
- কারণটা তো বলবি নাকি ( অবাক হয়ে)
কোনো উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে আছে বুঝতে পারছি না কোথায় যাচ্ছি৷ দূরে লক্ষ্য করে দেখলাম কোনো মেয়ে দাড়িয়ে আছে আচ্ছা সাদিয়া আপু নয়তো মেয়েটা।
- মামা এইখানেই দাড়ান ( আপু)
রিক্সা থেকে নেমে সাদিয়া আপুর সামনে দাড়াতেই আমি অবাক হয়ে গেছি৷ নীল শাড়ী পড়েছে হাতে নীল কালারের চুরি সেই সাথে কপালে একটা নীল কালার টিপ৷ উফ মনে হচ্ছে যেনো কোনো নীল পরী আমার সামনে দাড়িয়ে আছে৷
- কিরে হা করে আছিস কেনো ( আপু গায়ে ধাক্কা দিয়ে)
- এ্যা ক কই কিছু না ( খেয়াল করে দেখলাম রিক্সা নেই)
মনে হয় আপু ভাড়া চুকিয়ে দিয়েছে বলে চলে গেছে অথচ আমি ঠিকও পেলাম না৷ হঠাৎ মনে হলো সাদিয়া আপু তো সাদা শাড়ী কিনেছিলো তাহলে নীল শাড়ী কেনো৷
- আচ্ছা সাদিয়া আপু একটা প্রশ্ন করি (আমি)
- কি..?
- বলছিলাম তুমি তো সাদা শাড়ী কিনে ছিলে তাহলে নীল শাড়ী পড়লে যে।
- কেনো খারাপ লাগছে নাকি..?
- না না অনেক সুন্দর লাগছে যেনো কোনো নীল পরী দাড়িয়ে আছে আমার সামনে ( বলেই আলতো করে জিহ্বায় কাপড় দিলাম কি বলতে কি বলে ফেলেছি৷)
খেয়াল করে দেখলাম সাদিয়া আপু মনে হয় কিছুটা লজ্জা পেলো৷ তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বললো৷
- পাম দিচ্ছিস
- বা রে যা সত্যি তাই বললাম কিন্তু বললে না সাদা শাড়ীটা কি হয়েছে পহেলা বৈশাখে তো সবাই সাদা শাড়ীই পড়ে তাই না৷
- আর বলিস না সেদিন শাড়ীটা এনে ঘরেই রেখে দিয়েছিলাম আজকে সকালে পড়তে গিয়ে দেখি শাড়ীর এক জায়গায় ছেঁড়া।
- ওহ্ সেদিন না দেখে নিলে
- হুমম ওতো দেখা যায় নাকি৷
- আচ্ছা তোরা কি যাবি না মেলায় যখন ভিড় হয়ে যাবে তখন গিয়ে ঠেলাঠেলি করবি ( আপু)
ধুর শালার আপুকে নিয়ে আর পারা যায় না সবসময় কাবাব মে হাড্ডি হোকার নিকাল তা হে।
- আর সিয়াম সাদিয়া তোর বড় সুতরাং কিছুটা সাবধানে কথা বলবি বুঝলি।
আমি আর কিছু বললাম না। আশে পাশে তাকিয়ে কোনো সিএনজি পেলাম না যাও বা আছে সব ভর্তি তাই তিনজনে মিলে গল্প করতে করতে হাটছি৷
মেলার কাছে আসতেই যেনো চোখ ছানা বড় হয়ে গেলো। মানুষের ভিড়ে মৌ মৌ করতেছে৷ মনে হচ্ছে যেনো সারা বাংলাদেশের মানুষ জড় হয়েছে৷
- সব তোর দোষ ( আপু আমাকে বললো)
- হ্যা আমার দোষ তোকে রিক্সাটা কে ছাড়তে বলেছিলো হ্যা৷
- দেখ আমার দোষ দিবি না যদি আর একটু তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে যেতি তাহলে আরও তাড়াতাড়ি আসতে পারতাম।
- এই রিয়া ঝগড়া বাদ দে দেখ কিভাবে যাও যায় সেটা ভাব ( সাদিয়া আপু)
অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর দেখলাম পাশ দিয়ে একটা ফাকা জায়গায় সেখান দিয়ে ঢুকে পড়লাম মেলার ভিতরে। আপু আর সাদিয়া আপু কেনা কাটা করছে আমিও ঘুরে ঘুরে দেখছি সাদিয়া আপুকে কি কিনে দেওয়া যায়। প্রথমে ভাবছিলাম চুরি দিবো কিন্তু না সেটা তো আর সব সময় পড়বে না তাই আর কিনি নাই৷ কয়েকটা দোকান ঘুরার পরে একটা আংটি চোখে পড়লো৷ চিকন তবে মাঝ খানে পাথর বসানো দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে তাই আর দেড়ি না করে কিনে নিলাম।
- কিরে সিয়াম আমাকে কিছু কিনে দিবি না ( রিয়া আপু)
- কি নিবি দেখ
- তোর যা পছন্দ হয় নে আমি বিল দিবো আমার পছন্দ তো সব বস্তা পচা৷
- থাক আর বলা লাগবে না ১০০০ টাকা দে।
- কেনো
- বা রে তুই না বললি আমাকে কিনে নিতে তো দে আমি পছন্দ করে কিনবো৷
কি আর করার দিলাম বের করে৷ সাদিয়া আপুর দিকে তাকিয়ে দেখলাম মিটমিট করে হাসছে। মেলায় অনেক ঘুরাঘুরি করলাম দুপুরে তিনজন মিলে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়েছি৷ বিকালে বাসার দিকে রওনা দিলাম৷ সাদিয়া আপুকে এখনও আংটি টা দেইনি তাকে বাসায় পৌছে দেওয়ার সময় দিবো ঠিক করেছি৷
সাদিয়া আপুর বাড়ির রাস্তায় আসতেই
- তোরা চলে যা আমি এখান থেকে চলে যাবো৷
- ঠিক আছে ( আপু)
- সাদিয়া আপু এক মিনিট
- কি..?
- এইটা তোমার জন্য
- মানে কি কি আছে এতে
- বৈশাখের উপহার বাড়িতে গিয়ে দেখো কি আছে।
দিয়েই চলে আসলাম।
- কি দিলিরে তুই ওকে ( আপু)
- সেটা তোর না জানলেও চলবে৷
- কেনো কি দিলি আমাকে বলবি না৷
- না বলবো না তাছাড়া তোকেও তো দিছি তুই কিনে নেসনি৷
আপু আর কিছু বললো না৷ দুজনে মিলে বাসায় চলে আসলাম৷
পরেরদিন সকালে...
রেডি হয়ে ভার্সিটিতে যাচ্ছি আমি৷ আজকে আপু যাবে না ওর নাকি শরীর খারাপ লাগছে৷ আচ্ছা সাদিয়া আপু আসবে তো আর যদি আসে তাহলে কি আংটি টা পড়ে আসবে।
গেট দিয়ে ঢুকে দেখলাম দূরে সাদিয়া আপু দাড়িয়ে আছে হয়তো আপুর অপেক্ষা করছে৷
- ওই ছেলে শোন ( পিছন থেকে কেউ যেনো ডাক দিলো)
পিছনে ঘুরে দেখলাম ৪র্থ বর্ষের সাগর ভাই দাড়িয়ে৷ তার সাথে তেমন কোনো পরিচয় নেই তবে আশিক বলেছিলো সে নাকি কিছুটা বখাটে টাইপের৷ তবে তাকে আমি তেমন বখাটে গিড়ি করতে দেখিনি৷
- আমাকে বলছেন ( আমি)
- হ্যা এই দিকে আয়।
কাছে এগিয়ে গেলাম৷
- সাদিয়া তোর কি হয়৷
- কেনো
- যেটা প্রশ্ন করেছি সেটার উত্তর দে৷
আমি ঝামেলা করতে চায় না তাই বললাম
-আমার আপুর বান্ধবী হয় সে জন্য আমি তাকে আপু বলে ডাকি৷
- বেশ শোন এইটা নিয়ে সাদিয়াকে দিবি ( আমার দিকে একটা কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে)
- যদি না দেই
- ওদেরকে দেখছিস মেরে না এখানেই পুতে রাখবে যেটা করতে বলেছি কর ( ঝাড়ি দিয়ে)
আমি আর কিছু না বলে কাগজটা নিয়ে সাদিয়া আপুর কাছে গেলাম৷ হাতের দিকে খেয়াল করে দেখলাম আমার দেয়া আংটিটা সে পড়ে এসেছে।
- কিরে তোর আপু কোথায়।
- আপুর শরীর খারাপ করছে তাই আসেনি৷
- ওহ্ দেখতো কেমন লাগছে ( হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে আংটি টা দেখিয়ে)
- বেশ মানিয়েছে তোমার হাতে৷
- হুম তোর হাতে ওটা কিসের কাগজ দেখি (বলেই কেড়ে নিলো)
দেখলাম পড়ে চোখ দুইটা বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে কাগজটা ফেলে দিলো৷
- ছি সিয়াম তুই এমনটা বলতে পারলি ( বলেই দৌড়ে চলে গেলো)
আমি তো অবাক হয়ে গেলাম৷
- আ আম আমি কি করছি আর দৌড়াচ্ছো কেনো ( কথার কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেলো)
কাগজে কি লেখা আছে যে সাদিয়া আপু পড়েই দৌড়ে চলে গেলো৷ কাগজটা হাতে নিয়ে আমি রিতিমতো অবাক হয়ে গেলাম৷
চলবে....

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad