S A Shahinul Akash
গল্পের শুরুতেই পরিচয় পর্বটা শেরে নেওয়া যাক। আমি আকাশ,,,পরিবারের দুইমাত্র সন্তান। মানে আমার বড় আপু,,তার পরে আমি।
এমনিতে আমি অনেক ভালো ছেলে শুধু একটু বেশি ভদ্র। সবার পেছনে লাগতে ভালো লাগে।। সকালে ঘুমিয়ে আছি কিন্তু শান্তি তে একটু ঘুমানোরও উপায় নেই,,কে যেনো চেচামেচি করছে।
আমিঃ আম্মু এই বেসুরো গান বন্ধ করো। আর একটু ঘুমাতে দাও প্লিজ
আম্মুঃ কি বললি? দাড়া আসছি আমি।
আমার রুমে এসেই কান ধরে টেনে তুললো,,,
আম্মুঃ কি বললি তুই আবার বল
আমিঃ আরে আরে কি করছো আম্মু,,এই ছোট ছেলেকে এইভাবে মারছো কেনো?,😢
আম্মুঃ কয়টা বাজে,,স্কুলে যাওয়ার সময় হয় নাই?
আমিঃ ওহ শিট,,আরে ছাড়ো আমাকে,,আমার স্কুল আছে। নাকি আমাকে স্কুলে যেতে দিবে না।
আম্মুঃ সয়তান ছেলে,,যা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে স্কুলের দিকে যাচ্ছিলাম,, তখন একদল মেয়ে দেখলাম। স্কুল ড্রেস পরা,,,কিন্তু দেখেতো মনে হচ্ছে আমাদের স্কুলের না। আর হলেতো আমি চিনতাম। দেখতে হবেতো,,
সামনে গিয়ে দাড়ালাম।
আমিঃ এইজে আপুমনিরা তোমরা কোন স্কুলের? আর এই দিকে কোথায় যাচ্ছো?
একটা মেয়ে বলে উঠলো।
ঃঃ এই তোমার নাম আকাশ তাইনা??
আমিঃ বাহ তোমরা আমাকে চিনো তাহলে? মানে আমাকে ফলো করো? খুব ভালো কথা,,আসলে আমি একটু এমনি সব মেয়েদের ক্রাশ।
মেয়েটি আবার বলে উঠলো,,
ঃঃ ওহ তাই নাকি? তা আমাকে তোমার কেমন লাগে?
আমিঃ (একটু উপর থেকে নিচে দেখে নিলাম,,বাহ সেইরকম সুন্দরী) হ্যা দেখতেতো ভালোই,,তবে ততোটাও সুন্দরী না। আর শুনো আমাকে আর ফলো করো না,,আমার গার্লফ্রেন্ড আছে
মেয়েটাঃ তাই?? এই কথা সুমাইয়া জানে??
আমিঃ সু,সু,সু,,,,
মেয়েটাঃ কি বাবু সুসু পেয়েছে।
আমিঃ আপনি আপুকে কিভাবে চিনেন?
মেয়েটাঃ ওমা চিনবো না,,একি সাথে পড়ি৷ তা তোমার আপু যানেন?
আমিঃ আপু ভুল হয়ে গেছে,,আমি জানতাম না আপনারা আপুর ফ্রেন্ড।
মেয়েটাঃ ওহ আচ্ছা,,,আর জানলে কি হতো
আমিঃ আপু ভুল হয়ে গেছে,,আর এমন হবে না
মেয়েটাঃ তুই নাকি খুব বদমাশ ছেলে।
আমিঃ ছি ছি, কি বলেন আপু। কে বলেছে এইসব মিথ্যে কথা? আমি অনেক ভালো ছেলে।
মেয়েটাঃ কে আর বলবে তোর আপু নিজেই বলেছে।
আমিঃ ((ইসস মান ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেলো,,,কেন যে এদের সামনে আসতে গেলাম)) না মানে,, আপু আসলে হয়তো ভুলে বলে ফেলছে।। আমি এখন যাই আপু, ক্লাস আছে। ভালো থাকবেন
মেয়েটাঃ না না চান্দু এতো সহজে যেতে দিচ্ছি না। আগে বল তুই আমাদের লাইন মারতে এসেছিলি তাইনা?
আমিঃ ছি ছি আপু কি বলছেন এইসব,,আমিতো আপনাদের জিজ্ঞেস করতে আসলাম এইদিকে কোথায় যাচ্ছেন,,নাকি রাস্তা ভুল করছেন তাই যান্তে আসলাম।
মেয়েটাঃ হ জানি জানি,,আচ্ছা তোর না ক্লাস আছে? যা এখন
কিছুদূর যাওয়ার পরে আবার আসলাম তাদের সামনে,,
মেয়েটাঃ কিরে আবার কি হলো
আমিঃ না মানে আপু আপনার নাম জানতে পারি। মানে পরেরবার দেখা হলে সামাল দেওয়ার জন্য।
মেয়েটাঃ সোনিয়া
আমিঃ বাহ খুব সুন্দর নাম। তা কোথায় যাচ্ছেন
সোনিয়াঃ তোদের বাসায় যাচ্ছি সুমাইয়ার সাথে দেখা করতে। তুই যা
আমিঃ আচ্ছা আপু,,আর একটা কথা বলবো??
সোনিয়াঃ হুম বল,
আমিঃ আপনি কিন্তু সত্যি অনেক সুন্দরী।। এক পলকেই মন কেড়ে নিতে পারেন।
সোনিয়াঃ পটানো হচ্ছে তাইনা? এখনি তোর আপুকে বলে দিবো,,
আমিঃ সরি আপু আমি গেলাম,,আপনি অনেক কালো,,দেখতে অনেক খারাপ। এইবার আমি গেলাম।
বলেই দিলাম দৌড়। এক দৌড়ে স্কুলে চলে গেলাম,,কয়েকটা ক্লাস করে আর ভালো লাগছিলো না,,তাই ভাবলাম বাসায় চলে যাই। যেই ভাবা সেই কাজ। পলায়ন করলাম স্কুল থেকে।
বাসায় গিয়ে দেখি আপুর রুমে ওই বজ্জাত মেয়ে গুলো, যে আমাকে রাস্তায় একা পেয়ে ডিস্ট্রাব করছে। তাই আমিও একটু জালানোর জন্য রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম আর গান গাচ্ছিলাম,,
আমিঃ ও সোনিয়া হো,,ও মাহিয়া হো,,লা লা লা লা লা,,,,,,
মনে হলো ওই রুম থেকে কিছু একটা ফোটার শব্দ। বোমা
রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম,,আর আপু রুমে ঢুকবো,,এমন ভাবে যাবো যেনো আমি কিছু জানি না।
আমিঃ আপু,,আপু,,কি করছো,,
বলতে বলতে ঢুকে গেলাম তাদের সবার মাঝে,,আমি কাউকে চিনি না এমন একটা ভাব নিলাম,,
আমিঃ ওহ আপু তুমি বাস্ত? আচ্ছা থাকো
আপুঃ কি বলবি বল,,
আমিঃ না এমনি আসলাম
আপুঃ ওহ ভালো,,আয় পরিচয় করিয়ে দেই,, এইরা আমার কলেজ ফ্রেন্ড।
আমিঃ হাই আপুরা। কেমন আছেন?
সোনিয়াঃ হুম খুবি ভালো,,তুমি কেমন আছো,,
আমিঃ জী আপু আমিও ভালো আছি,,,আচ্ছা আপু আপনার নাম জানতে পারি?
সোনিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,,আর বললো
সোনিয়াঃ এই আমার নাম জানো না?
আমিঃ আপু আমি কিভাবে জানবো,,আমিতো এই প্রথম আপনাদের সাথে কথা বলছি তাইনা,,
সোনিয়াঃ ওহ তাইতো,,আচ্ছা আমি সোনিয়া।
আমিঃ জী আপু ভালো থাকবেন।
বলেই চলে গেলাম আম্মুর কাছে,,খাওয়ার জন্য।। খেয়ে বেরিয়ে গেলাম আড্ডা দিতে। আজকে এক হারামিও স্কুলে যায় নাই,,একা একা আমারো ভালো লাগে নাই। তাই আমিও চলে আসলাম। যাইহোক আড্ডাখানায় গিয়ে দেখি সবাই আছে। আসলে এইখানে একটা মামার দোকান আছে,,ওইখানেই আড্ডা দেই কেরামবোর্ড খেলি আর আড্ডা দেই। যাইহোক আড্ডা দিয়ে সন্ধায় বাসায় গেলাম।
রাতে খাওয়ার টেবিলে বসে আছি,,তখন আপু বলে উঠলো,,
আপুঃ আম্মু একটা কথা ছিলো,,আগে বলো বিচার কি তুমি করবে নাকি আমি নিজেই করবো।
এই সেরেছেরে,,,ধরা খেয়ে গেছি। যে করেই হোক এইখান থেকে বাচা দরকার। বুদ্ধি বুদ্ধি,,,,
আমিঃ আম্মু আজকে যানো কি হয়েছে,,
আম্মুঃ কি হয়েছে বল,,
আমিঃ আমি স্কুলে যাওয়ার সময়তো তুমি ছিলেনা,,তখন তাড়াতাড়ির সময় তোমাকেও খুজে পাচ্ছিলাম না। তোমাকে কয়েকদিন আগেই বলে রাখলাম আমাত কিছু টাকা দরকার,,তুমি বললে দিবে,,
আম্মুঃ আমি আবার কবে তোকে টাকা দিতে চাইলাম।
আমিঃ আরে ওইযে মনে নেই,,কয়েকদিন আগেইতো বললাম,,
আম্মুঃ হ্যা তো কি হইছে,,
আমিঃ আসলে আজকে তোমাকে খুজে না পেয়ে আপুর ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে গেছিলাম।। তুমি ওই টাকা আপুকে দিয়ে দিও
আপুঃ চোরেরতো দারুন বুদ্ধি দেখছি,,যেই দেখছিস ধরা খেয়ে যাবি ওমনি একটা গল্প বানাই ফেললি?
আমিঃ ((আস্তে আস্তে বললাম)) হুম বুঝতে,,,এমনি এমনিতো আর রাইটার হই নাই আজ এই গল্পের জন্যেই বেচে গেলাম।
আপুঃ কি বলছিস জোরে বল।
আমিঃ না মানে আপু সত্যি বললামতো আমি।
আপুঃ হইছে থাক আর মিথ্যা সাজানো লাগবে না। আম্মু শোনো তোমার ছেলেকে আমি আর সজ্য করতে পারছি না,,আমার হাতে পড়লে আমি ওর খুন করে ফেলবো।
আমিঃ দেখছো আম্মু তোমার সামনে তোমার অতি আদরের ভদ্র নম্র ছেলেকে খুনের হুমকি দিচ্ছে,,,চলো আম্মু আমরা থানায় যাই।
আপুঃ একদম ড্রামা করবি না,,,আম্মু তুমি কিছু করবে নাকি আমি,,
আম্মুঃ থাক তোর আর কিছু করতে হবে না,,,পরিক্ষাটা দেক,,তার পরে সোজা করার বেবস্থা করছি,
আমিঃ মানে? কি বলছো আম্মু,,এই মেয়ের কথায় তুমি তোমার আদরের ছেলেকে বিচার করবে?
আম্মুঃ পরিক্ষার পরে তুমি তোমার মামার বাসায় যাবে,,ওইখানেই কলেজে ভর্তি হবে। তোমার মামার সাথে সব কথা বলে রাখছি
আমিঃ কিহ আম্মু তুমি আমাকে এতো বড় শাস্তি দিতে পারো না,,,আমি আপুর টাকা দিয়ে দিবো। দরকার হলে মাটি কেটে টাকা কামাই করে দিতে দিবো তবুও ওই বাসায় আমাকে দিও না।
আম্মুঃ কেনো? সমস্যা কি
আমিঃ আম্মু তোমার ভাই এমনিতেই গোমড়ামুখো,,,মনে হয় সব সময় রেগেই থাকে। আর পরেরজন দজ্জাল মেয়ে তোমার বাইজি,,,ও আমাকে ছোত থেকে জালাচ্ছে,,শুধু মারে। কিছু বলার আগেই গাল গরম হয়ে যায়,আম্মু আমি যাবো না।
আম্মুঃ সেটা পরে দেখা যাবে,,তুমি এখন খাওয়া শেষ করো,
কি আর করার খাওয়া শেষ করে রুমে গেলাম কিভাবে এর হাত থেকে বাচা যায়,,,কিন্তু ভেবে আর কিছুই পাচ্ছি না
(চলবে...........)



No comments:
Post a Comment