Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র মামাতো বোন

সিনিয়র মামাতো বোন পর্ব ০২



S A Shahinul Akash

গত পর্বের পর থেকে।

রুমে গিয়ে ভাবছি কি করা যায়। ধুর যা হওয়ার হবে আমার কি পরেরদিন স্কুলে গেলাম,,এইভাবেই দিন পার হচ্ছে আর পরিক্ষা আমার অতি নিকটে চলে আসছে। পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম। পরিক্ষা শুরু হলো,,একে একে সব পরিক্ষা শেষ করলাম। খুব ভালো পরিক্ষা দিলাম।

পরিক্ষা শেষ তাই ভাবলাম বন্ধুরা মিলে একটা টুর দিবো। যেই ভাবা সেই কাজ। সবাইকে রাজি করালাম কিন্তু আমার গুনোধর হিটলার বাবা রাজি হচ্ছে না,,,গিয়ে ধরলাম আম্মুকে। আম্মুকে পটিয়ে আব্বুকে রাজি করালাম।

যাইহোক অবশেষে বন্ধুরা মিলে বেরিয়ে পড়লাম। কক্সবাজার। তিন দিনের ছফর শেষে বাড়ি ফিরলাম।

দেখতে দেখতে রেজাল্ট দিয়ে দিলো। আর অনেক ভালো রেজাল্ট করলাম। বাসার সবাই খুশি,,,

আমিঃ আম্মু একটা কথা বলবো,,

আম্মুঃ হুম বলো

আমিঃ আম্মু এখনতো আমি কলেজে পড়ি,,আমাকে একটা ভালো মোবাইল কিনে দাও আব্বুকে বলে।

আম্মুঃ কেনো তোমার ফোন নেই?

আমিঃ আম্মু বুঝতেছো না কেনো? এই দেখো এইটা ফোন? পেছনে ভেংগে ব্যাটারি বের হয়ে আছে,,সাইডে ভাংগা,,আর কতোকাল এই ফোন চালাবো। আব্বু বলেছিলো ভালো রেজাল্ট করলে ফোন দিবে,,এখন তুমি একটু বুঝাওনা,

আম্মুঃ ঠিক আছে দিবো,,

আমিঃ সত্যি??  লাপ ইউ আম্মু।

আম্মুঃ হুম হইছে,,তবে একটা শর্তে

আমিঃ হুম বলো তুমি যা বলবে তাতেই রাজি শুধু ফোন কিনে দাও

আম্মুঃ সত্যিতো?

আমিঃ ৩ সত্যি

আম্মুঃ যাও তাহলে রেডি হয়ে নাও।

আমিঃ কেনো? কোথায় যাবো

আম্মুঃ তোমার মামার বাসায়,,

আমিঃ কেনো?

আম্মুঃ এখন থেকে ওখানেই থাকবে। তোমার মামার সাথে সব বলা আছে,,আর সে কলেজের প্রিন্সিপাল এর সাথেও কথা বলে রাখছে,,

আমিঃ আম্মু এমনটা কথা ছিলো না। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।।

আম্মুঃ তোমাকেতো যেতে হবেই। নয়তো তোমার আব্বু তোমাকে রাজি করাবে।

আমিঃ হ আমাকে মেরে ফেলো, ঠিক আছে আমি আর আসবো না।

আম্মুঃ আচ্ছা। তাহলে তুমি রেডি হয়ে নাও,,

আমিঃ এখনি?

আম্মুঃ সব গুছিয়ে নাও,,সকালেই যাবে

আমিঃ মানে কি,,সব কি আগে থেকেই রেডি নাকি?

আম্মুঃ হুম

কি আর বলবো,,যেখানে বাঘের ভয়,, সেখানেই সন্ধে হয়। এই মামা অনেক রাগি আর আমি তাকে আব্বুর মতোই ভয় পাই। আর দ্বিতীয় আছেন তার একমাত্র কন্যা,,#কারিমা,,,, তিনি আরো বদরাগী। ছোট বেলায় একদিন ক্রিকেট খেলার সময় তাকে নেই নাই বলে স্টাম্প দিয়ে বাড়ি মেরে কপাল ফাটিয়ে দিছিলো। তারপর থেকে ওর সাথে বেশি কথা বলি না।

যাইহোক কোনো উপায় না দেখে সব মেনেই নিলাম।। পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার টেবিলে একটা প্যাকেট। ভিতরে দেখি i-phone বক্স। খুশিতে প্রায় পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। তাড়াতাড়ি বের করে দেখি সত্যি সত্যি নিউ ফোন। তাও আবার Apple এর।

সবার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য মামার বাড়ি। আব্বু আগেই বাসের টিকিট কেটে দিয়েছিলো। উঠে পড়লাম বাসে,,সময় মতো পৌছে গেলাম গন্তব্যে।। বাস স্টেশন থেকে মামার বাসা বেশি দূরে না,,বাস থেকে নামতেই এক সুন্দরী রমনীর দেখা মিললো,,,এক পলকেই মনের মধ্যে ঘন্টা বেজে উঠলো কোনো কথা না বলে হা করে তাকিয়ে আছি। কিছু বলতেও পারছি না,,তখন একটা থাপ্পড় এর শব্দে হুস ফিরলো,,তাকিয়ে দেখি আমার গালেই পড়ছে।

আমিঃ আরে আপনি মারছেন কেনো?

মেয়েটাঃ এই বেয়াদব তুই ভালো হলি না তাইনা?

আমিঃ আরে আজব আপনি আমাকে মারছেন আবার বলছেন আমি বেয়াদব। আরে কে আপনি বলবেনতো।

মেয়েটাঃ আমি তোর জম। আজকে বাসায় চল তার পরে দেখ তোর কি হাল করি আমি।

আমিঃ মানে

মেয়েটাঃ ফুফুকে বল তুই চলে আসছিস।

আমিঃ হুম

আসলে এই সুন্দরী রমনী আর কেউ নয়,,সেই ডাকাত মেয়েটা। প্রথমে দেখে আমি চিন্তেই পারি নাই। সেই মেয়েটা আর এখনের এই পরীর মধ্যে অনেক ব্যাবধান।
তখন যেমন ছিলো এখন মনে হচ্ছে তার থেকেও বেশি রাগি,,তখনের থেকে এখন আরো সুন্দরী হয়েছে। দেখতে মাসাল্লাহ,,প্রথম দেখাতেই ঘন্টা বেজে উঠলো একটু পরে আমার গালটা বেজে উঠলো। মনে হচ্ছে জীবনে আরো অনেক বিপদ আছে,,সবেতো শুরু ।

আমিঃ হ্যা বলে দিয়েছি,,

কারিমাঃ ভালো করেছিস,,এখন চল

আমিঃ হুম,,আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

কারিমাঃ হুম কর।

আমিঃ কেমন আছিস?

কারিমাঃ থাপ্পড়কি আরো লাগবে?

আমিঃ কেনো?

কারিমাঃ আমি তোর বড়,,,তাই আপনি করে বলবি। আর আপু বলবি,,নয়তো থাপ্পড় সব তোর গালে পড়বে,,একটাও মাটিতে পড়বে না। আর নিচে পড়লেই ওইটা তুলে আবার মারবো।

আমিঃ জী আপু।

কারিমাঃ হুম,,এখন চল বাসায়

একটা রিকশা নিয়ে বাসায় চলে গেলাম।। মামি আমাকে দেখে সে কি খুশি জড়িয়ে ধরে প্রায় কেদেই দিলো,,আসলে তার ছেলে নেই,,আর আমার মামা আর আম্মু দুই ভাই বোন,,তাদের মধ্যে আমি একাই বংশের প্রদীপ  । তাই মামি আমাকে তার ছেলেই মনে করেন,,আর অনেক ভালোবাসে। অনেকদিন হলো মামি আমাকে দেখে না,,,তাই একটু বেসি এক্সাইটেড।

মামিঃ কেমন আছিস বাবা? এই মা এর কথা ভুলে গেছিস তাইনা?

আমিঃ নাতো আম্মু,,তোমাকে কি ভুলতে পারি।। এই দেখো তোমার কথা মনে পড়তেই চলে আসলাম।

মামিঃ মারবো এক চড়। তোকে আমি কতো ফোন দিছি কতবার আসতে বলছি,,,

আমিঃ হুম সব জানি,,আসলে লেখাপড়া নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম তাই। আচ্ছা বাদ দাও,,এই দেখো এখন থেকে আর তোমাকে ফোনে আসতে বলতে হবে না,,আমি একেবারের জন্য চলে আসলাম।

মামিঃ হুম,,খুব ভালো হয়েছে। তুই উপরে তোর রুমে যা,,গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নে। আমি চা নিয়ে আসছি

আমিঃ আচ্ছা,,

মামিঃ কারিমা যাতো আকাশ কে রুমে নিয়ে যা

কারিমাঃ এই চল।

আমিঃ আরে আমি কি গরু নাকি যে এমন করে বলছিস  সরি,,বলছেন

কারিমাঃ  বেশি কথা না বলে চল

অতপর আমাকে আমার রুম দেখিয়ে দেওয়া হলো। আমি আসবো বলে রুম একদম ঠিকঠাক করে রাখা হইছে।

আমিঃ এখন আপনি যেতে পারেন।।

কারিমাঃ কেনো আমি কেনো যাবো। এইটা আমার বাড়ি,,আমার মনে চাইলে আমি থাকবো মনে চাইলে আমি যাবো। তুই বলার কে।

আমিঃ হা হা হা,,,একটু আগে শুনলেন না আপনার আম্মু কি বললো? আমি তার ছেলে,,সো সেই মতাবেক এই বাড়ির অর্ধেক মালিকানা আমার

কারিমাঃ 😡😡

রাগ দেখিয়ে চলে গেলো,,বাহ রাগাতেতো দারুন লাগে।এইটাই করতে হবে এখন থেকে।

যাইহোক ফ্রেশ হয়ে শুয়ে আছি আর নতুন ফোন একটু ঘেটে দেখছি। একটু পরে মামি চা নিয়ে আসলেন। আর আমার পাশে বসলেন,

মামিঃ আকাশ বাসার সবাই কেমন আছে

আমিঃ হ্যা মামি সবাই অনেক ভালো আছে,,,আর আমি একটু বেশি ভালো।

মামিঃ তাই নাকি,,তা এতো ভালোর কারন কি?

আমিঃ আরে পুরাতন মা কে রেখে নতুন মা এর কাছে আসলাম ভালোতো থাকবই,,তাইনা?

মামিঃ ফাজিল,,,আচ্ছা তুই তাহলে রেস্ট নে। আমি দেখি কি রান্না করা যায়।

আমিঃ মামি মামা কখন আসবে?

মামিঃ সন্ধার মধ্যেই চলে আসবে

আমিঃ ওহ আচ্ছা

আবার আমি মনের আনন্দে ফোন নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম।। অনেকদিন হলো গল্প লিখা হচ্ছে না,, তাই গল্প লিখা শুরু করলাম।। গল্প লিখছি এমন সময় ওই ডাইনিটার আগমন

আমিঃ কি আমাকে ছাড়া ভালো লাগছিলো না তাইনা? তাইতো চলে আসলে।

কারিমাঃ মার খাবি এখন নাকি ভাত খাবি?

আমিঃ ভাত খাবো

কারিমাঃ তাহলে নিচে আয় আম্মু ডাকছে।,

নিচে নামতেই দেখি মামা চলে আসছে,,আমাকে দেখেই মামা জড়িয়ে ধরলো,,বুঝতে পারলাম না কিছু,,এক করুন চাহনিতে জিজ্ঞেস করলেন মামা

মামাঃ কেমন আছিস বাবা?

আমিঃ ভালো মামা,,আপনি কেমিন আছেন?

মামাঃ অনেক ভালো। তোর মা কেমন আছে?

আমিঃ ভালো মামা

মামাঃ খেয়েছিস কিছু?

মামিঃ না,,এইতো দিচ্ছি তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো,,একসাথেই খাবে।

মামাঃ হ্যা আসছি আমি।

বলেই মামা তার রুমে চলে গেলেন,,আর আমি ভাবছি কি হলো এতখন,,,মামা আজ এমন আচরন করছেন। মামার সাথে দেখা বা কথা হয়না অনেক বছর,,মানুষ সময়ের সাথে সাথে কতটা পরিবর্তনশীল তা মামা না দেখলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না। খুব ভয় পেতাম মামাকে দেখে,,আসলে পরিবারের একমাত্র ছেলে আমি সবাই অনেক ভালোবাসতো আর একটু বেশি শ্বাসনে রাখতো,,তবে মামা একটু বেশি। আজ বুঝতে পারলাম সেই দিনের সেই শ্বাসন আর বকার পেছনে অনেকটা ভালোবাসা লুকিয়ে ছিলো। একটু পরেই মামা আসলেন খাবার টেবিলে খাচ্ছি সবাই

মামাঃ আরে ছেলেটাকে ঠিক মতো বেড়ে ছিচ্ছোনা কেনো,,সেই কখন খেয়েছে কে জানে।

আমিঃ আরে না না,,আমি থাক

মামাঃ সব খেয়ে উঠবি

ঠিক এমন ধমক আর শ্বাসন তখন ছিলো এক ভয়ের কারন। ভাবছি কি বোকা ছিলাম আমি।

কারিমাঃ হ্যা হ্যা সব এই রাক্ষসটাকে খাওয়াও,,আমি খাবো না

মামাঃ আরে তুই এমন করছিস কেনো,,,তোকে কে মানা করছে খেতে। তুই নিয়ে খেতে পারছিস না?

কারিমা আমার দিকে এক আগুন ভরা চোখে তাকালো।

খাওয়া দাওয়া শেরে রুমে গেলাম,, একটু পরে মামা আসলেন,,

মামাঃ আকাশ কালকে তোকে কলেজে নিয়ে যাবো।। আর সব কিছু আগে থেকেই রেডি,,প্রিন্সিপাল স্যার এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো। আর কলেজে কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবি,,,

আমিঃ আচ্ছা মামা

মামাঃ এখন ঘুমা।

মামা চলে গেলেন। আমি আবার গল্প লিখায় মন নিবেশ করলাম। পরে ঘুমিয়ে পড়লাম,,সকালে কারো ঝাঝালো কন্ঠে ঘুম ভাঙলো,,, চোখ মেলে দেখি একটা পরী,,

কারিমাঃ উঠবি নাকি পানি ঢালা লাগবে,

লাফ দিয়ে উঠে পড়লাম,,

আমিঃ কি হয়েছে,,এতো সকাল সকাল ডাকছেন কেনো।

কারিমাঃ আসছে জমিদার। ঘড়িতে দেখ কয়টা বাজে। কলেজে যাওয়া লাগবে না?

আমিঃ না যাবো না,,আপনি আমার সাধের স্বপ্ন ভেঙে দিলেন।

কারিমাঃ এই দিনের বেলা কি স্বপ্ন দেখছিলি?

আমিঃ সে আপনি বুঝবেন না

কারিমাঃ বুঝবো না মানে? আমি তোর বড়,,,আমি সব বুঝি বল

আমিঃ রোমান্স বুঝেন?

কারিমাঃ মানে??

আমিঃ জানতাম বুঝবেন না,,,আসলে গাধাকে যতই পেটাও সে ঘোড়া হইবে না। তাই আপনাকে বুঝালেও আপনি বুঝবেন না,,,আপনিতো একটা বদরাগী

কারিমাঃ কি বললি তুইইইই।

অরে আল্লাহ আমারে বাচাও,,এক দৌড়ে ওয়াশরুমে।

(চলবে..........)

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad