S A Shahinul Akash
গত পর্বের পর থেকে।
পরেরদিন কলেজে গেলাম। গিয়েই তমার সাথে দেখা করলাম।।
তমাঃ কি খবর আকাশ। দুইদিন কলেজে আসনাই কেনো?
আমিঃ এমনি ভালো লাগছিলো না।
তমাঃ শরীর খারাপ নাকি
আমিঃ না। তেমন কিছু না
তমাঃ তাহলে কলেজে আসো নাই কেনো?
আমিঃ এমনি কিছু হয় নাই
তমাঃ জানো তোমাকে এই দুইদিন কলেজে না দেখতে পেয়ে আমার কেমন লেগেছিলো?
আমিঃ নাতো😟
তমাঃ তা জানবে কি করে😡 কখনো আমাকে ফিল করেছো, কখনো আমার দিকে বন্ধুত্বের থেকে বেশি কিছু ভেবে দেখেছো?
এই মেয়ে বলে কি। ওরে পাগল হয়ে যাবো আমি পাগল হয়ে যাবো 😇।
আমিঃ না মানে,,,
তমাঃ তোমাকে আমি অনেক মিস করছি
আমিঃ কেনো?
তমাঃ জানি না। কিন্তু তোমাকে ছাড়া কলেজে আমার একদমি ভালো লাগছিলো না।
পেছন থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠে বলে উঠলো,,""তোমাকে ছাড়া এনারও দিন কাটছিলো না""
কন্ঠটা কেমন চেনা চেনা লাগছিলো। পেছনে ঘুরতেই দুটো অগ্নি দৃষ্টি আমার দিকে তাক করে আছে।
আমিঃ আপু তুমি এখানে?
কারিমাঃ কেনো ডিস্টার্ব করলাম?
আমিঃ না মানে
কারিমাঃ চল আমার সাথে
আমিঃ কোথায়?
কারিমাঃ যেতে বলছি। চল
আমিঃ তমা একটু থাকো আসছি আমি
তমাঃ আচ্ছা
টেনে কলেজ থেকে বাইরে নিয়ে গেলো। রাস্তা দিয়ে চুপচাপ হাটছি,,নিরবতা আমিই ভাঙলাম
আমিঃ আসলে আপু বুঝতে পারি নাই তুমি এখন কলেজে আসবে
কারিমাঃ কেনো ভালোইতো চলছিলো। ডিস্টার্ব করে দিলাম তাইনা?
আমিঃ আরে না। আসলে আমি দুইদিন কলেজে আসিনাই তাই ও বলছিলো আমাকে কলেজে দেখতে পায় নাই। কি বোকা ও তাইনা? আমি কলেজে না আসলে আমাকে দেখবে কি করে
কারিমাঃ চুপচাপ হাট
একটু পরে একটা রিকশা নিলো আর তাতে উঠে গেলাম। রিকশা একটা শপিংমল এর সামনে রাখলো।
আমিঃ এইখানে কেনো আপু
কারিমাঃ বৃষ্টির বার্থডে আজকে। একটা গিফট কিনতে হবে।
আমিঃ ওওও,,আচ্ছা,
গিফট কিনে বাসায় গেলাম।
সন্ধায় আপু বললো,
কারিমাঃ ওই চল
আমিঃ কোথায়?
কারিমাঃ বৃষ্টির বার্থডে তে
আমিঃ আমি যাবো না। ভালো লাগছে না
কারিমাঃ যাবি নাকি আমার জোর করতে হবে
আমিঃ ধুর ভালো লাগে না। আসছি যাও
সন্ধায় বার্থডে পার্টিতে গেলাম। আপু সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। বেস মজা করলাম সেখানে। একটু বেশিই রাত হয়ে গেলো,,বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পেছনে কারিমা। মাঝ রাস্তায় বাইক খারাপ হয়ে গেলো, বাসা এখনো অনেক দূরে। বৈশাখ মাষ পড়ে গেছে। সন্ধা থেকেই আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন। তার উপরে এখন বাইক খারাপ হয়ে গেলো। কি করবো বুঝতে পারছি না। বাইক ধাক্কাছিলাম কারিমে পাশেই হাটছিলো আর কারিমা কি যেনো বলছিলো মনে মনে। এমন সময় আচমকা এক দমকা হাওয়া বয়ে গেলো। ঝড় শুরু হওয়ার পূর্বাভাস। কারিমাকে দেখে মনে হচ্ছে একটু ভয় ভয় পাচ্ছে আবার একটু খুশিও লাগছে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।
কিছুদূর হাটার পরে রাস্তা থেকে একটু দূরে এক বাড়ি দেখা গেলো। এরি মধ্যে শুরু হয়ে গেলো এলো পাথারি গাছের ডাল ভাঙার শব্দ। ঝড় শুরে হয়ে গেছে,,কিছু না ভেবেই কারিমাকে নিয়ে বাড়ির সামনে গেলাম। দরজায় টোকা দিলাম ভিতর থেকে এক বয়ষ্ক মহিলার গলার আওয়াজ পেলাম। দরজা খুলে দিলো সাথে একটা মেয়েও আছে বয়স আনুমানিক ১৪-১৫ হবে।
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম। আন্টি আসলে আমাদের বাইকটা খারাপ হয়ে গেছে আর এইদিকে ঝড় শুরু হয়েছে। কিছু মনে না করলে কিছুক্ষন এইখানে থাকতে পারি?
মহিলাটা আমারদিকে একবার আবার কারিমার দিকে তাকিয়ে বললো "" ঠিক আছে ভিতরে আসো""
ভিতরে গিয়ে মনে হলো এই বাসার মানুষের রুচি আছে বলতে হবে। বাসাটা খুব সুন্দর করে সাজানো। আমরা গিয়ে সোফায় বসলাম। একটু পরে সে চা নিয়ে আসলেন। বাহিরে প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়ে গেছে। এরি মধ্যে খালামনির কল।
খালামনিঃ আকাশ কোথায় আছিস তোরা। বাহিরে অনেক ঝড় হচ্ছে,,আর তোদের এখনো খবর নেই।
আমিঃ খালামনি আমরা আসছিলাম তখন বাইক খারাপ হয়ে গেলো। তাই একটা বাসায় এসে বসে আছি। ঝড় থামলেই চলে আসবো
খালামনিঃ সাবধানে থাকিস। আর কারিমা কি করছে
আমিঃ এইতো এখানেই বসে আছে
খালামনিঃ আচ্ছা রাখছি তাহলে
ফোন কেটে সামনে সাকাতেই দেখি মহিলা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো আমাদের কথা শুনছিলেন। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে ভিতরে একটু সঙ্কোচ ছিলো,,এখন সেটা কেটে গেছে।
অনেক্ষন বসে থাকার পরে ঝড় কমে গেছে। এতক্ষনে মহিলার সাথে বসে অনেক কথা বলা হলো। তার এক ছেলে এক মেয়ে। আর এই মেয়েটা তার নাত্নি। ছেলে আর বউ গতকাল ঢাকায় গেছে কি কাজে সেটা পরিষ্কার করে বললেন না। আমারো জানার বেশি আগ্রহ ছিলো না।
যাইহোক তাদের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বাইক ধাক্কাতে। বাসা আর বেশি দূরে না, ১ কি.মি. এর মতো হবে। হঠাৎ কারিমার মুখ খুললো। এতখন চুপ করেই ছিলো। রাস্তার লেম্পোস্ট এর নিচে দাড়াতে বললো,, অগত্যা বাইক স্টান্ড করে দাড়ালাম। কারিমা ঘুরে আমার সামনে এসে দাড়ালো। আর শর্টের কলার ধরলো, কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক কিস বসিয়ে দিলো। বিষয়টা বুঝে ওঠার আগেই ছেড়ে দিলো। আমার থেকে হাত পাচেক দূরে সরে গেলো আর অন্য দিকে ঘুরে দাড়ালো।
স্তব্ধ হয়ে আছি আমরা। ভয়ে ভয়ে ডাকদিলাম, আমার দিকে আর ঘুরে তাকালো না। আমিই সামনে গেলাম, হাত দুটো ধরে বললাম
আমিঃ কি হয়েছে এমন করছ কেনো?
কিছুই বলছে না,, চুপ করে আছে
আমিঃ কিছু বলো,
কারিমাঃ কি বলবো, তুই কিছু বুঝিস না কেনো?
আমিঃ কি বুঝবো।😒
কারিমাঃ তোকে ভালোবাসি আমি। এটা কেনো বুঝিস না
আমিঃ কি বলছো আপু
কারিমাঃ জানি তুই কখনোই বুঝবিনা আমাকে। তোকে ওই পেত্নির সাথে দেখলে আমার গা জ্বলে যায়। তোকে ভালোবাসি কতবার বোঝাতে চেয়েছি তুই বুঝিস না কেনো? আমি নিতে পারছি না। তোকে হারাতে পারবো না আমি। প্লিজ আমাকে কষ্ট দিস না। একবার আমাকে ভালোবেসে দেখ, কখনো কষ্ট পেতে দিবো না
কথাগুলো বলছিলো আর কান্না করছিলো। কি করবো আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু ওর কান্না আমি নিতে পারছিলাম না। নিজের অজান্তেই আমার চোখ জোড়া ভারি হয়ে আসলো।
ওর সামনে গিয়ে ওর গালে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দিতেই জড়িয়ে ধরলো। শরীরের মধ্যে এক অজানা শিহরণ বয়ে গেলো। আর সাত পাচ না ভেবেই জড়ীয়ে নিলাম ভালোবাসার চাদরে ।।
..............👉সমাপ্ত👈...............



No comments:
Post a Comment