Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা পার্টঃ ১১ (শেষ)


লেখকঃ সিয়াম হোসেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে৷ মনে হচ্ছে রুমের ভিতরে কিছু একটা নেই কেমন যেনো খালি খালি মনে হচ্ছে৷
টেবিলের উপরে চোখ পড়তেই খেয়াল হলো চায়ের কাপ নেই৷ ব্যাপার কি আজকে চা নেই কেনো এই পুরো ১ মাসে একদিনও চা মিস যায় নি তাহলে আজকে কোথায় গেলো৷ নাকি ঘুম থেকেই উঠে নি৷ ভাবলাম আজকে আমার ভালোবাসার কথাটা বলবো আর ওমনিই সকাল করে টেবিলে চা নেই৷ বিরক্ত লাগছে৷ নিকুচি করি ভালোবাসার কথা বলার বলবোই না যা৷ চা না পেয়ে মেজাজ টা কেমন বিদঘুটে হয়ে গেলো৷ বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলাম৷ ভাবলাম ইচ্ছা মতো বলবো কেনো চা দেয়নি৷ খাবার টেবিলে বসে আছি৷ সাদিয়াকে কোথাও দেখছি না গেলো টা কোথায়৷ মাথাটা বকের মতো লম্বা করে উকু ঝুঁকি মারছি কোথাও দেখা যায় কিনা৷
- ওমন ভাবে কি দেখা হচ্ছে ( মা)
- না কিছু না
- আজকের মেজাজটা কেমন যেনো আলাদা মনে হচ্ছে কি হয়েছে হ্যা৷
- বললাম তো কিছু না,,,,( আপু পাশে এসে বসলো)
- সাদিয়া আপুকে কোথাও দেখছি না ঘুম থেকে উঠেনি নাকি ( নিজের প্লেটে ভাত তুলতে তুলতে)
- ও চলে গিয়েছে ( মা তরকারি তুলে দিচ্ছে বাবাকে ওমনিই বলে উঠলো)
- চলে গিয়েছে মানে তার মা বাবা কি চলে আসছে নাকি ( কথাটা শুনে কিছুটা খারাপ লাগলো যে আজকেই চলে যেতে হলো যখন ভালেবাসার কথা বলবো)
- না ওর মা বাবা তো আসে নি তবে ও ওর মা বাবার কাছে চলে গিয়েছে ( আপু)
- বুঝলাম না।
- মানে খুব সোজা তোকে বললাম না ওর মা বাবা বাইরে গিয়েছে তো তারা তার বড় ভাই ইন্ডিয়া থাকে সেখানেই গিয়েছে শুনেছি ওখানেই থাকবে নাকি এখন থেকে তাই সাদিয়াও চলে গিয়েছে ( আপু)
- ওহ্ ( মন খারাপ করে)
- মন খারাপ করলি কেনো যখন ১ মাস এখানে ছিলো তখন তো বেশ কষ্টই দিতি হিসাবে তো তোর খুশি হবার কথা ( মা)
মায়ের কথায় কিছুটা অবাক হলাম৷ আপুর দিকে তাকালাম অবাক হবার দৃষ্টিতে।
- মা বাবা শুরুর দিকেই সব জানতো সাদিয়াই বলে দিয়েছিলো কিন্তু সাদিয়া তোকে জানায় নি তোর ভালোবাসা আবার অর্জন করে নিবে বলে আর ও তোর জন্যই এখানে ছিলো কিন্তু তুই তো ওকে কষ্ট ছাড়া কিছুই দিলি না সে জন্য চলে গিয়েছে৷ ( আপু)
- তার মানে তোমরা সবাই জানতে আর রাজিও ছিলে ( মা বাবার দিকে তাকিয়ে)
- হ্যা (দুজনেই)
- আগে বলোনি কেনো
- এখন আর যেনে লাভ কি যা হবার তাতো হয়ে গিয়েছে সাদিয়া তো চলে গিয়েছে ( মা)
- কখন গিয়েছে ( আমি অস্থিরতার ভাবে)
- আধ ঘন্টা হয়েছে তবে এয়ারপোর্টে এখনও গেলে হয়তো পেতে পারিস যদি ওকে সত্যিই ভালোবাসিস তো ফিরিয়ে আন ( আপু)
নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না খাবার না খেয়েই বের হয়ে পড়লাম৷ নিজের কাছে খারাপ লাগছে সাদিয়াকে অনেক কষ্ট দিয়েছে যদি ওকে পাই তো আর কষ্ট পেতে দিবো না৷

 এয়ারপোর্টে এসে সাদিয়াকে খুজতে লাগলাম৷ কোথাও দেখা যাচ্ছে না তাহলে কি ও ভিতরে চলে গিয়েছে৷ চারপাশে তাকিয়ে দেখছি সাদিয়া দূরে গেটের সামনে বসে আছে৷ দৌড়ে ওর কাছে গেলাম৷
- বাহ্ এই তাহলে তোমার ভালোবাসা বাহ্ যদি ভালোই বাসতে তাহলে হয়তো আমাকে ছেড়ে চলে যেতে না আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে আজকে দেখে নিলাম তুমি আমাকে কতটা ভালো বাসো৷
সাদিয়া যেনো আমার দিকে ভুত দেখার মতো তাকিয়ে আছে৷
- তো কি করবো আর কতো সহ্য করবো কতবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি তোমাকে কিন্তু তুমি বুঝতেই চাও না তাহলে আমি কি করবো৷ আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি আর নিতে পারছি না৷ ( কান্না কান্না ভাব)
- বোঝানোর চেষ্টা করতে,, ঠিক আছে তুমি যখন চলে যেতে চাইছো যাও তোমাকে আটকাবো না তবে একটা শর্ত..
সাদিয়া যেনো অবাক হয়ে আছে হয়তো ভাবছে চলে যাবার সময় আবার কি শর্ত দিবে।
- কি ( চোখের পানি মুখে)
- আমাকে যে রোজ সকালে চা বানিয়ে বদ অভ্যাস বানিয়ে দিয়েছো সেটা পূরণ করে দিতে হবে যেনো প্রতিদিন সকালে আমার টেবিলে চা থাকে যদি সেটা করতে পারো তো তার পর চলে যাও৷
কথাটা শেষ হতেই মনে হলো কেউ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে৷ আমিও সাদিয়াকে শক্ত করে ধরলাম৷

- এহম এহম বলছি হানিমুনটা কি বিয়ের আগেই সবার সামনে করে ফেলবি নাকি৷ (কোনো পুরুষের কন্ঠ)
শুনেই আমি ছেড়ে দিলাম৷
- মা বাবা কেমন আছো ( সাদিয়া)
আমি তো চোখ বড় বড় করে অবাক হবার মতো তাকিয়ে আছি৷ তারা এখানে কেনো ইন্ডিয়াতে থাকার কথা তো তাদের৷
- তারা এইখানে তার মানে তুমি ইন্ডিয়া যাচ্ছো না ( সাদিয়াকে বললাম)
- না ও ইন্ডিয়া যাচ্ছে না ওর মা বাবাকে নিতে আসছে ( পিছন থেকে মা)
- মা বাবা তোমরা
- হ্যা আমরা নাটক টা কেমন ছিলো
- নাটক (অবাক হয়ে)
- এইযে তোকে বলা হলো সাদিয়া চলে গেছে আর ওমনিই তোর ভালোবাসা বের হয়ে আসলে না হলে তো বলতিই না৷
- সাদিয়া তুমি জানতে ( কিছুটা জোড় গলায়)
- না না আমি কিছুই জানতাম না তুমি যখন এসে বললে আমি চলে যাচ্ছি তখন অবাক হয়েছি পড়ে ভেবে দেখলাম তোমাকে পাওয়ার এটাই শেষ সুযোগ তাই আর কি আমিও..( মাথাটা নিচু করে)
- তোমরা কাজটা ভালো করলে না আমি বিয়ে করবো না৷
- ঠিক আছে তোমার যদি চা খেতে ইচ্ছা না করে তো না করলে ( সাদিয়া বলেই হেঁসে দিলো)
- উফ শালার চা-টা আমার সব কিছু নষ্ট করে দিলো৷
সবাই হা হা করে হেসে উঠলো

বেশ ধুমধাম করেই সাদিয়া আর আমার বিয়েটা শেষ হয়৷ বাসর ঘরে ঢুকতেই দেখি সাদিয়া বড় একটা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে৷
- আমি তোমার সাথে বিয়েটা মানি না ( আমি বলে উঠলাম)
সাদিয়া ঘোমটা টা সরিয়ে আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো৷
- মানে৷
- মানে খুম সোজা চা খাওয়ার জন্যই বিয়েটা করেছি তাছাড়া তোমাকে ভালো টালো বাসি না আমি যদি তখন তোমার ওই বর মেয়েটা নিয়ে না পালিয়ে যেতো তাহলে আজকে তুমি তার সাথেই সংসার করতে।

সাদিয়া শুধু আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে হেঁসে উঠলো৷ বুঝলাম না হাসির কি কথা বললাম৷
- তোমার কি মনে হয় ওই ছেলেটা পালিয়ে গেছে বলে বিয়েটা ভেঙেছে উহু আমিই ভেঙেছি৷
এবার যেনো আমি অবাক হয়ে গেলাম।
- মানে
- মানে খুব সোজা ওর সাথে যখন বিয়ে ঠিক হয়ে ছেলেটার ব্যাপারে খোজ নিতে গিয়ে জানতে পারি সে অন্য মেয়ের সাথে রিলেশনে ছিলো আর আমার সাথে বিয়ে ঠিক হবার কারণে ব্রেকআপ করে। মেয়েটাকে খুজে বের করে জানতে পারলাম ও ছেলেটাকে সত্যিই ভালোবাসতো আর পালিয়ে যাবার জন্যও রাজি ছিলো৷
- তো
- তো বিয়ের দিন সকালে...
- শোনো তুমি আমাকে বিয়ে করতে পারবে না ( সাদিয়া)
- কেনো পারবো না ( ছেলেটা)
- কারণ আমি প্রেগন্যান্ট যদি মনে করো আমাকে বিয়ে করা উচিত তাহলে করতে পারো সমস্যা নেই৷
- কি আমি কেনো অন্যর পাপের ভার নিতে যাবো আমি এখনই সবাইকে গিয়ে বলে দিবো।
- যদি বলো তো তাহলে আমিও বলবো আমার এই অবস্থার জন্য তুমি দ্বায়ী..
- মা মা মানে আমি কেনো দ্বায়ী হতে যাবো৷
- যদি না হতে চাও তো বিয়েটা ভাঙো
- ঠিক আছে আমি গিয়ে বলছি
- যদি কারণ জানতে চায় তো তখন কি বলবে...
ছেলেটা চুপচাপ দাড়িয়ে আছে।
- তোমাার জন্য ভালো বুদ্ধি হলো তুমি যার সাথে রিলেশন করেছিলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাও ব্যাস বিয়েটাও ভেঙে যাবে৷
- কিন্তু কিভাবে আমি তো ওর সাথে ব্রেকআপ করেছি ওকে আমি কোথায় পাবো৷
- নিচে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে যাও৷
- আর ব্যাস ছেলেটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেলো আর আমার বিয়েটাও ভেঙে গেলো অবশ্য কিছুটা মানসম্মান নিয়ে টানাটানি হয়েছে তবে সেটা ব্যাপার না ( সাদিয়া)
কথা গুলো শুনে আমি সাদিয়ার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে৷
- তার মানে তু তুমি প্রেগন্যান্ট ( আমি)
- না রে বাবা ওটা তো বিয়ে ভাঙার জন্য বলেছি যাতে তোমাকে পেতে পারি৷
- আমার বিশ্বাস হয় না৷
- আরে আমার কারও সাথে কিছুই হয়নি প্রেগন্যান্ট হবো কিভাবে। ঠিক আছে তোমার বিশ্বাস আমি তৈরি করে দিচ্ছি৷
- কিভাবে
- আগে লাইটটা অফ করো
- কেনো
- বাহ্ বিশ্বাস করাতে হবে না লাইট অফ করবে তো৷
লাইটটা অফ করতেই আমার কলারটা ধরে বিছানায় টেনে নিলো৷ ব্যাস বোঝা হয়ে গেছে৷
ইশ লাইটটা অফ তাই দেখতে পারলেন না৷ হি হি হি

সমাপ্ত
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad