Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা

সিনিয়র_আপুর_ভালোবাসা পার্টঃ ১০


লেখকঃ সিয়াম হোসেন

ক্লাস শেষ করে সকলের সাথে ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিচ্ছি৷
- আজকে আমরা সিয়াম আর সাদিয়ার রিলেশনশিপ নিয়ে জানবো কেমন ছিলো সিনিয়র জুনিয়র প্রেম কাহিনী ( নীলা)
- নীলা চুপ করো ( আমি)
- আহা বলো না দেখোনা সবাই জানতে চায় প্লিজ বলো ( নীলা)
- হ্যা সিয়াম বলো (সবাই)
- সিনিয়র জুনিয়র রিলেশনশিপ হলো অনেকটা বাঁশের মতো যদি গোড়া মোটা হয় ও সমান ভাবেই তাল মিলিয়ে বড় হতে থাকে তাহলে সেটা পরিপূর্ণ বাঁশ হয়৷  রিলেশনটাও তেমন যদি শুরুটা সুন্দর,আদর্শ, একে অন্যকে বোঝা, বিপদে পাশে থাকা, একে অন্যর প্রতি কেয়ারিং থাকলে সেটা পরবর্তীতে সার্থক হয়৷ আর যদি বাঁশটার গোড়া চিকন হয় ও আগা মোটা হয় তাহলে বাঁশটা নুয়ে পড়বে মাটিতে৷ রিলেশনটাও তেমন যদি শুধু একজনই বোঝে অন্যজন অভিনয় বা মজার ছলে রিলেশন করে তাহলে পড়ে ওই কষ্ট পেয়ে মাটিতে নুয়ে পড়া ছাড়া কোনো উপায় থাকেনা৷
- বাহ্ বাহ্ তা তোমার বাঁশ কোনটা ( রাইসা বলার সাথেই সবাই হেঁসে উঠলো)
- ওই যে মাটিতে নুয়ে পড়লো যে বাঁশটা সেটা কারণ সাদিয়া আমার সাথে রিলেশন নামে শুধু ফাইজলামিই করেছে.... ( কথাটা শেষ করতেই মনে হলো আমার কলার ধরে পিছন থেকে কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে৷ এমন ভাবেই ধরেছে যে ঘোরার মতো অবস্থা নেই৷
- দেখো সাগর ভাই ভালো হবে না বলে দিচ্ছি ছাড়ো আমাকে ( অনুমান করেই বললান কারণ সে ছাড়া আর কারও সাথেই আমার ঝগড়া নেই)
আশিক ও অন্য সবাইকে দেখলাম হা করে তাকিয়ে আছে অথচ আমাকে যে বাঁচাবে তার কোনো চিহ্নই নেই৷ তাদের কাছ থেকে বেশ কিছুটা দূরে এনে ছেড়ে দিলো৷ ঘুড়ে যে থাপ্পড় মারতে যাবো দেখি সাদিয়া আপু দাড়িয়ে আর রাগে কালনাগিনী সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে৷
- আপনি আমাকে সবার সামনে থেকে এই ভাবে টেনে আনলেন কেনো৷
- বেশ করেছি কোনো সমস্যা৷
- সমস্যা মানে আমাকে সবার সামনে আপনার অপমান করতে ভালোই লাগে তাইনা ( চিৎকার করে ঝাড়ি দিয়ে)
সাদিয়া আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো পুরো ভার্সিটির ছাত্র ছাত্রী সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে৷ সাদিয়া কিছুটা কাবু হয়ে মাথা নিচু করে নিরবে কান্না করছে। মনে হয় একটু বেশিই জোড়ে বলে ফেলেছি৷ সেটা দেখার বিষয় না আমাকে টেনে আনলো কেনো।
- দেখুন আপনার ওই ন্যাকা কান্না আমি দেখতে চাই না কেনো নিয়ে আসছেন বলুন।
- সরি আমি বুঝতে পারিনি তোমার অপমান হবে ( কান্না করে)
- অপমান যা করার তাতো করেই ফেলেছেন এখন বলুন কেনো আনলেন৷
- ওদের কাছে তুমি কি বললে
- কি বললাম
- আমি তোমার সাথে ভালোবাসা নিয়ে মজা করেছি৷ ( বলেই আমার মুখের দিকে তাকালো চোখ ভর্তি পানি)
- হ্যা ঠিকই তো বলেছি ভুল কোথায়।
- প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও আমি ভুল করেছি ( সকলের সামনেই হাত ধরে)
- হাত ছাড়ুন ( বলেই হাতটা টান দিয়ে ছাড়িয়ে নিলাম)
সাদিয়া আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে দৌড়ে গেট দিয়ে বের হয়ে চলে গেলো৷ আমি হা করে তাকিয়ে আছি মনে হয় একটু বেশিই কষ্ট পেয়েছে৷ ধুর সেটা দেখার বিষয় না আবার বন্ধুদের কাছে গিয়ে আড্ডায় বসলাম৷
- সিয়াম কাজটা ঠিক করলি না ( আশিক)
- কেনো
- সকলের সামনে অপমান তার উপর সে তোর সিনিয়র বিষয়টা কেমন হয়ে গেলো না৷
- আচ্ছা আমাকে যে শার্ট ধরে টেনে নিয়ে গেলো সেটা অপমান না৷
- না অপমান না সেটা ভালোবাসা কারণ ও চায়না তুই সব মেয়েদের সাথে আড্ডা দে ( আশিক)
- আশিক ঠিকই বলেছে সিয়াম নীলা আপু সত্যিই তোমাকে ভালোবাসে৷
- ভালোবাসে হু বললাম না বাঁশের গোড়া চিকন হলে পড়ে যদি মোটা হয় তা নুয়ে পড়ে রিলেশন পরে অতিরিক্ত করতে গেলেও ঠিক নষ্ট হয়ে যাবে ( আমি)
- তবে যদি বাঁশটা সব বাঁশের মাঝখানে হয় তো অন্য বাঁশের সাপোর্টে কিন্তু সেটা নুয়ে পড়ে না তেমনটা তোর সাদিয়ার সাথেও হতে পারে হয়তো তার পরিবার আর তোর পরিবার যদি সাপোর্ট দেয় তাহলে তো আর নষ্ট হবার প্রশ্নই আসে না ( রাইসা)
আমি আর কিছু বললাম না৷
- সাদিয়াকে তোর সরি বলা উচিত( আশিক)
মাথা নিচু করে শুনছি আসলেই সরি বলা উচিত৷
- আচ্ছা তোরা থাক আমি বাসায় গেলাম ( বলেই সেখান থেকে বাসায় চলে আসলাম)

- সিয়াম তুই কাজটা ঠিক করিস নি ( আপু আমার রুমে এসে)
- কেনো কি করেছি আমি৷
- সাদিয়াকে সকলের সামনে অপমানটা না করলেও পারতি৷
- আসলে আমার তখন মাথাটা ঠিক ছিলো না কোথায় সাদিয়া আপু।
- ছাদে আছে
- ঠিক আছে তুই যা আমি দেখছি৷

ছাদে উঠে দেখি সাদিয়া এক কোনায় দাড়িয়ে আছে৷ নিরিবিলি তার পিছনে গিয়ে দাড়ালাম৷ কি বলবো ভাবছি৷
- আসলে আমি তখন কি বলতে কি বলে ফেলেছি সরি আমাকে মাফ করে দিন।
সাদিয়া আমার দিকে ঘুরে দাড়ালো৷ কান্না করছে সাদিয়া বুকের মাঝে কেমন যেনো মোচড় দিয়ে উঠলো এখনো কান্না করছে৷ ইচ্ছা করছে মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে ধরি৷
- সরি আমার বলা উচিত আমি বুঝতে পারিনি৷
- না ঠিক আছে,,, প্লিজ আপনি কান্না করবেন না
- আমি কান্না করলে কার কি আসে যায়।
- আসলেই তো আচ্ছা নিচে সবাই খাবার জন্য অপেক্ষা করছে আসুন ( বলেই পিছন ফিরে চলে আসলাম)
হয়তো পিছনে সাদিয়া ভাবছিলে আমি তার দিকে ঘুরে তাকিয়ে আবারও আসতে বলবো৷

পরেরদিন...
আজকে শুক্রবার ভার্সিটি বন্ধ। সাদিয়া আজকেও টেবিলে আমার জন্য চা বানিয়ে রেখে গেছে৷ চায়ের স্বাদটা সত্যিই অসাধারণ কেমন যেনো মাতাল করে তুলছে ইচ্ছা করে রোজ সকালে এমন চায়ের স্বাদ পেতে৷
- সিয়াম চল সিনেমা দেখে আসি৷ ( আপু)
- তুই আর আমিই যাবো তো
- না সাদিয়াও যাবে৷
- তাহলে যাবো না
- আরে চলনা আমি আছিতো ( আপুর জোড়াজুরিতে রাজি হয়ে গেলাম)

সিনেমা হলের টিকেট কাটছি আমি মাঝে আপু অন্য পাশে সাদিয়া এমনভাবে বসবো৷ অথচ আপু সাদিয়াকে আমার পাশে দিয়ে নিজে অন্য পাশে বসেছে৷ বোঝায় যাচ্ছে আপু সাদিয়ার পক্ষ নিচ্ছে৷ সিনেমা দেখছি সাদিয়া কাধের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে দেখছে মানুষের জন্য কিছু বলতেও পারছি না আবার আপুও রয়েছে৷ কোনো রকম হজম করে সিনেমা হল থেকে বের হয়ে আপুর উপর কিছুটা রাগ ছাড়লাম অবশ্য সাদিয়া তখন বাথরুমে গিয়েছে৷
- আপু তুই জানিস সাদিয়ার বিষয়টা যখন মা বাবা জানতে পারবে যে এই সেই মেয়ে তখন কি হবে৷
- সেটা আমি দেখে নিবো তাছাড়া সাদিয়ার সাথে কিছুটা আগের মতো হেঁসে কথাও তো বলতে পারিস সব সময় কেমন গোমড়া মুখ করে কথা বলিস সাদিয়া তো বদলে গিয়েছে৷
কথাটা শেষ হতেই সাদিয়া এসে হাজির৷
- কি কথা হচ্ছে৷
- কিছু না চল৷(আপু)
- সিয়াম আজকে তো সেদিনের মতো কোকাকোলা খেলেনা আগে যখন সিনেমা দেখতে আসছিলাম তখনকার মতো ( সাদিয়া)
- আমার বিষ খেতে ইচ্ছা করছে আপনি খাবেন ( বিরক্তিকর ভাবে)
- যদি তুমি খাও তাহলে তোমার সাথে খেতে রাজি আছি ( সাদিয়া হেসেই উত্তর দিলো)
মেয়েটা পাগল নাকি৷ বাসায় চলে আসলাম৷

দেখতে দেখতে প্রায় ১ মাসের কাছাকাছি হয়ে গেছে৷ সাদিয়া প্রতিদিনের মতো রোজ সকালে চা দিয়ে যায় চায়ের প্রতি কেমন যেনো লোভ লেগে গেছে৷ মনে হয় যদি খেতে না পারি বোধ হয় সকালটা পরিপূর্ণ হবে না৷ এখনও সে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে আমাকে সে কতটা ভালোবাসে৷ বার বার আমি তাকে কষ্ট দিয়েছি সে তা মুখ বুঝে সহ্য করেছে৷ বোঝা হয়ে গেছে সে আমাকে সত্যিই ভালোবাসে৷ ভাবছি কালকে সকালে সাদিয়াকে বলে দিবো যে আমিও তাকে ভালোবাসি তাকে আর কষ্ট পেতে দিবোনা৷ কারণ কালকেই ওর ১ মাস পূর্ণ হয়ে যাবে। ভাবতে ভাবতেই রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম৷

চলবে...

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad