Post Top Ad

Post Top Ad

সিনিয়র মামাতো বোন

সিনিয়র মামাতো বোন পর্ব ০৭


S A Shahinul Akash


গত পর্বের পর থেকে।

বাইক নিয়ে বের হলাম,,কারিমা পেছনে বসে আছে জড়িয়ে ধরে। ফিলিংটা অন্য রকম।। ৬০ কি.মি. স্পিডে চালাচ্ছি,,বিকেলের রক্তিম সূর্যাস্তে অদ্ভুত এক ফিলিংসে যাচ্ছি,,,মহূর্তটা আরো সুন্দর করে তুলেছে পেছনের অজোগা সুন্দরী রমনীর গুনে☺।

কেউ কোনো কথা বলছি না,,নিরবরা কারিমা ভাঙলো

কারিমাঃ আকাশ তোর কেমন লাগছে

আমিঃ ভালোই লাগছে,,অনেকদিন পরে নানু বাড়ি যাচ্ছি।

কারিমাঃ অনেকদিন পরে যাচ্ছিস বলে ভালো লাগছে। এ ছাড়া অন্য কোনো কারনে ভালো লাগছে না?

আমিঃ ভালো লাগার আর কি কারন লাগবে এখন?

কারিমাঃ কিছুনা😒। তুই বাইক আরো স্পিডে চালা

আমিঃ আরে কি বলছো,,এমনিতেই সন্ধে হয়ে আসছে,,আর তাছাড়া এতো স্পিডে চালানো ঠিক না।

কারিমাঃ রাগ তুলবি না। তোকে আরো স্পিডে চালাতে বলেছি তুই চালা😡

আমিঃ আচ্ছা চালাচ্ছি,,,তুমি আমাকে আরো জোরে ধরে বসো। আমি স্পিড ধরছি☺,

কারিমাঃ হুম দেখি তুই কেমন চালাতে পারিস

বলতে দেরি হয়েছে আমার স্পিড বাড়াতে দেরি হয় নাই।। শীতেরদিন তার উপরে আবার সন্ধ্যা হয়ে গেছে,,ঠান্ডাও বেশ লাগছে। হাত দুটো যেনো জমে যাচ্ছে। পেছনে কারিমার শীত লাগছে বোধয়,,আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। উফফফ যা লাগছে আমার☺☺

রাস্তার পাশে একটা ফুচকার দোকান দেখেই বাইক থামাতে বললো

আমিঃ কি হলো আবার,,এই অর্ধেক রাস্তায় আবার গাড়ি দাড় করালে কেনো?

কারিমাঃ ফুচকা খাবো

আমিঃ এমনিতেই শীত লাগছে এখন তুমি ফুচকা খাবে?

কারিমাঃ আমি খাবো,,তোর কি। তুই অর্ডার দে

কি আর করার দুই প্লেট ফুচকা দিতে বললাম। আমি একটু বেশিই ঝাল খাই,,কিন্তু এতো দেখছি আমার থেকেও বড় খাদক😁। যেনো ঝালে ডুবে যাচ্ছে,,খাচ্ছে আর চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে😳। খাওয়া শেষে ঝালে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেলো

আমিঃ এখন কেমন লাগে? খাও আরো বেশি ঝাল😡

কারিমাঃ 😢😢😢

আমিঃ পানি খাও,,আর তাড়াতাড়ি বাইকে উঠো

বাইক আবার চালাতে শুরু করলাম,,৭ টায় বাসায় পৌছালাম।। নানু আমাকে দেখেই জড়িয়ে ধরলো,,

নানুঃ কেমন আছিস ভাই? কতদিন দেখিনা,,এই বুড়িটার কথা একে বারেই ভুলে গেছিস??

আমিঃ নাগো আমার ওল্ড গার্লফ্রেন্ড ☺ তোমাকে কীভাবে ভুলি।

নানুঃ তাহলে এতোদিনে আমার কথা মনে পড়লো?

আমিঃ মনেতো তোমাকে প্রতি ক্ষনে ক্ষনে পড়ে,,,আমিতো শুধু তোমাকেই ভাবি😁।। আর এটাও ভাবি আমি তোমাকে কবে এই বুড়োর হাত থেকে উদ্ধার করে আমার ঘরে নিয়ে যাবো😁

নানুঃ চল তাহলে আজকেই পালাই😂😂

কারিমাঃ হইছে তোমাদের ড্রামা? এবার এইদিকে তাকাও,,আরো একজন আছে এখানে😒😒

নানুঃ ওও তাইতো,,আসো আমার সতিন। তোমাকেও কতদিন দেখিনা

কারিমাঃ হইছে থাক আর বলতে হবে না,,সব আদরতো ওই বাদর টা কে দিয়ে দিছো😒😒

আমিঃ কি হিংসুটেরে

কারিমাঃ এই একদম মেরে ফেলবো তোকে😡😡

নানুঃ থাক আর ঝগড়া করতে হবে না। যাও ভিতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও

বাসায় আরেক মামা আছেন,,সেই ঘরেও একটা মেয়ে আছে,,আর একটা ছেলে ছোট।। এই মামিও আমাকে অনেক ভালোবাসে,,ভিতরে যেতেই মামি আসলেন

মামিঃ কেমম আছো আকাশ?

আমিঃ জী মামি ভালো। আপনি কেমন আছেন?

মামিঃ ভালো,,তা এতো দিন পরে মনে পড়লো আমাদের কথা?

আমিঃ না মানে পড়াশোনা নিয়ে,,আপনিতো বুঝেনি

মামিঃ হ্যা সবি বুঝি। এখন যাও রুমে যাও,,

আমিঃ মামি,,মামা কোথায়?

মামিঃ সে এখনো দোকান থেকে ফিরে নি। চলে আসবে একটু পরেই,,

আমিঃ ওও,,আর সায়মা আর রিমন কোথায়?

মামিঃ ওদের রুমেই আছে,,,পড়তেছে

আমিঃ আচ্ছা আমি দেখা করে আসি

চলে গেলাম আমাদের রুমে। ব্যাগ রেখেই গেলাম ওদের রুমে,,আমাকে দেখেই সায়মা আর রিমন জড়িয়ে ধরলো,,

সায়মাঃ কেমন আছো ভাইয়া?

আমিঃ ভালো,,তোমরা কেমন আছো?

সায়মাঃ ভালো,,

আমিঃ রিমন তোমার কি অবস্থা?

রিমনঃ ভাইয়া ভালো না😢

আমিঃ কেনো কি হয়েছে?

রিমনঃ ধুর এতো পড়া ভালো লাগে না,

আমিঃ ওহ এই ব্যাপার,,সমস্যা নেই,,এখন আর পড়তে হবে না। হ্যাপি?

রিমনঃ হুম ☺

কারিমাঃ কি হচ্ছে এখানে?

আমিঃ কি আর হবে,,কিছু না

কারিমাঃ ওও,,

সায়মাঃ কেমন আছো আপু?

কারিমাঃ হুম ভালো। তুমি?

সায়মাঃ ভালো।

রাতে খাওয়ার টেবিলে সবাই আছেন,,,মামা আমাদের দেখে অনেক খুশি হয়েছে,,তারপরে খেয়ে যার যার রুমে গেলাম ঘুমাতে।

আমার আবার একটা বিষয়,,, নতুন কোনো যায়গায় ঘুম আসে না,,, তাই কি করবো ভাবছিলাম। পরে মনে পড়লো বেশ কয়েকদিন হলো গল্প লিখা হয় না,,তো গল্প লিখা যাক।

গল্প লিখছিলাম তখন কারিমার আগমন,,

কারিমাঃ কি করছিস?

আমিঃ কই কিছু নাতো

কারিমাঃ আমি দেখছি,,তুই চ্যাটিং করছিস😡

আমিঃ নাতো,,আমি এমনিতেই ফোম টিপছিলাম

কারিমাঃ যাইহোক,,তখন তুই সায়মা কে জড়িয়ে ধরছিলিস কেনো?

আমিঃ কই? কখন?

কারিমাঃ মিথ্যা কথা বলবি না😡😡 আমি দেখছি

আমিঃ আজব,,জড়িয়ে কখন ধরলাম,,,অনেকদিন পরে দেখা হইছে তাই সায়মা খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরছিলো। আর সেখানেতো রিমন ও ছিলো

কারিমাঃ ভালো হয়ে যা,,লুচ্চা একটা

আমিঃ দেখো ফালতু কথা বলবে না। আর আমি ওকে জড়য়ে ধরছি তাতে তোমার কি?

কারিমাঃ আমার আবার কি হবে,,তুই ওকে কেনো ধরবি?

আমিঃ আমি আরো ধরবো তোমার কি?

কারিমাঃ তুই ধরেই দেখ,,তোর হাত আমি কেটে ফেলবো😠😠

আমিঃ এই তুমিকি এখন আমার সাথে ঝগড়া করতে আসছো?

কারিমাঃ তোর সাথে ঝগড়া করতে যাবো কেনো,,,আমি শুধু বলতে আসলাম তুই সাবধানে থাকবি। ওর দিকে ভুলেও তাকাবি না😡

আমিঃ হইছে আর পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে হবে না। আমি ওর দিকে তাকাবো না। হইছে??

কারিমাঃ হুম☺

আমিঃ আরো কিছু বলবে?

কারিমাঃ কেনো? আমি আছি বলে তোর ভালো লাগছে না? নাকি ডিসট্রাব হচ্ছিস

আমিঃ কোনোটাই না। আমি শুধু জিজ্ঞেস করলাম,,

কারিমাঃ হইছে থাক তুই আমি গেলাম

বলেই চলে গেলো। কিন্তু একটা বিষয় বুঝলাম না,,এখন এসে ঝগড়া করার কারন কি,,,আর আমি সায়মাকে ধরছিলাম তাতে ওর কি?

যাক অবশেষে গল্প লিখা শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লাম,,আর খুব সকালেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো,,এতো সকালে আমার কখনোই ঘুম ভাঙে না। বের হয়ে দেখি মামি রান্না করছেন,,আমাকে দেখে

মামিঃ কি আকাশ এতো সকালে ঘুম ভেঙে গেলো,,ঘুম ভালো হয়নি?

আমিঃ না মামি৷ আসলে অ
নতুন যায়গাতো তাই

মামিঃ ভালো হয়েছে উঠে পড়েছো,,বাহিরে গিয়ে দেখো আরো ভালো লাগবে,,

আমিঃ জি মামি,,

বাহিরে গিয়ে দেখি সায়মাও ঘুম থেকে উঠে পড়ছে,,আমাকে দেখে গুড মর্নিং উইশ করলো,,

সায়মাঃ ভাইয়া এতো সকালে তুমি উঠে পড়ছো

আমিঃ হুম,,

সায়মাঃ ভালো করেছো,,,ভাইয়া খেজুরের রস খাবে?

((মনে মনে বললমঃ আমার পছন্দের রস কি কারিমা খুব ভালো ভাবেই জানে☺😇কারিমা ঠিক বললামতো?😉))

আমিঃ এইখানে পাওয়া যায় নাকি?

সায়মাঃ হুম চলো যাই,,

আমিঃ আচ্ছা চলো,,কিন্তু কতোদূরে?

সায়মাঃ বেশি দূরে না,

বের হলাম,,

নানুদের বাসা গ্রামের মধ্যে। চারিদিকে সবুজ ক্ষেত,,সকালের শিশিরে ঘাস ভিজে আছে। নানুর বাসা থেকে বেরিয়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে হেটে যাচ্ছি আর শিশিরে পা ভিজে যাচ্ছে। সত্যি অসাধারণ লাগছে

তারপরে গিয়ে পৌছালাম গন্তব্যে। দুইজনে মিলে গাছতলায় বসেই খেলাম,,আর দুই হাড়ি বাসায় দিয়ে আসতে বললাম।

সকালের নাস্তার সময় আমি আর সায়মা গল্প করতে করতে বাসায় ঢুকছিলাম। বাসার গেটেই দেখি এক দজ্জাল দাড়িয়ে😁 (কারিমা) চোখ যেনো লাল হয়ে আছে,,আমাদের দুই জনের হাত ধরা দেখে আরো ক্ষেপে গেছে,,,মনে হচ্ছে 😈😈😈

(চলবে........)

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad