লেখকঃ সিয়াম হোসেন
সকালে ঘুম থেকে উঠে টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই কিছুটা অবাক হলাম৷ টেবিলের উপরে চায়ের কাপ রাখা তার মধ্য থেকে ধোয়া বের হচ্ছে৷ তারমানে ভিতরে চা কিন্তু আমি তো সকালে চা খাই না বাসার সবাই জানে তাহলে কে রাখলো৷ বড়ই অবাক করা বিষয়৷
- মা ও মা ( জোড়ে ডাক দিয়ে)
- কি হয়েছে ডাকছিস কেনো
- বলছি চায়ের কাপ এই খানে কেনো জানো না আমি সকালে চা খায় না
- ওহ্ মনে হয় ও জানে না
- এই ও টা আবার কে?
- ও টা হচ্ছে তোর আপুর বান্ধবী
- আপুর বান্ধবী কে?
ভাবছি সাদিয়া আপু নয়তো৷
- নিচে আছে চা-টা খেয়ে দেখ অনেক মজা হয়েছে আর তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় সবাই খাবার জন্য অপেক্ষা করছে।( বলেই মা বেরিয়ে গেলো)
চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে চুমুক দিলাম৷ আসলেই চা-টা অনেক সুন্দর হয়েছে৷ তবে আপুর এই বান্ধবীটা কে৷ সাদিয়া নয়তো কিন্তু সাদিয়ার সাথে তো আপুর তেমন আর সম্পর্ক নেই ও কেনো আসবে৷ দেখার ইচ্ছা হচ্ছে ঘরের দরজায় দাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করলাম৷ কিন্তু না দেখা যাচ্ছে না বোধ হয় রান্না ঘরে আছে৷
তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসতেই হাতে খাবার নিয়ে সবাই টেবিলে আনতে লাগলো৷ আমি তো দেখে চক্ষু কপালে উঠার মতো অবস্থা সাদিয়া আসছে আমাদের বাড়ি৷ তার উপরে আপু নিয়ে আসছে মনে মনে অনেক রাগ উঠছে৷ ইচ্ছা করছে খাবার টেবিল থেকে উঠে যায় কিন্তু সামনেই বাবা বসে তাই উঠছি না৷ তবে সাদিয়া আমার বাসায় কেনো৷ কালকে রাতেই না ওকে অন্য একটা ছেলের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখলাম আর আপু আজকেই ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসছে৷ ভাগ্য ভালো যে মা বাবা সাদিয়াকে চিনতো না নাকি মা বাবাকে বলে দিয়েছি বিষয়টা কিন্তু আমার যতদূর ধারণা বাবা কোনো ভাবেই সহজে রাজি হবেন না তাহলে।
- সিয়াম কেমন আছো ( সাদিয়া)
- জ্বী ভালো ( মাথা নিচু করে উত্তরটা দিয়ে খাবার গালে দিলাম)
খাবারের স্বাদটাও কেমন যেনো আলাদা মনে হচ্ছে ঝাল পরিমাণে বেশি৷
- উহ্ মা ঝাল কে রান্না করছে ( বলেই পানি খেলাম)
সাদিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেমন যেনে হতাশা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷ বোধ হয় রান্নাটা সে করেছে৷
- উফ এতো ঝাল জিহ্বা পুড়ছে এখনও৷
আপু আর বাবার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তারা চুপচাপ খাচ্ছে৷
- সামান্য ঝাল বেশি তুমি খেতে পারো না কেমন ছেলে তুমি ( বাবা)
কিছুটা চুপ হয়ে গেলাম৷ সাদিয়াকে দেখলাম সে খাওয়া বাদে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷
- কিছু মনে করো না মা ও ঝালটা একটু কমই খায় ( বাবা সাদিয়াকে বললো)
- আমার কিছুটা কম দেওয়া উচিত ছিলো( সাদিয়া)
- চিন্তা করো না
আমি আর খাবার খেলাম না সেখান থেকে উঠে নিজের রুমে চলে আসলাম৷ মাথায় এলো না সাদিয়া আসলোই বা কেনো আর রান্নাটাও করছে৷ নিজের রুমে বসে আছি৷
- সিয়াম একটু ছাদে আয়তো (আপু)
- আগে বল সাদিয়া আমাদের বাসায় কি করছে৷
- তোকে ছাদে আসতে বলেছি চল যা বলার সেখানেই বলিস৷
আমি আর কিছু না বলে আপুর পিছু পিছু ছাদে উঠে গেলাম৷ সাদিয়া ছাদের এক কোনায় দাড়িয়ে আছে৷
আপুর সাথে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম দেখে মনে হচ্ছে কান্না করছিলো চোখের কোনে পানির দাগ জমে আছে৷
- কেমন আছো সিয়াম
- তখনই বলেছি খাবার টেবিলে
- রেগে আছো
- অধিকারটা হারিয়ে গেছে৷
- সিয়াম বিশ্বাস করো কালকে তুমি আমার সাথে যে ছেলেটাকে দেখেছিলে সে আমার কাজিন ছিলো আর তার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো বলে দাওয়াত দিতে আসছিলো।
- বাহ্ কাজিন বুঝি হাতে করে খাইয়ে দেয়৷
- সেটা ও জোড় করে দিয়েছিলো সম্মানের খাতিরে খেয়েছি৷ তোমার আপুকে জিজ্ঞাসা করে দেখো ও ছেলেটার সাথে কথা বলেছে৷
আপুর দিকে তাকালাম সে হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো।
- তা না হয় বুঝলাম তবে তুমি যে আমাকে ভালোবাসো না সেটা আমি বুঝতে পারছি৷
সাদিয়া বোধ হয় অবাক হলো আমার কথাটা শুনে।
- মানে কি বলছো সত্যিই আমি তোমাকে ভালে বাসি৷ ( মায়াবী ভাবে)
- দেখো সাদিয়া আবেগ দিয়ে না তুমি লজিক্যালি আমাকে উত্তর দিবে শুধু হ্যা অথবা না তে ঠিক আছে৷
- হুমমম
- তোমার বাবা তোমার বিয়ে ঠিক করেছিলো আর তুমি তাতেই রাজি ছিলে তাইতো
- হ্যা
- আচ্ছা তুমি যদি আমাকে ভালো বাসতে তাহলে বিয়েতে রাজি হতে না কিন্তু তুমি হয়েছো তাহলে কিভাবে বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো৷
- আমি তখন বুঝতে পারিনি তবে এখন বুঝতে পারছি৷
- বাদ দাও পয়েন্টে আসি তোমার যে ছেলের সাথে বিয়ে হবার কথা ছিলো সে যদি আজ পালিয়ে না যেতো তাহলে নিশ্চয় তার সাথে তোমার এতদিনে বিয়ে হয়ে যেতো কিন্তু সে পালিয়ে যাওয়ায় তা হয় নি৷ আর তোমার বিয়েটা ভেঙে যাওয়া তুমি ও তোমার পরিবার কিছুটা অসম্মানিত হয়েছে৷ আর তুমিও ভেঙে পড়েছো তো তোমাকে এখন একজনের সাপোর্ট দরকার আর তুমি জানতে আমি ছাড়া সেটা কেউ দিতে পারবো না কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসতা৷ সেই জন্য তুমি আমার কাছে ফিরে এসেছো তাই নয়কি...
- সিয়াম বোঝায় চেষ্টা করো৷
- হ্যা অথবা না তে উত্তর দিতে বলেছি কোনটা৷
- তোমার প্রশ্নের উত্তর আমি কোনটা দিবো ভেবে পাচ্ছি না৷
- যে কোনো একটা দাও৷
- হ্যা (মাথাটা নিচু করে)
- তাহলে তোমার ভালোবাসাটা কোথায় আমার প্রতি৷
সাদিয়া যেনো আমার দিকে অবাক হয়ে তাকালো৷ আপুও তাকিয়ে আছে৷
- সাদিয়া আপু তুমি শুধু আমার সাথে মজা করেছিলে আর আমিও কিছুটা অবুঝের মতো থাকতাম বলেই তুমি আমার সাথে ছিলে
- সিয়াম আমার ভুল হয়ে গেছে আমার বোঝা উচিত ছিলো তুমি এতটা কষ্ট পাবে তাহলে ছেড়ে যেতাম না কিন্তু আমার অবস্থাও তখন ভালো ছিলো না বাবা হুট করেই যখন আমার বিয়ের কথাটা বললো তার চোখে মুখে বেশ আনন্দের ভাব ফুটে উঠেছিলো যা আমি আগে কখনই দেখিনি৷ তাই বাবার খুশির কথা চিন্তা করি আমি তাকে না করতে পারিনি৷ আর সে জন্যই তোমাকে ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম৷ তবে কষ্ট আমিও পেয়েছি সেটা তুমি দেখোনি বিশ্বাস করো আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসতাম৷ ( বলতে বলতে কান্না করে দিয়েছে)
নিজের কাছে কিছুটা মায়া লাগছে ইচ্ছা করছে তাকিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে দেই আমিও তাকে ভালোবাসি তবে না তাকেও কিছুটা কষ্ট পেতে হবে তার জানা উচিত ভালোবাসার মানুষ কষ্ট দিলে কেমন লাগে৷
সাদিয়া কিছু না বলে মন খারাপ করে ছাদ থেকে চলে গেলো৷
- এই ঝামেলাকে কেনো বাড়িতে আনলি তুই।
- ও ওর ভুল বুঝতে পারছে৷
- রাখ তোর ভুল বুঝাবুঝি কতদিন সহ্য করতে হবে সেটা বল৷
- ১ মাস ওর মা বাবা বাইরে গেছেন ওকে নিয়ে যেতে চাইলে ও যায় নি তোর সাথে থাকবে বলে আমার এখানে চলে আসছে৷
- আপু তুই জানিস বিশ্বাসের মর্যাদা যে রাখতে পারে না তাকে আর ভালোবাসতে মন চায় না৷
- ১ মাস থাকুক দেখ ও সত্যিই তোকে ভালোবাসে কিনা বুঝতে পারবি৷
- হয়েছে চল ভার্সিটিতে যেতে হবে৷
রেডি হয়ে ভার্সিটিতে যাবো রিক্সায় উঠে বসে আছি আপুর জন্য৷ দেখি সাদিয়া দৌড়ে এসে রিক্সায় বসলো৷
- একি আপনি কেনো আসলেন আপু আসবে৷
- তোমার আপু যাবে না এই মামা জানতো ( রিক্সাওয়ালাকে বললো)
- ঠিক আছে আপনি জান আমি অন্য রিক্সায় আসছি৷
- চুপ চাপ বসে থাকবি একটা কথাও বলবি না সকাল করে কাঁদিয়েছিস মেরে তকত্তা বানিয়ে দিবো ( রাগী ভাব নিয়ে)
আমি তো হা করে তাকিয়ে আছি বলেকি৷ আমাদের বাসায় থেকে আমি যে রিক্সা ঠিক করেছি সেটাতেই উঠে আমাকে রাগ দেখাচ্ছে৷
নিচ দিয়ে মনে হচ্ছে সাদিয়া চিমটি দিচ্ছে৷
- ভালো হবে না বলে দিচ্ছি
- কি ভালো হবে না হ্যা ( মিটমিট করে হাসছে)
- আপনি আমাকে চিমটি কাটছেন কেনো৷
- উলে বাবালে চুপ থাক৷
কোনো রকম সহ্য করে ভার্সিটির কাছে আসতেই রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে দিলাম দৌড়৷
- আরে সিয়াম দৌড় দিচ্ছো কেনো কি হয়েছে ( নীলা গেটের কাছ থেকে)
- আর বলো না পাগলা কুত্তা থুকু কুত্তী দৌড়ানি দিছে।
- কোথায় দেখছি না তো ( নীলা আমার পিছনে তাকিয়ে)
চোখ দিয়ে আমাকে কি যেনে ঈশারা করছে তাকিয়ে দেখি সাদিয়া৷ কিছু শুনে নেয়নি তো আবার৷
- এই মেয়ে সিয়ামের সাথে তোমার কি হ্যা৷ ( সাদিয়া রাগী ভাবে)
- ও আমার বন্ধু নীলা চলো তো ( আমি বলেই নীলার হাত ধরে হাটা দিলাম)
সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেমন যেনো লুচির মতো ফুলছে৷ চোখ দেখে মনে হচ্ছে কাছে থাকলে বোধ হয় কাঁচাই খেয়ে ফেলবে এমন ভাব৷ আমার সেটা দেখার বিষয় না নীলাকে নিয়ে ক্লাসে চলে আসলাম৷
চলবে...
No comments:
Post a Comment