লেখকঃ শ্রাবন রায়
একদিন সকালে আমাদের বাসায় আমার মামা আর মামি আসে। আমার কাছে ব্যাপারটা খটকা লাগে। কারন মামা মামি আমাদের বাসায় দীর্ঘ ২ বছর পর এল। ( আরেকটা কথা মিম খুব যেদি মেয়ে। কারন মামার একমাত্র মেয়ে যখন যা চেয়েছে তাই পেয়েছে।) আমি ভাবলাম মিম বোধহয় আসতে বলছে তাই আসছে। এইসব ভাবতেছিলাম তখন-
মামা- শ্রাবণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবিস.???
আমি- কিছু না মামা। তোমার কেমন আছ???
মামা- ভালো। তোর লেখাপড়া কেমন চলছে??
আমি- ভালো। এই ভাবে কিছু কথা বলে রুমে চলে আসলাম। কিছু সময় মোবাইল চালিয়ে দুপুরে একটা ঘুম দিলাম। বিকালে উঠে বাজারে গেলাম। কিছু সময় আড্ডা দিয়ে বাসায় এলাম। এসে দেখি সকলে ড্রইংরুমে বসে গল্প করছে। আমি যোগ হলাম। আরও কিছু সময় গল্প করে, ভাত খেয়ে রুমে গেলাম। মোবাইল চালাচ্ছি ঠিক তখন মিম আমার রুমে এল।
আমি- একি এত রাতে তুই আমার রুমে কেন??
মিম- আমি তোমাকে আজ একটা কথা বলব আর যদি তুমি না মান তাহলে তোমার সাথে খুবই খারাপ হবে।
আমি- হাহাহা আমি শুনব তোর কথা?? হ্যা তা কি কথা বল।
মিম- আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে আমায় ভালোবাসতে হবে।
আমি- না তা কোনদিনও সম্ভব নয়।
মিম- তোকে শেষ বারের মতো বলছি রাজি হয়ে যা। (হটাৎ তুমি থেকে তুই)
আমি- সম্ভব নয়। এরপর মিম যা করল সেটার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমার জীবন পাল্টে দেওয়া একটা ঘটনা। (আর আপনাদের একটা কথা বলি, নিজের যেদ বা স্বার্থের জন্য অন্যকে ব্যবহার করা বন্ধ করুন। এতে আপনার কিছু না হলেও অনেকের জীবন বদলে যেতে পারে।) মিম কিছু না বলে দরজা লাগিয়ে দিল।
আমি- মিম তুই দরজা বন্ধ করলি কেন??
মিম- তুই শুধু দেখ আমি তোর কি করি....
আমি- কিছু বলার আগেই মিম তার জামা টেনে টেনে ছিরে ফেলল। আর জোরে জোরে চিল্লাতে লাগল। বাড়ির সকলে আমার রুমের দরজায় চলে আসল।(মামা,মামি,আব্বু,আম্মু,ভাইয়া) এরপর মিম আমাকে বিছনায় ফেলে দিয়ে আমার উপরে শুয়ে পরল। এমন ভাবে শুয়ে পরল যে দেখে মনে হয় আমি জোর করে তাকে ধরে রেখেছি। ভাইয়া আর মামা কোন উপায় না পেয়ে দরজা ভেঙে ফেলল। এরপর সকলে রুমে এসে দেখে তাদের নিজের চোখে সব দেখল৷ মিম দৌরে গিয়ে মামির পিছে দারাল। দেখে মনে হচ্ছে ভয় পেয়েছে। এরপর আম্মু তার কাপর দিয়ে মিমকে ঢেকে দিল। আমি কিছুই বুঝে উঠার আগে ভাইয়া আমাকে এসে ঠাসসসসসস ঠাসসসস করে দুইটা চর দিল। (আসলে আপনারা ভাবছেন একজন পুরুষ হয়ে কি করে একটা মেয়ের সাথে পারলাম না। আসলে সব দেখতে দেখতে হয়ে গেছে কিছু বুঝে ওঠার আগে।) আমি কিছু বলছি না শুধু চুপ করে আছি। ------
আব্বু- শ্রাবণ তুই কিনা.... ছি
আমি- তোমরা বিশ্বাস করো আমি কিছু করি নাই।
ভাইয়া- চুপ একদম চুপ তুই কিছু বলবি না।
আমি- আম্মু তুমি.........আর কিছু বলতে না দিয়ে
আম্মু- চুপ একদম চুপ তোকে আমরা মানুষ করতে পারি নাই। তোর আব্বু ঠিক বলে আমার কারনে আজ তুই ছি ছি(কেদে দিয়ে)
আমি- চুপ....
মামা- ছি ছি ছি,,,,,,, আজ যদি আমরা এখানে না আসতাম তা হলে তো জানতেই পারতাম না যে আপনাদের ছেলে এই রকম...???অমানুষ কোথাকার। একে তো জেলে দেওয়া উচিত।
মামি- শ্রাবণ তোকে আমরা নিজের ছেলের মতো দেখতাম। আর তুই এই তার প্রতিদান দিলি।
আমি- চুপ(আজ আমি সত্যিই খুব অসহায়। কারন আমার কথা কেউ শুনবে না। কোন প্রমান নেই আমার কাছে তাই হয়তো)
আব্বু- আপনারা আমাকে মাপ করে দেন। আমি আমার ছোট ছেলেকে মানুষ করতে পারি নাই। (হাত জোর করে)
মামা- আপনি এখনো বলছেন যে কোন বিচার না করে ওকে মাপ করে দিতে..???
আব্বু- চুপ(মাথা নিচু করে)
ভাইয়া- মামা তুমি চিন্তা কর না, আমরা ওকে শাস্তি দিব। এমন শাস্তি দিব যে আর কোন দিন কোন মেয়ের দিকে তাকাতে হলে দশবার ভাববে।
আব্বু- হ্যা তুই ঠিক বলছিস??
আমি- আব্বু
আব্বু- তুই অই মুখ দিয়ে আর কোন দিন আমাকে আব্বু ডাকবি না।
আমি- 😭😭😭
আব্বু- আজ থেকে আমার ছেলে একটা। তুই আজ থেকে আমার ছেলে না।
আম্মু- হ্যা তুমি ঠিক বলছ। আজ থেকে তুই আমাদের কেউ না।😢😢
আমি- আম্মু😭😭
ভাইয়া- চুপ একদম চুপ😠। তুই এখনই আমাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যা৷
আমি- 😢😢😢😢
আব্বু- আর কোন দিন যদি আমাদের সামনে আসিস তাহলে তুই আমার মরা মুখ দেখবি। 😢
আমি- ওকে। তোমরা ভালো থেকো😂( হাসতে হাসতে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম) আজ নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। আসার সময় আম্মুর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু আম্মু কিছু বলল না। যে আম্মু কখনো আমাকে বিকে পর্যন্ত নি। সেই আম্মু আমাকে তেজ্জপুত্র করল।(হায়রে দুনিয়া। তবে আমি আম্মুকে খারাপ বলছি না। পৃথিবীতে আম্মুর থেকে আপন আর কেউ নেই। শুধু গল্পের খাতিরে লিখলাম)আমি আর কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হলাম। (সময় বিকাল ৫টা)। আমার কাছে এখন আছে শুধু একটা মোবাইল,৫হাজারের মতো টাকা আর কিছুই নেই। তাই আমার শিমলার কথা মনে পরল। ওর কথা ভাবতেছি তখনই দেখি ও আমার সামনে। চোখ দুটো লাল। বোধহয় কেদেছে। কিন্তু কেন। আর কোন কথা না বলে আমি ওর কাছে গেলাম।
আমি- আমার তোমাকে কিছু বলার আছে??
শিমলা- কুত্তার বাচ্চা, না তুই পাপি তোর আব্বু তো আর পাপ করে নাই।
আমি- কি বলছ তুমি এইসব( গায়ে হাত দিয়ে)ওমনি ও আমাকে ঠাসসসস ঠাসসসস করে দুটি চর দিল।
শিমলা- আমি তোকে কত ভালোবাসতাম আর তুই কিনা এতটা নিচ।
আমি- তুমি আমার কথাটা তো শুনো।
শিমলা- চুপ। আমার শরির তো ছিল। তোর যদি এতই লোভ ছিল তাহলে আমাকে বলতি।
আমি- তুমি প্লিজ আমায় ভুল বুঝ না।
শিমলা- ভুল তো তোকে আমি আগে বুঝেছি। যা আমার সামনে থেকে চলে যা। আর কোন দিন আসবি না😭😭
আমি- যাচ্ছি তবে মনে রেখ আমি কোন ভুল করি নাই। আর যেইদিন তুমি তোমার ভুল বুঝতে পারবে সেইদিন অনেক দেরি হয়ে যাবে।
আমি- মনে রেখ কথা গুলো। আমি তোমার কাছ থেকে এটা আশা করি নাই। যাবার আগে শুধু একটা কথা বলব I love u.... নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি তোমায়। ভালো থেকো। আলবিদা 😢😢😭
শিমলা- 😭😭😭
আমি আর কিছু না বলে চলে আসি। পিছনে ফিরে আর তাকাই নি। প্রায় ১ ঘন্টা ধরে হাটতেছি। রাত হয়ে গেছে। তাই একটা বাসএস্টান্ডে বসে পরলাম আর ভাবতে থাকলাম----------
(আমি কি সেই শ্রাবণ যে কিনা আম্মু ছারা কিছু বুঝত না। আর আজ সেই আমি আম্মুর কাছ থেকে চির বিদায় পেলাম। যে শিমলা যাকে কিনা আমি আমার জীবনের থেকে বেশি ভালোবাসতাম। আর আজ সেই শিমলা। না আমারই ভুল। যে আম্মু,আব্বু,ভাইয়া আমায় ভুল বুঝে আর কোথায় শিমলা। এই সকল কিছু ভাবতে ভাবতে রাত ১ টার বেশি বেজে গেল। ( আপনারা হয়তো ভাবছেন এইটুকে কথায় রাত ১ টা বেজে গেল। আরে এইরকম অনেক কথা চিন্তা করছি তাই। যেগুলা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়) এইবার আসুন বাস্তবে-------
এরপর তো আপনারা সব জানেন।
মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ১ টা বেজে ৪৬ মিনিট। কি করব কিছুই বুজতেছি না। আপনারা হয়তো কিছুই বুজতেছি না। ঠিক তখনই.........
চলবে..



No comments:
Post a Comment