লেখকঃ শ্রাবন রায়
ঠিক তখনই এক লোক এসে জিজ্ঞেস করল -----
লোকটি- বাবা তোমায় সেই সন্ধ্যা থেকে দেখতেছি এখানে বসে আছ। কোন সমস্যায় পরেছ??
আমি- হ্যা আংকেল। আমি বাস মিস করছি। আর কোন কিছু চিনি না। যাবার কোন জায়গা নেই তাই বসে আছি। ( মিথ্যা বললাম। কারন আমার আজ রাতটার জন্য হলেও একটা বাসস্থান দরকার)
লোকটি- (কিছু সময় ভেবে) বাবা তুমি আমার সাথে আস।
আমি- না আংকেল শুধু শুধু আপনি কেন আমার জন্য কষ্ট করবেন। ( একজন বললেই তো আর যাওয়া যায় না,, তাই একটু না করে দেখি)
লোকটি- বাবা তুমি আমার ছেলের মতো। তুমি আস আমার কোন সমস্যা হবে না। আমার এখানে একটা চায়ের দোকান আছে। সেখানে আমি থাকি।
তুমিও থাকতে পারবে কোন সমস্যা
হবে না।
আমি- আংকেল আপনাকে যে কি করে ধন্যবাদ দিব বুঝে পাচ্ছি না।
লোকটি- বাবা ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই। তুমি আস অনেক রাত হয়ে গেছে।
আমি- ওকে আংকেল চলুন।
দোকানে গিয়ে দেখি ছোটখাটো একটা টং দোকান। তবে ভিতরে দুইজন থাকা যাবে। আমি ভাবতে লাগলাম যে আমি এসি রুম ছারা ঘুমাই নাই। আর আজ সেই আমি কিনা। আসলে পরিস্থিতি মানুষকে সব শিখিয়ে দেয়।
আমি আংকেল কে জিজ্ঞেস করলাম
আমি- আংকেল আপনার ছেলে মেয়ে নেই??
আংকেল(লোকটি)- ছিল বাবা।
আমি- তারা কোথায়??
আংকেল- তারা সকলে আমায় রেখে উপরে চলে গেছে একটা রোড এক্সিডেন্টে।
আমি- সরি আংকেল। আমি বুঝতে পারি নি।
আংকেল- কোন ব্যাপার না।
আমি- আংকেল কাল ঢাকার বাস কয়টায়???
আংকেল- সকাল ৮ টায়।
আমি- টিকিট কত করে.???
আংকেল- ৫০০ টাকা।
আমি- ওকে আংকেল আপনি ঘুমান।
অনেক রাত হয়েছে। এরপর আমিও কিছু
কথা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে
পরলাম।
সকালবেলা আমার আগে ঘুম ভেঙে গেল। ভাবতেই অবাক লাগে তাই না। যে আমি ৯ টা ১০ টা ছারা ঘুম থেকে
ঊঠতাম না। আর আজ
এত সকালে উঠে গেলাম কিভাবে। কারন মনে এত চিন্তা থাকলে আর ঘুম কি করে হবে। এরপর থেকে হয়তো আমাকে আর সকালে উঠতে হবে। কারন আমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে সবাইকে। জানি সেটা সম্ভব নয়। কিন্তু স্বপ্ন নিয়েই বেচে থাকে মানুষ।
এইসব ভাবতে ভাবতে বাইরে গিয়ে
টিউবওয়েল এর পানি দিয়ে
ফ্রেশ হয়ে আসলাম। এসে আংকেল এর দোকান থেকে এককাপ চা আর বিষ্কুট খেলাম। আংকেলকে অনেক বলে টাকাটা দিলাম। এরপর টিকিট কেটে ফেললাম। এরপর ফোন দিলাম বাপ্পি কে। স্কুল ফ্রেন্ড।
ও এখন ঢাকা থেকে লেখাপড়া করে। একটা দোকানে কাজ করে শুনেছিলাম। তাই ওকে কল দিলাম।
কিছুক্ষণ পরে রিং হয়ে রিসিব করে বলল ---------
বাপ্পি- কি হারামি,,, কি খবর তোর??
আমি- বন্ধু খবর ভালো না।
বাপ্পি- কি হয়েছে বল??
আমি- দোস্ত তোকে একটা বিপদে পরে ফোন দিছি।
বাপ্পি- হুম বল
আমি- আমাকে বারি থেকে বের করে দিছে।
বাপ্পি- কেন?? কি করছিস। মেয়ে কেচ নাকি??
আমি- আমি সিরিয়াস
বাপ্পি- ভাই কি বলিস। আন্টি(আম্মু) কিছু বলে নাই??
আমি- দোস্ত ফোনে টাকা নাই। তোকে পরে বলবানি। তার আগে বল
তোর কাছে কি আমায় কিছুদিন থাকতে দিতে পারিস??
বাপ্পি- দোস্ত তুই এইভাবে বলিস কেন। আমি কি তোর পর কেউ? আমি তোর ভাই। ভাই হয়ে ভাইকে যদি সাহায্য না করি তো কিসের
ভাই আমি???
আমি- ভাই?😭😭
বাপ্পি- কাদিস না দোস্ত। টিকিট কাটছিস??
আমি- হুম। ৮ টায় রওনা দিব। বিকাল ৪ টার দিকে পৌছাব।
বাপ্পি- হুম ভাই। তুই আয় আমি বাসস্ট্যান্ডে তোর জন্য অপেক্ষা করবানি।
আমি- ওকে বায়।
বাপ্পি- ভালোভাবে আসিস কেমন। বায়।
এরপর ফোন কেটে
দিলাম। এখনো অনেক কাজ আছে। তাই একটা সিমের দোকানে গেলাম। সেখানে গিয়ে নতুন একটা সিম কিনলাম ৩০০ টাকা দিয়ে। এরপর পুরান সিমটা
খুলে ভাংতে যাব তখন
বাসার কথা মনে পরল যে কেউ
একবারও ফোন দিল না।
কোথায় আছি? কিভাবে
আছি?
আর কিছু না ভেবে সিমটা ভেঙে ফেলে দিলাম।
এরপর নতুন সিম ফোনে ভরে আমার সকল বন্ধুদেরকে জানিয়ে দিলাম যে আমি ঢাকা যাব বাপ্পির কাছে৷ সবাই ভুল বুজলেও ওরা কেউ আমায় ভুল বুঝে নাই। সবাই জানে আমি ফাজিল হলেও এতটা নিচু না যে কোন মেয়ের লাইফ শেষ করে দিব। তাই সকলে বলে বন্ধু ছারা লাইফ ইম্পসিবল। আমি আজ বুঝলাম। আর সকলকে বলে দিলাম কেউ আমার খোজ
করলে যেন ওরা কিছু
না বলে। এরপর হিসাব করতে লাগলাম আমার কাছে আর মাত্র ৪,১৫০ টাকা আছে। এবং আমার আরেকটি কথা মনে পরে গেল যে আমার
বিকাশ একাউন্টে
১৫ হাজার টাকা আছে। আমি
ভাবলাম সময় অসময় লাগতে পারে
তাই আর উঠালাম না।
মোবাইলে তাকিয়ে দেখি ৭ টা বেজে গেছে। তাই আমি দ্রুত করে আমার সেই চিরচেনা কলেজে গেলাম। আর কলেজটা এখান থেকে কাছে। কলেজের গেট দিয়ে ঢুকার সময় সকলে আমার দিকে কেমন ভাবে তাকাছিল। মানে কিছু স্টুডেন্ট সকালে কসিং করে তারা। আমরা বুঝতে বাকি রইল না। যে সবাই জেনে গেছে। কারন আব্বু একজন ভালো ব্যবসায়ী তাই। আমি আর কিছু না ভেবে সোজা প্রিন্সিপাল এর রুমে গেলাম।
আমি পারমিশন নিয়ে
ভিতরে গিয়ে টিছি চাইলাম স্যারের কাছে।
স্যার- টিছি তো তোমায় আমি এমনিই দিতাম। তার আগে তোমায় আমি কিছু কথা বলতে চাই।
আমি- জ্বী স্যার বলেন।
স্যার- আমি আগে থেকেই জানতাম
তুমি একটা বাজে ছেলে।
কিন্তু তুমি যে এতটা নিচ তা আমি
জানতাম না।
তোমার লেখাপড়া আমি
চিরদিনের জন্য শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু তা আমি করি নাই। কারন তুমি শুধুমাত্র শফিক সাহেবের(আব্বু) ছেলে দেখে তোমায় আমি মাপ করে দিলাম। এই নাও তোমার টিছি।
আমি- স্যার ধন্যবাদ। আমি আপনারা কথা কোন দিন ভুলব না। পারলে মাপ করে দিয়েন। বলেই
বের হয়ে আসলাম মুখ লুকিয়ে।
বাস ছারতে আরমাত্র ২ মিনিট বাকি। আমি বাসে বসে রয়েছি আর ভাবতেছি আর মাত্র কিছু সময় পরে রওনা দিব অচেনা শহরের দিকে।
যেখানে আমায় কেউ চিনবে না।
থাকবে না শিমলার মতো বিশ্বাসঘাতক
থাকবে না মিমের মত বেইমান।
এই সব ভাবতে ভাবতে বাস
ছেরে দিল। এরপর.....
চলবে..



No comments:
Post a Comment