বাসায় ঢুকে জান্নাত কে৷ কিছু চকলেট দিয়ে আমার রুমে চলে গেলাম।
ফ্রেশ হয়ে ছাদে চলে গেলাম। এক কাপ কপি নিয়ে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতেছি। আর ভাবতেছি কত বছর নিজের পরিবার থেকে দূরে।
অপরদিকে শিমলা জান্নাত কে ফোন দিল--
শিমলা- জান্নাত কেমন আছ?
জান্নাত- হুম আপু ভালো। তুমি??
শিমলা- হুম ভালো। তোমার ভাইয়া কোথায়??
জান্নাত- ছাদে বসে আছে।(আমাকে ফোন দেবার আসল কারন তাহলে এটা)
শিমলা- অহ। তোমার ভাইয়া কি কারো সাথে প্রেম ভালোবাসা করে নাকি??
জান্নাত- না আপু(হাহাহা)
শিমলা- ওহ। (আমার রাস্তা তো ফাকা)
জান্নাত- আপু একটা কথা বলব?
শিমলা- হুম বল।
জান্নাত- আপু তুমি কি ভাইয়াকে লাভ কর???
শিমলা- কিছুক্ষণ পরে। হুম

জান্নাত- তাই তো ভাবি এত ভাইয়া ভাইয়া কেন কর...
শিমলা- হুম। তোমার পড়াশোনা কেমন চলে??
জান্নাত- ভালো না।
শিমলা- কেন???
জান্নাত- কে পড়িয়ে দেবে?? ভাইয়া তো বাসায় থাকে না।(দেখি কি বলে?)
শিমলা- তুমি চিন্তা কর না। তোমার ভাবি আসতেছে কিছু দিন পরে সে পরাবে।

জান্নাত- হুম। আমিও তো তাই চাই ভাবি।(যা ভাবছিলাম তাই)
শিমলা- হুম। ওকে বায়
জান্নাত- হুম আপু বায়।
আমি কপি শেষ করে রুমে এলাম। রাত হয়ে গেছে।
তাই জান্নাত কে নিয়ে পড়তে বসলাম।
এটা রোজকার রুটিন। কিছু করি আর না করি জান্নাত জে রোজ পড়াই।
এরপর রাতের খাবার খেয়ে জান্নাত কে পড়তে দিয়ে আমি রুমে চলে এলাম।
কিছুক্ষণ পরে ম্যাডাম কল দিল--
ম্যাডাম- ওই কি কর??
আমি- কে আপনি..??(না জানার ভান করে। কারন নাম্বার সেভ করা নেই)
ম্যাডাম- অই তুমি আমায় চিন না??
আমি- আপু আপনি কে??(রাগানোর জন্য)
ম্যাডাম- ওই আমি তোর আপু লাগি???
আমি- সরি আপু রং নাম্বার।
ম্যাডাম- ওই ফোন কাটবি না আমি শিমলা।
আমি- ওহ ম্যাম কেমন আছেন??
ম্যাডাম- অই চুপ। একদম চুপ থাক তুই। মজা করিস আমার সাথে?? কাল অফিসে আয় তোকে দেখাব মজা।
আমি- সরি ম্যাম। (বেশি রেগে গেছে মনে হয়)
ম্যাডাম- আবার ম্যাম ডাকা হচ্ছে?? কাল আয় তুই? বলে কেটে দিল।
শিমলার সেই পুরনো অভ্যাস গুলো রয়ে গেছে। ওকে রাগাতে আমার খুব ভালো লাগে।
কিন্তু আমায় এখন এই সব ভুলে যেতে হবে। আবেগে জরিয়ে গেলে চলবে না।
আর কিছু না ভেবে গুমিয়ে গেলাম।
সকালে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম। আমি আর জান্নাত আপু খেয়ে নিলাম।
দুজনে বেরিয়ে পরলাম।
অফিসে এসে সকলের সাথে কিছু কথা বললাম। রহিমের সাথে কিছুক্ষণ মজা করলাম।
নিজের ডেস্কে বসে আছি।
কোন কাজ নেই। ম্যামের ডাক পরল
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- হুম আয়। (রেগে)
আমি- ভয়ে জি ম্যাম বলুন??
ম্যাডাম- কিছু না বলে নিজের কেবিনের দরজা দিয়ে দিল।
আমি- ম্যাম কি করছেন???
ম্যাডাম- কিছু না বলে আমার ঠোঁট আর ম্যামের ঠোঁট এক করে দিল।
আমি ছারানোর চেষ্টা করতেছি। কিন্তু পারতেছি না। ৪ মিনিট পরে ছেরে দিল।
আমি- ম্যাম এটা কি ছিল??
ম্যাডাম- এটা তোর শাস্থি। আমার সাথে আবার মজা করলে দেখে নএব??
আমি- চুপ....(কিছু বললে আবার যদি,,, না থাক)
ম্যাডাম- এই নেও। আস্তে আস্তে কাজ গুলো কর।
আমি- জি ম্যাম। বলে চলে এলাম।
(আপনারা ভাবতেছেন আমি কিছু বললাম না কেন..?? আসলে সকলের ভালোবাসা এক নয়। আমি যাকে মন থেকে ভালোবাসি তার হাজারো দেওয়া কষ্ট ব্যাথ্যা আমি মনে রাখি না। কারন আমি তাকে ভালোবাসি। আর আমারো কেন যানি শিমলার আমার পর এই অধিকার গুলো ভালো লাগতেছে। আপনারা হয়তো আপনাদের উত্তর পেয়ে
গেছেন। হুম শিমলাকে কিছু দিন ঘুরিয়ে ওকে আপন করে নিব যদি ওর ভালোবাসা সত্য হয়)
নিজের ডেস্কে বসে কাজ করতেছি। কোন চাপ নেই।
ঠিক তখনই আমার পাশের কলিগ মিষ্টি বলল--
মিষ্টি - কি করেন??
আমি- এই তো একটা ফাইল দেখি..??
মিষ্টি- সারাদিন শুধু কাজ কেন করেন?? একটু কথাও তো বলতে পারেন।
আমি- হুম। তাহলে এখন বলি..
মিষ্টি- হুম। বাসায় কে কে আছে আপনার??
আমি- আমি আর আমার বোন। আপনার?
মিষ্টি- আমি আব্বু,আম্মু,আর ছোট একটা ভাই।
এইভাবে কিছু কথা বললাম মিষ্টির সাথে। কথায় বুজলাম মিষ্টি আমায় কিছুটা লাইক করে...
ওদিকে দেখি শিমলা আমার দিকে রাগি লুকে তাকিয়ে আছে। আমিও মজা নিতেছি। মানে শিমলাকে রাগাচ্ছি।
লাঞ্চ টাইমে আমি আর মিষ্টি একসাথে লাঞ্চ করলাম। এটা শিমিলা দেখেছে।
হাহাহাহা।
নিজের ডেস্কে বসে কাজ করতেছি। তখন-- ম্যামের ডাক
আমি- ম্যাম আসব..??
ম্যাডাম- হুম। এদিকে আয়..??
আমি- জি। (আবার রেগে গেছে)
ম্যাডাম- খুব ভালো লাগে মেয়েদের সাথে কথা বলতে তাই না??
আমি- কি বলছেন এইসব..??
ম্যাডাম- ঠাসসসসসস ঠাসসসসস বেশি না দুইটা চর। এটা হবারই ছিল। বেশি রাগিয়ে ফেলেছি।
আমি- মারলেন কেন??
ম্যাডাম- আবার আপনি?? তুমি করে বল??
আমি- এইজন্য কি মারতে হবে বললেই তো পারতে??
ম্যাডাম- চুপ। আজ থেকে তুই আমার কেবিনে বসে কাজ করবি। এই বলে ম্যানেজারকে ডাক দিল।
আমি- কিন্তু ম্যাম....
ম্যাডাম- চুপ।
ম্যানেজার আসার পরে ম্যাম তাকে আমার টেবিল আর বাকি জিনিস গুলো ম্যামের কেবিনে দিয়ে গেল।
আমি- পুরাই বোকা বুনে গেলাম। এতবড় শাস্থি। আগে তো বাইরে অনেক মানুষ ছিল। কিন্তু এখানে আমি আর ম্যাম। কোন ভুল হলেই চর+ রাগারাগি।
ম্যাডাম- এদিকে আস।
আমি- হুম বল।(তুমি করে বলি)
ম্যাডাম- একটা টিফিন বাটি খুলে বলল কাছে এসে বস।
আমি- হুম।
ম্যাডাম- হা কর...
আমি- আমি খাব না।
ম্যাডাম- হা কর বলছি??
আমি- কিছু করারা নাই তাই হা করলাম।
ম্যাম আমায় খাইয়ে দিল।
কিছুই বুজি না। কখন রাগ আবার কখন ভালো কিছুই বুজি না।
এরপর
ম্যাডাম- এইবার ভদ্র ছেলের মতো বসে কাজ কর। আমিও বসে কাজ করতেছি।
বইরের সকলে অলরেডি বুজে গেছে আমার আর ম্যামের মধ্যে কিছু চলতেছে। ম্যাম রাগী দেখে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না।
আমি কাজ করতেছি আর ম্যাম শুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি কিছু বলতেও পারতেছি না।
এইভাবে দিনটা কেটে গেল।
ম্যাম আমায় বাসায় যেতে বলল। আমিও ছুটি পেয়ে এক দৌরে বাসায় চলে এলাম।
এরপর.......
চলবে...



No comments:
Post a Comment