লেখকঃ শ্রাবন রায়
বাসায় এসে দেখি জান্নাত টিভি দেখে।
আমি ওকে চকলেট দিয়ে আমার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
এরপর জান্নাত কে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম।
আমি আর জান্নাত রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি।
তখন জান্নাতকে কে যেন ফোন দিল।
কিছু সময় পরে কেটে দিল।
আমি- কে ছিল??
জান্নাত- এক ফ্রেন্ড।
আমি- ওহ।
জান্নাত- ভাইয়া চল ওই পার্কে গিয়ে বসি।
আমি- তোর ইচ্ছা চল।
জান্নাত- হুম।
আসলে অফিস থেকে খুব তারাতাড়ি চলে এসেছি তো। তাই জান্নাতকে নিয়ে বের হলাম।
আমি আর জান্নাত বেঞ্চে বসে আছি।
আমি বাদাম খাচ্ছি আর জান্নাত বসে বসে চকলেট খাচ্ছে।
ঠিক তখনই একটা মেয়ে কন্ঠ পেছন থেকে ডাক দিল।
আমি তো দেখেই অবাক। এটাতো শিমলা।
ও জানলো কিভাবে আমরা এখানে। তার মানে জান্নাত তখন ফোন করে বলছে।
শিমলা- জান্নাত কেমন আছ.??
জান্নাত- হুম ভাবি থুক্কু আপু ভালো। তুমি?
শিমলা- হুম আমিও ভালো। তুমি কেমন আছ??? (আমায় বলল)
আমি- জি ম্যাম সরি ভালো। তুমি....??
শিমলা- ভালো ছিলাম না এখন ভালো আছি।
আমি- ওহ। তুমি জানলে কিভাবে?? আমি এখানে।
শিমলা- হুহ জানতে হয়।
জান্নাত- ভাইয়া আপু তোরা কথা বল। আমি ওই দিকটায় যাচ্ছি। এই বলেই দৌর।
আমি- আপু সাবধানে??
শিমলা- হুহ আমায় তো কখনো এভাবে বলতে না??
আমি- তুমি আমার কে যে তোমায় বলব??
শিমলা- আমি সরি শ্রাবন। আসলে তুমি মিমের সাথে যেটা করেছ তার জন্য আমি তোমায় বকেছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস কর আমি তোমায় আজও ভালোবাসি। তাই তুমি হাজারো অন্যায় করলেও তোমায়
আমার চাই।
আমি- তার মানে তুমি আজও আমায় বিশ্বাস কর না।
শিমলা- আসলে আমি তা বলতে চাই নি।
আমি- থাক আমি বুজেছি। আমি ভাবছিলাম তোমায় মাপ করে আপন করে নিব। কিন্তু তুমি..??? ওকে বায় ভালো থেকো।
শিমলা- শ্রাবন তুমি......
আমি আর কিছু না বলে চলে আসলাম।
এরপর জান্নাতকে খুজে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। আজ মেজাজ টা ভালো নেই। আমি ভাবছিলাম শিমলাকে ক্ষমা করে দিব। কিন্তু শিমলা আমায় বিশ্বাস করে না। ও আজও সেটা বিশ্বাস করে।
জান্নাত খাবার খেতে ডাক দিল।
খাবার খাওয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না।
কিন্তু জান্নাত এর সাথে কি আমি আর পারি। তাই জোর করে খেতে হল।
খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।
আজ আর জান্নাত আপুকে পড়ালাম না।
অপরদিকে শিমলা------
না আজ শ্রাবন অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমায় আর অপেক্ষা করলে চলবে না। কালকেই বাগেরহাট গিয়ে সব সত্য উদ্ধার করতে হবে।
ড্রাইভারকে ফোন করে সব বুঝিয়ে দিল।
বাসায় আব্বুকে ফোন দিল শিমলা।
শিমলা- আব্বু কেমন আছ?
শিমলার আব্বু- হুম মা ভালো আছি। তুই কেমন আছিস??
শিমলা- হুম আব্বু ভালো। কালকে আমি বাগেরহাট আসতেছি।
শিমলার আব্বু- এটা তো ভালো কথা। তাহলে আমি বাসায় সব গুছিয়ে নেই।
শিমলা- হুম আব্বু বায় ভালো থেক।
এরপর শিমলা অনেক কিছু চিন্তা ভাবনা করে ঘুমিয়ে পরল।
আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
আমি- আপু খাবার খেয়েছিস??
জান্নাত- না। আমি তোকে ছাড়া খাই?
আমি- হুম। আয় খেয়ে নি।
জান্নাত- হুম চল।
এরপর দুজনে খেয়ে রওনা দিলাম।
জান্নাতকে ওর স্কুলে রেখে আমি চলে গেলাম আমার অফিসে।
গিয়ে ম্যামের কেবিনে গিয়ে বসলাম।
(শিমলার কেবিনে আমার টেবিল)
আজ শিমলা আসে নাই অফিসে।
এরপর জানতে পারলাম ম্যাম কিছুদিন অফিসে আসবে না।
আমি শান্তিতে বসলাম। না হলে সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকত।
যাক বাচা গেল একদিক দিয়ে।
এদিকে আমার নিজেকে অফিসের বস বস মনে হচ্ছে। কারন বসের কেবিনে আমি একা।
এতে আমার খুব খারাপ লাগতেছিল।
তাই আমি ম্যানেজার এর কাছে গেলাম।
আমি- স্যার একটা কথা ছিল।
ম্যানেজার- স্যার বলার দরকার নেই। (ম্যানেজার আমার থেকে কিছুটা বড় হবে)
আমি- স্যার কেন??
ম্যানেজার- ম্যাম বারন করছে তাই। আমি এর কোন উত্তর দিতে পারব না। সরি।
আমি-( তার মানে এটা শিমলার কাজ।) একটা কথা ছিল।
ম্যানেজার- হুম বলুন।
আমি- আমি আবার আমার আগের ডেস্কে বসে কাজ করতে চাই।
ম্যানেজার- সরি। ম্যাম আপনাকে তার কেবিন থেকে বের হতে মানা করছে।
আমি- ওহ। ওকে। বলে চলে এলাম কেবিনে।
কার ভালো লাগে বলুন। হাতে কোন কাজ নেই। কি করব বলুন। কেবিনে আমি ছারা কেউ নেই। কারো সাথে কথাও বলতে পারতেছি না। এভাবে কেটে গেল আজকের দিনটা।
অপরদিকে-------
শিমলা তার বাসায় পৌছে তার বাবার সাথে কিছু কথা বলে নিল।
এরপর বিকালে শিমলা সেই চিরচেনা শহরের রাস্তা দিয়ে হাটতে লাগল।
চলে গেল সেই পার্কে। যেখানে আমি আর শিমলা কাটিয়েছি হাজারো মুহুর্ত। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে আবার রওনা দিল আমার সেই পুরনো বাসার দিকে।
যেতে ২০ মিনিট লাগে।
বাসার সামনে এসে। বেল দিল।
একটা মেয়ে এসে দরজা খুলে দিল।
শিমলা একে কোন দিন দেখি নাই।(বয়স ২৩-২৪ হবে।)
শিমলা- আপু বাসায় শ্রাবন আছে??
আপু(মেয়েটি)- আপনি কে?? আর শ্রাবনকে চিনেন কিভাবে??
শিমলা- আমি ওর বন্ধু। ঠিক তখনই আমার আম্মু এল। শিমলা আমার আম্মুকে দেখে শান্তি পেল। কারন শিমলা ভাবছিল। তারা বোধহয় বাসা ছেরে দিছে।
আম্মু- কে তুমি মা...??
শিমলা- আন্টি আমি শ্রাবন এর ফ্রেন্ড।
আম্মু- কিহ শ্রাবন। তুমি চেন আমার ছেলেকে। বল কোথায় আমার ছেলে?? কই শ্রাবন?? (কেদে দিয়ে)
শিমলা- কিছুই বুজতেছে না। আন্টি আপনি শান্ত হন। এরপর শিমলা আর ওই নতুন মেয়েটি আম্মুকে নিয়ে বসিয়ে দিল৷
এরপর আমার আব্বু আর ভাইয়া নিচে এল।
ভাইয়া- আম্মু কি হয়েছে?? তুমি কাদ কেন??
আম্মু- আব্বু দেখ এই মেয়েটা শ্রাবণকে চিনে?? ও নাকি ওর ফ্রেন্ড। তুই বল না ওকে আমার শ্রাবনকে এনে দিতে। (কেদে)
ভাইয়া- আম্মু তুমি শান্ত হও। আমি দেখতেছি।।
এরপর শিমলা যেটা শুনল তার জন্য শিমলা মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ১০০
ভোল্টের শক খেল।
চলবে...



No comments:
Post a Comment