Post Top Ad

Post Top Ad

Ex girlfriend যখন অফিসের বস

Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস পর্বঃ ১৬


লেখকঃ শ্রাবন রায়

আমি চুপচাপ গাড়িতে বসে আছি।
জান্নাত আর ম্যাম কথা বলছেন।
আমি সামনের দিকে তাকিয়ে দেখতে
লাগলাম। আর ভাবতে লাগলাম পুরনো
সব দিনের কথা। আমার আর শিমলার
কাটানো সময় গুলোর কথা।
কিন্তু হটাৎ করে মনে পরে গেল
শিমলা আর এখন আমার না। সে এখন
অন্য কারো স্ত্রী।
তাই আর কিছু ভাবলাম না।
সিলেটে পৌছাতে ৭ ঘন্টা লাগবে।
তাই আমি সিটে হেলান দিয়ে ঘুমানোর
চেষ্টা করলাম। কানে হেডফোন লাগিয়ে
বসে আছি। এমন ভাব করতেছি যেন
আমি বিন্দাস আছি। কিন্তু আমার মনটা
যে চিরে ফেটে যাচ্ছে।
এইভাবে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানি না।
জান্নাত এর ডাকে ঘুম ভাংল।
দেখি আমরা গন্তব্য স্থানে পৌছে গেছি।
আমি গাড়ি থেকে নামলাম।
আমরা এখন একটা হোটেলে যাচ্ছি।
ম্যাম অনলাইন রুম বুক করে রেখেছে।
দুইটা রুম ভারা করা হয়েছে।
একটাতে আমি আর অন্যটাতে জান্নাত আর ম্যাম।
আমি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
বিকাল ৪ টা বেজে গেছে।
তাই কিছু খাবার অডার করলাম।
খেয়ে জান্নাত কে ফোন দিলাম
আমি- আপু তুই কিছু খেয়েছিস??
জান্নাত- হুম ভাইয়া। তুই??
আমি- হুম।
জান্নাত- আমি আর শিমলা আপু বাইরে ঘুরতে যাচ্ছি।
আমি- তুই একা একা বের হোস না প্লিজ..
জান্নাত- আরে ভাইয়া আপু আছে না।
আমি- তবুও
জান্নাত- ভাইয় প্লিজ......
আমি- ওকে।
আমি আর কোথাও বের হলাম না।
রুমে বসে ল্যাপটপে কিছু কাজ করতেছি।
রাত হয়ে গেছে। কাল আমাদের মিটিং আছে। তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পরতে হবে।
আমি জান্নাতকে আবার ফোন দিলাম
আমি- আপু তুই কই
জান্নাত- ভাইয়া এত চিন্তা করতে হবে না। আমি রুমে আছি।
আমি- ওকে আপু গুড নাইট
জান্নাত- হুম গুড নাইট
আমি এরপর ঘুমিয়ে গেলাম।
অপর দিকে জান্নাত আর শিমলার কথা----
শিমলা- জান্নাত তোমার ভাইয়া বিয়ে করেছে??(জেনেও না জানার ভান করে)
জান্নাত- না আপু।
শিমলা- কেন??
জান্নাত- আমি তা জানি না। ভাইয়া বিয়া তো দূরে কোন রিলেশন ই করে না।
শিমলা- কিহ.???(অবাক হয়ে)
জান্নাত- হুম আপু। তুমি কি সিংগেল নাকি ম্যারেইড??
শিমলা- সিংগেল। আমার একটা প্রশ্ন ছিল..??
জান্নাত- হুম বল.
শিমলা- তোমাদের বাসায় কে কে আছে??
শিমলা- আমি আর ভাইয়া শুধু
শিমলা- আমার জানা মতে শ্রাবনের তো কোন বোন ছিল না।
জান্নাত- হুম ঠিক।
শিমলা- তাহলে তুমি??(অবাক)
জান্নাত- আগে প্রমিজ করো কাউকে বলবে না।
শিমলা- ওকে প্রমিজ। এইবার বলো
জান্নাত- (সব খুলে বলল) কেদে কেদে
শিমলা- অহ সরি আমি বুজতে পারি নাই।
জান্নাত- হুম।
শিমলা- তোমার ভাইয়ার আব্বু আম্মু কই?
জান্নাত- আমি ছারা ভাইয়ার কেউ নেই। (জান্নাত কিছু জানে না যে আমার পরিবার আছে।)
শিমলা- অহ(অবাক হয়ে। তার মানে শ্রাবন ওর পরিবারের সাথে থাকে না।)
জান্নাত- জানো আপু আমার ভাইয়া খুব ভালো। আমায় ছোট থেকে কোন কষ্ট পেতে দেয় নি। ভাইয়া আমায় নিজের বোনের চেয়ে বেশি ভালোবাসে।
শিমলা- ওহ। তোমার ভাই তো তাহলে খুব ভালো মানুষ।
জান্নাত- হুম
শিমলা- (জান্নাত এর কাছ থেকে সব শুনতে হবে। কি করে ও এই পজিশনে) তোমার কয় বছর এই শহরে??
জান্নাত- ৬ বছর। মানে আমি ভাইয়াকে এই শহরেই দেখেছি ছোট থাকতে।
শিমলা- অবাক। এরপর জান্নাত আমার সম্পর্কে সব খবর জেনে নিল। মানে আমি কোথায় থাকি। কখন কি করি ইত্যাদি।
এবার শিমলা অনেক নরম হয়ে গেল। কারন সে আমার সাথে অনেক বাজে ব্যাবহার করছে এই কয়দিনে।
সকালে----
জান্নাত এসে আমার রুমে ধাক্কা দিতে লাগল। আমি ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে
দিলাম।
জান্নাত- ভাইয়া তুই এখন ঘুম থেকে উঠলি??
আমি- আসলে....
জান্নাত- তুই আগে ফ্রেশ হয়ে নে। আর আপু একটু পর বের হবে মিটিং করতে।
আমি আর কিছু না বলে ফ্রেশ হতে গেলাম।
এরপর রুমে এসে দেখি জান্নাত খাবার অডার করে রেখেছে। তাই আমি খেয়ে নিলাম।
এরপর রুমের বাইরে থেকে ম্যাম ডাক দেয়। তাই আমি বেরিয়ে গেলাম।
আর জান্নাত কে বললাম
আমি- আপু তুই কিন্তু এই রুমের ভিতরে থাকবি। কোথাও বের হবি না।
জান্নাত- ওকে ভাইয়া। আর তোর মোবাইলটা দিয়ে যা।
আমি- কেন??
জান্নাত- মানে... আমি..
আমি- বুজেছি তুই গেম খেলবি। এই নে
জান্নাত- ধন্যবাদ ভাইয়া। (গালে একটা চুমু দিয়ে। অনেক খুশি হলে দেয়)
আর এদিকে শিমলা আমাদের কাজ দেখে মনে মনে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কারন আজকেই এই আমি ৬ বিছর আগের আমির মিল নেই। আছে অনেক পরিবর্তন।
আমি বের হয়ে গেলাম রুম থেকে।
আমি দেখি ম্যাম কি জেন ভাবতেছিল।
আমি- ম্যাম..????
ম্যাডাম-.....
আমি- ম্যাম... কি হয়েছে??
ম্যাডাম- এবার বাস্তবে এসে, কিছু না।
এরপর দুজনে গাড়িতে বসে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে মিটিং করলাম। ডিল ফাইনাল।
তাই ম্যাম খুব খুশী। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে ম্যাম আজ আমার সাথে খারাপ আচরন করে নাই।
আমরা হোটেলে চলে এলাম।
আমি এসেই আগে আমার রুমে গেলাম।
গিয়ে দেখি জান্নাত টিভি দেখতেছে।
আমি- আমার কলিজা কি করে??
জান্নাত- ভাইয়া টিভি দেখি।
আমি- দুপুরে খেয়েছিস কিছু??
জান্নাত- না ভাইয়া
আমি- তাহলে চল দুজনে খেয়ে নি।
এরপর দুজনে খেয়ে নিলাম।
বিকালে শিমলা এসে আপুকে ডেকে
নিয়ে গেল।
আমিও ফোন চালাতে লাগলাম।
অপরদিকে-----
শিমলা- জান্নাত তোমার ভাইয়া রুমে থেকে বের হয় না কেন??
জান্নাত- জানি না। ভাইয়া বাসায় থাকতেও কখনো বের হতো না।
শিমলা- কেন??
জান্নাত- জানি না। আমি সেই ছোটকাল থেকেই এটা দেখে আসতেছি।
শিমলা- অহ।।
এরপর রাতে আমি সব গুছিয়ে নিলাম। কারন কাল আবার রওনা দিতে হবে।
জান্নাত আর ম্যামও সব গুছিয়ে নিল।
রাতে শিমলা জান্নাত এর কাছ থেকে তার
নাম্বার নিল। কারন ম্যাম(শিমলা) অনেকটা দুর্বল হয়ে পরেছে আমার উপরে। তাই খোজ নেবার জন্য জান্নাত এর নাম্বার নিছে। (আর হে জান্নাত এর একটা ছোট ফোন আছে)
জান্নাত ও কিছুটা বুজতে পারতেছে যে ম্যাম আমায় কিছুটা লাইক করে।
রাতে তারা ঘুমিয়ে পরল।
সকালে...............
চলবে...

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad