Post Top Ad

Post Top Ad

Ex girlfriend যখন অফিসের বস

Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস পর্বঃ ১৫


লেখকঃ শ্রাবন রায়

সকালে আজ জান্নাত ডাকল না। তাই ঘুম থেকে উঠে আমি অবাক।
৯:২৫ বেজে গেছে। ঠিক তখনই মনে
পরল কাল রাতে জান্নাত আমায় বলেছিল
আজ সকালে ওর কসিং ক্লাস আছে ভোরে। তাই আমায় আজ ডাকে তুলতে
পারবে না। তার মানে জান্নাত স্কুলে চলে
গেছে। অহ শিট। এখন কি হবে।
আর কিছু না ভেবে তারাতাড়ি ফ্রেশ
হয়ে নিলাম।
আজ আমার কপালে কি আছে কে জানে??
কারন অফিসে লেট করে গেলে ম্যাডাম
আবার কি বলে।
খুব তারাতাড়ি ফ্রেশ হয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
রস্তায় গিয়ে পরলাম আরেক বিপদে।
একে তো নাস্তা করতে পারি নাই।
আর এদিকে রাস্তায় এসে রিক্সা পাচ্ছি না।
উফ কি বপদ।
অনেক সময় পরে পেলাম একটা রিক্সা।
কোন কথা না বলে মামাকে তারাতাড়ি
যেতে বললাম।
১৫ মিনিট পরে অফিসে ঢুকলাম।
ভয়ে ভয়ে গিয়ে আমার কেবিনে বসলাম।
ঠিক তখনই
পিয়ন চাচা এসে বলে গেল ম্যাম আমায়
তার কেবিনে যেতে বলছে।
আমি ভয়ে ভয়ে ম্যাম এর কেবিন
এর সামনে গিয়ে বললাম
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- হুম(রাগি ভাবে)
আমি- ম্যাম কিছু বলবেন??
ম্যাডাম- অফিসটা কি আপনার বাপের??
আমি- জ্বী না।
ম্যাডাম- তাহলে কি আপনার ইচ্ছে মতো
আফিসে আসবেন??
আমি- আসলে ম্যাডাম রাস্তায় প্রচুর জ্যাম।
ম্যাডাম- থাক আমি কিছু শুনতে চাই না। আর যদি কখন লেট হয়। তাহলে চাকরি থেকে বের করে দেব।
আমি- ম্যাম আর হবে না।
ম্যাডাম- ওকে। আর আপনাকে যে কাজ
দিছিলাম সেগুলো দিন??
আমি- (এই রে সেগুলো তো বাসায় রেখে এসেছি। ভুলে)
ম্যাডাম- কি হলো কথা বলুন??(রেগে)
আমি- আসলে ম্যাম ফাইল গুলো বাসায় রেখে এসেছি ভুলে।
আর কোন কিছু না বলে আমার কাছে
এসে ঠাসসসসস ঠাসসসস।
দুইটা চর দিলো খুব জোরে।
আমি- চুপ...
ম্যাডাম- ছোটলোক, লুইচ্চা, কুত্তার*চ্চা
এটা কি তোর অফিস। যে তুই যা ইচ্ছা তাই করবি।
আমি- ঠোঁট হালকা কেটে গেছে।
ম্যাডাম- এই তোর ওয়ালেট দে।
আমি- চুপ করে দিয়ে দিলাম।
ম্যাডাম- এই শোন তোকে ৩০ মিনিট সময়
দিলাম। এর মধ্যে আমায় ফাইলগুলো এনে দিবি।
আমি- কিন্তু ম্যাম আমার ওয়ালেটটা না দিলে কিভাবে যাব??(কথ বলতে কষ্ট হচ্ছে। ঠোঁট কেটে গেছে তাই)
ম্যাডাম- আমি কিছু জানি না। টাইম স্টার্ট নাউ।
আমি- কিছু না বলে চলে এলাম।
কাছে টাকা নেই। কিভাবে যাব বাসায়। কিছুই ভাবতে পারছি না। হাতে সময় নেই।
তাই কিছু না ভেবে হাটা শুরু করলাম।
আসতে ২০ মিনিট লেগে গেছে।
রুমে এসে ফাইলগুলো খোজ করে নিয়ে
আবার হাটা শুরু করলাম।
রাস্তার মাঝে এসে দেখি আর মাত্র ৩ মিনিট আছে।
তাই রাস্তা দিয়ে দৌড় শুরু করলাম।
এদিকে রোদে আমার শরীর পুরা ঘামে
ভিজে গেছে।
অফিসে আসতে ১০ মিনিট লেট।
আমি অফিসে ঢোকার সাথে সাথে সবাই
কেমন ভাবে তাকাচ্ছিল।
আমি সেটা খেয়াল না করে ম্যাম
এর কেবিনে গেলাম।
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- হুম
আমি- ম্যাম এই যে ফাইলগুলো।
ম্যাডাম- ঘরি দেখিয়ে বলল কত বাজে এখন??
আমি- চুপ
ম্যাডাম- আরো কিছু কথা শুনিয়ে দিলো।
আমি চুপচাপ কথা গুলো শুনছিলাম।
এরপর আরো কিছু ফাইল ধরিয়ে দিলো।
আমি বাইরে আসতেই রুবেল,রহিম,রুহি,সিথি সকলে ঘিরে ধরল।
সবাই- ভাই কি হয়েছে। ম্যাম আপনাকে
এত বকল কেন??
আমি- ১৫ মিনিট লেট করে আসছি তাই।
রুবেল- কি বলেন ভাই। আমি তো কাল
৩০ মিনিট লেট করে এলাম। কিন্তু ম্যাম আমায় তেমন কিছু বলে নাই।
আমি- জানিনা
রুহি- আরো অনেকেই তো দেখি অফিসে লেট করে আসে। কিন্তু ম্যাম তো কিছু বলে না।
আমি- চুপ।
রহিম- ভাই এত ফাইল এক সাথে???
আমি- হুম।
রহিম- আময় তো এত ফাইল মেম কোন
দিন দেয় নি।
সিথি- শ্রাবণ ভাই ম্যাম তো কখনো আমাদের সাথে খারাপ আচরন করে না।
আর এত কাজের চাপও দেয় না। কিন্তু আপনাকে??
আমি- কিছুই জানি না।
আমি সবার সাথে কথা বলে আবার কাজে মন দিলাম।
কিন্তু পেটে কিছু নেই। এর মধ্যে জান্নাত
ফোন দিছিল। আমি বলছি বাইরে খেয়ে নিয়েছি।
মিথ্যা বললাম। কারন আমি না খেলে
পাগলিটাও খাবে না।
এইভাবে কাজ করতে করতে দুপুর হয়ে
গেল।
সকলে এসে আমায় ডেকে নিয়ে গেল।
আমিও খেয়ে নিলাম।
অবার সেই কাজে মন দিলাম।
অফিস ছুটি। সবাই বেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু
আমি রয়ে গেছি। কারন বাসায় গিয়েও তো আমায় এই কাজগুলো করতে হবে।
তাই অফিসে বসেই করি।
ম্যাডাম বেরিয়ে যাবার সময় আমার দিকে
একবার দেখে আবার চলে গেল।
সব কাজ করে আমি বাসায় যাবার জন্য
তৈরি হলাম।
তখন পিয়ন চাচা এসে আমার ওয়ালেট দিয়ে গেল। মনে হয় ম্যাম তার কাছে
দিয়ে গেছে।
ওয়ালেট খুলে দেখি সব ঠিক আছে।
আমি কিছু না ভেবে বাসার দিকে
রওনা দিলাম। বাসায় আসতে রাত হয়ে
গেছে।
জান্নাত আমায় বলল দেরি হল কেন??
আমি ওকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বললাম।
আপু তেমন কিছু বলল না।
এইভবে চলছিল আমার জীবন।
রাতে আমি এবং জান্নাত খাবর খেয়ে
নিলাম।
এরপর জান্নাত কে নিয়ে পড়তে বসলাম।
কারন জান্নাত এর কিছু দিন পরে
টেষ্ট পরিক্ষা।
কিছু সময় পড়িয়ে আমি ঘুমাতে
গেলাম।
অবার সকালে সেই অফিস। এখন থেকে
আর আমি ভুল করি না।
কিন্তু ম্যাডাম আমায় অনেক বাহানায়
কথা শুনায়।
অফিসে কাজ করছিলাম। তখন আমার
ডাক পরল ম্যাম এর রুমে।
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- হুম
আমি- জি বলুন??
ম্যাডাম- কাল সকালে আমাদের সিলেট
যেতে হবে।
আমি- হুম
ম্যাডাম- শুধু হুম নয়। আপনাকেও যেতে
হবে আমার সাথে।
আমি- কিন্তু ম্যাম আমি যেতে পারব না।
ম্যাডাম- কেন??
আমি- ম্যাম একটা personal problem আছে।
ম্যাডাম- ওহ বুজতে পারছি। বাসায় বউকে রেখে যেতে পারবেন না??
আমি- ম্যাম আমি সিংগেল।
ম্যাডাম- তাহলে??(অবাক হয়ে)
আমি- আসলে
ম্যাডাম- কি আসলে আসলে করছেন??
বলুন কি বলবেন??
আমি- ম্যাম আমার বোন বাসায় একা একা থাকতে পারবে না। তাই আমি যেতে
পারব না।
ম্যাডাম- কিহ??? আপনার বোন আছে?
আমি- ম্যাম আমি পারসোনাল কিছু বলতে পারব না।
ম্যাডাম- অহ বুজলাম। কিছু সময় ভেবে।
আমার একটা প্লান আছে।
আমি- জ্বি বলুন
ম্যাডাম- আপনি চাইলে আপনার বোনকে
আমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারেন।
আমি- (ভাবলাম জান্নাত অনেক দিন কোথাও ঘুরতে যাই নি। তাই ভাবলাম জান্নাতের জন্য রাজি হয়ে যাই) হুম আমি রাজি।
ম্যাডাম- তাহলে এখন বাসায় গিয়ে তৈরি হোন। কাল সকাল ৯ টায় আমাদের গাড়ি ছারবে।
আমি- ওকে। বলে বাসায় চলে এলাম।
এরপর জান্নাতকে সব বললাম। জান্নাত তো খুব খুশী।
রাতে আমরা খেয়ে। সব কিছু ঘুছিয়ে নিলাম।
রাতে শুয়ে পরলাম। সহজেই ঘুমিয়ে
গেলাম।
সকালে ঘুম থেকে সকালে উঠে তৈরি হয়ে
বের হলাম।
আমার আপুকে তো পরির মতো লাগছে।
এরপর অফিসে গিয়ে দেখি গাড়ি রেডি।
ম্যামও তৈরি।
আমরা গারিতে উঠে রওনা দিলাম।
আজ শিমলাকে খুব ভালো দেখাচ্ছিল।
কিন্তু আমি ওদিকে তাকালাম না।
ম্যাম এর গাড়ি করে আমরা রওনা দিলাম।
ম্যাম আর জান্নাত পিছনে। আমি আর ড্রাইভার সামনে।
এরপর জান্নাত আর ম্যাম গল্প করতে
শুরু করল। আমি চুপ।
খুব অল্প সময়েই জান্নাত এর সাথে ভাব জমে গেল ম্যামের। এরপর....
চলবে.....

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad