লেখকঃ শ্রাবন রায়
গাড়ি থেকে ৫ ঘন্টা পর নামলাম।
জায়গাটা চেনা চেনা মনে হচ্ছে। মনেহয় আগে এসেছি। কিন্তু চিনতে পারতেছি না।
আমরা এসে একটা বাড়ির সামনে নামলাম।
এসে দেখি দরজার সামনে শিমলার আব্বু দাঁড়িয়ে আছে।
তার মানে এটা শিমলার বাড়ি। আর জায়গাটা বাগেরহাট। যার কারনে আমার এত চেনা চেনা লাগতেছিল।
৫/৬ বছর পরে এসেছি তো তাই চিনতে পারি নাই।
এখানে এসেই পরিবারের কথা মনে পরে গেল। ইচ্ছে করতেছে এক দৌড়ে আম্মুর কাছে চলে যাই। কিন্তু কিছু একটা বাধা দিচ্ছে। এটাই হয়তো অভিমান।
এই সব ভাবতেছিলাম ঠিক তখনই।
শিমলা- অই তুমি কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে না ভিতরে আসবে??
আমি- হুম চলো।
শিমলার আব্বু- বাবা কেমন আছো???
আমি- জি আংকেল ভালো। আপনি??
শিমলার আব্বু- ভালো। আর আমাকে আংকেল নয় আব্বু ডাকো।
আমি- জি আব্বু ভালো আছি।
শিমলার আব্বু- হুম এইবার ঠিক আছে।
বাবা ভিতরে আস।
আমি- হুম। চলুন। আপু তুমিও আসো আমার সাথে।
জান্নাত- হুম ভাইয়া।
জান্নাতকে একটা রুমে দিয়ে এলাম।
আমি আর শিমলা এক রুমে গেলাম।
আমার খুব টায়ার্ড লাগছিল। তাই
আমি- আমি ঘুমিয়ে পরতেছি।
শিমলা- হুম ঘুমাও।
আমি- হুম্মম্মম্ম।।।।।।
সন্ধ্যার একটু আগে একটা বাচ্চার ডাকে ঘুম ভাংল। আমি ভাবলাম কোন স্বপ্ন হবে।তাই আবার ঘুমালাম।
কিন্তু কিছু সময় পরে আবার একটা
মেয়ে ডাক দিল।
মেয়ে- চাচ্চু ও চাচ্চু।
আমি- হুমমমম কে???(ঘুম চোখে)
মেয়ে-চাচ্চু????
আমি- অই কে??? আমায় চাচু ডাকে। (লাফ দিয়ে উঠলাম)
উঠে দেখি খুব কিউট একটা বাচ্চা আমার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি- আপু আপনি কে???(বাচ্চা আমার খুব ভালো লাগে। তাই মজা করি)
মেয়ে- হুহ আমায় চিন না। দাড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি।
এই বলে আমার উপরে চরে বসল।
আমি- আপু আপনি কে??? আর আমায় মারছেন কেন??
মেয়ে- তুমি আমার চাচু। তাই আমি আমার চাচুর সাথে যা ইচ্ছে তাই করব। তাতে তোমার কে??
আমি- অই মেয়ে তুমি কে বল?? কে তোমার চাচু??(অবাক হয়ে। বলে কি)
মেয়ে- চাচুউউউ বলে কেদে দিল।
আমি- ধুর কি করব। তাই কান্দা থামানোর জন্য কোলে নিলাম।
কোলে নেবার সাথে সাথে চুপ। সে কি হাসি।
মেয়ে- চাচু। চুমা দিয়ে।
আমি- আপু আমায় প্লিজ মাপ কর। আর কে তোমার চাচু?? তামার নাম কি??? আর তোমার আব্বুর নাম কি???
মেয়ে- আমার নাম নিলা।
আমি- হুম খুব ভালো নাম।
নিলা- হুম। আর আমার আব্বুর নাম শফিক।
আমি- কিহ??? তোমার আব্বুর নাম শফিক?? (কোল থেকে নামিয়ে দিলাম। কারণ শফিক আমার ভাইয়ের নাম।)আমি বুজলাম না। তার মানে ভাইয়া বিয়ে করেছে। কিন্তু এই মেয়ে আমায় চিনে কি করে??)
নিলা- ওয়ায়ায়ায়ায়া করে কেদে দিল।
আমি- আবার কোলে নিলাম। এইবার থামল।
নিল- চাচু তুমি খুব পচা। এতদিন আমার কাছে ছিলে না। আর এখন কোলে নিচ্ছ না।
আমি- কিন্তু তুমি আমায় চেন কিভাবে??
নিলা- আমার নানু বলছে তুমি আমার চাচু। আর নানি তো রোজ কাদে তোমার জন্য।
আমি- কিন্তু কেন??
নিলা- তোমাকে নাকি তারা ভুল বুজে তারিয়ে দিয়েছে তাই।
আমি- অহ।।।
নিলা- কিন্তু আমি তোমায় আর এখানে থাকতে দিচ্ছি না। তোমায় আমি আমার সাথে নিয়ে যাব।
আমি- আমি যাব না। আর তুমি কার সাথে এখানে এসেছ??
নিলা- আমি আব্বুর সাথে এসেছি।
আমি- তোমার আব্বু কোথায়??
নিলা- আব্বু নিচের রুমে।
আমি- কিহ???
নিলা- হুম। আর এখন চল বাড়িতে যাব।
আমি- হুম যাওম(কোল থেকে নামিয়ে দিলাম)
নিলা- ভ্যায়য়য়য়।।।।করে কেদে দিল।
আমি- কি করব। এই মেয়ে তো আমার কোল ছাড়া কিছু বুজে না। তাই কোলে নিলাম।
নিলা- চুপ।
আমি- অই তুমি কাদলে কেন??
নিলা- তুমি আমার সাথে কেন যেতে চাও না?? তাই কাদি।
আমি- যাব না।
নিলা- তাহলে আবার কাদব কিন্তু।
আমি- না না প্লিজ।
নিলা- তাহলে চল আমার সাথে।
আমি- না।
নিলা- ভ্যায়য়য়য়।।।।।।
আমি- চুপ চুপ আমি যাব।
নিলা- 😁😁😁
আমি- হুহ।।।।।
এইভাবে দুজনে বসে গল্প করতে লাগলাম।
আর বুজলাম আমার জন্য আমার পরিবারের সকলে কাদে।
সকলে মিস করে। আর আম্মু সব থেকে বেশী কাদে।
ভাইয়া বিয়ে করেছে। এক মেয়ে নাম নিলা।
কিছু সময় পরে পিছে তাকিয়ে দেখি ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে।
আমি- কতদিন পরে দেখলাম। কিন্তু রাগের জন্য কথা বললাম না।
ভাইয়া- শ্রাবন কেমন আছিস??
আমি- চুপ
ভাইয়া- এখনো রাগ করে আছিস??
আমি- চুপ
ভাইয়া- আমায় ক্ষমা করে দে প্লিজ...
আমি- একি আপনি ক্ষমা চাচ্ছেন কেন??
ভাইয়া- শ্রাবন প্লিজ ভাই ক্ষমা করে দে আমায়।
আমি- প্লিজ আপনি এখন যেতে পারেন।
ভাইয়া- 😭😭😭
নিলা- চাচু তুমিও চলো আমার সাথে।
আমি- পরে যাব।
নিলা- তাহলে আমিও যাব পরে।
আমি- না তুমি তোমার আব্বুর সাথে যাও।
নিলা- না না যাব না। আমি তোমার সাথে থাকব ব্যাস।
আমি- হুক ওকে।
ভাইয়া- আম্মু আমি যাই কেমন।
নিলা- ওকে আব্বু বায়।
ভাইয়া চলে গেল। ভাইয়া অনেক কেদেছিল। কিন্তু আমি কিছু বলি নাই।
এরপর শিমলা আর জান্নাত এল। জান্নাত কিছু বুজতেছিল না।
আমি সব খুলে বললাম।
জান্নাত শুনে কেদে দিল।
জান্নাত- ভাইয়া তোমার জীবনে এত কষ্ট।
আমি- নারে পাগলি। যার কাছে তোর মতো বোন আছে তার আবার কিসের কষ্ট।
জান্নাত- ভাইয়া বলে জরিয়ে ধরল।
আমি- পাগলি।।।।
এরপর বুজলাম এটা সব শিমলার প্লান।
আমার খুব রাগ হল।
ভেবেছিলাম পরিবারের সাথে কোন যোগাযোগ রাখব না। কিন্তু শিমলার জন্য।।।।।
এরপর রাতে নিলা আমার কাছে ছারা শুবেই না। তাই তাকে নিয়ে শুয়ে পরলাম।
আমাকে এমন ভাবে জরিয়ে ধরল। যেন আমি হারিয়ে যাব।
রাতে গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পরলাম।
নিলা যে পাকা বুরি। অনেক কথা যানে।
সকালে শিমলাকে নিয়ে নিলার জন্য আবার সেই পুরনো বাড়িতে রওনা দিলাম।
কিছু সময় পরে এলাম।
সেই পুরনো সব কিছুই আছে। কিন্তু বদলে গেছে সব মানুষ।
রুমে গিয়ে বেল দিলাম। দেখি আম্মু দরজা খুলে দিল।
আম্মু- আমায় দেখেই জরিয়ে ধরে কেদে দিল।
আমি- আমার ভালো লাগছিল। কিন্তু অভিমানের জন্য ছারিয়ে দিলাম।
আম্মু- বাবা কেমন আছিস??
আমি- চুপ।
আম্মু- বাবা কথা বলবি না আমার সাথে।
আমি- জি ভালো। এইবার সরুন আমার সামনে থেকে।
আম্মু- শ্রাবন আমায় ক্ষমা করে দে বাবা।
আমি- চলে এলাম সামনে।
ভিতরে দেখি আব্বু আর ভাইয়া আছে।পাশে ভাবি।
আব্বু- বাবা আমায় ক্ষমা করে দে।
আমি- আমি আপনাদের ক্ষমা করে দেয়েছি। আর কেউ কিছু বলবেন না প্লিজ।
ভাইয়া- তাহলে আজ থেকে বাড়িতে থাকবি??
আমি- আর সম্ভব নয়।আমি ভাবিকে দিয়ে নিলাকে উপরে পাঠিয়ে দিলাম।
আব্বু- প্লিজ বাবা।
আমি- না।
এইভাবে অনেক কথা হল কিন্তু আমি রাজি না। আব্বু আম্মু শিমলার সাথে কথা বলল।
এরপর আমি বললাম
আমি- শিমলা চল বাসায় যাব।
শিমলা- কিন্তু...
আমি- চুপ চল।।।
শিমলা- হুম।
যখন দরজার কাছে এলাম তখনি
আম্মু- শ্রাবন বলে চিতকার দিয়ে নিচে পরে গেল।
আমি- আমি দৌড়ে গিয়ে আম্মুকে তুললাম।
এরপর সবাই মিলে আম্মুকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
ডাক্তার আম্মুর চিকিৎসা করছে। আমরা সকলে বাইরে।
আমি ভাবতেছি শুধু মাত্র আমার জন্য এই অবস্থা আম্মুর। আজ খুব কষ্ট হচ্ছে।মরে যেতে ইচ্ছে করছে। খুব খারাপ লাগতেছে।
কিছুসময় পরে ডাক্তার এল।
আমি- ডাক্তার কি হয়েছে আমার আম্মুর??
ডাক্তার তেমন কিছু না। তবে মানসিক আঘাত পেয়েছে। তাই তাকে এইসব থেকে মুক্ত রাখুন। না হলে বিপরীত কিছু হবে।
আমি- হুম।
এরপর আমি আম্মুর কাছে গেলাম। আম্মু আমি কোথাও যাব না। প্লিজ তুমি সুস্থ হও।
আম্মু- পাগল ছেলে আমি ঠিক আছি। শুধু তুই কাছে থাকলে।
আমি- মাকে জরিয়ে ধরে কেদে দিলাম।
আব্বু- শুধু আম্মুকে ক্ষমা করবে?? আমাদের করবে না।
আমি- হুম বলে আব্বুকে জরিয়ে ধরলাম।
এরপর একদিন পরে আম্মুকে নিয়ে বাসায় এলাম।
আম্মু শিমলাকে পেয়ে খুব খুশী।
আমরা সকলে বসে আছি।
আমি- আব্বু এই হচ্ছে জান্নাত আমার আপু।
আব্বু- হুম। তোর বোন মানে আমাদের মেয়ে।
আমি- হুম
আম্মু- আব্বু ওকে কিভাবে পেলি??
আমি- সব খুলে বললাম।
আম্মু- জান্নাতকে জরিয়ে ধরল। জান্নাত কাদতেছে।
আম্মু- পাগলি মেয়ে কাদিস কেন??
জান্নাত- অনেক দিন পরে কেউ এইভাবে আদর করতেছে তাই।
আম্মু- আমি আমার মেয়েকে আদর করব না তো কাকে করব???
জান্নাত-😭😭😭
আম্মু- আমায় আম্মু বলে ডাক
জান্নাত- আম্মু।।।।
এইভাবে শেষ হল আদের সকলের মনমালিন্য।
এরপর আসি সেই মিমের প্রসঙ্গে।
মিম ওর বাসায় থাকে। ওর নাকি এক পা কেটে ফেলেছে। কারন এক্সিডেন্টে হয়েছিল।
তাই আমি ভাবলাম ওকে ওর পাপের সাজা আল্লাহ দিয়েছে তাই আমি কিছু বললাম না।
ওর সামনে আর কোন দিন যাব না বলে ঠিক করলাম।
আর আমার পরিবারের সকলে জান্নাত আর শিমলাকে পেয়ে আমায় তো ভুলেই গিয়েছে প্রায়।
এই ভাবে আমাদের পরিবার সুখে শান্তিতে চলছিল।
৷৷৷৷৷৷৷৷ সমাপ্ত।।।।।।।
গল্পট কেমম হয়েছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন????
পরের গল্প লিখব কি লিখব না তাও বলে যান।



No comments:
Post a Comment