লেখকঃ শ্রাবন রায়
পার্কে বসে আমরা সকলে মিলে বাদাম খাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই আমার কলেজ ফ্রেন্ড নেহা আসে।
আমায় দেখেই জরিয়ে ধরে। (একটু গায়েপড়া মেয়ে)
নেহা- অই কেমন আছিস তুই??
আমি- ভালো। তুই কেমন আছিস??? (ছারিয়ে)
নেহা- এর আগে ভালো ছিলাম না। এখন ভালো আছি।
আমি- হুম।
নেহা- শুনলাম তোর নাকি চাকরি হয়েছে??
আমি- হুম।। এইভাবে কিছু কথা বলতেছিলাম। এদিকে দেখি শিমলা জলতেছে।
আমি আরও দেখিয়ে দেখিয়ে কথা বলতে লাগলাম।।।।
এরপর নেহা আমার নাম্বার নিল। আসলে অনেক দিন পরে দেখা হলো তাই।
শিমলা তো পুরা হট হয়ে আছে।
জান্নাত আপু ওর মনে ও চকলেট খাচ্ছে।
এরপর নেহা চলে গেল।
এইভাবে কিছু সময় পরে আমরা তিনজন বাসায় ফিরে আসলাম।
বাসায় এসে জান্নাত ওর রুমে চলে গেল।
শিমলা আমার আগে আমার রুমে চলে গেল।
আমি পরে রুমে গেলাম।
আমি যাওয়ার পরে----
শিমলা- এই তোমার সাথে ওই মেয়েটি কে???
আমি- আপনাকে কেন বলব??
শিমলা- আমি বলতে বলেছি তাই।
আমি- কেন তুমি কে??
শিমলা- কারন আমি তোমার স্ত্রী।
আমি- হাহাহাহা। আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে মানি না।
শিমলা- আমি তো মানি। আর তোমাকেও মানতে হবে।
আমি- মানি না। বলেই চলে আসতে লাগলাম।
শিমলা- আমার হাত ধরে। তুমি আগে বল আমায় মেনে নিয়েছ।
আমি- হাত ছার।
শিমলা- না। ছারব না।
আমি- ঠাসসসসসস
শিমলা- ভ্যায়য়য়য়😭😭😭
আমি- আমাকে কখনো টাচ করলে এমনি হবে।
এই বলে আমি ফ্রেশ হতে গেলাম।
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি ম্যাম এখনো কাদে।
আমি আর কিছু না বলে বাইরের রুমে এসে টিভি দেখতে বসলাম।
জান্নাত আপু বই পরে। আর শিমলা কান্না করে।
যখন রাত ৯ টা বাজে আমি রুমে গেলাম।
গিয়ে দেখি সে এখনো কাদে।
চোখ দুটো ফুলে গেছে।
এইবার আমার খারাপ লাগতেছিল।
ইচ্ছে করতেছে চোখের পানি মুছে দেই। কিন্তু না৷ আমি যে কষ্ট করেছি সেইগুলা ওকে পেতে হবে। আর তখনই বুজবে কথা কষ্ট কি।
আমি- কি হল আপনি কাদেন কে??
শিমলা- কেদে যাচ্ছে আরো জোরে।
আমি- চুপ একদম চুপ থাকেন।
শিমলা- আরও জোরে কাদে।(কি আর করুম গায়ে তো আর হাত দেওয়া যায় না। নিজের স্ত্রী বলে কথা😂😂)
আমি- যদি৷ আপনি চুপ না করেন তাহলে আমি আপনাকে আপনার বাসায় দিয়ে আসব।
শিমলা- এইবার চুপ।
আমি- আর গিয়ে খেয়ে নিন। আপুকে নিয়ে। (কাজের লোক ঠিক করেছি)
শিমলা- মাথা নারিয়ে চলে গেল।
আমি- আজ আর খুদা নেই তাই ঘুমিয়ে পরলাম।
এইভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেল।
আর এই প্রতিদিনই শিমলাকে অবহেলা করেছি।
আজ সকালে অফিস আছে। শিমলা আমায় ডেকে দিয়েছে।
আমি- আমার চা কই??
শিমলা- ২ মিনিট দিতেছি।
আমি- তারাতাড়ি দিন।
এরপর ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
আমি জানি শিমলা অনেক কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই। এটা ওর প্রাপ্য।
এরপর দুজনে নাস্তা করে বেরিয়ে গেলাম অফিসের উদ্দেশ্যে।
শিমলা- তুমি প্লিজ আমার গাড়িতে আস।
আমি- আমি কারো গাড়িতে যাই না।
শিমলা- প্লিজ তুমি আস।না হলে অফিসের সকলে কি ভাববে।
আমি- আমি কিছু জানি না। এই বলে চলে এলাম।
অফিসে আমি শিমলার পরে এসে পৌছালাম।
আমি যেই মাত্র দরজা দিয়ে অফিসে ঢুকলাম তখন সবাই আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে।
অবশ্য আমি কারণটা বুজতে পারতেছি।
আমি কোন কথা না বলে ম্যাম মানে আমার কেবিনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আমি- ম্যাম আসব???? (অফিসে অন্তত অফিসের এর মতো ব্যবহার করা উচিত তাই ভালো ভাবে কথা বললাম।)
ম্যাডাম- হুম আসো। আর তুমি অনুমতি নিচ্ছ কেন??
আমি- আমি অফিসের একজন কর্মচারী। তাই অনুমতি নিলাম।
ম্যাডাম- এরপর থেকে পারমিশন নেওয়ার দরকার নেই।
আমি- হুম চেষ্টা করব।
এরপর আমি আমার কাজ করতে লাগলাম।
সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে একভাবে।আমি বিরক্ত হচ্ছি তবে কিছু বললাম না।
লাঞ্চ টাইমে আমি বাইরে যাব তখন
ম্যাডাম- তুমি আমার সাথে খাও।
আমি- তার কোন দরকার নেই।আমি বাইরে খেয়ে নিতে পারব।
ম্যাডাম- প্লিজ তুমি আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলো না আমার খুব কষ্ট হয়।
আমি- এতে আমার কিছু করার নেই।
এই বলে আমি চলে এলাম।
বাইরে এসে রহিম আর বাকি সকলের সাথে দেখা।।।।।
রহিম- স্যার কেমন আছেন??
আমি- তুমি আমায় স্যার বলতেছ কেন?
রুবেল- ইস ভাই যেন কিছু বুজে না। ম্যামকে বিয়ে করে এখন ন্যাকা।
আমি- আসলে....
রহিম- হুম আর বলতে হবে না ভাই। আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম। আপনি আর ম্যাম প্রেম করেন।
আমি- ভাই বিশ্বাস.....
রুহি- হয়েছে ভাইয়া আর বলতে হবে না। আমরা সব বুজেছি।
আমি- তাহলে তো ভালো। সকলে খেতে চলো।
রুবেল- না আমরা এখানে খাব না।
আমি- তাহলে??
রহিম- বাইরের **** রেস্টুরেন্টে খাব।
আমি- ভালো। তাহলে চলো।
রহিম- যাব তবে...বিল কিন্তু আপনাকে দিতে হবে।
আমি- কিন্তু কেন??
রহিম- বিয়ের ট্রিট হিসেবে।
আমি- কিন্তু......
সবাই- আমরা কিছু জানি না। ট্রিট চাই।
কি আর করার সকলের কাছে আমি পরাজিত। তাই পকেট খালি হয়ে গেল।
অফিসে ফিরে আবার কাজ করতে লাগলাম।
অফিস শেষ করে বাইরে এলাম। এসে দেখি ম্যামের গড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
ম্যাডাম- শ্রাবন আসো।
আমি- না আপনি যেতে পারেন।
ম্যাডাম- প্লিজ।
আমি- কিছু না বলে হাটা দিলাম।।
এখন বাসায় যাব না। বিকাল ৫ টা বাজে।
কিছুদিন আগে বেতনের টাকা পেয়েছি।
তাই আজ বাইক কিনতে যাব।
কারন অফিসে আসতে রোজ এইভাবে রিকশায় আসা যায় না।
এক বন্ধুকে ফোন করে আসতে বললাম।
ওকে নিয়ে একটা শো রুম থেকে একটা বাইক কিনলাম। অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
এরপর দুজনে কিছু খেয়ে বাসায় চলে এলাম।
আমি বাইকটা বাইরে রেখে জান্নাত কে ফোন দিলাম। ওকে বাইরে আসতে বললাম।
কারন আমার আপু বাইক পছন্দ করে। তাই তাকে সারপ্রাইজ দিব।
জান্নাত- দরজা খুলে বাইকটা দেখেই বলল ভাইয়া এটা কার??
আমি- আমার না।
জান্নাত- মুখটা পেচার মতো হয়ে গেছে।
আমি- আমার না তবে আমার ছোট একটা পরির বাইক। তার নাম জান্নাত।
জান্নাত- কিছু না বলে কিছু কিল ঘুসি দিয়ে জরিয়ে ধরল।
আমি- হাহাহাহাহা
জান্নাত- ভাইয়া আমি খুব খুশী যে তুই একটা বাইক কিনেছিস।
আমি- হুম।
এরপরে দুজনে মিলে বাইকে উঠলাম। মানে আপুটাকে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। পিছনে ফিরে দেখি শিমলা ছলছল চোখে দাঁড়িয়ে আছে।
জান্নাত- ভাবি তুমিও আসো।
শিমলা- মুখে হাসি দিয়েই উঠে পরল।
আমি- কি মেয়ের বাবা।
এরপর সকলে মিলে ঘুরে এলাম।
রাতে সকলে মিলে বাইরে খেয়ে এলাম।
ঘরে এসে-----
আমি- আপু তুই বই বের কর আমি পড়াতে আসতেছি।
জান্নাত- হুম ওকে।
আমি আর শিমলা রুমে চলে এলাম। শিমলাকে খুশি খুশি মনে হচ্ছে তাই আমি বললাম
আমি- আপনি আজ থেকে জান্নাতকে পরাবেন।
শিমলা- আমি??
আমি- হুম। কেন কোন প্রব্লেম আছে??
শিমলা- না।
আমি- তাহলে যান।।।
এইভাবে শিমলাকে টরচার করে আর মনে মনে ভালোবেসে চলছিল আমাদের জীবন।
চলবে....?????
কালকের পার্টে গল্পটা একটা মোর নিবে। কারন গল্পটা আমি খুব তারাতাড়ি শেষ করতে চাচ্ছি।



No comments:
Post a Comment