লেখকঃ শ্রাবন রায়
৫ বছর পর.................
আমার লেখাপড়া সম্পূর্ণ শেষ। এখন আমি ভালো একটা চাকরির খোজ করতেছি। আমি কিন্তু বেকার না। এখনো সেই দোকানে যব করি। ভালো একটা চাকরি পেলে এই যব টা ছেড়ে দিব।
কিন্তু চাকরি মনে হয় আমার কপালে নেই। কারণ এই পর্যন্ত ৯/১০ টার বেশি ইন্টারভিউ দেওয়া হয়ে গেছে। আসলে আমি যে ভালো ইন্টারভিউ দেই নাই তা নয়। আসলে আপনারা তো জানেন টাকা ছাড়া কিছুই হয় না এই ব্যাস্ত শহরে।
ওহ শিট ভুলেই গেছি। আমার কলিজাটার ব্যাপারে তো কিছুই বলা হয় নি। জান্নাত এবার দশম শ্রেনিতে।
আর আমার আপু জেএসসি পরীক্ষায়ও গোল্ডেন A+ পেয়েছ। আসলে আমার আপু লেখাপড়ায় খুব ভালো।
এখন আমার বন্ধু গুলোকে আপনার চিনবেন না। কারন বাপ্পি ছাড়া আর কারো সাথে আমার যোগাযোগ নেই দীর্ঘ ৫ বছর। আমি ইচ্ছে করে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিছি। আর বাপ্পিকে আমার কছম দিয়ে কাউকে বলতে বারন করেছি। তাই বাপ্পি কাউকে বলে না।
আজ সকালে একটা ইন্টারভিউ আছে। কিন্তু এতে আমার কোন ইচ্ছে নেই। ভাবতেছি এই সামান্য চাকরি নিয়েই জীবন কাবার করে দিব। কিন্তু জান্নাত এর জন্য আমি কি আর আমার ইচ্ছে মতো থাকতে পারি।
সকাল ৬.৩০ মিনিটে.........
আমি শান্তিতে ঘুমাচ্ছিলাম। কিন্ত হটাৎ উপর থেকে কেমন যেন পানি পরতেছে। আমি ভাবলাম ছাদ কি ফুটো হয়ে গেল নাকি??
হটাৎ করে মনে হল কে জেন আমার সামনে দারিয়ে আছে। তাই আমি লাফ দিয়ে উঠলাম। একি এতো জান্নাত রাগি মুডে দারিয়ে আছে। হাতে বালতি নিয়ে।
আমি- কি হয়েছে আপু??(ভয়ে)
জান্নাত-........ (রাগে ফুসতেছে)
আমি- আপু..?????(ভয়ে ভয়ে)
জান্নাত- ওই রাখ তোর আপু। (জান্নাত এখন আমায় আদর করে তুই বলে ডাকে। আর আমি মনে করি ভাই বোনের সম্পর্কে তুই শব্দটাই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী)
আমি-......
জান্নাত- ভাইয়া তোকে কত করে বলছি??সকালে ঘুম থেকে উঠতে। আজ না তোর চাকরির ইন্টারভিউ আছে??
আমি- হুম
জান্নাত- তাহলে এখনো আমার মুখ না দেখে, গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।
আমি আর কিছু না বলে ফ্রেশ হয়ে এলাম। এরপর মোবাইল টিপতে লাগলাম। হটাৎ রিয়ার ফোন----
রিয়া- ওই হাদারাম কি করিস??
আমি- কিছু না, বসে আছি। তুই??
রিয়া- আমি বাবুকে খাওয়াচ্ছি।( রিয়ার বিয়ে হয়েছে ২ বছর ৭ মাসের বেশি। আর ওর একটা বেবি আছে। ৯ মাসের )
আমি- ওহ। আমার আব্বু কি খাইতেছে??
রিয়া- নাহ। আমায় শুধু বিরক্ত করে।
আমি- ঠিক হয়েছে। তোর মতো বাচালকে তোর ছেলেই টাইট করতে পারবে।(রাগানোর জন্য)
রিয়া- শ্রাবনের বাচ্চা,,,,তুই আবার শুরু করলি??
আমি- হিহিহি
এইভাবে দুই বন্ধু কিছু সময় দুষ্টমি করে ফোন রেখে দিলাম। এটা আমদের ডেইলি রুটিন।
এর কিছু সময় পরে মহারানি খাবার খেতে ডাক দিলো।
আমি মোবাইল রেখে খেতে গেলাম।
আমার আপু কিন্তু জোস রান্না করে।
খেয়ে রেডি হলাম, সাথে জান্নাতও।
কারন প্রতিদিন ওকে স্কুলে এগিয়ে দিয়ে আসতে হবে। এটা তার আদেশ।
স্কুলের গেটের সামনে এসে---
জান্নাত- ভাইয়া তুই ভালোভাবে ইন্টারভিউ দিস...
আমি- ওকে আপু। তুইও কোন বাদরামি করিস না কিন্তু স্কুলে।
জান্নাত- ওকে ভাইয়া। আর এই চাকরিটা ও না পেলে একদম মন খারাপ করবি না। মনে রাখিস আল্লাহ আছেন আমাদের সাথে।
আমি- ওকে মাই ডিয়ার মহারানী।
এরপর জান্নাত হাসতে হাসতে স্কুলে চলে গেল। আমিও একটি টেক্সি নিয়ে রওনা দিলাম অফিসের দিকে। যেখানে আজ ইন্টারভিউ আছে। আমি জানি হবে না। তাই কোন ইন্টারেস্ট নাই। খুব ধির ভাবে ঢুকলাম অফিসে।
অফিসে ঢুকে দেখলাম অনেকে বসে আছে একটা রুমে। আমিও সেখানে গিয়ে তাদের পাশে গিয়ে বসে পরলাম। অনেকে বসে আছে। ১০-১৫ জন হবে। অফিসে লোক নিয়োগ করা হবে ৫ জন। কিছুক্ষণ পরে আমার পাশের একটা ছেলে বলে উঠল---
ছেলেটি- ভাইয়া আপনার নাম কি??
আমি- শ্রাবন। (বাকিটুকু বললাম না। কারন আমি আমার পরিবারের কিছু মনে রাখতে চাই না।)
ছেলেটি- আমি রহিম।
আমি- ওহ। ভালো নাম আপনারা।
রহিম- আপনার ও। ভাইয়া আমি আপনার থেকে ছোট। তাই আমায় তুমি করে বললে খুশী হব।
আমি- ওকে ছোট ভাই।
রহিম- 


আমি- ভাই বুজলে আমার চাকরি হবে বলে আমার মনে হয় না।
রহিম- কেন ভাইয়া??
আমি- তুমিতো জানো। আমাদের বাংলাদেশে টাকা ছাড়া কোন চাকরি হয় না।
রহিম- জি না ভাইয়া। আমি শুনেছি এখানকার ম্যাম নাকি খুব ভালো। তিনি ট্যালেণ্টেড মানুষ খোজে। ঘুস নেয় না।
আমি- ধুর। যা হয় হোক। আমার তাতে কি??
রহিম- ভাইয়া দেখবেন আপনার চাকরিটা হবে।
আমি- হাসলাম।
এই ভাবে কিছু কথা হলো আমাদের মাঝে। আসলে রহিম খুব ভালো ছেলে। কথায় যা বুজলাম।
এরপর রহিম এর ডাক পরল ইন্টারভিউ রুমে।
রহিম চলে গেল। আমি ভাবলাম এরপর আমি। আমি তেমন নারভাস নই। কারন এর আমি অনেক গুলো ইন্টারভিউ দিছি।
রহিম বের হল। আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে বাইরে চলে গেল।
আমি বুজলাম ভালো ইন্টারভিউ হয়েছে ওর।
এরপর পিয়ন চাচা আমায় ডাক দিলো।
আমি রুমের বাইরে দারিয়ে বললাম....
(রুমে তিন জন আছে। দুইজন স্যার। একজন ম্যাডাম।)
আমি- মে আই কামিন স্যার???
স্যার- ইয়েস কামিন।
দুইজন স্যারকে দেখলাম। আমার দিকে চেয়ে আছে। আর ম্যাডাম নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তাকে দেখতে পারি নাই এখনো।
এরপর ম্যাডাম যেই আমার দিকে তাকালো আমি তো পুরা অবাক। এই বেইমান এখানে। হুম শিমলা। সে আমায় দেখে চমকে উঠল। পরে আমার দিকে রাগি চোখে তাকালো। আমার আর বুজতে বাকি রইল না যে সে আমায় এখন অপরাধী ভাবে। আর আমিও বুজলাম যে এটা শিমলাদের অফিস। এই সব ভাব ছিলাম। মনে মনে। কাউকে বুজতে দিলাম না। স্বাভাবিক হয়ে সামনের সিটে বসলাম। দুই স্যার আমায় অনেক সহজ প্রশ্ন করল। কিন্তু শিমলা আমায় অনেক কঠিক প্রশ্ন করল। বাট আমি ঠিকঠাক উত্তর দিলাম। বুজলাম শিমলা পুরা অবাক। কারন সেই ৬ বছর আগের শ্রাবণ কে এই প্রশ্ন করলে হার্টফেল করত। আমিও স্বাভাবিক ভাবে বাইরে চলে এলাম।
শিমলা বাদে স্যার দুইজন আমার প্রতি খুবই খুশী।
পিওন চাচা আমায় বলল ১ দিন পর আমায় মেইল করে পাঠানো হবে আমার চাকরি হবে কি না???
আমি বাইরে এসে ভাবতে লাগলাম আমার এই চাকরিটাও আর হলো না।
কারন শিমলা আমায় চাকরি দিবে না। আমি শিওর।
এরপর একটা রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
আরে ভাই আপনারা কি ভাবতেছেন??
আমি এখন কাদব? সিগারেট খাব?
আরে না। বাস্তব জীবনটা এইরকম না। কারন আমার একটা বোন আছে। তার সব দায়িত্ব আমার। তাই আমি স্বাভাবিক ভাবে আছি। ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নিলাম। এরপর দিলাম এক ঘুম।
জান্নাত আমার অতীত সম্পর্কে কিছু জানে না। এই শহরে কেউ জানে না।
এরপর জান্নাত স্কুল থেকে বিকালে এসে আমায় ডেকে তুলল। আমি উঠে সব কিছু বললাম। মানে চাকরির রেজাল্ট ১ দিন পর দিবে। এরপর আমি রাতে টিউশন করাতে গেলাম। টিউশন করে বাসায় এসে আমি আর জান্নাত খাবার খেয়ে নিলাম।
এরপর জান্নাত কে কিছু সময় বই পড়িয়ে দুজনে ঘুমিয়ে পরলাম।
চলবে....



No comments:
Post a Comment