লেখকঃ শ্রাবন রায়
হটাৎ একদিন বাপ্পি কল করে যা বলল আমি তা শুনে তো ১০০ বোল্টের শক খেলাম।
সকালে বাপ্পির ফোন। এই সময়ে বাপ্পি তো কল করে না। এইসব ভাবতে ভাবতে
কলটি ধরলাম।
বাপ্পি- হ্যালো বন্ধু??
আমি- হুম বল। কি ব্যাপার??
বাপ্পি- দোস্ত একটা কথা বলার ছিল??
আমি- হুম তো বল।
বাপ্পি- আসলে দোস্ত...
আমি- ধুর,,বল তো?
বাপ্পি- দোস্ত তোর ex গার্লফ্রেন্ড শিমলা ছিল না??
আমি- (শিমলার নামটা শুনে বুকটা কেপে উঠল। তারপরও স্বাভাবিক হয়ে বললাম) হুম।
বাপ্পি- দোস্ত ওর না কালকে বিয়ে...
আমি- ( আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক।) দোস্ত তুই কি বলিস এইসব???
বাপ্পি- দোস্ত আমি বুঝতে পারতেছি। কিন্তু সত্যি তো সত্যিই।
আমি- দোস্ত আমি ওকে আমার জিবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।
বাপ্পি- হুম আমি বুজতে পারতেছি। কিন্তু তুই বুঝার চেষ্টা কর।
আমি- দোস্ত ও কি রাজি??
বাপ্পি- আমি তা জানি না। তবে রাজি না হলে কি আর বিয়ে হয়??
আমি- হুম। দোস্ত তোকে একটা কথা বলব??
বাপ্পি- বল।
আমি- তুই আমাকে একটা হেল্প করবি??
বাপ্পি- হুম বল।
আমি- তুই আর জীবনেও শিমলার কথা আমার কাছে বলবি না। কারন এই এক বছরে প্রায় ওকে আমি ভুলেই গেছিলাম। কিন্তু তুই আজ আবার??
বাপ্পি- হুম দোস্ত আমি বুজতে পারতেছি।
আমি- হুম। ঠিক আছে।
বাপ্পি- ওকে। দোস্ত তুই আবার নতুন করে শুরু কর।
আমি- বলাটা যত সহজ। করাটা তত কঠিন।
বাপ্পি- হুম বুজতে পারতেছি। কিন্তু প্লিজ দোস্ত
আমি- ওকে দোস্ত ভালো থাকিস। বলেই কেটে দিলাম।
কারন আর কিছু সময় কথা বললে হয়তো কেদে দিতাম। আজ আবার সেই অতিত আমায় টেনে ধরছে। আমি যতই ভুলে যেতে চাচ্ছি ততোই মনে পরছে।
এই সব ভাবতেছিলাম। তখনই জান্নাত
জান্নাত- ভাইয়া তুমি কাদতেছ?
আমি- না আপু। (চোখ মুছে)
জান্নাত- না আমি সব বুঝি। তুমি আমায় মিথ্যা বলতেছ।
আমি- জান্নাতকে আকরে ধরে কেদে দিলাম।
জান্নাত আমায় জরিয়ে ধরে চোখের জল মুছে দিল। তখন আমার খুবই ভালো লাগতেছিল। মনে হচ্ছে আমিই পৃথিবীর সবথেকে লাকি ভাই। যার কাছে এইরকম একটা বোন আছে সে সত্যিই খুব লাকি।
এরপর জান্নাত আমায় নিজের হাতে খায়িয়ে দিল।
আমিও ওকে খাইয়ে দিলাম।
আমি মনে মনে ভেবে নিলাম যে
আমায় বাচতে হবে। জান্নাতের জন্য বাচতে হবে।
এই ভাবে চলছিল আমাদের জীবন।
জান্নাতের রাগ,অভিমান,ভালোবাসা নিয়ে ভালোই চলছিল।
যেমন এক দিনের কথা বলি---
একদিন রাতে টিউশন করিয়ে বাসায় ফিরলাম। জান্নাত এর জন্য চকলেট না নিয়ে। আসলে ভুলে গিয়েছিলাম।
সে কি রাগ। আমায় ঘরের বাইরে রেখেছিল অনেক সময়। এরপর অনেক আকুতি মিনতি করে ঘরে ঢুকলাম।
এইরকম অনেক নিয়ম ছিল।
যেমন- তকে নিয়ে নিয়মিত ঘুরতে যাওয়া, শপিং করানো, রাতে বাইরে ডিনার করানো ইত্যাদি।
এইভাবে চলছিল আমাদের জীবন।
১ বছর পরে...........
আজ আমি খুব টেনশনে আছি।
আসুন আপনাদেরকেও বলি। আজ আমার কলিজার পিএসসি পরিক্ষার রেজাল্ট দিবে। হুম জান্নাত পিএসসি পরিক্ষা দিছে।
অবশেষে সেই সময় এল। কিন্তু জান্নাতকে দেখে কেউ বলবে না যে আজ ওর রেজাল্ট দিবে। সে সকাল থেকেই হেসে খেলে বেরাচ্ছে। সব জালা আমার। ধুর।
রেজাল্ট পেয়ে আমার মাথা খারাপ।
হুম জান্নাত গোল্ডেন A+ পেয়েছে।
আজ আমি খুব খুশী। জান্নাতকে কোলে নিয়ে সারা বাসা দৌরালাম। খুব খুশী তো তাই। এরপর আপুকে নিয়ে সেইদিন খুব ঘুরলাম। মহারানিও খুব খুশী।
আমার লেখাপড়া শেষ হবার আর ৩ বছর বাকি ।
আমিও নিয়মিত ক্লাস করি। তবে এখন আমি আগের মতো নেই। সম্পুর্ন বদলে গেছি। কি ভাবে বাইরে একা একা চলতে হয় তা আমি বুঝে গেছি।
এরপর জান্নাত কে একটা গার্লস হাই স্কুলে ভর্তি করে দিলাম।
কিছুদিন পরে। আজ ১১ই এপ্রিল।
আমার কলিজার জন্মদিন। জান্নাত জানে না। মানে মনে নেই যে আজ ওর বার্থডে।
আমি ওকে স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে,,কিছু ফ্রেন্ডদের ইনভাইট করে বাসায় আসতে বললাম। সবাইকে নিয়ে বাসা সাজিয়ে ফেললাম। এরপর সবাইকে লুকিয়ে যেতে বললাম। কারন আপুকে সারপ্রাইজ দিবো।
জান্নাত এসে কলিং বেল চাপল বিকাল ৪ টার সময়। আমি দরজা খুলে দিলাম। (কাজ থেকে ছুটি নিয়েছি। তাই বাসায়)
জান্নাত- ভাইয়া বাসা সাজিয়েছো কেন??
আমি- আজ একটা বিশেষ দিন।
জান্নাত- কি দিন আজ??
আমি ওকে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বললাম ফ্রেশ হয়ে এটা পরে বাইরে আয়।
জান্নাত- কি এটা???
আমি- তোর জন্য একটা লেহেঙ্গা।(মেয়েদের জামা কাপর সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। তাই এইটা লিখে দিলাম। ভুল হলে আমি কিন্তু কিছু জানি না
)
জান্নাত- কিন্তু কেন??
আমি ওকে আর কিছু বলতে না দিয়ে রুমে ঢুকিয়ে দিলাম।
কিছুক্ষণ পরে
আমার কলিজাটা বাইরে এল। অনেক কিউট লাগছিল ওকে।
আমার কাছে এসেই ও জিজ্ঞেস করল যে কি আজকে??
ঠিক তখনই আমার বন্ধু গুলো একসাথে ---
Happy Birthday apu
Happy Birthday to you Jannat
আমার আপ্পি আর কিছু না বলেই আমায়
জরিয়ে ধরল।
জান্নাত- ভাইয়া (কেদে)
আমি- কিরে পাগলি কাদিস কেন?
জান্নাত- ভাইয়া আজ আমি খুব খুশী।
এইভাবে কিছু সময় পরে আমাদের ছোটখাটো পার্টি শেষ হল।
এরপর সেই দিন জান্নাতকে নিয়ে সারা দিন ঘুরলাম।
এইভাবে আমাদের জীবন চলছিল।
আর একটা কথা জান্নাত কিন্তু লেখাপড়ায় খুব ভালো। আমার মতো মাথায় গোবর না
।
আমার & জান্নাত এর লেখাপড়া ভালোই চলছিল।
আর আমি যেখানে যব করি। সেখানে এখন সবচেয়ে উচু স্থানে কাজ করি।
মানে ম্যানেজারের নিচ স্থানে। বেতন প্রায়
১৪ হাজার। + টিউশন ফি ৫ হাজার
ভালোভাবেই আমাদের চলছিল। প্রথম দিকে যদিও একটু কষ্ট হচ্ছিল।
বাট এখন দিব্বি চলে যাচ্ছে।
চলবে....



No comments:
Post a Comment