লেখকঃ শ্রাবন রায়
সকালে ঘুম থেকে উঠে তো অবাক।
কারন ঘুম থেকে উঠে আমি
দেখি যে আমার দুই হারামি বন্ধু নিলয় আর রহিম।
নিলয়ঃ কিরে দোস্ত কেমন আছিস??
আমিঃ ভালো নারে বন্ধু
রহিমঃ হুম সবইতো শুনলাম। বল
কি আর করবি? সবই ভাগ্যের লিখন।
আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের ভিতর নিলয়,রহিম আর বাপ্পি থাকে ঢাকাতে। আর এখন আমি যোগ হলাম। নিলয়ের পরিবারের অবস্থা ভালো। রহিমেরও ভালো অবস্থা । আর বাপ্পির পরিবার বলতে ওর মা আর একটা ছোট বোন। ওর মা একজন স্কুল টিচার। মোট কথা সবাই ভালো আছে। শুধু আমি, থাক এইসব বাদ দেই।
আরও কিছু সময় আড্ডা দিয়ে ওরা চলে গেল। বাপ্পি রান্না করে আমায় বলল--
বাপ্পি- দোস্ত তুই আজ বাসায় থাক। কারন আমি গিয়ে প্রিন্সিপাল এর সাথে কথা বলি আগে। এরপর তোকে নিয়ে যাব।
আমি- ওকে
বাপ্পি ওর কলেজে চলে গেল। এরপর
আমি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম।
ভাবতে লাগলাম মার্কেটে গিয়ে কিছু জিনিস কেনা লাগবে।
কারন আমি বাসা থেকে কিছু নিয়ে
আসি নাই।
আমি বাসায় কিছু কাজ করে
বেরিয়ে পরলাম মার্কেটের উদ্দেশে।
বেশি দূরে নয় তাই হেটে হেটে যেতে
লাগলাম।
কিছু সময় পরে পৌছে গেলাম। প্রথমে ফ্লেক্সিলড এর দোকানে গিয়ে বিকাশ থেকে ৫ হাজার টাকা তুললাম।
আর আমার কাছে আছে আর ৩ হাজার এর মতো। তাই এই টাকা নিয়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে জামা, প্যান্ট, জুতা কিনলাম। এরপর গেলাম বইয়ের দোকানে।
সেখান থেকে কিছু বই খাতা কিনলাম।
আর বাকি টাকা দিয়ে কিছু জিনিস কিনে একটা রিক্সা নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম।
আর আমার হাতে ৩ হাজার টাকা+ বিকাশে ১০ হাজার টাকা আছে। তাই আমায় বুঝে শুনে টাকা খরচ করতে হবে।
এরপর বাসায় গিয়ে সব কিছু
ঠিকঠাক করতে করতে দুপুর দেরটা বেজে গেল। এরই মধ্যে বাপ্পি ফিরে এল।
তারপর আমরা ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম।
বাপ্পি আমায় বলল----
বাপ্পি- দোস্ত কলেজে ভর্তি ফি ২ হাজার টাকা।
আমি- অহ।
বাপ্পি- আজ বিকালে তোকে নিয়ে ম্যানেজারের কাছে যাব।
আমি- ওকে।
বিকাল ৩ টার সময় আমরা রোওনা দিয়ে
উক্ত দোকানে পৌছালাম।
বাপ্পি- ওই হচ্ছে ম্যানেজার। চল ওনার কাছে যাই।
আমি- হুম
বাপ্পি- আসসালামু আলাইকুম স্যার।
ম্যানেজার- ওয়ালাইকুম আসসালাম।
বাপ্পি- স্যার আপনারা একটা হেল্প দরকার??
ম্যানেজার- হুম বল কিভাবে হেল্প করতে পারি?
বাপ্পি- স্যার এই(আমাকে দেখিয়ে) হচ্ছে আমার বন্ধু শ্রাবন।
ম্যানেজার- হুম এরপর।
বাপ্পি- স্যার ও ঢাকায় নতুন এসেছে। ওর একটা চাকরির দরকার??
ম্যানেজার- হুম বুজলাম। আমাদের এখানে চারজন লোক দরকার। তবে
বাপ্পি- প্লিজ স্যার।
ম্যানেজার- হুম ওকে। আজ থেকে বাপ্পির সাথে তোমার কাজ।
আমি- স্যার অপনার কথা আমি কোন দিন ভুলতে পারব না।
ম্যানেজার- সেসব পরে দিও। আগে ভালোভাবে কাজ কর বাপ্পির মতো।
শুধু মাত্র ওর কথায় তোমায় চাকরি দিলাম।
আমি- জ্বী স্যার।
ম্যানেজার- ওকে তোমরা কাজ কর। আমি যাই।
বাপ্পি- হুম স্যার।
এরপর বাপ্পি আমায় সব কাজ বুঝিয়ে দিলো। আসলে কাজগুলো করতে তেমন কষ্ট হয় না। বাট প্রথম দিনতো তাই একটু কষ্ট হল। এইসব বলতে বলতে আমরা রাস্তায় বের হলাম।
ফোন করে নিলয় আর রহিমকে ব্রিজের উপরে আসতে বললাম। যেহেতু নতুন চাকরি পেয়েছি তাই ট্রিট দিতে হবে।
আমি- দোস্ত আমারতো এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে আমি কাজ পেয়ে গেছি??
বাপ্পি- হ্যারে দোস্ত ম্যানেজার খুবই ভালো লোক। তাই তোর চাকরিটা হল।
আমি- হ্যা ঠিক বলেছিস।
এরপর আমরা ট্রিটের সব কিছু কিনে নিয়ে ব্রিজের উপরে গিয়ে দেখি দুই হারামি উপস্থিত।
রহিম- কিরে মামা আসতে না আসতেই কাজ পেয়ে গেলি??
আমি- হুম ভাই
নিলয়- হুম দেখিস আমাদের ভুলে যাস না??
আমি- ভাই কে আপনি??( এই বলেই সব খাবার আমরা তিনজনে মিলে খাওয়া শুরু করলাম)
নিলয়- দোস্ত এটা কিন্তু ঠিক না।
আমি- তাহলে তুই ওইটা কি বললি??
নিলয়- সরি দোস্ত আমি তো মজা করছিলাম।
আমি- ওকে মনে থাকে জানি।
নিলয়- ওকে
আরো কিছু সময় থেকে আমরা বাসায় চলে এলাম। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে সুয়ে পরলাম। কারন রাতে খেয়ে এসেছি। ঘরিতে তাকিয়ে দেখি যে রাত ১২ টা বেজে গেছে। আসলে আড্ডা দিতে গেলে সময় খালি খালি চলে যায়।
এরপর দীর্ঘ ৪ দিন পর ফেসবুকে ঢুকলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় ভাইয়া আমায় একটাও মেসেজ দেয় নি। তারপর
আমি ফেসবুক থেকে আমার পরিবারের সবাইকে ব্লক করে দিলাম।
ফ্যামিলি গ্রুপ থেকে লিভ নিলাম শুধু মাত্র একটা মেসেজ দিয়ে---( ভালো থেক সবাই। আর হয়তো দেখা হবে না)
এরপর কিছু সময় চ্যাট করলাম রাজু আর ছাদেক এর সাথে।
আমি- দোস্ত কেমন আছিস??
রাজু- দোস্ত তোকে ছারা কেমনে ভালো থাকি??
আমি- কি করব বল?? যেখানে বাড়ির লোকি অবিশ্বাস করে সেখানে থেকে কি লাভ???
রাজু- হুম ঠিক বলেছিস। আর তুই কোথায় আছিস?
আমি- বাপ্পির কাছে।
রাজু- ওহ অই হারামির কাছে??
আমি- হ্যা। আর তুই সব হারামি গুলোকে বলে দিস ভালো আছি আমি।
রাজু- ওকে ভাই।
আমি- বাড়ির কেউ কি আমার খোজ নিতে এসছিল নাকি??
রাজু- নাহ
আমি- ওকে দোস্ত বায়।
রাজু- ওকে ভালো থাকিস।
বলেই অফ লাইনে চলে গেলাম। এরপর আমি আর বাপ্পি কিছু সময় কথা বলে ঘুমিয়ে পরলাম।
কারন কাল সকালে তারাতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি........
চলবে..



No comments:
Post a Comment