লেখকঃ শ্রাবন রায়
সকালে ঘুম থেকে ঊঠে ফ্রেশ হয়ে,
রান্না করতে গেলাম। রান্না করে
বাপ্পিকে ডেকে দুজনে সকালের খবার
খেয়ে বেরিয়ে পরলাম কলেজের
উদ্দেশ্যে। কলেজে পৌছে বাপ্পি আমাকে
নিয়ে সোজা প্রিন্সিপাল এর রুমে নিয়ে
ভর্তির সব কাজ শেষ করলাম।
মানে ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে।
এরপর সেখান থেকে দুজনে কলেজ
ক্যাম্পাসে গেলাম।
সেখানে গিয়ে বাপ্পি তার বন্ধুদের সাথে
পরিচয় করিয়ে দিল।
কিছু সময় কথা বলে ক্লাসে গেলাম।
ক্লাসে গিয়ে বাপ্পি ওর বন্ধুদের কাছে গিয়ে
বসল। কারন আমি একা বসতে চেয়েছি।
পিছনের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম।
একটু পরে আমার সামনের বেঞ্চে একটা
মেয়ে এসে বসল। যাকে দেখে আমি
অবাক। সেও আমায় দেখে অবাক।
সে আর কেউ না। বাসের সেই বাচাল
মেয়েটা রিয়া। (ঊফ এখন কে জানে আবার কি করে। আর ও তো প্রথম বর্ষে তাহলে এই ক্লাসে কেন?)
রিয়া কিছু না বলে আমার পাশে এসে
বসে পরল। আমি ভয়ে কিছু বলতেছি
না। কারন একটা কথা বলা শুরু
করলে আর শেষ নেই।
বলতে বলতেই রিয়া বলা শুরু করল
রিয়া- আপনি এইখানে ভর্তি হইছেন?
আমি- হুম। কিন্তু আপনি এখানে কেন?
রিয়া- হাহাহা
আমি- হাসেন কেন??
রিয়া- আসলে আমি মিথ্যা বলছি। কারন
বর্তমানের ছেলেরা মেয়ে দেখলেই
লাইন মারার চেষ্টা করে। তাই আমি বলছি যে প্রথম বর্ষে পরি যাতে আপনি
জুনিয়র ভেবে ছেরে দেন।
আমি- কি মেয়েরে বাবা! কি বলদ মার্কা
বুদ্ধি।
রিয়া- আমি বলদ তাই না??(রেগে)
আমি- নাহ আপনি বলদ নন। আমি
বলদ। (ভয়ে)
রিয়া- হুম।
আমি- আমাকে দেখে কি আপনার বখাটে
ছেলে মনে হয়???
রিয়া- না
আমি- তাহলে মিথ্যা কেন বলেছিলেন?
রিয়া- না মানে, আমি ভাবছিলাম যে
আপনিও ওই রকম। কিন্তু আপনি তো
আরো বলদ। পাশে একটা সুন্দরী মেয়ে
বসে রয়েছে আর আপনি কথাই
বলেন না??
আমি- ( ওরে মেয়ে তুই যদি জানতি আমি কি ছিলাম আগে তাহলে কাছেও আসতি না। বখাটে নাম্বার 1... মনে মনে) আমি এমনি।
রিয়া- হু ঢং।
আর কিছু বলার আগে ক্লাসে স্যার আসল।
স্যার- সকলে বস। এই তুমি(আমাকে) দাড়াও।
আমি- জ্বী স্যার বলুন।
স্যার- তুমি নতুন তাই না??
আমি- হুম।
স্যার- নাম কি??
আমি- শ্রাবণ রায়।
স্যার- ওকে সিট ডাউন। এরপর সব ক্লাস
গুলো করে বাইরে বের হতেই সেই
রিয়া এসে বলল-----
রিয়া- আপনি কোথায় থাকেন এখানে??
আমি- এখানে কাছেই একটা বাসা ভারা করে।
রিয়া- ওহ। আর আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পার?
আমি- হুম।
রিয়া- তাহলে কিন্তু তুমি করে বলতে হবে।
আমি- ওকে।
রিয়া- তাহলে চলো কোথাও ঘুরে আসি।
আমি- না, আজকে যাব না।
রিয়া- কেন??
আমি- আসলে একটা কাজ আছে?
রিয়া- কি কাজ??
আমি- আমার একটা টিউশনির দরকার। তাই খুজতে যাব।
রিয়া- কিছুক্ষণ ভেবে। ওহ এই ব্যাপার
চল আমার সাথে।
রিয়া কিছু না বলে একপ্রকার জোর করে একটা বাসার সামনে নিয়ে গেল। যেতে যেতে বিকাল হয়ে গেছে।
আমি বললাম এটা কার বাসা আর
এখানে আমায় নিয়ে আসলে কেন?
রিয়া- ভিতরে গেলেই বুঝতে পারবে।
বাসাটা বেশ বড়। ৩ তালার একটা ফ্লাট।
রিয়া আর কিছু না বলে কলিং বেল
চাপ দিল।
একটু পর একটা মহিলা এসে
দরজা খুলে দিল।
মহিলা- আরে রিয়া মামুনি তুই??
রিয়া- হুম মামি আমি।( তার মানে এটা রিয়ার মামা বাড়ি)
রিয়ার মামি- এই ছেলেটা কে??
রিয়া- সব কথা এখানে বলব না
ভিতরেও আসতে বলবে?
রিয়ার মামি- ও হ্যা আয়। আস বাবা(me) তুমিও ভিতরে আস।
রিয়া- মামি তুমি বলছিলে না, তানহা( রিয়ার মামাতো বোন) একটা
ইংরেজি স্যার দরকার??
রিয়ার মামি- হুম।
রিয়া- ও(me) হচ্ছে শ্রাবণ। আমার ফ্রেন্ড।
ওর একটা টিউশনির দরকার। তাই ওকে
নিয়ে এলাম।
রিয়ার মামি- ঠিক করেছিস।
রিয়া- হুম। কবে থেকে আসবে ও
পড়াতে??
রিয়ার মামি- কাল থেকেই আসুক।
এই বলে আমার বাসা থেকে চলে এলাম।
এসে রিয়াকে ধন্যবাদ দিলাম।
এরপর আমরা একটা হোটেল গিয়ে খেয়ে
যে যার বাসায় চলে গেলাম।
তানহার পরিচয়টা দিয়ে দেই। ও ক্লাস ফাইবে পরে। ছাত্রী হিসাবে মোটামুটি।
দেখতে সো কিউট কিন্তু অনেক
দুষ্ট।
এরপর বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে বাপ্পিকে
খুশির খবরটা দিলাম।
বাপ্পি অনেক খুশি হয়েছে। ওর থেকে আমি বেশি খুশী। কারন যব করে
৮ হাজার টকা পেলে কোন মতে চলে
যাবে মাস। কিন্তু টিউশন করালে
২ হাজার বেশি পাওয়া যাবে। যার ফলে
দিব্বি চলে যাবে আমার।
এরপর দুজনেই চলে গেলাম যব করতে।
সেখান থেকে ৯ টার সময় বের হয়ে
বাপ্পি চলে গেল বাসায়।
আর আমি সোজা রিয়ার মামা বাড়ি ।
বেল বাজাতেই আন্টি এসে দরজা খুলে
দিলেন। আমি কুশল বিনিময়
করে তানহার রুমে গেলাম।
আমায় দেখে---
তানহা- স্যার আসসালামু আলাইকুম
আমি- ওয়ালাইকুম আসসালাম। কি করো?
তানহা- স্যার আপনার জন্য বসে আছি।
আমি- ওকে বই খাতা বের কর। এর পর ওকে পড়াতে লাগলাম। কছু সময় পরে
আন্টি এসে কিছু খাবার দিয়ে গেল।
যেগুলো খেলে আমার রাতটা দিব্বি
চলে যাবে। ( ঢাকা শহরে এই একটা সুবিধা টিউশন করতে গেলে হালকা কিছু খেতে দেয়)
এরপর তানহাকে পড়িয়ে আমি রাত ১০.৩০ এ বাসায় গিয়ে পৌছালম।
রুমে ঢুকে দেখি বাপ্পি বই পড়তেছে।
আমিও ফ্রেশ হয়ে এসে বই পরতে বসলাম।
রাত ১ টা পর্যন্ত বই পরে ঘুমাতে গেলাম।(ভাইরে জীবনেও এত রাত পর্যন্ত বউ থুক্কু বই পড়তো দূরের কথা ছুয়েও দেখি নাই।)
সুয়ে পরে ভাবতে লাগলাম।
আমার মাসে ইনকাম ৮ হাজার+ ২ হাজার
মোট ১০ হাজার৷
বাসা ভাড়া ৩ হাজার। মিল চার্জ ৬০০ এবং বাকি হাত খরচ ৪০০। এর পর থাকে ৬ হাজার এই থেকেই বাকি
কাজ কর্ম করতে হয়৷
যে টাকা বেচে যায় সেটা বিকাশে জমা
রাখি। কে জানে কখন প্রয়োজন হয়।
এইভাবেই দিনকাল ভালোই চলছিল।
তানহার পরিক্ষা শেষ। ও ভালো রেজাল্ট করছে। তাই ওর আম্মুই আমায় আরেকটা টিউশন ধরিয়ে দিল।
এই টাকা নিয়ে ঢাকা শহরে দিব্বি চলা
যায়। (যদি হিসাব করে চলা যায় তবে)
এই ভাবে আমার আর বাপ্পির দিন ভালোই
চলছিল। আর এখন কলেজে সবাই
আমাকে ভদ্র ছেলে হিসাবে জানে।
কারন আগের সেই শ্রাবন আর এখন
আমি নেই। কলেজে অনেক
ফ্রেন্ড হয়েছে এখন। আর রিয়া
এখন আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড।
এইভাবে ভালো চলছিল আমার জীবন।
এখন আর পরিবারে কথা মনে পরে
না। কিন্তু শিমলাকে ভুলা অসম্ভব।
আজকের দিনটা আমার কাছে খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটা নির্ধারণ করে
দিবে আমার সব কিছু। আজ আমার
ইন্টার এর রেজাল্ট দিবে।
রেজাল্ট শুনেই আমি তো পুরাই........
চলবে..



No comments:
Post a Comment