Post Top Ad

Post Top Ad

Ex girlfriend যখন অফিসের বস

Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস পর্বঃ ১৪


লেখকঃ শ্রাবন রায়

সকালে জান্নাত এর ডাকে ঘুম ভাংল।
ফ্রেশ হয়ে এসে এক কাপ কফি খেতে খেতে ছাদে চলে গেলাম।
সকাল ৭ টা বেজে ৯ মিনিট। আজ সকালটা কেন জানি খুব ভালো
লাগতেছে। কারনটা বোধহয় শিমলা।
কারন কাল বহু বছর পরে তাকে দেখলাম।
তাকে হয়তো জীবনেও পাব না।
কিন্তু সারাজীবন তাকে দেখেই কাটিয়ে
দিতে পারব।
এইসব ভাবতেছিলাম ঠিক তখনই
জান্নাত- কি ভাইয়া আজ কাল দেখি সব সময় ঘোরের মাঝে থাকিস?? কাহিনিটা কি ভাইয়া??
আমি- ধুর তুই যে কি বলিস না??
জান্নাত- হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না। ঘরির দিকে তাকা?
আমি- হ্যা তো অনেক বেজে গেছে।
জান্নাত- টেবিলে খাবার রেখেছি। খেয়ে নি আয়।
আমি- হুম মহারানী চলেন।
এরপর আমরা দুজনে খেয়ে রেডি হলাম।
সকাল ৯ টায় রওনা দিলাম আমি আর জান্নাত।
জান্নাকে ওর স্কুলে রেখে আমিও চলে
গেলাম অফিসে।
৫ মিনিট আগে চলে এসেছি অফিসে।
আমি আমার ডেস্কে চলে গেলাম।
কিছু সময় পরে সবাই চলে এলো
অফিসে।
ম্যাডাম যখন আসল তখন আমরা সকলে
দারিয়ে গেলাম।
আর যখন সে চলে গেল আমরা সকলে
বসে গেলাম।
কিছু সময় পরে ডাক পরল আমার
ম্যাডামের কক্ষে।
আমিও ভদ্র ছেলের মতো চলে গেলাম।
আমি- ম্যাডাম আসব??
ম্যাডাম- হুম।
আমি- ম্যাডাম কিছু বলবেন??
ম্যাডাম- হুম বলব বলেইতো ডেকে পাঠিয়েছি।(কিছুটা রেগে)
আমি- জ্বী বলেন??
ম্যাডাম কিছু না বলে একগাদা
ফাইল ধরিয়ে দিল।
আমি-.......
ম্যাডাম- এইগুলো কালকের মধ্যে রেডি
করে নিয়ে আসবেন...
আমি- কিন্তু ম্যাডাম এতো গুলো ফাইল
একদিনে কিভাবে সম্ভব।
ম্যাডাম- আমি এসব কিছু বুজি না।
আপনাকে আমি টাকা দিয়ে রেখেছি। সো আমি যা বলব তাই করতে হবে।
আমি- কিন্তু...
ম্যাডাম- আমি আর কিছু শুনতে চাই না। যদি করতে না পারেন তাহলে চাকরিটা ছেরে দিন।
আমি-.......
ম্যাডাম- আমি জানি তো আপনার মতো ছোটলোক কিছুতেই এত বড় চাকরি ছারতে পারবে না।
আমি.....(ছোটলোক কথাটা শুনে খুব কষ্ট পেলাম। আসলেই তো আমি ছোটলোক।)
ম্যাডাম- এখন দাঁড়িয়ে আমার মুখ না দেখে গিয়ে কাজ করুন।
আমি- আর অপমানিত না হয়ে চলে এলাম।
বাইরে-------
রহিম- কি ভাই মন খারাপ??
আমি- না।
রহিম- তো সকালবেলাই মুখ কালো কেন??
আমি- তেমন কিছু না।
রহিম- ওকে ভাই।
আমি- হুম
এরপর নিজের ডেস্কে এসে বসে কাজ করতে শুরু করলাম।কাজ করার ফাকে
আপনাদের কিছু কথা বলি--
(আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি কেন এত অপমান কেন মুখ বুজে সহ্য করলাম?? আসলে আমি আমার আগের যবটা ছেরে দিয়েছি। আর টিউশন গুলোও ছেড়ে দিয়েছি। আর এখন কোন
চাকরি পাওয়া ঢাকা শহরে অসম্ভব প্রায়। তাই জান্নাত এর জন্য আমি চাকরিটা ছাড়তে পারতেছি না। কারন কোন চাকরি না করলে রাস্তায় বসতে হবে তাই এই চাকরিটা ছাড়া যাবে না।)
এই সব ভাবতেছিলাম আর কাজ করতেছিলাম। কিন্তু কখন যে লাঞ্চ টাইম
হয়ে গেছে টের পাই নাই।
রুবেল- কি ভাই লাঞ্চ করবেন না??
আমি- হুম
রুবেল- তো আসুন এক সাথে করে আসি।
আমি- হুম কিন্তু এখন কত বাজে??
রুবেল- ভাই ঘরি দেখেন
আমি- ঘরি দেখে অবাক। কখন ২ টা বেজে গেল কে জানে??
আর কিছু না বলে আমরা লাঞ্চ করতে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি সকলে আছে। আমরা সকলে কিছু কথা বলতে বলতে দুপুরের খাবার খেয়ে যে যার কাজে চলে গেলাম।
কাজ করতে লাগলাম। কাজ করতে করতে বিকাল ৪ টা বেজে গেল। মানে অফিস টাইম শেষ। ম্যাডামের দেওয়া
কাজ এখনো অনেক বাকি আছে। তাই আমি ভাবলাম বাসায় গিয়ে করব।
তাই ফাইল গুলো নিয়ে অফিস থেকে বের
হব ঠিক তখনই --
পিয়ন চাচা- বাবা তোমায় ম্যাডাম তার রুমে ডেকেছে।
আমি- ওকে চাচা আমি যাচ্ছি। আপনি যান।
পিয়ন চাচা- হুম বাবা।
আমি আর কিছু না ভেবে ম্যাডামের রুমে
গেলাম।
আমি- ম্যাম আসব??
ম্যাডাম- হুম।
আমি- জ্বী বলুন??
ম্যাডাম- এই ফাইলটা নিয়ে ১০ মিনিট এর মধ্যে কমপ্লিট করে দিন।
আমি- কিন্তু ম্যাম অফিস টাইম তো শেষ।
ম্যাডাম- তুই এত বেশী বুজিস কেন?? মনে রাখবি তুই আমার পিএ। (ধমক দিয়ে)
আমি- কিন্তু ম্যাম আপনি আমার সাথে এভাবে কেন কথা বলছেন??
ম্যাডাম- তোর কাছ থেকে আমার ব্যাবহার শিখতে হবে নাকি?? লুইচ্চা কোথাকার
আমি- ম্যাডাম আপনি কিন্তু আমায় অপমান করছেন....
আর কিছু বলার আগে ঠাসসসসসস ঠাসসসস।
হুম আমাকেই দুইটা চর মারছে।
ম্যাডাম- বের হয়ে যা আমার সামনে থেকে।
আমি- আর কিছু না বলে চলে এলাম।
চোখের পাশে দুই ফোটা জল দেখতে পেলাম। কেন জানি খুব খারাপ লাগতেছে আমার। কিন্তু এইসব ভাবলে চলবে না।
তাই আমি কাজে মন দিলাম। কাজ করতে ৩০ মিনিট লেগে গেল। অফিসে আমি, ম্যাডাম, পিয়ন চাচা ছারা আর কেউ নেই।
আমি ফাইল নিয়ে ভয়ে ভয়ে ম্যাডাম এর রুমে গেলাম
আমি- ম্যাডাম আসব??
ম্যাডাম- হুম
আমি- এই যে ম্যাডাম ফাইল
ম্যাডাম- কিছুক্ষণ ফাইল চেক করে কোন ভুল পেলেন না। কিন্তু,,৷ আপনাকে বলছি ১০ মিনিট এর মধ্যে করতে আর আপনি??
আমি- ম্যাডাম আসলে অনেক বড় ফাইল তাই..
ম্যাডাম- আপনি আমায় শেখাচ্ছেন??
আমি- আমি তা বলি নাই ম্যাম।
ম্যাডাম- দুর হন আমার চোখের সামনে থেকে। যত সব ছোটলোক
আমি- কিছু না বলে বের হয়ে এলাম।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৪ টা বেজে ৪০ মিনিট । তাই আর দেরি না করে বাইরে বের হয়ে হাটা শুরু করলাম। কারন আজ অনেক কষ্ট পেয়েছি। আর আমি খুব কষ্ট পেলে হেটে বেরাই। এতে আমার খানিকটা কষ্ট কমে। তাই জান্নাত কে ফোন করে বলে দিলাম বাসায় আসতে রাত হবে। রাস্তা দিয়ে হাটতেছি আর ভাবতেছি শিমলার বলা কথা গুলো।
আর ওকে কোন দিনও মাপ করব না।
ওর জন্য যেইটুকু মায়া ছিলো সেগুলো
সব আজ শেষ হয়ে গেলো ওর ব্যাবহারে।
বাসায় আসতে সন্ধ্যা ৬ টা বেজে গেল।
এসে জান্নাত এর সাথে কিছু কথা বলে
ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম।
কারন অনেক কাজ বাকি আছে।
তাই তারাতাড়ি খেয়ে কাজ করতে বসলাম।
কজ করতে করতে একটা ফাইলে
আটকে গেলাম। কি করব বুজতে পারতেছি না। অনেকক্ষণ ভেবে এক
বন্ধুকে ভিডিও করলাম।
ও এই ব্যাপারে ভালো বুজে। কারন ও
চাকরি করে প্রায় ১ বছরের বেশী।
বন্ধু- দোস্ত তোকে এই ফাইল কে দিল??
আমি- আমার অফিসের ম্যাম
বন্ধু- তুই তো বলছিল তোর নতুন চাকরি
হয়েছে??
আমি- হুম। কিন্তু কেন??
বন্ধু- কারন এই ফাইলগুলো তো অফিসের নতুন কোন স্টাফ করতে পারবে না।
আমি- বোধহয় ভুলে চলে এসেছে।(মিথ্যা কথা)
এর পর আরো কিছু কথা বলে রেখে দিলাম। আমি বুজতে পারলাম ম্যাডাম ইচ্ছে করে আমায় এই ফাইল দিছে।
যেন আমি কাজটা করতে না পারি। আর
সে আমায় অপমান করার সুজোগ পায়।
কাজ করতে করতে রাত ২ টা বেজে গেছে।
জান্নাত এর রুমে গিয়ে দেখি ও ঘুমিয়ে গেছে।
তাই আমিও কিছু না ভেবে শুতে গেলাম।
কিছুতেই ঘুম আসতেছে না। কারন
শিমলার বলা প্রতিটি কথা আমায় কুরে
কুরে শেষ করে দিচ্ছে।
কিভাবে পারল আমায় এত বাজে কথা
বলতে?? কিভাবে পারল আমায় এত অপমান করতে???
না আর কিছু ভাবতে পারতেছি না।
কিছুতেই ঘুম আসতেছে না।
খুব মাথা বেথা করতেছে। কারন সারা দিন
অনেক কাজ করছি তাই।
একটা ম্যাথ্যা ব্যাথার ওষুধ খেয়ে
ঘুমিয়ে পরলাম।
সকালে...........
চলবে....

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad