রিদয় ভাইয়ার একটা ডিশিসন একটি ভালোবাসা অটুট রইল।আর আশা ত অবাক করে দিয়েছে আমাকে। তবে রিদয় ভাইয়া বড় মনের মানুষ মানতেই হবে।আমার কাছে আশা আর রিদয় ভাইয়ার কেমিস্ট্রি অনেক ভালো হবে মনে হচ্ছে।কারন দুজন দুটি রাইট ডিশিসন দেখিয়েছে
এখন দেখার বিষয় হলো বিয়েটা আটকায় কিভাবে???রিদয় ভাইয়া কি পারবে আংকেল্কে বুজাতে???
রিমির মনে আনন্দ, সাথে আমারও,।কিন্তু চিন্তার বিষয় আংকেল আন্টি মানবে ত,,রিদয় ভাইয়া কি ভেবে রেখেছে কে জানে? তবে ভয় হলো রিদয় ভাইয়ার আপন বলতে রিমির বাবা মা।আর অভিভাবক ও। যদি আংকেলের সিদ্ধান্ত চুরান্ত হয়?
পরের দিন সকালে নাস্তার টেবিলে।খাবার খাচ্ছি।
-- আংকেল একটা কথা ছিল?(রিদয় ভাইয়া)
-- হুম বলো?(আংকেল)
-- আংকেল আমার মনে হয় এখন বিয়েটা না করাই ভালো হবে।।(রিদয়)
-- কেন?রিমিকে তোমার পছন্দ না?(আংকেল)
-- না মানে আসলে আমি ত মাত্র পড়ালেখা শেষ করলাম।আর রিমির ত পড়ালেখা অনেক বাকি রয়েছে।।রিমিও পড়া লেখা শেষ করুক আমিও কিছু একটা করি। তার পর বিয়ের কথা ভাবা যাবে?(রিদয়)
-- তোমার কথায় যুক্তি আছে কিন্তু বিয়ের পরও ত এইসব করা যায়।তাই না?(আংকেল)
-- না আংকেল আপনি বুজছেন না। বিয়ের পর লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।।তাছাড়া রিমির ত তেমন বয়সও হয় নাই?(রিদয়)
-- আচ্ছা রিমি কি বলিস,?(আংকেল)
-- আব্বু আমি রিদয় ভাইয়ার কথার সাথে একমত?(রিমি)
-- আচ্ছা তোমাদের জিবন তোমরা যা ভালো মনে করো তাই হবে??(আংকেল)
আমি চুপচাপ,,,মনে ত আনন্দের বন্য বইছে।আর রিমির হয়তো জিবন ফিরে পাইছে।খুব রিলাক্স ভাবে বসে আছে।মনে হচ্ছে বাবা মায়ের বাধ্য মেয়ে।।মিয়ে টা করতে চাইছে কিন্তু রিদয় ভাইয়ার জন্য সময়টা পিছিয়ে গেছে।।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে,,,রিদয় ভাইয়া,,,আমাদের বললো,,,
-- তোমাদের জন্য এত সেক্রিফাইস করলাম,,, ট্রিট দিতে হবে কিন্তু? (রিদয় ভাইয়া)
-- বলেন ভাইয়া আপনার কি লাগবে???(রিমি)
-- জ্বি ভাইয়া বলেন,,,কি ট্রিট চাচ্ছেন?(আমি)
-- কালকে আমার জাপান চলে যেতে হবে,,একটা বড় কম্পানিতে ইন্টারভিও দেয়ার জন্য।।।তোমরা দুজন আশাকে দেখে রাখবা অকে?(এক দিনেই এত ভালোবাসা)
-- তা না হয় ঠিক আছে তোমার ত কয়েকদিন থাকার কথা ছিল?(রিমি)
-- বিয়েটা হলে থেকে যেতাম,,,এই চাকরির সুযোগ হারিয়ে হলেও।।কিন্তু এখন যখন বিয়েটা হচ্ছে না তাই কালই ব্যাক করবো।(রিদয় ভাইয়া)
-- আশা কে বলছেন ভাইয়া?(আমি)
-- সন্ধ্যার দিকে কোথায় ডেকে নিব,,,তার পর সব বলবো(ভাইয়া)
--আচ্ছা,,,
সন্ধ্যার দিকে রেস্টুরেন্টে বসে আছি চার জন,,,,যে যার মত অর্ডার দিয়ে খাচ্ছি।আর গল্প করছি,,,হঠাৎ ই
-- আশা তোমাকে যেই কথা টা বলার জন্য ডেকেছি?(রিদয় ভাইয়া)
-- জ্বি বলেন?(আশা)
--আচ্ছা ভাইয়া আমরা অই টেবিলে বসি,,,(আমি আর রিমি ওদের একা ছেড়ে অন্য টেবিলে গিয়ে বসছি)
আমাদের নিজেদের মধ্যে টুকটাক কথা হলেও খেয়াল ছিল আশা,রিদয় ভাইয়ার দিকে। আশা বার বার চোখ মুছসে। বুজতে পারছি আশা রিদয় ভাইয়া কে ভালোবেসে ফেলেছি।আর মুহুর্তটা কষ্টের যাচ্ছে।।আমি অবাক কারন একদিনের প্রেমে এত ইমুশন।।একেই হয়ত বলে সত্যিকারের ভালোবাসা।।।
কথা শেষ করে রিদয় ভাইয়া বললো,,
-- আসিফ আমাকে একটু বন্ধুবান্ধব দের সাথে দেখা করতে যেতে হবে।।তোমরা চলে যেও?(রিদয়)
-- আচ্ছা ভাইয়া ঠিক আছে?(আমি)
রিদয় ভাইয়া চলে যাবার পর,,,
-- আশা,,,রিদয় ভাইয়া কি বলছে,,,তুই এত কান্না করলি কেন?(রিমি)
-- রিদয় ভাইয়া কাল চলে যাবে?আর কয়েক বছর পর আবার আসবে আমাদের পড়ালেখা শেষ করার পর।ততদিন অপেক্ষা করে থাকতে বলেছে??(আশা)
-- অহ তুই অপেক্ষা করতে চাচ্ছিস না?(রিমি)
-- কি আজে বাজে বলছিস।।কাল কে প্রেম হলো।আর তুই জানিস এটাই আমার প্রথম প্রেম তোর চক্করে পরে।কত সপ্ন বফ এর সাথে ঘুরব,,,রেস্টুরেন্টে দেখা করব।।কিন্তু দেখ এইসবের কিছুই হবে না।।আমাকে কয়েক বছর পথ চেয়ে বসে থাকতে হবে?(আশা)
-- তুই রিদয় ভাইয়াকে ভালোবাসলে অপেক্ষা করতে পারবি...(রিমি)
-- আমি না হয়,,অপেক্ষা করবো রিদয় যদি অন্য মেয়ের সাথে?( আশার কথায় যুক্তি আছে)
-- আরে রিদয় ভাইয়া এত খারাপ না,,,দেখে নিস ভাইয়া তোকে ছাড়া আর কাউকে ভালো বাসবে না।।।(রিমি)
-- তাই যেন হয়,,,(আশা)
-- হুম তাই হবে মন খারাপ করিস না.।আর ভাইয়ার সাথে ত রেগুলার কথা হবেই?(রিমি)
-- তা ঠিক,,,চল বাসায় চল?(আশা)
-- ওকে,,,
আজ পর্নিমার রাত,,চার পাশ আলোয় ভরপুর। হেটে হেটে বাসায় যেতে ভালোই লাগছে।। রিমি আর আমি পাশা পাশি।মনে হচ্ছে যেন অনেক দুর থেকে রিমি আবার আমার জিবনে ফিরে এসেছে।।কোনো দিন রিমির হাতে হাত রাখি নি।।তবে আজ কেন যেন রিমির হাতটা ধরে বলতে ইচ্ছা করছে।কথা দিলাম রিমি এই হাত কখনো ছাড়বো না।
রিমি আনমনে কথা বলে যাচ্ছে।মুখে হাসি লেগে আছে,,কারন টা ত সবাই জানেন।
আমি রিমির হাতের কাছে হাতটা নিয়েও ধরতে পারছি না।।কি মনে করবে রিমি।রিমি অবশ্য অনেকবার হাত ধরতে চাইছিল।কিন্তু নানা অজুহাতে ধরতে দেই নাই।কারন যার জিবন অনিশ্চিত তার মায়ায় ফেলা ঠিক হবে না তাই।তবে শুধু মায়ায় না,,রিমি আমাকে এখন ছাড়তেই পারবে না।যার যথেষ্ট কারন আমি দেখেছি।
তাই আমার মনে হয় রিমির ভালোবাসার যথেষ্ঠ মর্যাদা,, মুল্য দেওয়া উচিত। সামনে যা হবার হবে,,তবে ভালোবাসাটা পবিত্র হওয়া চাই।।
তবে বর্তমানে বেশিরভাগ প্রেমই লুতুপুতু টাইপের।।এইসবের পর যখন অন্যজনকে পরিস্থিতির কারনে বিয়ে করতে হবে। কি দিবে তার স্বামীকে,,,?আর ছেলেটা কি ভালো স্ত্রী আশা করতে পারবে।।আমার মনে হয় এইসব দেশ,জাতি,সমাজ,পরিবারের জন্য লজ্জা,ভয়ংকর পরিস্থিতির কারন।
রিমির হাতে হাত রাখার সাহস পাচ্ছি না।তবে রিমি হয়তো বুজে ফেলছে। হঠাৎ দেখি রিমি আমার হাত ধরে ফেলেছে।। রিমি একবার আমার দিকে তাকিয়ে আবার কথা বলতে লাগলো।।
হঠাৎ ই দেখি আমার আর রিমির মাঝখানে আশা।দুজনকে আলাদা করে ফেলছে?
-- আমার টা দুরে পাঠিয়ে তোমাদের কাছে আসা হচ্ছে?তা হবে না,আমার সামনে এইসব যেন না হয় বুজলা?(আশা)
-- তোমারটা ত আমরা পাঠাচ্ছি না।নিজেই যাচ্ছে?(আমি)
-- যেভাবে যাক,,,,যতদিন আমি আমার ভালোবাসা কাছে না পাবো তিন ফুট দুরে থাকবা।নয়তো ভাইরাল করে দিব তোমাদের প্রেম?(আশা রেগে আছে না মজা করছে বুজতে পারছি না)
-- আচ্ছা ঠিক আছে,,,বুজছি তোর হিংসা হচ্ছে?(রিমি)
-- কি বললি,,,(আশা রিমিকে দৌড়াতে লাগলো)
আমি কি করবো,,মনের সুখে হেটে যাচ্ছি।সামনে এসে দেখি আশাদের বাসার সামনে আশা, রেমি দাড়িয়ে আছে।সাথে মাইশা আপু আর ভাইয়া।কার জন্য অপেক্ষা করছে কে জানে?হয়তো সপিং করতে গেছে।
-- আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া কেমন আছেন?আপু কি খবর?(আমি এগিয়ে গিয়ে)
-- একটা চর দিব,,,বাসার সামনে দিয়ে আসো যাও আপুর সাথে দেখা করতে আসো না কেন?(মাইশা আপু)
-- সরি আপু সময় পাই না।বিজি থাকি ত?(আমি)
-- এবার কিন্তু সত্যিই চর বসিয়ে দিব।পরিক্ষা শেষ এখন বিজি তাই না?(আপু ত বুদ্ধিমান,মিথ্যা বলে বাচা সম্ভব না)
-- না মানে আপু,,পরিক্ষা দিয়ে ক্লান্ত ত তাই ঘুম নিয়ে বিজি আর কি?আমি ত আসতে চাই কিন্তু আশা ত আসতে মানা করছে?(মজা করে বললাম)
-- কিহ ঘুম নিয়ে বিজি মানে?আর আশা আসতে মানা করছে কেন?তুমি তোমার আপুর শশুড় বাড়ি আসবা আশা বাধা দেওয়ার কে?(মাইশা আপুর কথায় শুধু লজিকে ভরপুর)
--আচ্ছা আসবো,,কালকেই,,,খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা কইরেন ঠিক আছে?(আমি)
-- কাল না এখন চলো?(মাইশা আপু আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই টেনে হিছড়ে বাসায় নিয়ে গেলো)
আর সবাই হাসতে শুরু করলো আপুর কান্ড দেখে।।আপুকে দেখে মনেই হয় না এটা দুলাভাইয়ের বোন।।আর কেউ দুলাভাইকে দেখে ভাবতে পারবে না।যে তার চরিত্র কতটা খারাপ।
-- আপু বাসায় নিয়ে আসছো এবার ত ছাড়ো?(আপু বাসায় এসেও আমার হাত ধরে আংকেল কে ডাকছে আসামি নাকি ধরে নিয়ে এসেছে)
-- দাড়াও,,আব্বু আগে আসুক?(মাইশা আপু)
-- আসামিটা কে বউ মা?(আংকেল তার রুম থেকে বেরিয়ে আসলো)
-- এই যে দেখেন?অই যে বিয়ের দিন এসেছিল আর দেখা পাওয়া যায় নি?(মাইশা আপু হাতটা ছেড়ে)
-- আসিফ?,,,কি হইছে আসিফ আমাদের বাসায় আসো না কেন?(আংকেল)
-- আংকেল আশার সাথে অনেক দিন জগড়া ছিল।তাই রাগ করে আসি নাই?(কিছু একটা ত বলতেই হবে।কারন আংকেল অনেক ভালোবাসে আমাকে)
-- কি,,না,,না আব্বু আসিফ মিথ্যা বলছে,,,আমাদের জগড়া হয় নাই কখনো?(আশা টুতলাতে টুতলাতে বললো।)
--দেখছেন,,,আংকেল আপনার সামনেও মিথ্যা বলছে,,,আমাকে কথা শুনানোর জন্য?(আমি)
-- তোমাদের মধ্যে জগড়া হতেই পারে,,তাই বলে আসবা না?এখন ত এটা তোমার বোনের ও বাড়ি?(আংকেল)
-- তা ঠিক আছে কিন্তু আশা ত এই বাড়ির ই মেয়ে তাই না।।জগড়ার পর ত কেউ কারো সামনে পরলে শরিরে আগুন জ্বলে,,,তখন আগুন নিভাবে কে?/(আমি)
-- বুজছি,,,,আসো বসো,,,কি নিয়ে জগড়া হয় আজ সুনবো আর বিচার করবো।?(আংকেল)
আশা রাগে ফুলছে প্রতিনিয়ত। আশা কিন্তই খুব ভালো চুপচাপ স্বভাবের।তবে রাগ অভিমান টা অনেক বেশি।আর তর্ক তে আশা একেবারেই নাই।তর্ক তে না পারলে কেদে দিবে?.যা অনেক মেয়েদের মধ্যেই নেই।।
আচ্ছা সেই সাথে আমি ঠান্ডা লেবুর সরবত নিয়ে আসছি সবার জন্য?(মাইশা আপু)
-- আপু আমিও আসছি?(রিমি আপুকে হেল্প করতে চলে গেছে।)
রিমির ত প্রায় প্রতিদিনই আসা যাওয়া। আপুর সাথেও নাকি অনেক ভাব জমেছে।আগেই বলেছি আপু খুবই মিশুক।
-- আচ্ছা বলো কি নিয়ে জগড়া হইছিল?(আংকেল)
-- আংকেল এখন ত জগড়া নাই,,বলে কি হবে(আমি)
-- যেন পরবর্তিতে জগড়া না হয় সেই ব্যবস্থা করবো?(আংকেল)
-- আব্বু তুমি আসিফের কথা সুনছো কেন?তুমি জানো না তোমার মেয়ে কত লক্ষী। তোমার মেয়ে জগড়া করতে পারে বলো?(আশা অভিমানি সুরে)
-- সব ছেলে মেয়েরাই বাবা মা আত্মীয় স্বজন দের সাথে একরকম আর বন্ধুবান্ধব দের সাথে আরেক রকম।তাই সঠিক বলতে পারছি না।(আংকেলের কথা সুনে আশা প্রায় কেদে দিবে ভাব)
-- আব্বু তুমি তোমার মেয়েকে বিশ্বাস করো না?(আশা কান্নাভাব নিয়ে)
-- সুনেন আংকেল আমি যখন বলি আশা আজ রাতে তোমাদের বাসায় যাবো।আশা তখন বলে আজ না ভালো খাবার রান্না হয় নাই।।আচ্ছা আংকেল আপনি বলেন আমি কি খাবার খাওয়ার জন্য আসি?(আমি আশার দিকে মুচকি হাসি দিয়ে তাকিয়ে)
আসলে আশা আমাকে যেতে বলে আমিই অজুহাত দেখাই।
-- আশা এটা ত ঠিক না,,,আর এমন করবা না।আসিফ যখন আসতে চাইবে নিয়ে আসবা।আর তুমিও আসতে বলবা।(আংকেল)
-- না আব্বু আসিফ বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলছে,,আমাকে ফাসাচ্ছে আর তুমি আসিফকে বিশ্বাস করছো।আমাকে তুমি মেয়েই ভাবো না।।(আশা কান্না শুরু করে দিছে।)
কি মেয়েরে,,,
-- হইছে আংকেল বাদ দেন?আপনার কি খবর বলেন?(আমি)
-- কোনো খবর নাই,,,ভাবি সরবত আনছে খেয়ে বাসা থেকে বের হয়।।।(আশা খুব রেগে)
-- আমি ত আমার আপুর বাসায় আসছি,,,তুমি বললেই চলে যেতে হবে নাকি?(আমি)
-- হুম,,তুই আমার নামে মিথ্যা বলছিস,,,?(আশা)
-- কি ব্যপার আশা কাদছে কেন?(মাইশা আপু সরবত নিয়ে এসে গেছে)
-- ভাবি দেখ না আসিফ আমার নামে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলছে?আমি নাকি আসিফকে আসতে দেই না?((আশা ভাবির কাছে গিয়ে)
-- মজা করছে হয়তো,,,কাদার কি আছে বোকা মেয়ে?(আপু)
-- তুমিও তোমার ভাইয়ের প্রতি আয় টানছো।(আশা)
-- আচ্ছা আপু অনেক রাগ হইছে বাসায় যেতে হবে?(সরবত খেয়ে)
-- কে রাগ হইছে,,, না খেয়ে যেতে পারবি না। আমি আংকেল কে ফোন করে বলে দিচ্ছি তোরা আমাদের বাসায় যেতে দেড়ি হবে।(আশা)
যাক বাবা ভুল উচ্চারনে আজ কাজ হইছে দেখছি।আশার ত দেখি মায়া অভাব নাই।।আর সবাই অবাক প্রায়।যেই মেয়েটা আসিফেএ জন্য কান্না করলো সে আবার এক মুহুর্তেই পরিবর্তন।কি বন্ধুত্বরে বাবা।
আসলে আমি বলতে ছিলাম, (অনেক রাত হইছে বাসাত যেতে হবে)
-- রাখ আমিই,? (আংকেল)
খাওয়া দাওয়া শেষ করে অনেক মজা করে বাসায় ফিরলাম।আংকেল আমাদের এগিয়ে দিয়ে গেলো।।।
সকালে,,নাস্তার টেবিলে রিদয় ভাইয়া?
-- আংকেল,,আন্টি আমার কালকেই একটা বড় কম্পানিতে চাকরির ইন্টার্ভিউ আছে। আজই জাপান ব্যাক করতে হবে,,,?(রিদয় ভাইয়া)
-- কি বলিস,,,এক সাপ্তাহ থাকতে পারলি না আজই চলে যাবি?(আন্টি)
-- এই চাকরিটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ন। এটা না পেলে আমার লেখাপড়াই বিফলে যাবে.<(ভাইয়া)
-- আচ্ছা কখন যাবি?(আন্টি)
-- কিছুক্ষন পরই(রিদয়)
খাবার শেষ করে ভাইয়া রেডি হচ্ছে।ভাইয়ার প্রতি অনেক সম্মান।আর ভালোবাসা জন্মে গেছে এরকম লোক খুজে পাওয়া ভাগ্যের। দায়ীত্ব পরলো আমি আশা,,এগিয়ে দিয়ে আসবো।
আমি ড্রাইভ করা শিখে গেছি।মাঝে মাঝে আমিই আংকেল কে আমিই অফিসে নিয়ে যাই। আমি গাড়ি চালাচ্ছি,,আমার পাশে রিমি।পিছনে রিদয় ভাইয়া আর আশা।।আশাকে বাসা থেকে নিয়ে নিছি।ভালোবাসার মানুষটাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসুক।
রিদয় ভাইয়া আশাকে প্রমিস করছে,,অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাবেও না।আর যত রাতারাতি সম্ভব দেশে এসে সব কিছু ঠিক ঠাক করে বিয়ে টা করে নিবে।
তবে আমার আর রিমির যতদিন হচ্ছে না।ততদিন রিদয় আশা করতে পারবে না।কারন আংকেল আন্টি জানে।চাকরি পেয়ে রিমিকেই বিয়ে করবে রিদয় ভাইয়া।।আর আমার কিছু একটা না করা পর্যন্ত ভাইয়া দেশে আসতে পারবে না।
ভাইয়াকে বিদায় দিয়ে আসলাম।সাথে আশাকে দুইবার টিসু কিনে দিতে হয়েছে।।
কয়েকদিন পর খবর পেলাম ভাইয়া চাকরি পেয়েছে।আশা ত অনেক খুশি।।উরাধুরা খাওয়ার প্রস্তাব।এইসব খাওয়ার প্রস্তাব মিস করি না।।
রেস্টুরেন্টে আজ দুপুরেই বসে খাচ্ছি।এমন সময় আম্মুর ফোন?
আম্মুর নাম্বার বেজে ঊঠার সাথে সাথে মনটা আনন্দে নেচে উঠলো।
-- হ্যালো আম্মু কেমন আছো?(আমি খুশি মনে)
-- আসিফ তোর বাবার অবস্থা বেশি ভালো না,,,(আম্মুর কথাটা সুনে বুকের ভিতর হাতুরি দিয়ে কে যেন আঘাত করলো মনে হলো)
-- কি বলো আম্মু কি হয়েছে আব্বুর? (আমি উত্তেজিত হতে)
-- তোর আব্বু স্ট্রোক করেছে।হাসপাতলে আনা হইছে।ডাক্তার বলেছে খুবই বাজে অবস্থা।তুই তারাতারি আয় আসিফ?(আম্মু কান্না করছিল।আম্মর কথা সুনে আর দেরি করতে পারি নাই।)
আশা,আর রিমিকে বলে বাসায় এসে আন্টির কাছে বলে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,,,
চলবে,,,
বিদ্রঃভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।ভালোলাগলে লাইক,কমেন্ট সেয়ার করে পাশে থাকবেন।
গল্পের পার্ট নিয়ে সবার মতামতের গুরুত্ব নিয়ে।গল্প সুন্দর ভাবে গোছাতে গল্পটা যতদুর নিতে হয় নিয়ে যাবো। তবে গল্প মাঝে মাঝে অনিয়মিত হয়ে যায়।তাই রাগ অভিমান করবেন না।কারন আমার বেশিক্ষন লেখাতে প্রব্লেম আছে।তাই দুই দিন,,,পর পর গল্প দিব.....



No comments:
Post a Comment