#লেখক_আসিফ
-- তোর আব্বু স্ট্রোক করেছে।হাসপাতাল আনা হইছে।ডাক্তার বলেছে খুবই বাজে অবস্থা।একবার এসে তোর আব্বুকে দেখে যা আসিফ(আম্মু কান্না করছিল)
মহুর্তেই ভিতরটা নেরেচেরে উঠলো।মনে হচ্ছে কি যেন একটা হারিয়ে যাচ্ছে।তাই আমি দেড়ি না করে।রিমি আর আশার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আব্বুক্ব দেখার উদ্দেশ্যে বাসায় রওনা দিলাম।।বাসে করে যাচ্ছি মনে হচ্ছে যেন আজ সময়টা যাচ্ছে না।।।সুনেছি বিপদের সময় রাস্তা আগায় না এটাই হচ্ছে আজ আমার সাথে।
ভাবিকে ফোন দিলাম আব্বুর অবস্থা জানার জন্য।
-- হ্যালো আসিফ বলো?(ভাবি)
-- ভাবি আব্বুর এখন কি অবস্থা?(আমি)
-- ভালো নেই বেশি,,,তুমি সুনেছো কোথায় থেকে?(ভাবি)
-- আম্মু ফোন করে বলেছে,,,আমি আসছি। (আমি)
ফোন রেখে রাস্তার দিকে চেয়ে বসে আছি।।আমার অন্য কোনো খেয়াল নেই।।শুধু আব্বুর জন্য একটু পর পর বুকটা কেপে ঊঠে।।মনে হচ্ছে যেন মাথার উপড় বট গাছে প্রচুর ঝর যাচ্ছে।উপরে পরবে,,,,।
বাসা থেকে চলে যাওয়ার পরও কখনো মনে হয় নাই।আমার মাথার উপর ছায়া দেওয়ার মত বট গাছটা আজ ছেড়ে যাচ্ছে।।শুধু মনে হতো,কোনো এক কারনে গাছের পাতা গুলো ঝরে গেছে।ইনশাআল্লাহ আবার পাতা গজাবে।।।কিন্তু আজ এমন মনে হচ্ছে কেন?
অবশেষে হাসপাতালে এসে পৌছালাম,,এক দৌরে হাসপাতালের ভিতরে গিয়ে প্রতিটি কেবিনে খুজতে লাগলাম।।তার পর একটা রুমের দরজার কাছে ভাবিকে দেখতে পেলাম।।এখানেই আব্বু থাকবে।
রুমেই যাচ্ছিলাম,,হঠাৎ ই মনে পরলো আব্বুর শেষ কিছু কথা?তুই আমার ছেলে না।বাসা থেকে বের হয়ে যা।আর আমার সামনে কখনো আসবি না।আর আসলে আমার মরা মুখ দেখবি।।
আব্বুর কথা গুলো কানে বাজতে লাগলো।।থমকে যাই,,ভিতরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না।।তাই আবার পিছিয়ে গেলাম।ভাবিকে আবার ফোন দিলাম।।আব্বুর এখন কি অবস্থা জানার জন্য।
-- হ্যালো,,,আসিফ তুমি কি আসছো?(ভাবি)
-- না ভাবি একটু দেড়ি হবে,,আব্বুর এখন কি অবস্থা?(চোখ বেয়ে পানি পরছিল)
-- আব্বুর অবস্থা খুবই বাজে,,,আল্লাহ যদি না দিয়ে যায় বাচানো সম্ভব না?(ভাবির কথায় ভিতরটা মোচর দিয়ে উঠলো)
আমি আর কিছু ভাবতে পারছিলাম না।কোনটা সঠিক কোনটা ভুল আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে শেষ দেখাটা না হয় দেখে যাই।।আব্বু রাগের মাথায় কত কথাই বলতে পারে। তাই বলে কি আমিও রাগ করে আব্বুকে দেখবো না।।
এক দৌরে আব্বুর কেবিনে।আব্বুর মুখে অক্সিজেন লাগানো,।আমাকে দেখে সবাই অবাক।পরিবারের সবাই আছে এখানে।মিথিলা,দুলাভাই, সুমি আপু,ভাবি ভাইয়া,আম্মু চাচি সবাই। আব্বুর দিকে তাকিয়ে অনবরত চোখের পানি ঝরছে।।আব্বু আমাকে দেখে আম্মুকে হাত দিয়ে ইশারা করছে আমি যেন চলে যাই।
আব্বুর নাকি খুব কষ্ট হচ্ছে আমাকে দেখে,,,,।আম্মু কি বলবে চোখের পানি ফেলছে,,আর আমাকে বললো,,
বেরিয়ে যেতে,,,,আম্মু হয়তো ভাবছে এত দিন পর হয়তো আব্বুর মনে কোনো রাগ অভিমান নেই।।কিন্তু আম্মুও ত মায়ের স্নেহ আর আমাকে দেওয়া মিথ্যা অপবাদের সাক্ষি।কি করে বুজবে আমি নির্দোষ ছিলাম।।
আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল,,,,বুকের ভিতর অসম্ভব ব্যাথা লাগছে। ভাইয়া আমার গালে চর বসিয়ে দিয়ে?
-- এই তুই এখানে কেন এসেছিস?তোর জন্য আমাদের পরিবারের আনন্দটা চলে গেছে। আব্বুর এই অবস্থা কেন জানিস,,,তোর মতো ছেলেকে জন্ম দিয়ে অনুতপ্ত। যার কারনে আব্বু আজ স্ট্রোক করেছে?(ভাইয়া)
আমি মাথা নিচু করে আছি,,,আমার যে কিছু বলার নেই।।
-- বেরিয়ে যা,,তোকে দেখে আব্বুর অনেক কষ্ট হচ্ছে দেখছিস না।২ বছর ধরে ত কষ্ট পেয়েই যাচ্ছে শেষ বেলা একটু সুখ দে।।আর আসবি না,, আব্বু মরে গেলেও না?(ভাইয়ার কথা সুনে কান্না করছি।)
আসলে ভাইয়ার কথায় কান্না করছি না কান্না করছি আব্বুর যেন কিছু না হয়ে যায়।।আব্বুকে যদি একটু জড়িয়ে ধরতে পারতাম।আর যদি বলতে পারতাম আব্বু আমি এইসব করি নি আমার কাছে প্রমান আছে। আম্মুকে,ভাবিকে কান্না করতে লেখছি।মিথিলাকেও দেখছি মুখ ভার করে আছে।হয়ত ভাবছে আমাকে বাচানোর জন্য আসিফ কি অমানবিক যন্ত্রনা সহ্য করছে।আবার মুখে অন্ধকার মনে আনন্দের জোয়ার বইতেও পারে।।
রুম থেকে বেরি আসলাম।ভাবি আমার সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে আসছিল ভাইয়া আটকে নিয়েছে।।,,
চোখে পানি মনে ব্যথা নিয়ে সাহপাতালের গেইট অতিক্রম করে। বাস স্টেন্ডে বসে আছি।ফিরে যাবার শক্তি পাচ্ছি না।আব্বুর কাছে আবার যেতে মন বেকুল হয়ে আছে।।
এমন সময় রিমি ফোন দিয়ে জানতে চাইলো,,
-- হ্যালো আসিফ।আংকেলের কি অবস্থা ভালো আছে ত?(রিমি)
--(আমি কান্না করছি)
-- কি ব্যপার কান্না করছো কেন আংকেলের কিছু হয়ে গেছে?(রিমি)
-- আব্বুর অবস্থা বেশি ভালো না।আব্বুকে দেখতে গেছিলাম আব্বু আমার মুখ দেখতে চায় না বের করে দিয়েছে।(কান্না সুরে)
--(রিমি বাকরুদ্ধ)
কিছুক্ষন পর,,
-- এখন কি করবে,,,ফিরে আসছো নাকি? (রিমি)
-- না,?
আমি ঠিক করছি আমি ফিরবো না,,, আব্বুর এই অবস্থা দেখে আমি ফিরে যাবো কি করে।।।বাস স্টেন্ডে বসে,,,নিরবে চোখের জল ফেলছি।। এমন সময় আমাদের পাশের বাসার এক আংকেল আমাকে দেখতে পায়।।।আমি যত সম্ভব নিজে আরালে রাখার ট্রাই করছি।।
-- আসিফ না?(করিম আংকেল)
-- জ্বি আংকেল,,,কেমন আছেন?(চোখের পানি মুছে)
-- ভালো তুমি কাদছো কেন?সুনলাম রাগ করে বাসা ছেড়ে চলে গেছো।তোমার আব্বু ত তোমার জন্য অনেক কান্নাকাটি করে?(আংকেল কি সত্যি বলছে)
আমি চুপ করে আছি,,
-- তোমার আব্বুর ত শরির খারাপ,,,সুনে এসেছো বুজি?(আংকেলের কথা সুনে আর নিতে পারছিলাম না।হাও মাও করে কেদে দিলাম)
-- কাদছো কেন আমাকে বলো,?(আংকেল)
-- আংকেল আব্বুকে দেখতে গেছিলাম.।আব্বক আমার উপর রাগ করে আছে। আমাকে বেশিক্ষন থাকতে দেয় নি।।বের করে দিয়েছে।।(আংকেল হয়ত এখনো আমার চলে যাওয়ার কারন জানে না।।।)
বাড়ির পাশের লোকটা যদি না জানে তাহলে হয়ত অপবাদ টা গোপন রাখা হইছে।।।
-- কি বলো,,,,তোমার আব্বু ত আমার সাথে দেখা হলেই তোমাকে নিয়ে অনেক চিন্তা করতো।ছেলেটা কেমন আছে কি করছে।তাহলে আজ এমন কেন করলো(আংকেল আসল কাহিনি জানে না তাই হয়ত এমন বলছে।)
-- আংকেল আমার পরিবারের সাথে একটা ভুল বুজাবুজি হইছে।।এমন একটা ভুল,,যে ভুলের ক্ষমা না।অথচ এই ভুলটা আমি করি নাই।এই ভুলের কারনে পরিবারের সবার কাছে ছোট হয়ে গেছি?(চোখের পানি মুছলাম)
-- কি এমন ভুল,,,,?(আংকেল)
-- না আংকেল এটা আমি বলতে পারবো না।যেদিন প্রমান সহ আসবো,,,সেদিন ই বলব।(আংকেল হা করে তাকিয়ে আছে কথার কোনো মানে খুজে পাচ্ছে না হয়তো)
আংকেল চলে গেলো,,,অনেক রাত হয়ে গেছে।ভাবির কাছে ফোনে জানতে পারলাম।আব্বু আগের থেকে অনেকটা ভালো।বুক থেকে পাথর যেন সরে গেছে। রাত ১১ টায় শেষ গাড়িটা ছাড়বে। ঠিক করলাম আব্বুর যখন অবস্থা আগের থেকে ভালো,,,এখানে থেকে কি করবো।।বাসায় অ ত যেতে পারবো না। রুটি খেয়ে রাতের খাবার সারলাম।।।
গাড়িতে গিয়ে বসে আছি আর ১০ মিনিট পর গাড়ি ছাড়বে।।যেতে ইচ্ছা করছে না।পরিচিত শহরে থাকার মত সাহস,আজ আমার নেই।।।খবর নেই কোনো বন্ধুবান্ধবদের।।কত আড্ডা,খেলাধুলা দুষ্টুমি,, সব গুলাই এখন সপ্নের মতো।
ঝানালা দিয়ে বাহিরে তককিয়ে আছি,,,কে যেন আমার কাদে হাত রাখলো,,,। আমি ঘাড় ফিরিয়ে দেখি আম্মু দাড়িয়ে আছে,,,সাথে ভাবি।আম্মুর চোখে জল।
-- আসিফ,,,আমাকে মাফ করে দে,।আমি মা হয়েও তোকে চিনতে পারলাম না।বিশ্বাস রাখতে পারলাম না তোর উপর।।সুমি আর তোর ভাবি আমাকে সব বলেছে।(আম্মু)
-- না আম্মু এমন বইল না প্লিজ।আমি জানি একদিন সবাই সত্যিটা জানবে।আবার আমি বাসায় ফিরে আসবো সম্মানের সাথে।ততদিন আব্বুর খেয়াল নিও (আমি)
-- আমি কেমন মা,,,সন্তানের নির্দোষিতা প্রমান পেয়েও বাসায় নিয়ে যেতে পারছি না?(আম্মু কান্না সুরে)
-- তুমি দোয়া করো, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে?(আমি)
বাস ছেড়ে দিচ্ছে,,,
-- আম্মু,,,বাস ছেড়ে দিচ্ছে বাসায় চলে যাও আব্বু জানতে পারলে রাগ করবে।(আম্মুকে বললাম)
আম্মু আমার মাথায় হাত দিয়ে আদর করছে,,,।আর অপলক চাহনিতে তাকিয়ে আছে।।।আর চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে।। বাস ছেড়ে দিল,,আম্মু চলে গেল।।।অবশেষে আম্মু আমাকে বিশ্বাস করলো। আদর করলো মনে হলো আরো কয়েক বছর বাচার অনুপ্রেরণা পেলাম।
ঢাকায়,,,রিমিদের বাসায় যেতে যেতে রাত তখন ১ টা। বেল বাজিয়ে বাসায় প্রবেশ করলাম।।আংকেল,,আন্টি,আর রিমি জেগে আছে,,, কতটা ভালোবাসে লোক গুলো আমাকে।।।আংকেল আন্টি না বলে কেন গেলাম,,,আর অই খানে ঘটে যাওয়া সব কিছু জানতে চাইলো।আমিও সব কিছু বললাম।আংকেল আন্টি সুনে বললো।পরের বার যখন বাসায় যাবো প্রমান হাতে করে যেন নিয়ে যাই।
আম্মুর সাথে মাঝে মাঝে কথা হয়।আব্বু এখন সুস্থ প্রায়।।এদিক দিয়ে আমাদের পরিক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার চিন্তা।।আজ দুপুর ১২ টায় রেজাল্ট পাব্লিশ হবে।চাচাতো বোন মিথিলাও পরিক্ষা দিয়েছে।দোয়া করি ভালো রেজাল্ট করুক।।
সময় হয়ে গেছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে রেজাল্ট দেখার চেস্টা। অবশেষে রেজাল্ট পেলাম,,,আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো রেজাল্ট করেছি।।।রিমি,আশাও ভালো রেজাল্ট করেছে।।আম্মুকে সাথে সাথে ফোন দিলাম।
-- হ্যালো,,,(আম্মু)
-- হ্যালো আম্মু কেমন আছো?(আমি খুশি মনে)
-- ভালো তুই কেমন আছিস। রেজাল্ট কেমন হলো তোর?(আম্মু)
-- আলহামদুলিল্লাহ আম্মু অনেক ভালো রেজাল্ট করেছি।।জিপিএ ৫ পেয়েছি?(আনন্দের সাথে)
-- আলহামদুলিল্লাহ,,? (আম্মু)
-- আম্মু,,মিথিলার রেজাল্ট কি?(খুব জানতে ইচ্ছা করছিল।।মিথিলা আমার থেকেও অনেক ভালো ছাত্রী।হয়ত জিপিএ ৫ ই পেয়েছে।)
-- তুই এই মেয়ের রেজাল্ট জেনে কি করবি।। যে মেয়েটা তর জিবন্টা খেলার পুতুল বানিয়ে দিতেছে?(বুজেছি আম্মু এখন আর মিথিলাকে ভালোবাসে না।হয়ত দুচোখে দেখতেই পারে না।)
-- আচ্ছা আম্মু সরি,,,বাসায় কিন্তু কাউকে বইল না।তাহলে জানবে তুমি আমার সাথে কথা বলো?(আমি)
-- আচ্ছা।।
-- আচ্ছা আম্মু এখন রাখি বন্ধুবান্ধব ফোন দিচ্ছে।কলেজে যেতে হবে।।(আসলে ভাবিরর কাছ থেকে মিথিলার রেজাল্ট জানার ইচ্ছা)
ভাবিকে ফোন দিব,,,এমন সময় দেখি রিমি আমার রুমে হাজির।মুখে রাজ্যের হাসি নিয়ে।
-- আসিফ আজ কিন্তু বড়সর ট্রিট চাই?(রিমি)
-- আমি ত দিবই তুমি দিবা না?তুমিও ত ভালো রেজাল্ট করেছো?(রিমিও আমার মত রেজাল্ট)
-- দিব ত। আমারটা একটু স্পেশাল (রিমি)।।
-- তাই নাকি,,,অকে অপেক্ষায় থাকব?(আমি)
-- তুমি কি দিবা?(রিমি)
-- সারপ্রাইজড,,,এখন বলবো না?(আমি)
ঠিক করছি,,,রিমিকে আজ কিছু একটা দিতে প্রপোজ করবো।।আসলে রিমিকে কখনো ভালোবাসি কথাটা বলেছি কিনা মনে নাই।আর কোনো কিছু গিফট ও করি নাই।।কারন্টা মনে হয় আর বলতে হবে না।
-- আচ্ছা ঠিক আছে,,আজ বিকেলে ঘুরতে যাবো?(রিমি)
-- আচ্ছা।।(
রিমি চলে যাওয়ার পর ভাবিকে ফোন দিলাম।।ভাবির কাছে মিথিলার রেজাল্ট সম্পর্কে জানতে চাইলাম।।কিন্তু যা সুনলাম।হতবম্ভ হতে গেছি।মিথিলা নাকি ২ বিষয়ে ফেল করছে।কলেজের সেরা ছাত্রী নাকি ফেইল করছে।।
চলবে,,



No comments:
Post a Comment