Post Top Ad

Post Top Ad

ধর্ষক

ধর্ষক//part_14//


# writter asift

--হ্যালো আসসালামু আলাইকুম কে বলছেন?(আমি)
-- আসিফ আমি তোমার ভাবি।।(প্রায় ১ বছর পর ভাবির ফোন কিন্তু নাম্বার পেলো কোথায় থেকে)
-- ভাবি তুমি?নাম্বার পেলে কোথায়?(আমি অবাক হয়ে)
-- কি মনে করেছো তুমি?তুমি কথা না বললে সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে?(ভাবি কান্নার ভাব নিয়ে বলল)
-- সরি ভাবি,,,,একদিন কথা বলার কারনে তোমাকে ১ মাস বাপের বাড়ি থাকতে হইছে। আমি চাই না আমার জন্য আর কোনো সনস্যা হওক?(আমি)
-- না আসিফ,, এখন সময়টা আগের মতো নাই।।পরিবারের সবাই যেন নিস্তেজ হয়ে গেছে। কেউ কারো সাথে কথা বলে না।,,খুব দরকার ছাড়া। (ভাবির কথা গুলো কান্না মাখা কন্ঠে সুনা যাচ্ছে)
একটা সময় আমাদের পরিবার টা হাসি খুশি তে মেতে থাকতো।।কেউ কখনো মন খারাপ করে থাকতে পারে নাই। কেউ না কেউ মন ভালো করে দিত।
-- কেন ভাবি এমন পরিবর্তন কেন?(কথা টা বলতে চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পরলো)
-- কেন যানো না।মিথিলার মিথ্যা অভিনয়ে হয়তো আম্মু,আব্বুর মুখে রাগ হয়েছে।কিন্তু মন থেকে ঠিকই বলছে আমাদের ছেলেটা এত খারাপ না।(ভাবি হয়ত সত্য বলছে)
-- হুম হতে পারে আম্মু কেমন আছে।।আর আব্বু? (আমি)
-- আম্মুর শরির টা তেমন ভালো না,,আজই ডাক্তার দেখিয়ে আসলাম।প্রেশার বেড়ে গেছিলো।(ভাবির কথা সুনে আম্মুর জন্য মন টা কেদে উঠলো)
--আম্মুর যত্ন নিয়ো প্লিজ। (কান্নামাখা কন্ঠে)
-আর আব্বুর খেয়াল রাইখো?(আমিই)
-- আসিফ বাসায় চলে আসো।হয়ত সবাই তোমাকে মেনে নিবে?(ভাবি)
-- না ভাবি,,মেনে নিলেও মিথ্যা অপবাদ নিয়ে বাসায় যাওয়া সম্ভব না। (আমি চাইনা আমার চরিত্রের দাগ নিয়ে বাসায় থার জন্য)
-- আসিফ তুমি কি আর ফিরবা না?(ভাবি)
-- ফিরবো ত।তবে সম্মান নিয়ে?(আমি)
-- আচ্ছা আসিফ তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে নাতো থাকা খাওয়ার?(ভাবি)
-- না ভাবি,,,সব কিছু খুব ভালো ভাবেই চলছে।।।ভাবি এখন রেখে দেও কেউ দেখলে সমস্যা হবে?(কথা টা বলে মোবাইল্টা রেখে দিলাম)
সকালে ঘুম থেকে উঠে,, কলেজ, আর পর অফিস আবার বাসা।।এভাবেই চলছে দিনকাল।খুব ভালোই চলছিল।মাঝে মাঝে আম্মু আব্বুর জন্য মন কেদে উঠে।।
এত অল্প বয়েসে এত বড় একটা অপবাদ নিয়ে বাড়ির বাহিরে বেচে থাকাটা হয়তো অনেক কষ্টের হতো।।কিন্তু ঘটনাচক্রে আজ রিমিদের বাসায় থেকে সব কিছুই পাচ্ছি।আংকেল আন্টির নিজের ছেলের ন্যায় ভালোবাসা।আর রিমির কেয়ার সব কিছু মিলিয়ে খুব ভালো আছি।জানি না এই ভালো কত দিন থাকবে...
কারন রিমি আমাকে ভালোবাসে।আর আমিও দিন দিন রিমির প্রতি দুর্ভল হয়ে পরছি।।।আমি না আমার মনে হয় যে কেউ রিমির ভালোবাসার মুল্য না দিয়ে পারতো না।এত ভালোবাসা এত কেয়ার একটা সত্যিকারের ভালোবাসার ইংগিত দেয়।
তবে রিমিকে নিয়ে খুব ভয় হয় মাঝে মাঝে যে আবেগ দেখিয়ে ফেলে।।চিন্তার বিষয় হলো যদি কোনো কারনে রিমির আমাকে না পায় বা আংকেল আন্টি ব্যাপারটা মেনে না নেয় উল্টা পাল্টা কিছু না করে বসে।।।।
আর আংকেল আন্টি আমার সাথে রিমির ব্যপারটা আসলেই মেনে নেওয়ার মতো না।। হয়ত যে কোনো বাবা মা তার মেয়ে কে এমন ছেলের হাতে তুলে দিবে না।এই ভয় নিয়ে সময় পার করছি।
দেখতে দেখতে চলে গেলো আরো কিছুদিন।সামনে এইস এস সি পরিক্ষা। মানে আর ১৫ দিন।প্রিপেরেশন আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো। আমাকে অনেক ভালো করতে হবে।নিজের পায়ে দাড়াতে হবে।রিমির যোগ্য হতে হবে,,,রিমির ভালোবাসার মুল্য হয়তো এভাবেই দিতে হবে।।কারন আবেগে ভালোবাসা হয় না।।নিজের পায়ে দাড়াতে পারলে।ভালো কিছু করতে পারলে হয়তো আংকেল আন্টিও আমাকে মেনে নিতে পারবে।।আর আমি কখনো আংকেল আন্টির কথার বাহিরে যেতে পারবো না।।না জানি কোনো দিন বলতে পারি কি না।আমি রিমিকে ভালোবাসি বিয়ে করতে চাই।
তবে পরিক্ষার জন্য আম্মুর কাছে দোয়া চাওয়ার খুব ইচ্ছা।,,,আর দুই বছর পর আম্মুর কন্ঠ টা সুনার।
আমি যখন মাধ্যামিক পরিক্ষা দেই।আম্মু আমার পাশে রাত ১ টা পর্যন্ত বসে থাকতো।চা,,কফি বানিয়ে দিতো।আর ভয় পাবো বলে আমার রুমেই সুয়ে থাকতো।।খুব মিস করি সেই সময় টা। হয়তো আর ফিরে আসবে না।।
রাতে ভাবিকে ফোন দিলাম,,,
-- আসসালামু আলাইকুম ভাবি?(আমি)
-- হুম অলাইকুম আসসালাম,,,কেমন আছো আসিফ?(ভাবি)
-- ভালো না আম্মুর কথা খুব মনে পরছে,,,।সামনে ত পরিক্ষা আম্মুর কাছ থেকে দোয়া নেওয়ার জন্য ইচ্ছা করছে।সেই সাথে আম্মুর কন্ঠটা সুনতে মন্টা বেকুল হয়ে আছে।।(আমি)
-- আম্মুর কাছে দিবো?(ভাবি)
-- আম্মু কি কথা বলবে?আর সবাই ত জাবে তুমি আমারর সাথে কথা বলো।পরে যদি আবার সমস্যা হয়?(ভাবিকে আর বিপদের ফেলতে চাচ্ছি না)
-- হুম কি করবো এখন?(ভাবি)
-- আম্মুর নাম্বার টা দেও,,,আগের নাম্বারটা খুজে পাচ্ছি না?(ভাবলাম কথা না বলুক কন্ঠ টা ত সুনতে পারবো)
-- হুম দিচ্ছি,,,(ভাবি ফোন টা রেখে টেক্সট করে নাম্বার টা দিলো)
নাম্বার টায় কল দিচ্ছিলাম আর হাত কাপছিল।আম্মু কি আমার পরিচয় পেয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে না।নাকি পরিচয় পাওয়া মাত্র ফোন্টা রেখে দিবে।।
রিং হচ্ছে???
-- হ্যালো,,আসসালামু আলাইকুম?(আম্মুর কন্ঠ সুনার সাথে সাথে চোখ বেয়ে পানি নেমে আসলো)
এই কন্ঠ টা যে আমার চিরচেনা,,,,এত মধুর কন্ঠ আমার মায়ের।।আম্মুর কন্ঠ আরেকবার সুনার জন্য চোপ মেরে থাকলাম।আম্মু আবার বলছে?
-- হ্যালো কে? কথা বলছেন না কেন?(আম্মু)
-- আম্মু আমি আসিফ?কেমন আছো তুমি।(কান্না থামিয়ে পারলাম না)
-- কে আসিফ? আব্বা আমার কই তুই?কেমন আছিস।। কোথায় আছিস?একবারও কি আম্মুর কথা মনে পরে নাই।।তোর জন্য বাবা আমার কি কষ্ট।তোর জন্য আমার চোখের পানি জোরায় না।।বাবারে কাউকে বলতেও পারি না।বুঝাতেও পারি না।। তোর মুখে মা ডাক সুনার জন্য মন টা বেকুল হয়ে আছে।।তোর কোনো খবর পাই না।এত দিন পর মা কে মনে পরলো?(আম্মু আমার পরিচয় পেয়ে হয়তো নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে নাই।।।আম্মু সাথে সাথে কেদে দিল)
-- আম্মু,, আমি তোমাকে যতবারই কল দিতে গেছি বুকের ভয়? না জানি আমার ফোন পেয়ে তুমি বিরক্ত হয়ে যাও।আমার মুখের উপর বলে দেও আসিফ নামের আমার কোনো ছেলে নাই।আমার ছেলে মরে গেছে।মা গো সহ্য করতে পারবো না।।।তবে মা তোমার কন্ঠ তোমার আদর পাওয়ার জন্য কত রাত কেদে কেদে কাটিয়েছি আমি জানি না।।মাগো এমন একটা পাপের বোজা নিয়ে ঘুরতাছি।,,তোমার কথা মনে পরে কাদি কিন্তু কথা বলার সাহস পাই না?(কান্নায় বিভোর হয়ে আছি)
-- আসিফ তুই ত এমন ছিলি নারে বাবা।,,,তুই জানিস তোকে আরর মিথিলাকে এইরকম ভাবে দেখে আমার ভিতর টা মরে গেছিল।।।আমি ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না।।রাতে সপ্নে কান্নার আওয়াজ পাই,,।তোর কন্ঠের মতো বলে মা আমি এমন করি নাই।আমাকে বুকে কেড়ে নেও,,এই ছোট ছেলেটা কিভাবে তোমাকে ছাড়া থাকবে গো মা?কথা গুলো কানে বাজার পর ঘুম ভেংগে যায়।আর সারারাত ঘুম নাই।তোর কথা মনে পরে খুব।আর চোখ বেয়ে পানি পরে।।বাবারে এমন জগন্য কাজ টা কি করে করলি তুই?(আম্মু কান্না করছে খুব ভালো ভাবেই বুজতে পারছি)
-- আম্মু আমি এমন, (বলতে গিয়েও আটকে যাই)
কারন প্রমান নাই,,,আর সব বলে দিব ত কেন এত ত্যাগ?
-- আম্মু আমাকে মাফ করে দাও,,জানি আমার এমন কাজে তুমি কষ্ট পাইছো।মাগো আমিও আমার ভুল খুব ভালোভাবেই বুজতে পারছি।।খারাপ নজরে কোনো মেয়ের দিকেও তাকাই না।।আম্মু আমার জন্য দোয়া কইর সামনে আমার পরিক্ষা?(কান্না করছি?আর মিথ্যাটা মিল রেখেই বলছি)
-- কিসের পরিক্ষা,তুই কি এইস এস সি দিবি?<(আম্মু অবাক হয়ে)
-- হুম দিব ত,,,বাসা থেকে চলে আসার পর।একটা বাচ্চাকে এক্সিডেন্ট থেকে বাচাই।আমার পা ভেংগে যায়।এক মাস হাটাচলা নিষেধ ছিল।কোথাও যাবার নাই দেখে আমাকে আশ্রয় দিলো।আমার সেবা যত্ন করলোম।আমাকে কলেজে ভর্তি হতে বললো সেই সাথে চাকরিও দিল।।আন্টি আংকেল অনেক ভালো।আমাকে অনেক আদর করে।,(আমি)
-- বাবা দোয়া করি,,কিন্তু আমাকে একটা সত্যি কথা বলবি?(আম্মু)
-- হুম বলো আম্মু?(আমি)
-- তুই কি সত্যি মিথিলার সাথে এমন করেছিলি?(আম্মু আবার কেদে দিল।হয়ত না শব্দটা সুন্তে চায়)
-- আম্মু,,,এখন এইসব বলার সময় না,,,কোনো একদিন হয়তো সব কিছু সুনতে পাবা?তবে একটা কথা,,,আব্বুকে বইল না আমি ফোন দিছিলাম।।আব্বু অনেক কষ্ট পাবে? রাখি মা,,আর আমার জন্য কেদো না।খুব ভালোই আছি।।আর কোনটা সত্য কোন্টা মিথ্যা সব ত চোখের সামনেই হলো?(কথাটা বলে ফোন্টা রেখে দিলাম)
আমি পারছি না আম্মুকে মিথ্যা কথা গুলো বলতে।।তবে মনে অনেক শান্তি আম্মুর সাথে কথা বলতে পারলাম।আম্মু এখনো আমাকে ভালোবাসে ।।
পরিক্ষা চলে আসলো,,,আম্মুর সাথে মাঝে একবার কথা হইছিল?আম্মু শুধু সত্য টা জানতে চায়।।হয়ত ভাবি সব কিছু বলে দিছে।আর আম্মুর মনে সেগুলো জাগয়া করে নিছে। আর আম্মু যে আমারর কন্ঠ সপ্নে সুনতে পায়। কেন জানেন???
কারন বৈজ্ঞানিক গবেষনায় আছে।মানুষ যেউ খেয়ালে থাকে,,মন যা চায়।যেটা বেশি চিন্তা করে বা ভাবায়।সপ্নে তাই দেখতে পায়।।সপ্ন কতক্ষন??
মাত্র তিন সেকেন্ডের ও কম। যখন কেউ কোনো কিছু চোখের সামনে দেখতে পায়,, সেগুলো সে যেভাবে চিন্তা করবে সে সেভাবেই দেখতে পারবে।।আম্মুর মনে ছিল আমি আম্মুকে বলবো আমি এই কাজ টা করি নাই।।আম্মুর মনে ছিল আমার ছেলেটা এত দুর কিভাবে আছে।কোথায় আছে।খায় কি?এইরকম চিন্তা যখন সারাদিন করে।রাতে সেই প্রশ্ন গুলো আমারমার কন্ঠে সুনতে পায়।সুন্তে পায় আম্মু আমাকে কাছে টেনে নেও আদর কর।আমি ছোট একা থাকতে পারি না।
খুব ভালোলাগছে আম্মু আমারর প্রতি এমন ধারনা করার জন্য।।
পরিক্ষা দিচ্ছি খুব ভালোভাবেই পরিক্ষা শেষ করলাম। প্রতিটা পরিক্ষাই অনেক ভালো দিয়েছি। এখন শুধু রেজাল্টের অপেক্ষা।।
(আমি লেখক আসিফ আগের একাঊন্ট নষ্ট করে দিয়েছিল।কত বন্ধু পাঠক পাঠিকা হারালাম)খুব কষ্ট লাগছে তাদের জন্য।আবার কি ফিরে পাবো তাদের।)
ফ্রি টাইম পার করছি।পরিক্ষার পর আশা আমি রিমি অনেক জায়গা থেকেই ঘুরব আসলাম।।
রুমে সুয়ে আছি,,,আন্টি আমাকে বললো।
-- আসিফ বাবা তুমি একটু বাসায় থেকো,,,রিমির মামাতো ভাই জাপান থেকে আসছে। আমরা রিসিভ করতে যাচ্ছি।(আন্টি)
-- রিমির মামা?(কেউ কোনোদিন বলে নাই রিমির মামা আছে।রিমি ত বলেছিল রিমির মামা নেই। তাহলে)
-- অহ তুমি অবাক হচ্ছো?রিমির মামা তো এক্সিডেন্ট মারা যায়।রিমির মামাতো ভাই লেখা পড়ার জন্য জাপান থেকে যায়।অনেক বড় চাকরি করে সে?(আন্টির কথা সুনে বুজলাম মামা মারা গেছে তাই না বলছে রিমি)
-- আচ্ছা আন্টি,,রিমি যাবে?(আমি)
-- রিমি ত অবশ্যই যাবে,,রিমির সাথে রিদয়ের বিয়ে।রিমি যাবে না?(আন্টি এটা কি বললো?)
-- বুজি নাই,,,রিমির বিয়ে?কবে?(মন খারাপ করে)
-- রিমি এখনো জানে না।তবে আমার ভাইয়ের সাথে ওদের বিয়ে অনেক আগেইই ঠিক করে রেখেছি। লেখাপড়া শেষ করার জন্য অপেক্ষা ছিল।রিদয় আসার কয়েকদিনের মধ্যে বিয়ের কার্যক্রম শুরু।(আন্টি)
-- রিমি ত কোনো দিন বলে নাই।।(ভিতর থেকে কান্না বেরিয়ে আসছিল।রিমি কেন আমাকে মিথ্যে ভালোবাসলো)
-- না রিমি কিছুই জানে না।তবে রিমি রিদয়কে অনেক ভালোবাসে?(আন্টি হাস্যজ্জল মুখ নিয়ে চলে গেলো)
আমার চোখ বেয়ে পানি পরছে।সাথে নানা প্রশ্ন।।
চলবে,,,,

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad